somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার স্কুল সিলেট সরকারী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়এর ১৭৫ বছরের জন্মদিন ও আমি...

২৮ শে জানুয়ারি, ২০১০ রাত ১০:১৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

শুক্রবার সকাল আগের দিনের র‌্যালি মিস করায় খারাপই লাগছিল। শুনেছি র‌্যালি নাকি অনেক বড় হয়েছিল। হাতি ঘোড়া সবই নাকি ছিল। যা হোক শুক্র ও শনি বার একদম পুষিয়ে নেয়ার লক্ষে উপস্থিৎ হলাম স্কুলের গেট এ। ১৩ বছর আগে আমার স্কুল যেমন টি ছিল, তেমন টি আছে। আমাদের জন্যে শুধু অনেক সেজেছে সে।

রিপোর্টিং- রিপোর্টিং করতে কোনও ঝামেলাই করতে হল না। ৯৭ ব্যাচের কাউন্টারে কোনও ভিড় ছিল না। এতে একটু খুশি হলেও বেশ সংকিত হয়ে পড়লাম। রিপোর্ট করার সাথে সাথে আমাকে দেয়া হল একটি অনুষ্ঠানসুচি, টেবিল কেলেন্ডার, আইডি কার্ড ও সকালের নাস্তা স্যান্ডুইচ আর মিষ্টি।

বন্ধু কোথায় রে তোরা?- শুরু হল বন্ধু খোঁজা। কে এসেছে.... কে এসেছে.... এই ত হ্যা.. একে একে পাওয়া গেল তাদের। ইশ্তি্য়াক, ফেরদৌস, শাহিন, টিটো, মুকিত, মুমিত, শাকিল, জেম, মোহিত, জাভেদ, তারেক। সেদিন সকালে এদের সাথেই সৃতির তেপান্তরে বেরিয়ে পড়ি। সিদ্ধান্ত নিলাম এক সাথে থাকব। আলাদা হব না। তার পর এক সাথে সৃতির এনসাইক্লোপেডিয়া খুলে বসলাম।

পিতৃ সম শিক্ষকগন বন্ধু ত কম বেশি পাওয়া গেল, এবার স্যার। দেখা হল নিজাম উদ্দিন স্যার এর সাথে। তার পর কবির খান স্যার, শংকর স্যার। অপ্রত্যাসিত ভাবে দেখা হল নুরুল আলম স্যারের সাথে। নুরুল আলম স্যার ছিলেন আমাদের আতংক। স্যারের ক্লাস থাকলে শার্টের বোতাম ঠিক আছে কি না, চুল ছোট করে ছাটা কি না সোজা হয়ে বসা হয়েছে কি না এ নিয়ে চরম আতংকে থাকতাম। স্যারের শাস্তিও ছিল একটু অন্যরকম। আমাদের কে স্যারের টেবিলের নিচ দিয়ে ডান থেকে বায়ে বের হয়ে যেতে হত শাস্তি শেষ। তবে এতে একটা শর্ত ছিল। এই গমণ প্রক্রিয়ার মাঝে স্যার আমাদের অ্যামেরিকায় তার হাতের জ্জালি বেত দিয়ে চরম আঘাত করতেন। অ্যামেরিকা বাঁচানোর জন্য অনেকে আবার দুটো প্যান্ট পরে স্যারের ক্লাসে আসত। এ অত্যাচার অবশ্য ক্লাস ফাইভ পর্যনতই ছিল। সেই নুরল আলম স্যার আমাদের জড়িয়ে ধরলেন। পকেট থেকে বের করে দিলেন চকলেট। চোখ অবাধ্য হয়ে গেল হঠাৎ। একে একে অনেক স্যারই আমাদের জড়িয়ে ধরলেন। আব্দুল মান্নান স্যার কে চেনা যাচ্ছিল না। চেহারায় একটা আভিজাত্য চলে এসেছে। স্যার কে আমরা লাম্বা মান্নান স্যার ডাকতাম। দেখা হল সাহিত্যিক স্যারের সাথে, সিদ্দিক স্যার, টেকই স্যার, জহুর স্যার। শীলা ম্যাডাম,!!! আগের মতই আছেন।

সেদিন বিকেল দুপুরে স্কুলে রোস্ট পোলাও খেয়ে বাসায় চলে গিয়েছিলাম। ভাবলাম হালকা রেস্ট নিয়ে আসি। বিকেলে এসে পেলাম আরেক ঝাক বন্ধু। এবার দেখা গেল, রাফেল, ফাহিম, আসাদ ছায়েদুর সহ বাকিদের। আড্ডা দিতে দিতে শুরু হয়ে গেল সাংস্লৃতিক অনুষ্ঠান। প্রথমেই স্টেজএ উঠলেন ৮০ বছরের এক মাসিমা। কি গাইলেন উনিই জানেন। এর পর একে একে বোরিং পরিবেশনা। পোলাপাইনের ধৈর্য যখন টাটা দিতে উদ্ধত তখন স্টেজএ আসলেন এ স্কুলের ই ছাত্র শুভ্র দেব। এবং তার পরই বাউল এর আসর।

স্কুলের বিখ্যাত ব্যাক্তিত্য-- অনেক গর্ব বুকে নিয়ে আমার স্কুলের ছাত্র ছিলেন এমন বিখ্যাত ব্যাক্তির কথা আমি সবাই কে বলে বেড়াই। আজও বলব। আমি জত দুর জানি। এই স্কুলের ছাত্র ছিলেন, এম এ জি ওসমানি, এম, সাইফুর রহমান, আবুল মাল আব্দুল মুহিত, মেজর জেনারেল হাসান মশহুদ চৌধুরী (অবসর প্রাপ্ত) হাফিজ মজুমদার, সহ আরও অনেকে।

আমার হল সারা-শনিবার দিন ব্যাপি অনুষ্ঠান ছিল। আমি দুপুর পর্যন্তই থাকতে পেরেছিলাম। কারণ বিকেলে ঢাকায় রওনা করে কাল অফিস করতে হবে। সেদিন সকালে স্কুল থেকে পাওয়া স্বরনিকা টি হাতে পেয়ে অনেক ভাল লাগছিল। আগের দিন বিকেলে অবশ্য গিফ্ট হিসেবে একটি ব্যাগ ও পলো শার্ট পেয়েছিলাম। অবাক হয়ে লক্ষ করলাম আমার ফিরে আসতে ইচ্ছে করছে না। কিন্তু ফিরে যে আসতেই হবে। সে দিনগুলো ত আমি পেছনে ফেলে এসেছি। সময় এর নিষ্ঠুরতার তুলনা খোঁজা আসলে সময় নষ্ট করা ছাড়া কিছু নয়। আরও একবার সময় কে বিজীত ঘোষনা করে ফিরে চল্লাম। পেছনে থেকে গেল আমার সব চেয়ে প্রীয় কিছু একটা।




সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে জানুয়ারি, ২০১০ রাত ১০:১৯
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×