মিডিয়াতে বর্তমানে সামিউল হত্যাকান্ড নিয়ে বেশ আলোচনা চলছে। সামিউলের মায়ের প্রেমিক শামসুজ্জামান আরিফ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি ও দিয়েছে। যেখানে সে বলেছে, "এষা বলল ছেলেটিকে শিক্ষা দিতে...., ঘুমন্ত সামিউলের গরা টিপে ধরে পরে বালিশ চাপা দিয়ে মৃত্যূ নিশ্চিত করা হয়, এষা তখন সামিউলের পা চেপে ধরে রেখেছিল। মৃত্যূর পর সামিউলের মৃতদেহ বস্তায় ভরে ফ্রিজে ঢুকিয়ে রাখা হয়, এবং এষা পরে বাসার পাশে ফেলে দিয়ে আসে, সামিউলের বাবা তখন পাশের রুমে ঘুমাচ্ছিল।।"
এই জবানবন্দি বিশ্বাস করে নিয়েছে মিডিয়াসহ দেশের অধিকাংশ মানুষ। কিন্তু বক্তব্যটিতে কিছু অসামঞ্জস্য রয়েছে বলে আমার মনে হয়। আর তাই নীচের প্রশ্নগুলি প্রতিনিয়ত আমাকে তাড়িয়ে ফিরছে।
১. এষা বলেছে শিক্ষা দিতে - এষা শিক্ষা দিতে বলেছে, হত্যা করতে বলেনি, তাহলে কেন সে হত্যায় সহযোগীতা করল?
২. আরিফ যখন সামিউলের গলা টিপে ধরে এবং বালিশ চাপা দেয় তখন এষা কেন বাধা দেয়নি? একজন মা যতই খারাপ হোন না কেন তিনি মা, তিনি কি সন্তানকে হত্যা করতে পারেন?
৩. এষা বাধা দেয়নি কারন তার পরকীয়া প্রেমের কথা জানাজানি হয়ে যাবে। কিন্তু আরিফ ও এষাসহ কাজের মহিলা ও বলেছে বিষয়টি (পরকীয়া প্রেমের কথা)সামিউলের বাবা জানতেন এবং দু'জনে দু'কক্ষে ঘুমাতেন। তাহলে এষার তো লোক জানাজানি হওয়ার ভয় ছিল না, তাহলে সে যদি হত্যায় সহযোগীতা নাই করবে তাহলে কেন আরিফকে বাধা দিতে চিৎকার করল না, বাইরের কেউ না হোক পাশের রুমে সামিউলের বাবা ছিল, সে তো আসত সন্তানকে বাচাতে।
৪. মৃত্যূর পরে মৃতদেহ বস্তাবন্দি করে ফ্রিজে রেখে দিল এবং পরে তা বাসার বাইরে ফেলে দিল! মিডিয়া মারফত আমরা জানি ঐ ভবনে দু'জন প্রহরী ছিল, বস্তা ভর্তি কিছু নিয়ে এষা বের হলে তা তাদের চোখে বা প্রতিবেশীদের চোখে পড়ল না কেন?
৫. রিমান্ডে নেয়া হয়েছে আরিফ এষা দু'জনকেই, সামনাসামনি জিজ্ঞাসাবাদ ও করা হয়েছে, কিন্তু মিডিয়ার সামনে এবং আদালতে কেন শুধু আরিফের জবানবন্দি প্রচার করা হলো, এষার কোন বক্তব্য আজও পর্যন্ত কেন প্রকাশ হলো না।
সামহোয়্যারইন এর মাধ্যমে আমি ঘটনাটি তদন্তের সাথে জড়িত সকলের কাছে আমার উপরিউক্ত প্রশ্নগুলির জবাব আশা করছি।
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা জুলাই, ২০১০ রাত ২:৩৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



