৩
আনিতা বিছানায় শুয়ে গান শুনছিল। কোন specific singer এর না। প্লে লিস্টে যা আছে তাই শুনছে। আসলে সে মন দিয়ে গানও শুনছে না। আনিতা ভাবতেও পারেনি যে রাহাত কবির তাদের ক্লাস নিবেন। এই কোর্সটা ফাহমিদা ম্যাম এর নেয়ার কথা ছিল। কিন্তু হঠাৎ ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষ রাহাত কবির কে কোর্স টিচার করে দিল। আনিতার আবারো হিসাবের গরমিল। প্রথমদিন ক্লাস টা সে কি করে করল জানেনা। রাহাত কবিরকে সে কেন জানি অন্যভাবে দেখতে শুরু করেছে। যখনি রাহাত কবির তার দিকে তাকাচ্ছে কেমন একটা চিনচিনে ব্যাথা হচ্ছে বুকে।
শুয়ে শুয়ে এসব ভাবছিল আনিতা। আজকে নিয়ে রাহাত কবিরের মোট চারটা ক্লাস করেছে কিন্তু মনেহচ্ছে সে রাহাত কবির কে ছাড়া থাকতে পারবে না। সেই এলোমেলো মাথা ভর্তি চুল, ঘন কালো চখ, তাকানো, কথা বলার ভঙ্গি সব কিছু একসাথে মনে পরে যাচ্ছে। আনিতার চখে পানি এসে গেলো। না তাকে শক্ত থাকতে হবে।
আনিতা নিজেকে বোঝায় এটা শুধুই একটা মোহ আর কিছু না। রিন রিন করে মোবাইল টা বেজে উঠল। আনিতা আলতো হাতে মোবাইলটা হাতে তুলে নিল। আঁখির কল। রিসিভ বাটনে স্পর্শ করে কানে ধরল।
“ কি রে আনু, না বলে চলে আসলি যে? কিছু হয়েছে নাকি?”
- আরে নাহ। কি আর হবে? একটু তারা ছিল।
আনিতা কণ্ঠে ছদ্ম আনন্দ ফুটিয়ে তুলে।
- সে যাই বল, তোকে কিছু দিন কেমন জানি দেখাচ্ছে রে।
আঁখি নাছোড় বান্দা টাইপের। আনিতা একটু বিরক্ত হয় এসব ব্যাপারে, কিন্তু কিছু বলে না। কথা পরিবর্তনের জন্য আনিতা অন্য প্রশঙ্গে চলে যায়।
- এই আমাদের কক্সবাজার যাবার প্লান টা কবে রে?
- এই তো এই সেমিস্টারটা শেষ হলেই যাব। কেন?
- ভাবছিলাম কোন টিচারকে সাথে নিবো কি না। আগে থেকে তো বলে রাখা ভালো তাই না?
- ঠিক বলেছিস। দাড়া দিলিপ কে বলে দেখি।
দিলিপ হচ্ছে আনিতাদের গ্রুপের সবথেকে হাসি-খুশি আর দায়িত্ববান ছেলে। এটা আলাদা কথা যে সে পড়াশুনা বাদে আর সবকিছুই নিজ দায়ীত্বেই পালন করে। এই কক্সবাজার যাবার প্লানটাও দিলিপের। দিপু অবশ্যি দিলিপের সাথে ছিল প্লানে। আনিতা, আঁখি, সুমি আর জেরিনের মতো ঘরকুনো মেয়েদের পটিয়ে তাদের সঙ্গি করার দায়িত্ব দিপুর উপর পরে। বাকি রা অবশ্যি নিজে থেকে জেতে রাজি হয়।
আঁখি দিলিপ কে চনফারেন্সে নিয়ে নিল।
- দিলিপ রে আনিতা বলছিল কোন টিচারকে যদি আমাদের ট্রিপটায় নেয়া যেত তাহলে খুব ভাল হত।
- তোদের মেয়েলি ন্যাকামি দেখলে না গা জ্বলে যায়। আমরা কি তোদের খায়ে ফেলব নাকি? যাবি তো মোটে পাঁচ দিনের জন্য। তাতেও কতো কাকুতি মিনতি করে রাজি করালাম। আর এখন বলিস কোন টিচার নিয়া যাইতে ? তোগো লাইগা মজা টা সমুদ্রের জলেই ফালায়া দেই আর কি!
দিলিপের কণ্ঠে কপট ছদ্ম রাগের ঝাঁঝ। আসলে মনে মনে সেও কোন টিচারকে নিয়ে যেতে চাইছে। ছেলে আর মেয়ে মিলে প্রায় কুড়ি জনের মতো যাবে তারা। এই বয়সী ছেলে মেয়ে রা নিজেদের কন্ট্রোলেই থাকে না। আর দিলিপের কথা তো তারা আলবাত শুনবেনা। তাই একজন টিচার গেলে কিছুটা শান্ত থাকবে। কিন্তু আঁখি টা আস্ত এক আঁতেল। কথাও বাইরে যাওয়ার কথা উঠলেই গা ঢাকা দেয়। প্রতি সেমিস্টারে সে ফার্স্ট হয়। পড়ার বাইরে যদি অন্য কিছু দেখতে পায় তা হল কোন টিচারকে কি করে তেল দিতে হয়। আঁখির এই স্বভাবের জন্য অনেকবার দিলিপ আর ক্লাসের সবাই বিপদে পরেছে। এই সেদিনের কথা। একটা সাবজেক্টের ক্লাস-টেস্ট হবে। কেউ পড়ে আসেনি। আঁখিও এমন ভাব করল যে সেও পড়ে আসেনি। সবার খাতা আর শিট আর বই গুলো কেড়ে নিয়ে বলল আজকে জেনো কেউ পরীক্ষা না দেয়। ম্যাম খাতা দিলে কেউ যেন না নেয়। যেহেতু আঁখি খুব ভালো ছাত্রী তাই সবাই ওর কথা মতো খাতা নিলো না। কিন্তু ও নিজেই একটা খাতা নিয়ে পরীক্ষা দিতে বসে গেলো। তার পর থেকে আঁখিকে মোটামুটি কেউই পছন্দ করে না। আড়ালে ওর নাম পরে গেলো রাজাকার আর চামচিকা।
- না খাবি ক্যান? তোদের কি আর আমাদের খাওয়ার সুযোগ দিবো? দেখাগেলো আমরাই তোদের খায়ে ফেলছি। অন্তত তোদের প্রোটেকশনের জন্য একজন স্যার বা ম্যাডামকে নিতে পারিস।
আনিতার এরকম কথা বলার ভঙ্গি দেখে দিলিপ না হেসে পারল না।
- আচ্ছা দাড়া দেখি কোন টিচারকে রাজি করাতে পারি কি না।
চলবে...............

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



