জন্মেছি গ্রামে, বেড়ে উঠেছি গ্রামে। তারপর একসময় পড়াশুনা ও চাকুরীর কারনে গ্রাম থেকে দূরে ছিলাম তেরটি বছর। সকলে আনলাকি বললে ও সেই ১৩ বছর পরে আবার ফিরে এলাম মাটির টানে। গত জুলাইতে তল্পিতল্পাসহ ফিরেছি নিজের মাটিতে। গত ১৩ বছর যে আসি নি তা নয়, তবে সেটা ছিল বেড়াতে আসা।
বাংলাদেশের গ্রামের জীবন! সত্যি এর তুলনা হয় না। সকাল বেলা পাখির ডাক শুনে ঘুম ভাঙ্গে, ভোরের নির্মল বাতাসে ছুটে যাই আমাদের স্বপ্নগ্রাম এর কার্যক্রম দেখতে, সকাল আটটা নাগাদ ফিরে টাটকা সব্জি দিয়ে সকালের নাস্তা, এরপর আবার ও নিজেদের কার্যক্রম তদারকি, মাঝে মধ্যে বাজারে বা শহরে যাচ্ছি, দুপুরে ফিরে আবার ও তাজা মাছের ঝোল আর নিজেদের ক্ষেতের ধান থেকে হওয়া চালের ভাত। বিকালে গ্রামের মাঠে শিশু কিশোরদের নানাবিধ খেলাধুলা উপভোগ করা, সন্ধ্যার সময় বন্ধুদের নিয়ে আড্ডা, মিটিং, সালিশী বৈঠক এই সব। রাতে এসে খাওয়া দাওয়া সেরে ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক শুনতে শুনতে ঘুমিয়ে পড়া।
এ তো গেলো ভালো দিক, খারাপ দিক ও আছে, মোবাইলের কল্যাণে সারা বিশ্বের সাথে যোগাযোগ থাকলে ও ইন্টারনেট ব্যবহারে পড়েছি মহা সমস্যায়। গ্রামের বাড়িতে বাংলালায়নের নেটওয়ার্ক নেই, বাধ্য হয়ে জিপি একটিভ করলাম, কিন্তু তিন চার ঘন্টা বসে মেইলটা হয়তো বা চেক করতে পারি, কিন্তু ফেসবুক বা ব্লগ এ প্রবেশাধিকার নেই। নিলাম সিটিসেল জুম, একই অবস্থা। একে একে বাংলা লিংক, টেলিটক, এয়ারটেল, রবি সবাই ফেল মারল। কাজেই, সোস্যাল নেটওয়ার্কিং থেকে আপাতত দূরে। মাঝে মধ্যে শহরে এলে, যদি রাত থাকার সম্ভবনা থাকে তাহলে নিজের ল্যাপটপখানি আর মোডেমগুলিকে ঘাড়ে করে নিয়ে আসি, সেকানে বসেই যেটুকু যা করতে পারি।
শুনছি ৩জি নেটওয়ার্ক চালু হচ্ছে, কিন্তু আমরা যারা গ্রামে থাকি তাদের কি লাভ! আমরা তো চাইলেও ডিজিটাল বাংলাদেশের অংশ হতে পারব না, যতক্ষন না কানেক্টিভিটি সমস্যা দূর হচ্ছে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



