২৫ ফেব্রুয়ারী ২০০৯, বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটে গেলো। সেদিন সকালে অফিসে বসে কাজ করছি, কাজের ফাকে ফাকে ব্লগে উকি মারা আমার খুব পুরাতন বদভ্যাস। সেদিন ও ব্যতিক্রম ছিলনা, এমন সময় একটি পোস্টে চোখ আটকে গেল। পিলখানায় নাকি খুব গুলাগুলি চলছে, কিন্তু কেউ পরিস্কার করে বলতে পারছেনা ঘটনা কি!
ফোন করলাম ঐ এলাকার পরিচিত জনদের, কেউ বলল মহড়া, কেউ বলল সংঘর্ষ। রীতিমত দ্বন্দে পড়ে গেলাম, বিডিআর এর মত এমন একটা সুশৃঙ্খল বাহিনী কেন সংঘর্ষে জড়াবে? পরে নিউজ এর জন্য এফ এম রেডিওতে টিউন করলাম। সংবাদ শুনে শিউরে উঠলাম। এ কোন নৃশংসতার সংবাদ শুনছি আমি। মিডিয়া তখন বিডিআর জওয়ানদের পক্ষে, একে একে সংবাদ আসছে নিহতের সম্পর্কে। উদ্বেগ উৎকন্ঠায় কেটে গেল সারাদিন, শহর ব্যাপি সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা দেখলাম দিনভর।
সারাটা রাত কাটল উৎকন্ঠায়, সেনা কর্মকর্তাদের হত্যা করা হয়েছে, সেনাবাহিনী একশানে গেলে নিশ্চিত গৃহযুদ্ধ।
পরদিন (২৬ ফেব্রুয়ারী) সকালে যথারীতি অফিসে গেলাম, দুপুরের পর জরুরী কাজে মানিকগঞ্জ যেতে হবে অফিসের কাজে। কিন্তু দুপুর নাগাদ অফিস ছুটি ঘোষনা করা হলো। তারপরে ও আমাকে মানিকগঞ্জ যেতেই হবে, কারন সেখানে আমার ১৬ জন ফিল্ড স্ট্যাফ আটকা পড়ে আছে। তারা প্রশিক্ষনের উদ্দেশ্যে এসেছিল এবং ঐ দিনই প্রশিক্ষনের শেষ দিন। আমি যেয়ে তাদের টিএ, ডিএ, দিব তারপর তারা গন্তব্যে রওনা হবে।
বস পরামর্শ দিল অফিসের গাড়ি না নিতে, কাজেই বাসে করে আমি আর আমার এক কলিগ রওনা হলাম বাসে করে মানিকগঞ্জের উদ্দেশ্যে। সেখানে পৌছানোর পর দেখি মোবাইলের নেটওয়ার্ক নেই, এমনকি টিএন্ডটি লাইন ও অচল পেলাম। বুঝলাম গুরুতর কিছু ঘটতে চলেছে। এফ এম নিউজ শুনছি আর কাজ করছি। কাজ সেরে এক লেডিস কলিগরে নিয়ে পড়লাম বিপদে, সে একা নাইটে যেতে পারবে না, বিকালে তার ভাই এসে তাকে নিয়ে যাবে কথা ছিল কিন্তু মোবাইলের নেটওয়ার্ক না থাকায় কোন খোঁজ খবর পাচ্ছে না। অবশেষে তাকে সাথে নিয়েই ঢাকা রওনা হলাম। আমিন বাজার আসার পর মোবাইলে নেটওয়ার্ক পেলাম। দেখলাম অসংখ্য এসএমএস ঢুকছে মোবাইলে, বেশীরভাগ মিসডকল এ্যালার্ট। যার ভিতরে অপরাজিতা ও ব্লগার সবারপ্রিয় এর কল বেশী, অফিস থেকে ও চেষ্টা করেছে যোগাযোগ করতে।
প্রথমেই কল দিলাম অপরাজিতাকে, জানালো মাইকিং করে বাসা খালী করার নির্দেশ দিয়েছে (উল্লেখ্য আমরা তখন ধানমন্ডিতে থাকি) এবং ও আমাদের এক বড় বোনের বাসায় (শ্যামলিতে) এসে উঠেছে।
শ্যামলি এসে সেই কলিগকে তার ভাই এর হাতে সমর্পণ করে গেরাম আপার বাসায়। অপরাজিতার সাথে দেখা করে বের হয়ে এলাম আর রাতের জন্য আশ্রয় নিলাম আমার পুরাতন মেসে।
পরদিন সকাল থেকে পরিস্থিতির উন্নতি হতে শুরু করায় ২৮ তারিখে ফিররাম নিজের বাসায়।
সেদিন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চৌকষ অফিসারদের যেভাবে হত্যা করা হয়েছিল বাবলে আজ ও শিউরে উঠি। শুধু বিচার নামের প্রহসন নয়, চাই এই নৃশংস হত্যাকান্ডের পিছনে যাদেরই হাত থাকুক সবার বিচার হোক।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

