বিশ্বকাপ ফুটবলে উত্তেজনায় মোটামুটি দুইভাগে বিভক্ত বাংলাদেশ। একদল শৈল্পিক ফুটবলের সমর্থক আর এক দল শিল্প টিল্প যাই হোক যে কোন ভাবে জয়ের পক্ষে। কাদের কথা বলছি বুঝতে পারছেন নিশ্চয়।
আর এই উত্তেজনায় আমার বাসা যেন হয়ে উঠে বাংলাদেশের প্রতিকী চিত্র। আমার বাসায় জনমানব বলতে আমরা দু'জন - আমি আর অপরাজিতা। কিন্তু বিশ্বকাপ উপলক্ষে দুই পক্ষই দল ভারী করতে ব্যস্ত। আর এক সাথে বসে খেলা দেখার উদ্দেশ্যে গতকাল সন্ধ্যার মধ্যেই ঢাকায় ফিরেছে অপরাজিতা। উল্লেখ্য আমি শৈল্পিক ফুটবল তথা আর্জেন্টিনার সমর্থক আর অপরাজিতা ব্রাজিলের সমর্থক। আর অপরাজিতা দল ভারি করতে খুলনা থেকে ফেরার পথে সাথে করে নিয়ে এসেছে তার খালাত বোনকে যে আবার ব্রাজিলের সমর্থক। আর ওর ছোটভাই আমার পক্ষের। তো গতকাল রাত আটটায় খেলা শুরুর আগে দু'পক্ষের অবস্থান ছিল মুখোমুখি। ব্রাজিল সমর্থকরা বিরোধিতার খাতিরে বিরোধিতা করতে গিয়ে নাইজেরিয়াকে সমর্থন করে বসে। তাদের যুক্তি আফ্রিকান কন্ডিশনে নাইজেরিয়ার কাছে আর্জেন্টিনা দুধের শিশু, আর আমরা তখন আঙ্গুল চুষছিলাম না সেটা পাঠক নিশ্চয় বুঝতে পারছেন। যাই হোক খেলার শুরুতে নাইজেরিয়ার একটা আক্রমন দেখে ব্রাজিল শিবির এমন চেচামেচি শুরু করল সে আর কি বলব। কিন্তু তাদের সে উল্লাস ফিকে হয়ে গেল মাত্র তিন মিনিটের মাথায়। হেইঞ্জের দূর্দান্ত হেডে এগিয়ে গেলো আর্জেন্টিনা। আর আর্জেন্টিনা শিবির তখন পাল্টা দেয়া শুরু করেছে। ফলাফল খেলার সময়ে চা সরবরাহ বন্ধ। আর তাদের সাথে একাত্নতা ঘোষনা করল বিদ্যুৎ বিভাগ। আমরা ও কম যাই না, ল্যাপটপ আর টিভি কার্ড রেডিই ছিল। কাজেই বিদ্যুৎ বিভাগকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে শুরু হলো আমাদের খেলা দেখা। কিছুক্ষন পর শালা বাবু কাকে যেন ফোন করে বলল চা দিয়ে যেতে, ওমা পাঁচ মিনিট এর মধ্যে এক ফ্লাস্ক চা সহ বাসার নীচের চায়ের দোকানদার হাজির।
ব্রাজিল শিবির যতই অসহযোগীতা করুক চা খাওয়া এবং খেলা দেখা দুটোই চললো। এরপর মেসি যাদুতে বুদ হয়ে থাকতে বাধ্য হলো ব্রাজিল শিবির। যদিও মেসি গোল পায়নি তারপরে ও শৈল্পিক খেলা তার পায়েই দেখলাম কাল।
দ্বিতীয়ার্ধে যখন নাইজেরিয়া দু একটি আক্রমন করছে তখন আবার উজ্জিবিত ব্রাজিল শিবির কিন্তু তাদের ফিনিশিং দেখে শালাবাবু মন্তব্য করেই বসলো শেষ রক্ষা হবে না ওদের। আর এতে নারীকুল তথা ব্রাজিল শিবির আরও ক্ষেপে গেলো ফলাফল রাতে না খাইয়ে রাখার হুমকি।
ভাইরে, কাল খেলা দেখতে বসে বুঝলাম, কেন ব্রাজিল সমর্থকেরা পেশীশক্তির খেলাকে বেশী পছন্দ করে, কারন সুযোগ পেলে তাদের দলের খেলোয়াড়দের মত তারাও পেশী শক্তি ব্যবহার করে। (উদাহরন কাল চা না খাওয়ানো, রাতে না খাইয়ে রাখার হুমকি আর ব্রাজিল সমর্থক বিদ্যুৎ বিভাগের লোডশেডিং)।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

