তামিম একটা চেয়ারে বসে আনিতার জন্য এক ঘণ্টা ধরে অপেক্ষা করছে। এই মেয়েটাকে সে এখন পর্যন্ত চিনতে পারল না। এতদিনের সম্পর্ক তারপরেও কেমন যেন ধোয়াটে। কখনো হয়তো সে চাইছে আনিতার সাথে দেখা করতে কিন্তু আনিতা নানা বাহানা করে আসছে না। আবার কখনো হঠাৎ করেই চলে আসে। কখনো অকারণে গলার রগ ফুলিয়ে ঝগড়া করছে আবার কখনো খুব ভালবাসছে। আসলে তামিম ঠিক জানেনা আনিতা তাকে সত্যি ভালবাসে কি না।
যে দিন আনিতার সাথে দেখা হল সে দিন তামিম খুব হেসেছিল। এতোটুকুন একটা মেয়ে কে এনে তার সামনে বসিয়ে দিয়ে গেলো সবাই। তখন তামিম সবে অনার্স পাস করে মাস্টার্সে পড়া শুরু করেছে। আনিতা তখন ক্লাস নাইনে পড়ে। অনেক ছোট তামিমের থেকে। কিন্তু চখে মুখে একটা বড় মানুষের মতো ভাব ফুটিয়ে তামিমের সামনে বসে আছে। তামিম কি বলবে ভেবে পাচ্ছিল না। এতো ছোট একটা মেয়ের সাথে কেন তার মা বিয়ে দিতে চাচ্ছে সেটা তামিম বুঝে উঠতে পারছিল না। কেমন বড় বড় চখ করে আনিতা তার দিকে তাকিয়ে ছিল সেদিন। তামিমের খুব মজা লাগছিলো দেখতে।
তামিম একটু কটমট করে আনিতাকে বলল
- এই যে মেয়ে, তুমি কোন ক্লাসে পড়?
- আপনি তো জানেনই আমি কোন ক্লাসে পড়ি। সেটা জিজ্ঞেস করার প্রয়োজন দেখছি না।
আনিতার চটপট উত্তর।
তামিম একটু ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে যায়। এতো ছোট মেয়ের কাছে এ রকম উত্তর আশা করেনি সে। মনে মনে একটু বিরক্ত যে হয়নি তা না। কিন্তু আনিতার সজা সাপটা কথায় একটু মহিতই হয়।
প্রথমে বিয়ে তে রাজি না হলেও মায়ের জোরাজুরি তে শেষপর্যন্ত তামিম আনিতা কে বিয়ে করতে রাজি হয়। কিন্তু শর্ত সাপেক্ষে। আনিতা কে অন্তত পক্ষে গ্রাজুয়েশন টা শেষ করতে হবে। প্রথমে আপত্তি করলেও পরে সবাই মেনে নেয়।
কিন্তু আনিতা এখন পর্যন্ত তাদের এই সম্পর্কটা নিয়ে কি ভাবছে তামিম জানে না। জানার চেষ্টা করে না। আনিতা তার কাছথেকে মুক্তি চাইলে সে দিয়ে দিবে। এক্তু কষ্ট পাবে হয়তো। কিন্তু আনিতারও মতের একটা ব্যাপার আছে। তামিম জোর করে তার সিদ্ধান্ত চাপাতে চায়না।
আনিতা আসছে। একটা ব্যাগ হাতে করে নিয়ে আসছে। আনিতা কে আজ কেমন যেন ক্ষেপার মতো লাগছে। একটা সবুজ আর সাদা মেশানো জামা পরেছে। ঘাড়ে কমলা রঙের একটা পার্স, এক হাতে একটা বই। অন্য হাতে আড়ং এর ক্যাটকেটে লাল-কমলা একটা কাগজের ব্যাগ। আনিতা রেস্টুরেন্টের দরজা দিয়ে ভেতরে ঢুকে এদিক ওদিক তাকিয়ে তামিমকে খুঁজতে থাকে। একটা হাত উঁচু করে তামিম নিজের অবস্থানটা জানিয়ে দেয়।
- কেমন আছ?
চেয়ার টেনে বসতে বসতে আনিতা হাল্কা ভাবে জিজ্ঞেস করে তামিমকে।
- ভালই। তোমাকে দেখে তো মনে হচ্ছে খুব একটা ভালো নেই। মন খারাপ নাকি?
একটু ঠাট্টা করেই জিজ্ঞেস করে তামিম। কিন্তু আনিতার মুখে ঈশান কোণের মেঘ জমতে শুরু করছে দেখে অন্য প্রশঙ্গে চলে যায়।
- তোমার তো আজ সিটি ছিল , কেমন হল?
- ভালই। জানো তো আজ কি হয়েছে............
আনিতা স্বাভাবিক ভাবে তার ক্লাসে কি কি হয়েছে তামিম কে বলতে থাকে। তামিম স্বস্তির শ্বাস ছাড়ে। না, আনিতার কিছু হয়নি। এখনি সে হেসে কুটি কুটি হবে। আবার এই তার ক্লাসের কোন ছেলে তাকে “জান” বলে ডেকেছে বলে রাগ করে তার কাছে নালিশ করবে। আঁখি তার জামা দেখে কিছু একটা বাজে মন্তব্য করেছে কিনা তাও বলবে। না এই বাচ্চা মেয়ে টা কখনোই তার কাছে কিছু লুকোয়না। এ জন্যই এতো ভালোবাসে তামিম আনিতা কে।
আনিতা কথা বলেই জাচ্ছে। তামিমের খুব ইচ্ছে হচ্ছে আনিতা কে একটু আদর করে দিতে। একটু হাত টা ধরে নিজের কাছে টেনে নিতে। কিন্তু তামিম জানে আনিতা এগুলো একদম পছন্দ করে না।
- আরে আমি তো বলতে ভুলেই গেছি। এই দেখো তোমার জন্য একটা পাঞ্জাবী এনেছি। যাও তো একটু পড়ে আসো।
আনিতা কথা থামিয়ে তামিমের হাতে কাগজের ব্যাগ টা ধরিয়ে দিল।
- কি ব্যাপার, হঠাৎ আমার জন্য শপিং? তুমি তো শপিং এ যেতেই চাওনা।
- গেলাম। তোমার জন্য কিছু নিয়ে আসতে মন চাইল তাই। এখন কথা না বলে ওয়াশ রুমে গিয়ে দ্রুত পড়ে আসো।
আনিতা তাড়া দেয়। তামিম একটু খুশিই হয় এসবে আনিতা জানে। তামিম ঝটপট সার্ট টা বদলে নিলাভ পাঞ্জাবী টা পড়ে আসে। কিন্তু সে আনিতার দিকে তাকিয়ে অবাক হয়ে যায়। আনিতা কাঁদছে ? কেন? তামিম কি আনিতা কে কোন কষ্ট দিয়ে কথা বলেছে? এক সাথে অনেক প্রশ্ন উঁকি দিয়ে যায় তামিমের মনে। তামিম গুটি পায়ে আনিতার কাছে এগিয়ে যায়।
To be continued.............
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই ডিসেম্বর, ২০১৩ রাত ১:৫৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



