somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একটা গল্প বলি শোনেন

২২ শে জানুয়ারি, ২০১০ রাত ১০:৫৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন সময়ে অনেকের সাথে পরিচয় হয়েছে, অনেকের সাথে বন্ধুত্ব হয়েছে আবার অনেকের সাথে শত্রুতা ও হয়েছে। যা হয় সচরাচর। আমরা কয়েক বন্ধু ছিলাম, যাদেরকে সবাই হরিহর আত্না বলেই জানত। বিশেষ করে আমার ৫ জন। আর এই ৫ জনকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচিত সবাই ৫ মাস্কেটিয়ার্স নামে ডাকত। আজকের গল্পটা তাদের ২ জনকে নিয়ে। আমার বন্ধুদের সম্মানের দিকে তাকিয়ে প্রকৃত নাম প্রকাশ করলাম না।
এক্স সবসময় সব বন্ধুদের শুধু নয় পরিচিত সবার জন্য ছিল নিবেদিত প্রাণ। একবার পরীক্ষার মধ্যে ওয়াই খুব অসুস্থ হয়ে পড়ে। এক্স ওয়াইকে নিয়ে খুব ছুটাছুটি করে এবং তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করে। শুধু তাই নয়, ওয়াই অসুস্থ এজন্য ক্লাসের বাকি সবাইকে মোটিভেট করে পরীক্ষাই স্থগিত করে দেয়। ওয়াইএর সেবা করতে গিয়ে বেচারা এক্স নিজেই অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং ক্যাম্পাস থেকে তার বাড়ি বেশী দূরে না হওয়ায় (মাত্র ২৭ কি:মি:) তাকে আমরা সবাই মিলে তার বাড়িতে রেখে আসি। এবং পরবর্তী পরীক্ষার দিনে তাকে ছাড়া আমরা সবাই পরীক্ষা দিয়ে আসি যার মধ্যে ওয়াই ও ছিল। এক্স পরীক্ষা দিতে আসেনি জানতে পেরে আমাদের মনটা খুব খারাপ হলেও পরবর্তীতে এক্স এটা নিয়ে কোনদিন কোন কথা বলেনি।
যাই হোক এভাবে একদিন আমরা সবাই পাস করে বের হলাম। এক্স এর আবার ক্যাম্পাসে খুব বেশী জনপ্রিয়তা ছিল, এবং সেই সাথে রাজনৈতিক কর্তা ব্যক্তিদের একটা সুনজর তার উপর সবসময় থাকত, যদিও সে একবার মাত্র এই রাজনৈতিক ক্ষমতা ব্যবহার করেছে। সে বিষয়টিই আপনাদের সাথে শেয়ার করছি।
ওয়াই এর খুব ইচ্ছা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হবে, কিন্তু রেজাল্টের দৌড়ে সে কিছুটা পিছিয়ে, তাই তার মা এবং বড়ভাই এক্সকে খুব করে ধরল যেন ওয়াই এর জন্য সে কিছু করে। এক্স তখন আমাদের সাথে পরামর্শ করল। আমরা ও তাকে ধরলাম যে করে হোক ওয়াইকে শিক্ষক করতে হবে। আমাদের অনুরোধে এক্স রাজী হলো সে রাজনৈতিক নেতাদের সাথে বিষয়টা নিয়ে আলোচনা করবে। আলোচনায় সে আমাকে সাথে রাখল। মোট তিন লক্ষ টাকার একটা রফা হলো, যার মধ্যে ৫০ হাজার টাকা অগ্রীম দিতে হবে আর নিয়োগ পেলে বাকী আড়াই লাখ। একটা ডেট ও ঠিক হলো অগ্রীম টাকা দেয়ার জন্য। আমরা দু'জন বিষয়টি ওয়াইকে জানালাম, সে বলল সময়মত সে টাকা দিয়ে দেবে। কিন্তু যেদিন টাকা দেয়ার কথা সেদিন সকালে সে মোবাইলে জানাল যে সে কোনভাবেই টাকাটা জোগাড় করতে পারেনি, আমরা যেন টাকাটার একটা কোন ব্যবস্থা করি।
