কাজ শেষে হামজার সাথে আলাপ করলাম, ঈদের দিনটাতে কিভাবে ছুটি নেওয়া যায়।
তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, এখানে তোমার আত্মীয়-স্বজন কয়জন আছে?
-বললাম, তেমন কেউ নেই।
সময় কাটানোর মতো আর কে কে আছে?
-বললাম, তাও নেই।
তিনি জানালেন, তারও একই অবস্থা। তাই কালকে ঈদের দিন হলেও তিনি ছুটি নেননি। কারণ বাসায় থাকলে তার বোরিং লাগবে। আর একদিন কাজের মূল্যটাও কম না। তাছাড়া আমরা টাকা পাই ঘণ্টা হিসাবে। কাজ না করলে টাকা নাই...
এইসব বলে তিনি আমাকে কাজে যাবার জন্য উৎসাহিত করতে লাগলেন। আমিও চিন্তা করে দেখলাম, কি হবে ঈদের দিন বাসায় বসে থেকে!!!
ঈদের দিন সকালেই নামাজ পড়ার জন্য আমার এক বন্ধু ডাকাডাকি করে ঘুম থেকে উঠিয়ে দিলো। কাজে যাবো ১১টার সময়। তার আগে কি কি করা যায় তাই ভাবছিলাম।
পাশের বাসার আঙ্কেল রাতে আমাদের বাসার সবাইকে দাওয়াত দিয়েছেন। কিন্তু আমি রাতে আসতে পারবো না শুনে নামাজ শেষে তিনি আমাকে ওনার বাসায় নিয়ে গেলেন। সকালের নাস্তাটা ওনার বাসাতেই করলাম। চিকেন আর রুটি। আন্টির রান্না খুব মজার হয়েছিলো।
শুনেছিলাম, পায়ে ধরে সালাম করলে আংকেল আর আন্টি নাকি সালামি দেয়। কিন্তু আজকে কিছুই দিলেন না। মনে হয় সালামি নেওয়ার উপযুক্ত বয়সটা আর নাই। আর সালামি তো আর চেয়ে নেওয়া যায় না, তাই মুখ ফুটে বলতেও পারলাম না।
এরপর বাসায় এসে তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে কাজে চলে গেলাম। ঈদের দিন আমার কাজ ছিল বাসা থেকে প্রায় ১০০ মাইল দূরে। অবশ্য এদেশের যাতায়াত ব্যবস্থা ভালো হওয়ায় এতোটা পথ যেতে মাত্র দেড় ঘণ্টা লাগলো।
কাজ থেকে বাসায় যখন ফিরলাম তখন আমার ঘড়িতে রাত পোনে তিনটা বাজে। এতো রাতে রান্নাবান্না করে খাবার ইচ্ছা নাই। এদিকে ফ্রিজও খালি। আবার ক্ষিদাও কম লাগেনি।
ঈদের দিন না খেয়ে ঘুমাবো তাই কি হয় নাকি? কয়েক বন্ধু একসাথে থাকি। তাই বন্ধুদের ডেকচিতে কার কি খাবার আছে উকিঝুকি মারা শুরু করলাম। ভাতটা আমরা সবাই মিলেই শেয়ার করি। কেউ একজন ভাত রান্না করে রেখেছে।
এদিকে আমার ডেকচিগুলো নাই। আমার এক ডেকচিতে কে যেন ভেজিটেবল রান্না করেছে। আর আমার ফ্রাই প্যানে টুনা মাছ রান্না করেছে। চিন্তা করে দেখলাম, আমার ডেকচিতে যখন রান্না করেছে তাহলে নিশ্চয়ই সারচার্জ হিসেবে এগুলোর কিছু অংশ টেস্ট করে দেখা যেতে পারে
এভাবেই রাতের খাবারটাও অল্প-স্বল্প হয়ে গেল।
ঘুমানোর আগে কম্পিউটারে সামহয়ারইনব্লগে ঘুরতে ঘুরতে ব্লগারদের ঈদ মোবারক দেখছিলাম। এসময় চিন্তাটা মাথায় আসলো। আমার কাছে এবারের ঈদের মূল্য কতো? ১১ ঘণ্টা কাজের জন্য পাচ্ছি, ১১ ঘণ্টা গুণ ৬ = ৬৬ পাউন্ড + অ্যালাওয়েন্স ২ পাউন্ড = ৬৮ পাউন্ড। এরকম উপার্জন হতে থাকলে আশা করি শীঘ্রই ইউনিভার্সিটির টিউশন ফির বাকি টাকাগুলো শোধ হয়ে যাবে। তারপর ঈদে কত্তো মজা করবো।
সবাইকে ঈদ মোবারক।
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা অক্টোবর, ২০০৮ ভোর ৫:০৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


