ব্লগার সবার প্রিয় গত ৫ মার্চ বিকাল চারটায় রবীন্দ্র সরোবরে আড্ডার আহবান জানাল। কাজের চাপ থাকায় অনলাইনে আসার সময় খুব কম পাচ্ছিলাম, তাই সে ফোনেই সংবাদটা জানাল। আগে পিছে না ভেবে আড্ডাবাজের ধর্মানুযায়ী কনফার্ম করলাম, অপরাজিতা ও যাবে বলে জানাল। সবকিছু ঠিক ঠাক চলছিল। হঠাৎ ০২ তারিখ প্রথম প্রহরে রাত ১২:৩০ মিনিটে ফুপু মারা যাওয়ায় সবকিছুতে গোল বেধে গেল। মৃত্যূ এমন এক সত্য যা সবকিছুকে হার মানায়। কোন রকম ৩ তারিখ অফিস করলাম, রাতে রওনা হলাম খুলনার উদ্দেশ্যে। ৪ তারিখ ভোরে খুলনা পৌছে দুপরে ফুপুর জানাযা ও দাফন সম্পন্ করে রাতে আবার উঠে পড়লাম গাড়িতে উদ্দেশ্য ঢাকা।
৫ তারিখ সকালে ডাকা পৌছানোর পর ব্যস্ততা যেন আমাকে ঘিরে ধরল। অফিস থেকে ফোনে জানাল বঙ্গবন্ধু নভোথিয়েটারে 'ডিজিটাল ইনোভেশন ফেয়ার' এ ৫ তারিখ বিকালে আমার ডিউটি করতে হবে। প্রমাদ গুনলাম, প্রচন্ড ব্যস্ততা রয়েছে তার উপর অনেকগুলি আড্ডায় অপরাজিতা আসি আসি করে ও আসতে পারেনি, আজ যখন যাওয়ার জন্য প্রস্তুত তখন এমন একটা বাধা যে করেই হোক জয় করতে হবে। এইচআর ইনচার্জকে কনভিন্স করে শুক্রবার বিকালের ডিউটি শনিবার সকালে শিফট করার ব্যবস্থা করলাম।
সকাল থেকে ব্যস্ততার মধ্যে কিভাবে যে সময় কাটল বুঝতে পারলাম না। নামায পড়ে বাসায় ঢুকেছি দেখি আমার কিছু কাজিন বাসায় এসে হাজির, ওদের সঙ্গে লাঞ্চ সেরে বের হতে হতে সাড়ে চারটা বাজল, ওদিকে পৌনে চারটায় সবারপ্রিয় ফোন করে আড্ডার বিষয়টা স্মরণ করিয়ে দিল।
মোহাম্মাদপুর থেকে রবীন্দ্র সরোবরে যখন পৌছলাম তখন প্রায় পাঁচটা। রিক্সা থেকে নামতে না নামতেই ফোন পেলাম ফয়সালের কাছে থেকে সে জানালো আড্ডার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার খবর। ফয়সালের ফোন রাখতে না রাখতেই ব্লগের কাউয়াটা কা কা করে উঠল। সে ফোন করে জানালো আড্ডার ডাক দিয়ে আমরা নিজেরাই কেন আড্ডা স্থলে নেই! একটু থতমত খেয়ে জানতে চাইলাম আপনি কই, উত্তর শুনে আমি হাসব না কাঁদব বুঝে উঠতে পারলাম না। তিনি জানালেন ছবির হাটে আমাদের অপেক্ষায় আছেন তিনি।
মুক্ত মঞ্চে প্রবেশ করে আর একবার টাসকি খাইলাম, যেদিকে তাকাই কোনদিকে কোন ব্লগারকে দেখি না। অনেক খোজাখুজির পরে দেখি স্বপন্কথক আর সবারপ্রিয় মুখোমুখি দাড়িয়ে হাতাহাতি করছে
ব্লগের ল্যাঞ্জাছাড়া বান্দর 'কাব্য' এর আপডেট নিতে ফুনাইলাম তারে, দুস্কের সাথে সে জানাইল তিনি সিলেটের উদ্দেশ্যে সবেমাত্র কিশোরগঞ্জ পার হয়েছেন। এরপর তার ভাইরা খ্যাত সবারপ্রিয় এর ঝাড়ি, আর অপরাজিতার বকুনি খেল মোবাইলেই।
এমন সময় আড্ডার সবচেয়ে বড় চমক সুনীল সমূদ্র দা স্বপ্নকথকের জন্মদিনের অমূল্য উপহার বইসহ হাজির হলেন। শুভেচ্ছা জানানো শেষে ব্যস্ততা থাকায় বিদায় নিলেন সুনীল দা। রেখে গেলেন সাথে করে নিয়ে আসা ফয়সালকে। এরপর এলেন আন্কেল মোজাম্মেল প্রধান
আড্ডার একপর্যায়ে আমরা খাওয়া দাওয়ার প্রস্তুতি নিতে শুরু করলাম। এমন সময় এলো নতুন ব্লগার অরিত্রি, তার পদাঙ্ক অনুসরন করে কাবাব আর লুচির ঘ্রানে ঘ্রানাহুত হয়ে আমাদের মাঝে হাজির হলেন গরম কফি আর সরলমানুষ। কাবাব লুচির শেষ পর্যায়ে এলো সেভেন আপ আর তারপরে আইসক্রিম। খাওয়া দাওয়া শেষ করতে করতে সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত! এদিকে আমার বসের বৌভাত এর দাওয়াত থাকায় আমাকে আর অপরাজিতাকে উঠতে হলো আড্ডা থেকে যদিও উঠার ইচ্ছা ছিলনা।
ফেরার পথে শুধু মনে হচ্ছিল ২ রা অক্টোবর এর সেই জমপেশ আড্ডার কথা।
বি:দ্র: ব্লগারদের আপত্তি থাকায় ছবি প্রকাশ সম্ভব হলো না। যারা ছবি চান দয়া করে আমার মেইলে একটা মেইল করে আপনার ব্লগ আইডিটা জানান, ছবি পেয়ে যাবেন।
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই মার্চ, ২০১০ সকাল ১১:৫৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