আমি খুব ভেঙ্গে পড়লাম। এক্সএর সাথে আলোচনা করলাম, সে বললো দেখি কি করা যায়। অনেক চেষ্টা করেও যখন কিছু করতে পারলাম না, তখন এক্স এর মা কোরবানী ঈদ এ গরু কেনা এবং পরিবারের সবার জন্য কেনাকাটা করার জন্য যে ৫০০০০ টাকা বাজেট করেছিলেন সে টাকাটা এক্স এনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কাছে পৌছে দেয় এবং যথারীতি আমি সেখানে হাজির ছিলাম। এর কিছুদিন পর ওয়াই এডহক ভিত্তিতে নিয়োগ পায় এবং তারপরই সে এক্স এর অবদানের কথা বেমালুম ভূলে যায়। এক্স তখন ওকে বলেছিল এডহক চাকুরী আজ আছে কাল নেই, স্থায়ী নিয়োগ পেতে চাইলে দূর্ভাষীকে সাথে নিয়ে বাকী টাকাটা যথাস্থানে দিয়ে দিও। কিন্তু ওয়াই এক্স এর সাথে সাথে আমাকে ও ভূল বোঝে। এরপর আমি বা এক্স ওর নিয়োগ সংক্রান্ত ব্যাপারে আর কোনদিন কোন কথা বলিনি।
ছয় মাস পরে নিয়োগ বোর্ড থেকে ওয়াই ডিনাইড হয়ে ফিরে আসে এবং তার কিছুদিন পরে ইংল্যান্ড পাড়ি জমায়। যাওয়ার সময় বা যাওয়ার পরে ওয়াই এক্স বা আমার সাথে কোন যোগাযোগ করেনি। এমন ও হয়েছে আমরা বেশ কয়েকজন একসাথে বসে আড্ডা দিচ্ছি তখন ওয়াই এমন কেউকে ফোন করেছে যার নাম আমরা পারতপক্ষে মুখে আনি না এবং সে আমাদের দেখিয়ে দেখিয়ে ওয়াই এর সাথে কথা বলছে। এমন দু:খ নিয়ে কাটিয়ে দিয়েছি গত সাড়ে তিনটি বছর।
আজ বিকালে কোন কাজ ছিল না, এমনই বসে বসে নেটে ঘুরাঘুরি করছি। হঠাৎ মেসেঞ্জারে নক করল এক্স। বলল একটা অডিও ফাইল পাঠাচ্ছি রিসিভ কর এবং শুনে বলবি সূর্য আজ কোন দিকে উঠেছে। যথারীতি ফাইলটা রিসিভ করে শুনে দেখি এক্স ও ওয়াই এর মোবাইলে কথোপকথন। ওয়াই আজ বিকালে এক্সকে কল করেছে এবং সে ১৪ মিনিট ৫২ সেকেন্ড কথা ও বলেছে। যার মূল কথা আগামী তিনমাসের মধ্যে মি. ওয়াই দেশে আসছেন এবং বিয়ে করতে চান, একটা মেয়েকে সে পছন্দ করে, সে মেয়ের কাছে বিষয়টি বলতে হবে এবং এ দায়িত্ব এক্সকেই নেয়ার অনুরোধ করেছে।
এক্স আমার কাছে জানতে চেয়েছে, একবার চাকুরীর জন্য মধ্যস্থতা করতে গিয়ে নাকানি চুবানি সাথে আক্কেল সেলামী দিতে হয়েছে, এবার বিয়ের মধ্যস্থতা করতে গিয়ে কি দিতে হবে, আর কাজটা করা কতটা ঠিক হবে।
ব্লগার বন্ধুরা আপনারাই বলুন এক্স এর এখন কি করা উচিৎ।
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে জানুয়ারি, ২০১০ রাত ১০:৫৬
২৭টি মন্তব্য ২৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×