আমাদের ক্লাস শুরু করা মাত্রই তিনি জানিয়ে দিলেন কিছুক্ষণ আগে তিনি চায়না থেকে এসেছেন। ফলে জেটল্যাগ এখনো কাটেনি। আনুমানিক ৩০ বছর বয়স্ক এ টিচার পড়ানো বাদ দিয়ে তিনি তার নিজের কথা বলতে লাগলেন।
এখানে জয়েন করার জন্য চায়না থেকে আসলেও তিনি কিন্তু ব্রিটেনে নতুন না। কয়েক বছর আগে থেকেই তিনি এ ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনা করেছেন।
চায়নাতে থাকতে উনি ছিলেন একজন মার্চেন্ডাইজার। ওনার দীর্ঘ দিনের অভিজ্ঞতা আছে চায়না-জাপান ও ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সঙ্গে আন্তর্জাতিক ব্যবসার।
বলছিলেন, প্রথমে এখানে এসে তিনি কোনো কাজ পাচ্ছিলেন না। ফলে বাধ্য হয়ে কাজ নেন একটা রেস্টুরেন্টে। সেখানে ওনাকে প্লেট নিয়ে দৌড়াদৌড়ি কতে হতো। এসব করতে খুবই কষ্ট হতো। ইত্যাদি ইত্যাদি....
ব্যবসা বাণিজ্যের স্বার্থে বিভিন্ন দেশের সাংস্কৃতিক পার্থক্য এমবিয়েতে পড়তে হয়। কোন সংস্কৃতির লোকজন নিজেদের আত্মীয় স্বজনকে অতি গুরুত্ব দেয়। কাদের মিটিং দেখলে মনে হবে প্রচণ্ড ঝগড়া করছে। কিন্তু আসলে কিছুই হচ্ছে না)। কারা অতিরিক্ত মাত্রায় হ্যান্ডশেক করে। ইত্যাদি ইত্যাদি।
ওনার পড়ানোর বিষয়ে বিভিন্ন দেশের সাংস্কৃতিক পার্থক্য বড় একটা অংশ জুড়ে ছিল। এ প্রসঙ্গেই তিনি জানাচ্ছিলেন, আমাদের ভারতীয় উপমহাদেশ বিষয়ে তার ধারণার কথা। আমাদের এখানকার বিয়ের সিস্টেমটা ওনার সবচেয়ে অপছন্দ। জানালেন পারিবারিক বিয়ে/অ্যারেঞ্জ ম্যারেজ তিনি একেবারেই দেখতে পারেন না। চায়নায় বিয়ের সময় পাত্র-পাত্রীদের হাসিমুখ করে বসে থাকতে হয়। কিন্তু আমাদের দেশের বিয়ের সময় পাত্র-পাত্রীদের হাসার নিয়মতো নাইই বরং হাপুস হুপুস করে কান্নাকাটি করার নিয়ম প্রচলিত আছে।
বলছিলেন, এ ধরনের কয়েকটা বিয়ের ছবি দেখে ওনার খুবই খারাপ লেগেছে। অবশ্য ক্লাসের কয়েকজন ভারতীয় ছাত্র ওনাকে এ ব্যাপারটা বোঝানোর চেষ্টা করলো। বলা হলো সেখানে এটাই নিয়ম। যদিও তিনি কতোখানি বিশ্বাস করলেন তা প্রশ্নসাপেক্ষ।
তবে তার এ বিশ্বাসের আসল কারণটা জানা গেল একটু পরে।
তিনি বললেন, এ ইউনিভার্সিটিতেই এক ইন্ডিয়ান মেয়ে ছিল ওনার বান্ধবী। সে বান্ধবী ইংল্যান্ডেই তার স্বামীর হাতে খুন হয়েছে। আর তার বিয়েটা ছিল অ্যারেঞ্জ ম্যারেজ। প্রথমে তার মারা যাওয়ার ঘটনাটা স্বাভাবিক বলেই মনে হয়েছিল।
এ প্রসঙ্গে তিনি অ্যারেঞ্জ ম্যারেজ বিষয়ে তার অপছন্দের বিষয়টা জানাচ্ছিলেন। পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শিক্ষার্থীরা এ ক্লাসে আছে। দেখা গেল, এ ব্যাপারটা পৃথিবীর বহু দেশেই প্রচলিত আছে। ইন্ডিয়ার শিক্ষার্থীরা জানালো তাদের দেশের বিয়ের শতকরা ৯০ ভাগই পরিবারের অ্যারেঞ্জ ম্যারেজ (বলা বাহুল্য বাংলাদেশের পরিসংখ্যানও এমনই হবে)।
তিনি জানালেন, মেয়েটার খুনী স্বামীর ধরা পড়ার ঘটনাটা ছিল খুবই ইন্টারেস্টিং। ইউনিভার্সিটির ল্যাব থেকে কে কোন বিষয়ে ইন্টারনেটে ব্রাউজ করে তার সম্পূর্ণ ইতিহাস সংরক্ষণ করা হয়। মেয়েটাকে খুন করার আগে তার স্বামী ইন্টারনেটে খুন করার বিভিন্ন পদ্ধতি সম্পর্কে সার্চ করেছিল। এ বিষয়টা উদ্ধার হওয়ার পরেই খুনের রহস্যটা বের হয়ে আসে।
একদিন ক্লাসের মাঝে ওনার ছবি তোলার কথা বলতেই তিনি হাসিমুখে রাজি হয়ে গেলেন...
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে আগস্ট, ২০০৮ রাত ৮:১৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


