শুক্রবার সকাল আগের দিনের র্যালি মিস করায় খারাপই লাগছিল। শুনেছি র্যালি নাকি অনেক বড় হয়েছিল। হাতি ঘোড়া সবই নাকি ছিল। যা হোক শুক্র ও শনি বার একদম পুষিয়ে নেয়ার লক্ষে উপস্থিৎ হলাম স্কুলের গেট এ। ১৩ বছর আগে আমার স্কুল যেমন টি ছিল, তেমন টি আছে। আমাদের জন্যে শুধু অনেক সেজেছে সে।
রিপোর্টিং- রিপোর্টিং করতে কোনও ঝামেলাই করতে হল না। ৯৭ ব্যাচের কাউন্টারে কোনও ভিড় ছিল না। এতে একটু খুশি হলেও বেশ সংকিত হয়ে পড়লাম। রিপোর্ট করার সাথে সাথে আমাকে দেয়া হল একটি অনুষ্ঠানসুচি, টেবিল কেলেন্ডার, আইডি কার্ড ও সকালের নাস্তা স্যান্ডুইচ আর মিষ্টি।
বন্ধু কোথায় রে তোরা?- শুরু হল বন্ধু খোঁজা। কে এসেছে.... কে এসেছে.... এই ত হ্যা.. একে একে পাওয়া গেল তাদের। ইশ্তি্য়াক, ফেরদৌস, শাহিন, টিটো, মুকিত, মুমিত, শাকিল, জেম, মোহিত, জাভেদ, তারেক। সেদিন সকালে এদের সাথেই সৃতির তেপান্তরে বেরিয়ে পড়ি। সিদ্ধান্ত নিলাম এক সাথে থাকব। আলাদা হব না। তার পর এক সাথে সৃতির এনসাইক্লোপেডিয়া খুলে বসলাম।
পিতৃ সম শিক্ষকগন বন্ধু ত কম বেশি পাওয়া গেল, এবার স্যার। দেখা হল নিজাম উদ্দিন স্যার এর সাথে। তার পর কবির খান স্যার, শংকর স্যার। অপ্রত্যাসিত ভাবে দেখা হল নুরুল আলম স্যারের সাথে। নুরুল আলম স্যার ছিলেন আমাদের আতংক। স্যারের ক্লাস থাকলে শার্টের বোতাম ঠিক আছে কি না, চুল ছোট করে ছাটা কি না সোজা হয়ে বসা হয়েছে কি না এ নিয়ে চরম আতংকে থাকতাম। স্যারের শাস্তিও ছিল একটু অন্যরকম। আমাদের কে স্যারের টেবিলের নিচ দিয়ে ডান থেকে বায়ে বের হয়ে যেতে হত শাস্তি শেষ। তবে এতে একটা শর্ত ছিল। এই গমণ প্রক্রিয়ার মাঝে স্যার আমাদের অ্যামেরিকায় তার হাতের জ্জালি বেত দিয়ে চরম আঘাত করতেন। অ্যামেরিকা বাঁচানোর জন্য অনেকে আবার দুটো প্যান্ট পরে স্যারের ক্লাসে আসত। এ অত্যাচার অবশ্য ক্লাস ফাইভ পর্যনতই ছিল। সেই নুরল আলম স্যার আমাদের জড়িয়ে ধরলেন। পকেট থেকে বের করে দিলেন চকলেট। চোখ অবাধ্য হয়ে গেল হঠাৎ। একে একে অনেক স্যারই আমাদের জড়িয়ে ধরলেন। আব্দুল মান্নান স্যার কে চেনা যাচ্ছিল না। চেহারায় একটা আভিজাত্য চলে এসেছে। স্যার কে আমরা লাম্বা মান্নান স্যার ডাকতাম। দেখা হল সাহিত্যিক স্যারের সাথে, সিদ্দিক স্যার, টেকই স্যার, জহুর স্যার। শীলা ম্যাডাম,!!! আগের মতই আছেন।
সেদিন বিকেল দুপুরে স্কুলে রোস্ট পোলাও খেয়ে বাসায় চলে গিয়েছিলাম। ভাবলাম হালকা রেস্ট নিয়ে আসি। বিকেলে এসে পেলাম আরেক ঝাক বন্ধু। এবার দেখা গেল, রাফেল, ফাহিম, আসাদ ছায়েদুর সহ বাকিদের। আড্ডা দিতে দিতে শুরু হয়ে গেল সাংস্লৃতিক অনুষ্ঠান। প্রথমেই স্টেজএ উঠলেন ৮০ বছরের এক মাসিমা। কি গাইলেন উনিই জানেন। এর পর একে একে বোরিং পরিবেশনা। পোলাপাইনের ধৈর্য যখন টাটা দিতে উদ্ধত তখন স্টেজএ আসলেন এ স্কুলের ই ছাত্র শুভ্র দেব। এবং তার পরই বাউল এর আসর।
স্কুলের বিখ্যাত ব্যাক্তিত্য-- অনেক গর্ব বুকে নিয়ে আমার স্কুলের ছাত্র ছিলেন এমন বিখ্যাত ব্যাক্তির কথা আমি সবাই কে বলে বেড়াই। আজও বলব। আমি জত দুর জানি। এই স্কুলের ছাত্র ছিলেন, এম এ জি ওসমানি, এম, সাইফুর রহমান, আবুল মাল আব্দুল মুহিত, মেজর জেনারেল হাসান মশহুদ চৌধুরী (অবসর প্রাপ্ত) হাফিজ মজুমদার, সহ আরও অনেকে।
আমার হল সারা-শনিবার দিন ব্যাপি অনুষ্ঠান ছিল। আমি দুপুর পর্যন্তই থাকতে পেরেছিলাম। কারণ বিকেলে ঢাকায় রওনা করে কাল অফিস করতে হবে। সেদিন সকালে স্কুল থেকে পাওয়া স্বরনিকা টি হাতে পেয়ে অনেক ভাল লাগছিল। আগের দিন বিকেলে অবশ্য গিফ্ট হিসেবে একটি ব্যাগ ও পলো শার্ট পেয়েছিলাম। অবাক হয়ে লক্ষ করলাম আমার ফিরে আসতে ইচ্ছে করছে না। কিন্তু ফিরে যে আসতেই হবে। সে দিনগুলো ত আমি পেছনে ফেলে এসেছি। সময় এর নিষ্ঠুরতার তুলনা খোঁজা আসলে সময় নষ্ট করা ছাড়া কিছু নয়। আরও একবার সময় কে বিজীত ঘোষনা করে ফিরে চল্লাম। পেছনে থেকে গেল আমার সব চেয়ে প্রীয় কিছু একটা।
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে জানুয়ারি, ২০১০ রাত ১০:১৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


