কয়দিন ধরে ব্যাপক সমস্যায় ছিলাম। একটা হোন্ডা কিনেছি কিন্তু চালাতে পারি না। তো এটা বাসায় নিব কিভাবে! এলাকার কয়েকজন ছেলেপেলে চালাতে পারে কিন্তু কারো লাইসেন্স নাই। অবশেষে বহু কষ্টে অফিসের এক কলিগকে রাজি করিয়ে সেটা বাসায় নিলাম। হোন্ডা কিনার ব্যাপারটা বাসার কাউকে আগে থেকে জানানো হয়নি। তাই এটা বাসায় ঢুকানোর সময় অনেক কৌফিয়ত দিতে হলো।
যাই হোক হোন্ডাটা বাসায় নেয়ার পর থেকেই নতুন চিন্তা যুক্ত হলো-ক্ল্যাচ, গিয়ার, হাত ব্রেক, পা ব্রেক এতো কিছু শিেখ এটা চালাবো কিভাবে? বাসার ভেতের কয়েকবার নিজেই চেষ্টা করলাম।
আজকে সকালে এক বন্ধু এসে হাজির। ছুটির দিন। চিন্তা করলাম আজকেই এটা চালানো শিখতে হবে। বন্ধু টিপু জানালো কিছুদূরেই আছে বেলতলির মাঠ। সেখানে গিয়ে শিখতে হবে। কিন্তু সমস্যা, দুজনের কেউই চালাতে পারি না। অতো দূরে কি ঠেলে নিয়ে যাব? তাই বাসার সামনের রাস্তাতেই কিছুক্ষণ শিখব বলে ঠিক করলাম। অতীতে আমি খুব ভাল সাইকেল চালাতাম।
কয়েকবার চেষ্টার পরই দেখলাম, হোন্ডাটা চলছে। টিপুকে বললাম, হেলমেট পড়ে হোন্ডার পিছনে উঠে বস। হোন্ডা যখন চলছে তখন আর কোনো সমস্যা নাই। টিপুর অসম সাহসী তরুন। হেলমেট ছাড়াই চড়ে বসল।
এরপর শুরু হলো আমাদের হোন্ডা যাতা। কিছুক্ষণ যাবার পর দেখি রাস্তায় বিশাল জ্যাম। জ্যামে হোন্ডার স্টার্ট বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। এ সময় সামনের গাড়িগুলি কিছুদূর এগিয়ে গিয়েছিল। তা দেখে আমার পেছনের কয়েকটি প্রাইভেট কার খুব হর্ণ দেয়া শুরু করল (কান প্রায় ফাটার অবস্থা)। আমি সামনে এগোনোর জন্য স্টার্ট দিয়েই ক্ল্যাচ, ব্রেক, গিয়ার ইত্যাদি নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়লাম। এ সময়েই বাধল বিপত্তি।
অবাধ্য ঘোড়া যেমন চিচি শব্দ করে সামনের পা গুলো আকাশে উঠিয়ে দেয়, তেমন করে আমার হোন্ডাটাও লাফ দিয়ে উঠল। সামনের চাকা প্রায় 4 ফুট উপরে উঠে গেল। তবে ভাগ্য ভাল। সামনের গাড়িগুলো একটু দূরেই ছিল। তাই নিরাপদেই মাটিতে নামলাম।
আবার হোন্ডাটা স্টার্ট দিলাম। আবার হোন্ডাটা প্রচণ্ড শব্দে লাফ মারল। হোন্ডার পেছনে বসা অসম সাহসী টিপু জানালো, সে এবার হেলমেটটা পড়তে চায়।
পেছনে তাকিয়ে দেখি, প্রাইভেট কার, রিকশা, পথচারী সবাই আমাদের হোন্ডার ভয়ে কমপক্ষে 20 ফুট দূরে দাড়িয়ে আছে। মনে হলো এমন ঘটনা তারা কখনোই দেখেনি। আমরা অবশ্য এমন ভাব করলাম যেন হোন্ডার লম্ফঝম্প কোন বিষয়ই না।
আজকে প্রথম দিন, মোট নয় কিলোমিটার নিরাপদে চালালাম।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

