সেই ছেলেটি ২
..........................
................................................
...........................................................................
.............................................................................................
বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তির প্রস্তুতি শেষে একদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা ও শেষ হলো। ফলাফলে ছেলেটি তার যোগ্যতানুযায়ীই ফল করল। সামান্য কিছু টাকা প্রয়োজন তার ভর্তির জন্য, কিন্তু এই সামান্য টাকাই তার কাছে পাহাড় সমান, অবশেষে কোন রকমে সে টাকা জোগাড় করে সে ভর্তি হয়ে গেলো বাংলাদেশের স্বনামধন্য একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে।
ভর্তি ঠিকই হলো, কিন্তু ক্লাস আর শুরু হয় না। অপেক্ষায় থাকে ছেলেটি তার নতুন জীবনের। এই সময়ে তার অফুরন্ত অবসর, এক সিনিয়রের পরামর্শে সে নিজের তহবিল কিছুটা ভারী করতে শুরু করল টিউশনি, সারাদিন টিউশনি আর রাতে নিজের টুকটাক পড়াশুনা। দীর্ঘ্য ছয় মাস পরে বিশ্ববিদ্যালয়ে তার ক্লাস শুরু হলো, অনেক নতুন মুখের সাথে পরিচিত হতে শুরু করল ছেলেটি।
সে যে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিল সেখানে RAGGING এর ভয়াবহতা ছিল স্মরন করার মত। ক্লাস শুরুর তৃতীয় দিনে ছেলেটির এক বন্ধুকে অন্য ডিপার্টমেন্টের সিনিয়ররা মারাত্নক হেনস্থা করে ক্লাসে পাঠালো আর ও কয়েকজনকে ডেকে আনতে। সহপাঠিটি তখন ছেলেটি সব জানালো, আর তখনই বন্ধুরা তাকে চিনল নতুন রুপে। কয়েকজনের জায়গায় সকলকে নিয়ে সে সিনিয়রদের সামনে হাজির, বাক বিতন্ডা এক পর্যায়ে হাতাহাতিতে পৌছালো, যেখানে সিনিয়রদের ভূমিকাই ছিল মূল কারন। নতুন হওয়ায় ছেলেটির বন্ধুরা যখন কিংকর্তব্যবিমূঢ় অবস্থায় মার খাচ্ছে ছেলেটি তখন তার আর ও একটি রুপের প্রকাশ ঘটাল, একাই সাত আটজন সিনিয়রকে পিটিয়ে হলে ফেরত পাঠালো।
বন্ধুরা চেপে ধরল তাকে, নতুন অবস্থায় সিনিয়রদের গায়ে হাত তোলার শাস্তি হিসাবে তাদের সবাইকে হয়ত বহিস্কারই করবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। সব শুনে ছেলেটি নতুন পথ বের করল, সকলকে নিয়ে সোজা উপাচার্যের দপ্তরে, উপাচার্য মহোদয়কে তার প্রথম প্রশ্ন "স্যার ক্যাম্পাসের যে অবস্থা তাতে আমাদের বোধ হয় ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে যেতে হবে, RAGGING এর যন্ত্রনায় ক্যাম্পাসে আসাই দুস্কর, তারউপর সিনিয়রদের শারীরিক নির্যাতন!"
ছেলেটির কথা শুনে উপাচার্য মহোদয় ছাত্র বিষয়ক পরিচালককে দিলেন ঝাড়ি, আর ঘটনার জন্য দায়ী সিনিয়র ছাত্রদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বললেন। অবশেষে সিনিয়রদেরকে মুচলেকা দেয়া লাগল।
এই ঘটনার পর থেকে সহপাঠিদের অতি আপনজন হয়ে উঠল ছেলেটি। তারপর ও সে বন্ধুদের আড্ডায় সময় দিতে পারে না, ক্লাস, পড়াশুনা, টিউশনি নিয়েই সে ব্যস্ত। পাশাপাশি একটু অবসর মিললেই বন্ধুদের নিয়ে ঞৈ হুল্লোড়। সমস্ত ক্যাম্পাস মাতিয়ে রাখত সে, সব ডিপার্টমেন্টের সিনিয়র এবং সহপাঠিদের অতি প্রিয় হয়ে উঠে সে।
(চলবে)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

