মাত্র ৯ মাসে আমাদের স্বাধীনতা অর্জনের পেছনে অনেক গুলো কারেণের মধ্যে একটি হল বহি:বিশ্বের সমর্থন। এই সমর্থন অর্জনের জন্য ছিল নানামুখী প্রচেষ্টা। এবং এই প্রচেষ্টার এক বড় অংশ জুড়ে জ্বল জ্বল করছে একটি নাম "জর্জ হ্যারিসন"।
গীটারের ছয় তারে ঘুরে বেড়াতেন এই রকস্টার। "দি বিটল্স" এর হয়ে মন্চ মাতিয়েছেন কত। গীটারের সাথে গলার সুর। সুরের সাথে কথার অভিসারে গান হত। কলম হাতে তিনি লিখেছেনও অনেক। এভাবেই একে একে জন্ম নেয় "I Me Mine", "Taxman", "Within You Without You" সহ আরও কত গান। সুরের প্রেমিক নরম মনের এই সাধক এড়িয়ে চলতেন প্বথিবীর সব নিস্ঠুরতা কে।
কিন্তু আমাদের ৭১এ পাক হানাদার দের হিংস্রতা সেদিন কাঁদিয়েছিল "জর্জ হ্যারিসন" কে। অন্তরের ডাকে সাড়া দিয়ে তার পুর্ব নির্ধারিত ওয়ার্ল্ড ট্যুর ক্যানসেল করে তুলে নিয়েছিলেন তার গিটার বাংলাদেশের জন্য, বাংলাদেশের মানুষের জন্য।
কনসার্ট ফর বাংলাদেশ-১লা আগস্ট ১৯৭১। যখন বাংলাদেশে বাতাস ভারি লাশের গন্ধে, জ্বলছে প্রতিষোধের আগুন। তখন.....সময় সন্ধা ৭টা। নিউ ইয়র্কের "মেডিসন স্কয়ার গার্ডেনে" ৪০ হাজার লোক জানল বাংলাদেশের নাম, আমাদের সন্গ্রামের কথা। জানালেন সেই "জর্জ হ্যারিসন"। বাংলাদেশের মানুষের জন্য অশ্রু ফেলেছিল সেদিন ৮০ হাজার চোখ। "কনসার্ট ফর বাংলাদেশ" নামে সফল এক চ্যারিটি কনসার্ট হয়েছিল সেদিন। জর্জ হ্যারিসন রবি সংকর ছাড়া পারফর্ম করেছিলেন, বব ডিলন, এরিক ক্লিপ্টন, বিলি প্রেস্টন, লিওন রাসেল, বেড ফিন্গার সহ আরও অনেকে। ২৪৩,৪১৮.৫১ ইউ এস ডলার সেদিন জমা হয়েছিল বাংলাদেশের জন্যে এই চ্যারিটি থেকে।
১৯৯৭ সালে জর্জ হ্যারিসন জানতে পারেন তার গলায় ক্যানসার হয়েছে। যে গলা গীটারের সাথে সুর মিলিয়ে বেজে উঠত সেই গলাই তার জীবনের কাল হয়ে উঠল। জীবনের উপসংহারে একা হয়ে গিয়েছিলেন হ্যারিসন। সৃতির পাতা ঘাটতে ঘাটতে একদিনও কি তিনি ভাবেননি, বাংলাদেশের মানুষ তাকে একদিন ডাকবেই। হয়ত ভেবেছিলেন। একটু অভিমানও হয়ত ছিল। অহেতুক অপেক্ষা। নিস্ফল অভিমান।
হায়রে বাংগালী। "বাংলাদেশ বাংলাদেশ" গানটি রেনেসার বগী ভাইএর গলায় শুনেই খুশী। কত বিদেশী শিল্পি গান গেয়ে যায় এই স্বাধীন বাংলার বাতাসে। আমাদের সৌভাগ্য আমরা পাকিস্থানি ব্যান্ড- স্ট্রিংস, জুনুন এর গানও শুনি কিন্তু যে মানুষটি আমার দেশের মানুষ কে দুর থেকে ভালবেসে ফেলেছিল সে মানুষটিকে একবার বুকে জড়িয়ে ধন্যবাদ বলা গেল না? যে মানুষটি বিনা ডাকে সাড়া দিয়েছিলেন একবার তাকে ডাকলে কি ক্ষতি হত আমাদের? ডাকলাম না আমরা। ২০০১ সালে ২৯ নভেম্বর শেষ হয় তার অপেক্ষা। আর আমরা ডুবি লজ্জায়। অন্তহীন নির্লজ্জের লজ্জা। ছিহ!!!!!!
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:৪০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


