somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গ্লোবাল ওয়ার্মিং : কারো পৌষ মাস কারো সর্বনাশ

২৬ শে মে, ২০০৮ সকাল ১১:২৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

লাভ ক্ষতির হিসাব
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অর্থনীতিবিদরা জলবায়ুবিদদের সঙ্গে নিয়ে শুরু করেছেন কস্ট বেনিফিট এনালাইসিস। গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের ফলে জলবায়ু পরিবর্তনের ধরণটি কেমন হবে আর এর ফলে কতো খরচ হবে, কতো লাভ হবে ইত্যাদি এই কস্ট বেনিফিট এনালাইসিসের মূল লক্ষ্য।
গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের কারনে যদি জলবায়ু পরিবর্তন হয়ে যায় তাহলে পৃথিবীর ক্ষতি বেশি হবে নাকি জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিরোধ করার জন্য ব্যয় বেশি হবে? এই দুটির মধ্যে কোনটি লাভজনক?
গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের কারণে পৃথিবীর মানুষদের আর্থিক ক্ষতি হবে। আবার গ্লোবাল ওয়ার্মিং প্রতিরোধ করতেও আর্থিক ব্যয় হবে। এই বিষয়ে বিশ্বব্যাপী চলছে ব্যাপক গবেষণা এবং হিসাব নিকাশ। তাপমাত্রা বাড়লে শীতপ্রধান কিছু দেশে ফসল উৎপাদন বাড়বে। রাশিয়া, কানাডা সহ এ ধরনের কয়েকটি দেশের অর্থনীতি নতুন করে প্রাণশক্তি ফিরে পাবে। অন্যদিকে দেখা যায় তাপমাত্রা বাড়লে ফসল উৎপাদন কমে বাংলাদেশ সহ বিশ্বের বহু দেশের অর্থনীতি পঙ্গু হয়ে যাবে।

রাশিয়ার একটি আইস ব্রেকার জাহাজ। তাপমাত্রা বেড়ে গেলে এগুলোর চলাচল অনেক সহজ হবে
বৃটেনের হাউস অব লর্ড-এর এক রিপোর্টে বলা হয় বিশ্বের মোট উৎপাদনের ০.২% থেকে ৩.২% পর্যন্ত ব্যয় হতে পারে গ্লোবাল ওয়ার্মিং প্রতিরোধের জন্য।
এসব যুক্তি দেখিয়ে কিছু অর্থনীতিবিদ এবং বিজ্ঞানী গ্লোবাল ওয়ার্মিং প্রতিরোধে ব্যয় করার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। তারা বলছেন গ্লোবাল ওয়ার্মিং সম্পূর্ণ অনিশ্চিত একটি বিষয়। তাই এ ধরনের অনিশ্চিত একটি বিষয়ে অর্থ ব্যয় করা উচিত নয়। এর চেয়ে স্পষ্ট ফলাফল পাওয়া যায় এমন কিছু বিষয়ে অর্থ ব্যয় করাই লাভজনক। দরিদ্র দেশগুলো গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের কারনে বেশী ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই তারা বলছেন, উন্নত দেশগুলোর উচিত শিল্প কারখানার কার্বন ডাইঅক্সাইড হ্রাস কিংবা এ ধরনের বিষয়ের পিছনে অর্থ ব্যয় না করে বরং দরিদ্র দেশগুলোর শিক্ষা, স্বাস্থ্য প্রভৃতি বিষয়ে অর্থ ব্যয় করা উচিত। তারা বলছেন এতে ভুক্তভোগীরাই গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের ফলাফলের বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলার মতো সামর্থ্য অর্জন করবে। যেমন বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থা এমন করতে হবে যেন কৃষিকাজ বাদ দিয়ে সবাই অফিস আদালত কিংবা শিল্প কারখানায় কাজ করে। ফলে বিস্তীর্ণ ভূমি পানিতে ডুবে গেলেও লোকজনের কোনো ক্ষতি হবে না। কিন্তু পানির লেভেল যদি শুধু এক মিটার উচ্চতায় সীমাবদ্ধ না থেকে পৃথিবীর স্থলভাগের সবকিছুই ডুবিয়ে দিতে থাকে তাহলে কি হবে এ বিষয়ে তেমন কোনো যুক্তিগ্রাহ্য ব্যাখ্যা তারা দিতে পারেন নি।
এ ধরনের হিসাবের অংকটা মেলানো খুবই কঠিন। বিশেষ করে কেউই যখন বলতে পারছেন না ঠিক কি ঘটতে যাচ্ছে। বায়ুমন্ডলে কার্বন ডাইঅক্সাইড কি পরিমাণ থাকবে তা নির্ভর করে উন্নত এবং উন্নয়নশীল দেশগুলো এই গ্যাস নিয়ন্ত্রণে কি ধরণের উদ্যোগ নেয় তার ওপর। কার্বন ডাইঅক্সাইডের মাত্রার ওপর নির্ভর করবে পৃথিবীর তাপমাত্রা কি পরিমাণ বাড়বে।


