somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভিন্ন সংস্কৃতি

২৩ শে আগস্ট, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:২৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমাদের ক্লাসে সদ্য চায়না থেকে এক লেকচারার এসেছেন। ওনার ইংলিশ শুনে মনে হচ্ছিলো যেন চাইনিজ ভাষা শুনছি। সব শব্দতেই কেমন যেন একটা চ্যাং চ্যাং ভাব আছে। শিশুসুলভ হাসি, মজা করে কথা বলা, কখনো গম্ভীরতা এসব দিয়ে প্রথম ক্লাসেই আমাদের মন জয় করে নিলেন। অকপটে জানাচ্ছিলেন নিজের ভালো লাগা-মন্দ লাগার কথা।
আমাদের ক্লাস শুরু করা মাত্রই তিনি জানিয়ে দিলেন কিছুক্ষণ আগে তিনি চায়না থেকে এসেছেন। ফলে জেটল্যাগ এখনো কাটেনি। আনুমানিক ৩০ বছর বয়স্ক এ টিচার পড়ানো বাদ দিয়ে তিনি তার নিজের কথা বলতে লাগলেন।
এখানে জয়েন করার জন্য চায়না থেকে আসলেও তিনি কিন্তু ব্রিটেনে নতুন না। কয়েক বছর আগে থেকেই তিনি এ ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনা করেছেন।
চায়নাতে থাকতে উনি ছিলেন একজন মার্চেন্ডাইজার। ওনার দীর্ঘ দিনের অভিজ্ঞতা আছে চায়না-জাপান ও ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সঙ্গে আন্তর্জাতিক ব্যবসার।
বলছিলেন, প্রথমে এখানে এসে তিনি কোনো কাজ পাচ্ছিলেন না। ফলে বাধ্য হয়ে কাজ নেন একটা রেস্টুরেন্টে। সেখানে ওনাকে প্লেট নিয়ে দৌড়াদৌড়ি কতে হতো। এসব করতে খুবই কষ্ট হতো। ইত্যাদি ইত্যাদি....
ব্যবসা বাণিজ্যের স্বার্থে বিভিন্ন দেশের সাংস্কৃতিক পার্থক্য এমবিয়েতে পড়তে হয়। কোন সংস্কৃতির লোকজন নিজেদের আত্মীয় স্বজনকে অতি গুরুত্ব দেয়। কাদের মিটিং দেখলে মনে হবে প্রচণ্ড ঝগড়া করছে। কিন্তু আসলে কিছুই হচ্ছে না)। কারা অতিরিক্ত মাত্রায় হ্যান্ডশেক করে। ইত্যাদি ইত্যাদি।
ওনার পড়ানোর বিষয়ে বিভিন্ন দেশের সাংস্কৃতিক পার্থক্য বড় একটা অংশ জুড়ে ছিল। এ প্রসঙ্গেই তিনি জানাচ্ছিলেন, আমাদের ভারতীয় উপমহাদেশ বিষয়ে তার ধারণার কথা। আমাদের এখানকার বিয়ের সিস্টেমটা ওনার সবচেয়ে অপছন্দ। জানালেন পারিবারিক বিয়ে/অ্যারেঞ্জ ম্যারেজ তিনি একেবারেই দেখতে পারেন না। চায়নায় বিয়ের সময় পাত্র-পাত্রীদের হাসিমুখ করে বসে থাকতে হয়। কিন্তু আমাদের দেশের বিয়ের সময় পাত্র-পাত্রীদের হাসার নিয়মতো নাইই বরং হাপুস হুপুস করে কান্নাকাটি করার নিয়ম প্রচলিত আছে।
বলছিলেন, এ ধরনের কয়েকটা বিয়ের ছবি দেখে ওনার খুবই খারাপ লেগেছে। অবশ্য ক্লাসের কয়েকজন ভারতীয় ছাত্র ওনাকে এ ব্যাপারটা বোঝানোর চেষ্টা করলো। বলা হলো সেখানে এটাই নিয়ম। যদিও তিনি কতোখানি বিশ্বাস করলেন তা প্রশ্নসাপেক্ষ।
তবে তার এ বিশ্বাসের আসল কারণটা জানা গেল একটু পরে।
তিনি বললেন, এ ইউনিভার্সিটিতেই এক ইন্ডিয়ান মেয়ে ছিল ওনার বান্ধবী। সে বান্ধবী ইংল্যান্ডেই তার স্বামীর হাতে খুন হয়েছে। আর তার বিয়েটা ছিল অ্যারেঞ্জ ম্যারেজ। প্রথমে তার মারা যাওয়ার ঘটনাটা স্বাভাবিক বলেই মনে হয়েছিল।
এ প্রসঙ্গে তিনি অ্যারেঞ্জ ম্যারেজ বিষয়ে তার অপছন্দের বিষয়টা জানাচ্ছিলেন। পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শিক্ষার্থীরা এ ক্লাসে আছে। দেখা গেল, এ ব্যাপারটা পৃথিবীর বহু দেশেই প্রচলিত আছে। ইন্ডিয়ার শিক্ষার্থীরা জানালো তাদের দেশের বিয়ের শতকরা ৯০ ভাগই পরিবারের অ্যারেঞ্জ ম্যারেজ (বলা বাহুল্য বাংলাদেশের পরিসংখ্যানও এমনই হবে)।
তিনি জানালেন, মেয়েটার খুনী স্বামীর ধরা পড়ার ঘটনাটা ছিল খুবই ইন্টারেস্টিং। ইউনিভার্সিটির ল্যাব থেকে কে কোন বিষয়ে ইন্টারনেটে ব্রাউজ করে তার সম্পূর্ণ ইতিহাস সংরক্ষণ করা হয়। মেয়েটাকে খুন করার আগে তার স্বামী ইন্টারনেটে খুন করার বিভিন্ন পদ্ধতি সম্পর্কে সার্চ করেছিল। এ বিষয়টা উদ্ধার হওয়ার পরেই খুনের রহস্যটা বের হয়ে আসে।
একদিন ক্লাসের মাঝে ওনার ছবি তোলার কথা বলতেই তিনি হাসিমুখে রাজি হয়ে গেলেন...
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে আগস্ট, ২০০৮ রাত ৮:১৭
৩৪টি মন্তব্য ৩৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×