খুব ছোটবেলায় যখন প্রথম প্রথম নারী অধিকার শব্দটা শুনি তখন আমারও মনে হয়েছিল, সব অধিকারই তো নারীদের দেওয়া হয়, আইন, আদালত, ঘরে, বাইরে কোথায় বাধা? সমান তালে পুরুষের সাথে তারা কাজ করতে পারে (যদি ইচ্ছা থাকে)। আর এ অবস্থায় নারী অধিকারের কথা আসে কেন? এটা আবার কি জিনিস? খায় না মাথায় দেয়!
.. .. .. .. .. .. .. .. .. .. .. .. .. ..
এবার বাস্তব জীবনের সাথে মিলিয়ে নিন।
.. .. .. .. .. .. .. .. .. .. .. .. .. ..
এক. মিরপুর এক নাম্বার বাসস্ট্যান্ডে অফিস টাইমে এক বয়স্ক মহিলা বাসে উঠার জন্য অনেকক্ষণ ধরে চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু কোনো বাসের হেলপারই তাকে উঠতে দিচ্ছে না। মহিলা উঠেন না, মহিলা উঠেন না, মহিলা সিট নাই। মহিলার মরিয়া চেষ্টার পর উঠতে সক্ষম হন।
কিন্তু তাকে শুনতে হয়- সরেন সরেন... নামেন নামেন.....
তিনি নামতে বাধ্য হন।
এ সময় মহিলা বাসের ডান পাশে (ড্রাইভারের জানালায়) গিয়ে ড্রাইভারকে ডেকে বলে তার খুব জরুরী দরকার, একটু উঠার ব্যবস্থা করেন।
না, ড্রাইভার তার কথায় কান দেয় নাই। প্রায় ধাক্কা দিয়েই বাসটা নিয়ে চলে যায়। আমি বাসের একজন যাত্রী হিসেবে ঘটনাটা নিরবে দেখি।
.. .. .. .. .. .. .. .. .. .. .. .. .. .. ..
দুই. টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু সংযোগ সড়কের কাছাকাছি কোনো এক বাস স্ট্যান্ড। এক মেয়ে এনজিও কর্মী সাইকেল চালাচ্ছে। পিছন থেকে অন্য এক সাইকেল চালক মেয়েটার সাইকেলের পিছন থেকে ধাক্কা দিয়ে সাইকেল উল্টে ফেলে। মেয়েটা পড়ে যায়। কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই অবশ্য মেয়েটা তাড়াতাড়ি উঠে সাইকেল চালিয়ে চলে যায়। ছেলেটা তার বন্ধুদের সাথে হাসাহাসি করতে থাকে।
পরে জেনেছি, মজার এক কৌশলের কথা। সাইকেলের পিছন থেকে চেনের মধ্যে বিশেষ এক কায়দায় আলতো করে ধাক্কা মারলেই সাইকেল পড়ে যায়। বাংলাদেশের কোথাও কোথাও মহিলা সাইকেল চালকদের হেনস্থা করার জন্য ছেলেরা এ কায়দাটা খুব ভালোভাবে রপ্ত করে নেয়।
.. .. .. .. .. .. .. .. .. .. .. .. .. ..
তিন. আরো সাধারণ একটা উদাহরণ: বাসার বাইরে বের হয়ে একটা বাসে উঠুন। ধরলাম ৪০ জন যাত্রী। তার মধ্যে ৫-৬ জন মহিলা। এবার বাস থেকে নামুন। যে কোনো একটা অফিসে ঢুকুন। কয়জন ছেলে আর কয়জন মেয়ে? ৪:১ নাকি আরো কিছুটা কম পার্থক্য?
বাকি মেয়েরা কোথায়? ঘরে?
এবার অনেকেই বলবেন, সেখানে (ঘরে) তাদের সম্মানের সঙ্গে রাখা হয় .. .. মর্যাদার আসনে .. .. অর্ধেক তার গড়িয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর .. .. তাছাড়া আমাদের সমাজ ব্যবস্থা কনজারভেটিভ ... মহিলাদের শারীরিক যোগ্যতা কম... ইত্যাদি, ইত্যাদি (প্রথমে কিন্তু এ বিষয়টা স্বীকার করা হয় না, বলা হয় সব অধিকারই দেওয়া হয়েছে)। আর শারীরিক শক্তি বা যোগ্যতার বিচারে যদি সবকিছু চলতো তাহলে অলিম্পিক গেমসের চ্যাম্পিয়নরাই পৃথিবীর সবচেয়ে যোগ্য মানুষ হিসেবে গণ্য হতো (তাদের শারীরিক যোগ্যতা যে সবচেয়ে বেশি এ বিষয়ে কারো সন্দেহ থাকার কথা না)।
ঘরে নারীদের সম্মানের সঙ্গে রাখা হয় নাকি? এবার আরেকটু এগোলে দেখা যাবে, ঘরের ভেতরের অবস্থাও ভালো না (ওইদিকে আপাতত যাচ্ছি না)।
.. .. .. .. .. .. .. .. .. .. .. .. ..
আমি বলতে চাচ্ছি, সমান অধিকার তো দূরের কথা। সামান্য একটু অধিকার তো দিবেন। সামান্য একটু বাসে উঠার অধিকার, যাতায়াত করার অধিকার, কাজ করার অধিকার, সমান খাবার অধিকার .. ..
.. .. .. .. .. .. .. .. .. .. .. .. ..
পশ্চিমা দেশে নারী অধিকারের বিষয়টা আরো জটিল। বাংলাদেশের তুলনায় এসব দেশের অবস্থা ভিন্ন এবং আপাত দৃষ্টিতে কিছুটা ভালো বলেই আমার মনে হয়। এখানে যেমন মহিলাদের বাস, ট্রাক, সাইকেল চালাতে কোনো বাধা নাই তেমন যাতায়াত করতেও কোনো বাধা নাই। তবে চাকরি ক্ষেত্রে মহিলাদের মূল্যায়ন করা হয় কম। কাস্টমার কেয়ারের মতো বিষয়গুলোতেই মহিলাদের বেশি দেওয়া হয়। আমেরিকার মহিলা প্রেসিডেন্টের সংখ্যাটা খুজতে গেলেই ব্যাপারটা বোঝা যায়।
.. .. .. .. .. .. .. .. .. .. .. .. ..
এবার আসুন পরিসংখ্যানে, মানুষের মৌলিক অধিকার খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিঃসা, শিক্ষা ..... বিষয়গুলো বোরিং মনে হচ্ছে? অপ্রাসঙ্গীক? আবোল তাবোল?
হ্যাঁ। ভুক্তভোগী ছাড়া সবার কাছেই অপ্রাসঙ্গীক মনে হবে। পরিসংখ্যানে বলে, এগুলোতে নারীরা পিছিয়ে আছে। বাংলাদেশে নারীর সংখ্যা কম (জন্মহার ছেলে-মেয়ে প্রায় সমান হলেও)। কখনো চিন্তা করেছেন এর কারণটা কি ভয়ঙ্কর?
(দূরন্তের একান্ত ব্যক্তিগত মতামত, অন্য কোনো মতের সঙ্গে মিল খোজা বোকামি)।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