নর্থ সির ট্রল গ্যাস ফিল্ড। বিশ্বের সবচেয়ে বড় সামুদ্রিক গ্যাস উত্তোলন স্থাপনা

কারো পৌষ মাস কারো সর্বনাশ
ফ্রেঞ্চ তেল কম্পানি টোটাল সম্প্রতি রাশিয়ান তেল কম্পানি গ্যাজপ্রমের সঙ্গে যৌথভাবে বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক গ্যাসক্ষেত্র উন্নয়নের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছে। তাপমাত্রা সামান্য বাড়লে এদের প্রডাকশন খরচ অনেক কমে যাবে। শুধু এ চুক্তিই নয়, পৃথিবীর প্রচুর তেল ও গ্যাস কম্পানিগুলো এখন তাকিয়ে আছে নর্থ সি, উত্তর মেরু আর আলাস্কার দিকে। তাপমাত্রা সামান্য বাড়লেই এসব জায়গা থেকে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান বেশ সহজ হয়ে যাবে। প্রডাকশন খরচও কমবে।
জলবায়ু পরিবর্তন সবার জন্য ক্ষতিকর হবে না। তাপমাত্রার সামান্য বৃদ্ধি রাশিয়ার অর্থনীতিতে খুবই উপকারী হবে। রাশিয়া এবং সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের কয়েকটি দেশ সহ কিছু শীতপ্রধান দেশের বিস্তীর্ণ প্রান্তর অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে। তাপমাত্রা সামান্য বাড়লে এই জমিগুলোতে কৃষিকাজ করা যাবে।
পৃথিবীর মোট তেল এবং গ্যাসের প্রায় ২৫% উত্তর মেরু অঞ্চলে এবং রাশিয়ার উত্তরাংশে মজুদ আছে বলে ধারণা করা হয়। অতিরিক্ত ঠাণ্ডা, তুষার এবং বরফের কারণে এগুলো অনুসন্ধান করতে খরচ বেশী হয়। তাপমাত্রা সামান্য বাড়লে এগুলো অনুসন্ধান অনেক সহজ হয়ে যাবে। ইয়েল ইউনিভার্সিটির প্রফেসর রবার্ট ম্যানডেলসন জানান ২.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বাড়লে সাবেক সোভিয়েত রাজ্যগুলোর প্রবৃদ্ধি প্রায় ১১% বাড়বে। কোনো দেশের পক্ষে ১১% প্রবৃদ্ধি অর্জন করা অত্যন্ত লোভনীয় একটি বিষয়।
প্রাথমিক হিসেবে বিশ্বের অধিকাংশ দেশের জন্যই গ্লোবাল ওয়ার্মিং ক্ষতিকর হবে। জলবায়ু পরিবর্তন অর্থনীতিবিদ উইলিয়াম নর্ডহুস ধারণা করছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে আমেরিকার জিডিপি প্রবৃদ্ধি ০.৫% কমবে। এছাড়াও ইন্ডিয়া ৫% এবং আফ্রিকার দেশগুলো ৪% জিডিপি হারাবে বলে তিনি জানান। অর্থনীতিবিদরা জানাচ্ছেন, আবহাওয়া পরিবর্তনের ফলে শিল্পোন্নত দেশগুলোর তেমন ক্ষতি না হলেও কৃষি প্রধান দেশগুলোর প্রচুর ক্ষতি হবে। মি. নর্ডহুস জানাচ্ছেন ২.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার বৃদ্ধিতে সমগ্র পৃথিবীর প্রবৃদ্ধি ৩% কমে যাবে।
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে মে, ২০০৮ সকাল ১১:৩২
৮টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×