দলটির অস্তিত্ত খুজে পাই আমি ২০০১ এর পর। ২০০১ এর নির্বাচনে জাতীয়তাবাদি দল যখন জয়ী হয় তখন। মনে আছে ভাল লেগেছিল সেদিন। নির্বাচনের দিন মনে হয়েছিল যাক অন্তত টেলিভিশনের অত্যাচার থেকে মুক্তি পাওয়া গেলো। ১৯৯৬ থেকে ২০০১। মনে হয়েছিল প্রতিটি দিন ই যেন বঙগবন্ধু দিবস আর প্রতিটি মুহু্র্তে বাঙালী রা কত দুখী। অভার অল পুরা বাংলাদেশ এ একটা বাপের দেশ বাপের দেশ গন্ধ ছিল। ঐ সময় জাতীর জনক বন্গবনধুর জন্য আমার যে শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ছিল উনার কন্যার বদৌলতে তাতে চীর ধরে। অবশ্য এর চেয়ে বেশী কিছু নিয়ে ভাবার বা উদঘাটনের উৎসাহ বা আগ্রহ কোনওটাই তেমন ভাবে ছিলনা। শুরু হলো ২০০১ থেকে নতুন সরকারের শাষন।
নতুন করে চিনতে শুরু করলাম দূর্নিতী কত প্রকার ও কি কি। চারিদিকে ঘূষ উৎসব জমে উঠেছে। যে যেভাবে পারছে খাচ্ছে, নিচ্হে, গিলছে। পারসেন্ট গেম। পারসেন্টিজ ছাড়া কাজ করাবেন মানে? যেন হায়ারগ্লিফিক্স। নতুন করে চিনলাম হাওয়া ভবন। গুনধর রাজপুত্র। অসাধারণ তার ক্ষমতা। পাড়ায় পাড়ায় বাচ্চা ছেলে দের পকেট ভর্তি কাড়ি কাড়ি টাকা, তারেক ভাইএর গুনগান। চোরের মায়ের বড় গলা।
ককটেল আর পাইপগান এ যে জাতি সংকিত হত, গনতন্ত্র সে জাতী কে একে একে সেখালো গ্রেনেড, আর ডি এক্স, এ কে ৪৭ ইত্যাদী। তার পর শুরু হলো আরেক কির্তি। জন্গীবাদ। বোম ব্লাস্ট। যেখানে সেখানে মশার মত বাঙালী মারা হাত পা উরে যাওয়া। টেলিভিশনে নতুন নতুন মুখ। ময়লা জিন্স এর সাথে চক চকে শার্ট পরা পাড়ার বখাটে ছেলেদের মত এক লোক কে দেখা যেতে শুরু করল টিভির পর্দায়। তার চুল গুলো আবার টেলিকম টাওয়ার এর মত আকশমুখি হেয়ারজেল এর কল্যানে। সে বাঙরেজী ভাষায় বলে "উই আর লুকিং ফর সত্রু।" অথচ বাংলাদেশ যেন তখন ইরাকের যুদ্ধ ক্ষেত্র। ঠিক অনেকটা বর্তমান পাকিস্তানের মত।
মন্ত্রিরা নির্লজ্ঝের মত অস্বীকার করতেন দেশের ত্রাহী অবস্থা। ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা নামের লোকটি ব্যাঙের মত ঘাড় ফোলাতেন আর বলতেন সব মিত্থে, সব মিত্থে। সাথে বাংলাদেশ সরকারে কমন চেহারা মওদুদ আহমেদ ত ছিলেন ই। লোডসেডিং এ সারা দেশ থাকত অন্ধকারে আর সেই অন্ধকার এ বসে রাজপূত্ররা টাকা গুনতেন। তাও আবার ১০০ কোটির নিচে মনে হত কোনও সংখা ই ছিলো না। আর রাজাকার রা তখন গোপনে তাদের কন্সট্রাকসন মজবুত করছে।
দম বন্ধ অবস্থা তখন। আমি হয়ে গেলাম বিরোধী দল। মনে হত যাকের পার্টি ক্ষমতায় যাক তবু যেনো বি, এন, পি, না যায়। ২০০৭ এ অবস্থা তখন বেগতিক। মওদুদ এর প্যাচএ জাতী একেবারে পেঁচা। তখন মইন উ এলেন আদতে আর্মির গুষ্টি উদ্ধার করতে ও দুর্নিতী কে বাংলাদেশে লাইফ লং বৈধতা দিতে। দুই বছরের নাটক দেখালেন তিনি। নিজে এমন ভাব যেন নায়ক ছবির অনীল কাপুর।
২০০৮ এর নির্বাচন এর ফল দেখে হাসি ধরে রাখা কষ্টকর হয়ে পড়েছিল। অল্পের জন্য এরশাদের জাতীয় পার্টি প্রধান বিরোধী দল হতে হতে থেকে গেল। ভালো লাগল দেখে বাঙালী রাজাকার দের প্রত্যাক্ষান করেছে। গঠিত হল নতুন সরকারের নতুন মন্ত্রিসভা। চার সিনয়র নেতা কে বাঁশ দেয়ার জন্য শেখ হাসিনা অনেক বড় বাঁশ হাতে নিলেন। বাংলাদেশ ফুটবল দলের সামপ্রতিক কোচ ডিডোর মত ব্যাক্তি সত্রুতায় সেলিব্রেটি খেলোয়াড় রেখে সাইডলাইন দিয়ে স্কোয়াড সাজালেন। তিনি দলের ত্যাগি নেতাদের পুরুস্কার দিলেন দেশের মন্ত্রিত্ত। যোগ্যতা বিচারে রাখলেন কে কত বেশি পুলিশের বাড়ি খেয়েছে আর তার প্রতি অনুগত থেকেছে। ভিন্ন ধারার মন্ত্রী নির্বাচন প্রক্রিয়ার জলজ্যন্ত উদাহরণ সাহারা খাতুন, ফারুক খান, দিলিপ বড়ুয়ার (সাম্যবাদী দল) মত আইটেম।
শুরু হল প্রকাশ্যে ভারত বন্দনা। করিডোর, টিপাইমুখ এর মত গুরুত্বপুর্ণ বিষয়ে নাটক। এর মধ্যে ঘটল পিলখানার সেই পিলে চমকে দেয়ার মত নৃসংস হত্যাকান্ড। খুন হলেন জাতীর শ্রেষ্ট সন্তানেরা। আমরা কেউ কেউ আবার তাদের গালাগালিও করতে ছাড়িনি। বোঝা গেলো আমাদের জন্মে যে পাপ আছে তার প্রমাণ ই আমরা যুগে যুগে দিয়ে যাব।
বাংলাদেশের সরকারগুলোর কর্মকান্ডে মনে হচ্ছে আমি কখনও সরকারী দল করতে পারব না। আমি আবার দল বদল করেছি। আবার আমি বিরোধী দল। পাকিস্তান, চিন, ভারত, আমেরিকা, সৌদি, যার মদদেই সরকার আসুক এধরনের কর্মকান্ড যতদিন আমার দেশে চলবে আমি ততদিন বিরোধী দল। জাতীয় বিরোধী দল। কেউ যোগদান করতে চাইলে স্বাগতম।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




