somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার বিদায় নেয়া হলো না

১৪ ই মার্চ, ২০১০ সকাল ১০:৩৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গত জানুয়ারি ২০১০ এ বর্তমান চাকুরীতে ইস্তফা দিয়ে ইস্তফা পত্র পাঠিয়েছিলাম যথাযথ কর্তৃপক্ষ বরাবর। জানুয়ারির শেস সপ্তাহে আমাকে পত্র মারফত জানানো হয় আমার আবেদন গুহীত হয়েছে। সে হিসাবে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ছিল অফিসে আমার শেষ কর্ম দিবস।
২২ ফেব্রুয়ারি দুপুরে আমার বস আমাকে ডেকে নিলেন তার কামরায়। তারপর বিভিন্ন খোঁজ খবর নিতে শুরু করলেন। আমার এই বস আবার বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার সিনিয়র ছিলেন এবং আমাদের মধ্যে একটা আন্তরিকতার সম্পর্ক ছিল যা আজ ও আছে। বস শেষে বললেন ২৮ ফেব্রুয়ারি নয়, আপনাকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত সময় দিতে হবে। কারন আপনি যে প্রোজেক্টে আছেন সেটা ২৮ ফেব্রুয়ারি শেষ হচ্ছে, কিন্তু আপনি যে দায়িত্বে আছেন তার রিপোর্টিং এ কমপক্ষে ১৫ দিন সময় তো লাগবেই। (আসলে তার কথা ঠিকই ছিল)। অবশেষে বর্তমান চাকুরীতে আর ও একমাস সময় দিতে রাজী হয়ে গেলাম।
১ তারিখ সকালে মনের মাধূরী মিশিয়ে রিপোর্ট এর ড্রাফট লিখছি এমন সময় আর এক বস (অন্য একটি বড় প্রজেক্টের কোঅর্ডিনেটর) এসে বললেন তার চেম্বারে বসে চা খাওয়ার জন্য। প্রমাদ গুনলাম, এই কলিগ খুবই রাশভারি মানুষ এবং সহজে তার সঙ্গ পাওয়া যায় না। উঠতে গেলাম তার উদ্দেশ্যে তখনই বললো, কম্পিউটার বন্ধ করে আসুন। শুনেই বুঝলাম কপালে আজ খারাবি আছে, অনেকক্ষণ বসতে হবে তার সাথে। অগত্যা কম্পিউটারটা বন্ধ করে গেলাম এক ফ্লোর উপরে তার চেম্বারে। রুমে ঢুকেই উনি দরজা বন্ধ করে দিয়ে আমাকে বসতে বললেন এবং কোন রকম ভনিতা ছাড়াই তিনি বললেন তার প্রজেক্টে আমাকে তিনি নিতে চান এবং একপ্রকার সিদ্ধান্ত নিয়েই ফেলেছেন, শুধু আমার মতামত পেলে এইচ আরকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলবেন। আমি একবাক্যে না বলে দিলাম, কারন এখানে জব করলে আমার ভবঘুরে খেতাব ঘোচানো সম্ভব নয়। কিন্তু তিনি নাছোড়বান্দা, রিফিউজ করার কারন জানতে চাইলেন। প্রথমে ব্যক্তিগত কারন দেখালাম, কাজ হলো না। অবশেষে যে যে ক্ষোভ আমার আছে সেগুলি ঝেড়ে দিরাম। ব্যস, তিনি তখন নতুন প্রস্তাব দিলেন, প্রথম যে দায়িত্বের জন্য আমাকে বলেছিলেন সেটি পরিবর্তন করে ঐ প্রজেক্টের প্রশিক্ষন ও মনিটরিং এর সমন্বয়ক এর দায়িত্ব নিতে অনুরোধ জানালেন। ঐ দায়িত্বে প্রশিক্ষণ হলো দেশের মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষকদের কম্পিউটার প্রশিক্ষন দেয়া এবং মনিটরিং এ প্রায় দেড়শ স্কুলের মনিটরিং করা। বললাম, আমি আর ট্যুর করতে পারব না তাই এই দায়িত্বটা ও সম্ভব না। তিনি উত্তরে জানালেন, ট্যুর তেমন করতে হবে না। অকেশনালি কিছু করতে হবে কারন আমার আন্ডারে আর ও দু'জনকে উনি রিক্রুট করছেন মনিটরিং এর জন্য আর প্রশিক্ষনের জন্য একজন প্রশিক্ষক।
এরপর সুবিধাদি নিয়ে বিস্তারিত দরকষাকষি'র পরে মত দিলাম যে আমি ঐ দায়িত্ব নিচ্ছি। ব্যস ২ তারিখ একখান প্রেম পত্র এলো এইচ আর থেকে। সেখানে যা উল্লেখ করা হয়েছে তা বাংলা করলে এমন দাড়ায়, আপনার ইস্তফাপত্রের বিপরীতে প্রেরিত ... নং পত্র এই পত্র মারফত বাতিল করা হলো এবং আপনাকে ........... প্রকল্পের ....... পদে ................ শর্তে নিয়োগ প্রদান করা হলো যা আগামী .............. তারিখ থেকে কার্যকর হবে। উল্লেখ্য যে, আপনার চুক্তি ভিত্তিক নিয়োগের পরিবর্তে নিয়মিত করা হয়েছে যা একই সময় থেকে প্রযোজ্য হবে।

কাজেই আমার বিদায় নেয়া হলো না। ভেবেছিলাম কিছুদিন বেকার থেকে একটু বিশ্রাম নিব, তা আর হলো না /:)
২৪টি মন্তব্য ২৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাখি মন

লিখেছেন সামিয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:১০



রাত গভীর হলে পাখিটা বারান্দায় এসে বসে। দূরের আকাশে তখনও কিছু আলো জ্বলজ্বল করে, কিন্তু পৃথিবীর কোলাহল ধীরে ধীরে স্তব্ধ হয়ে আসে। সেই নীরবতার মধ্যে বসে পাখিটার মনে হয়, মানুষ... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র - ভ্রাম্যমান লাইব্রেরী ভাবনা

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:৪৬


শ্রদ্ধেয় আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যাররে হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র তার জন্মলগ্ন ১৯৭৮ সাল থেকে অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছে। আমার মনে পড়ে, আমি স্কুলে পড়াকালীন সময়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে স্কুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৫



যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×