সেই ২০০৮ সালে গবেষনা কাজে নিজেকে লিপ্ত রাখতে যোগ দিয়েছিলাম বর্তমান চাকুরীতে। এই সাড়ে তিনবছরে বাংলাদেশের আনাচে কানাচে ঘুরে ঘুরে দেখেছি মানুষের জীবন যাত্রার মান, চেষ্টা করেছি তাদের জীবন যাত্রার মান উন্নয়নে গবেষনালব্ধ ফলাফল সবার সামনে তুলে ধরতে। আর এই কাজটি করতে গিয়ে ভবঘুর খেতাবটি পেয়ে গিয়েছিলাম এই সামু থেকেই।
সাড়ে তিন বছরে বেশ কিছু সফল গবেষনার সাথে যুক্ত থাকতে পেরেছি, যেমন আজকে সারা দেশে যে ইউনিয়ন তথ্য ও সেবা কেন্দ্র চালু রয়েছে তার মডেল নিয়ে প্রথম গবেষনার সাথে কাজ করতে পেরেছি। পেরেছি শিক্ষা ব্যবস্থায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহার নিয়ে কাজ করতে। আজ বাংলাদেশে স্মার্ট ক্লাসরুম চালু হয়েছে সরকারী বেসরকারী উদ্যোগে যা নিয়ে আজও কর্মরত।
কিন্তু, এই কাজ করতে করতে হাপিয়ে উঠেছিলাম আমি। আর পারছিলাম না, ছেড়ে দিব দিব করে ও পেরে উঠছিলাম না। অবশেষে ছাড়তে পারলাম। আর মাত্র দু'টি দিন, তারপর নিজের এলাকা নিয়ে কিছু কাজ করার ইচ্ছা রয়েছে। ফিরে যেতে চাই আমার সেই ছোট্ট গ্রামটাতে। যাকে নিয়ে আমি স্বপ্ন দেখি। (এ বিষয়ে পূর্বের পোস্টে বিস্তারিত রয়েছে)।
হ্যা, বর্তমান চাকুরী থেকে ইস্তফা দিয়েছি বেশ কয়েকবার, কারন একটাই নিজের গ্রামের জন্য কিছু করতে চাই। কিন্তু বারবারই সে ইস্তফা অগ্রাহ্য হয়েছে। অবশেষে এবার আমার ইস্তফা কবুল করেছে কর্তৃপক্ষ। ৩০ জুন ২০১১ বর্তমান চাকুরীর শেষ দিন আমার। আর এ দু'দিনের মধ্যে একদিন (আগামীকাল) যাচ্ছি আর ও একটি স্কুলে স্মার্ট ক্লাসরুম স্থাপনের কাজে সিরাজগঞ্জে।
এই চাকুরী জীবনে অনেকের কাছ থেকে পেয়েছি নিরবচ্ছিন্ন সহযোগীতা, যাদের মধ্যে অনেকেই ব্লগার। বিশেষ করে নুরুন্নেসা আপার কথা বলতেই হয়। বাংলাদেশেল শিক্ষা ব্যবস্থা শুধু না, বরং সামগ্রিক উন্নয়ন নিয়ে চিন্তা করেন তিনি। আমাদের গবেষনালব্ধ ফলাফল বাস্তবায়নে বড় ভূমিকা রেখেছেণ তিনি।
আমার গ্রাম নিয়ে আমার স্বপ্নকে পরিপূর্ণ রুপ দিয়ে পরামর্শ ও উৎসাহ দিয়ে সহযোগীতা করেছেন অনেক ব্লগার, তাদের কাছে আমি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ। আশা করছি, নিজের গ্রামকে স্বপ্নগ্রামে রুপ দিতে পারব আমরা। আর এ ব্যাপারে সকল ব্লগারের কাছে দোয়া কামনা করছি।
পরিশেষে বলতে পারছি, আমার ভবঘুরে জীবন শেষ হলো এবার।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



