আমার প্রিয় পোস্ট

বি এম কলেজে ভাষ্কর্য নির্মাণ আন্দোলন এবং আমাদের অভিযাত্রা. . .

০২ রা জুন, ২০০৯ রাত ১০:০৯

শেয়ারঃ
0 1 0

আমার শৈশব-কৈশোরের শহর বরিশাল গিয়ে এই এবারই প্রথম নিজেকে আউট সাইডার মনে হল। অথচ এই শহরটিতেই কেটেছে কত গুলো দিন, বছর। অবশ্য এবার ছিলাম মাত্র কয়েক ঘন্টা, বাসায় গিয়েছিলাম বড়জোর এক ঘন্টার জন্য। এবার আসলে বরিশালে যাওয়ার উদ্দেশ্যটাই ছিল একটু ভিন্ন। এ ছিল এক অন্য ধরনের অভিযাত্রা।
শুধু বরিশাল নয়, পুরো দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ-ঐতিহ্যবাহী বি এম কলেজ ক্যাম্পাসে ভাস্কর্য নির্মাণের দাবিতে গত তিন মাস ধরে টানা আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করতে বরিশালগামী একদল কবি-শিল্পীর এই অভিযাত্রায় শামিল হয়েছিলাম প্রানের টানে। কবি ও শিল্পী কফিল আহমেদ, অভিজিৎ দাস, নৃপ অনুপ, জন রোমেল, শশ্মান ঠাকুর, মেহেদী হাসান স্বাধীন, গানের দল মনোস্মরণী'র প্রবর রিপন, মুয়ীজ মাহফুজ ও রাজি, চিৎকার-এর পদ্ম, অতনু শর্মা সহ অন্যান্য অভিযাত্রীরাও যে বোধের দায়বদ্ধতা থেকেই এসেছিলেন, সে ব্যাপারে আমি অন্তত নিশ্চিত। নিশ্চিত ভাবে কফিল আহমেদই ছিলেন ১৫ জনের এই দলটির অলিখিত কমান্ডার/কান্ডারী।
রোববার (৩১মে, ০৯) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলার বিপরীতের ছবির হাট থেকে আমরা যখন বরিশালের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করি তখন আকাশ গুরু-গম্ভীর, অঝোর কান্নায় ভেজাচ্ছে সব। কেউ কাক ভেজা, আবার কেউবা আধ ভেজা হয়ে সদর ঘাট পৌঁছে আমরা আবহাওয়া আরো খারাপ আর নদীর পরিস্থিতি উত্তাল হওয়ার আশঙ্কা নিয়েই লঞ্চে উঠে বসলাম। এমভি সুন্দরবন-০৮ নামের লঞ্চটিতে ৩ টি মাত্র ডাবল কেবিন দখল করে যাত্রা শুরুর পর বুঝলাম যে আমাদের সে আশঙ্কা যে কতটা অমূলক ছিল। রাতের আবহাওয়াটা শুধু ভালো নয়, বেশ ভালো ছিল। নদী থেকে ছুটে আসা হু হু বাতাস, স্রোত কেটে চলার শব্দ, পিদিম জ্বালানো মাছ ধরা নৌকার সাঁড়ি, মেঘের কোল থেকে উঁকি দেয়া আধ ফালি চাঁদের সাথে গিটার-গানের কোরাসে- রাতের মতই দ্রুত ফুরোয় নিশাচর পথ। সোমবার (১ জুন,০৯) ভোর সাড়ে চারটা নাগাদই আমরা পৌছে যাই বরিশাল। সেই সাত সকালেই বরিশাল লঞ্চঘাট এসে আমার পথ প্রদর্শনের দায়িত্ব নিজেদের কাঁধে তুলে নেন- বি এম কলেজে ভাষ্কর্য নির্মাণ আন্দোলন কমিটির আহবায়ক-তরুন কবি আব্দুল্লাহ/আগন্তুক মাহফুজ অভি ও কবি মিছিল খন্দকার/রিয়াজ। তাদের পিছু পিছু নগরী হাসপাতাল রোডের হোটেল প্যারাডাইসে গিয়ে ণিকের বিশ্রাম, এরপর সদর রোডের রেস্তোরা সকাল-সন্ধ্যা’য় নাস্তার পাট চুকিয়ে সকাল সাড়ে দশটার মধ্যেই আমরা সদলবলে বি এম কলেজ ক্যাম্পাসে উপস্থিত। ততক্ষনে আমাদের সাথে যোগ দিয়েছেন বরিশাল চারুকলা বিদ্যালয়ের প্রানপুরুষ সুসান্ত ঘোষ।
ক্যাম্পাসে পৌছানোর পর মনে হল, কলেজের গেট থেকে শুরু করে জীবনানন্দ চত্ত্বর, আন্দোলন মঞ্চ- সবাই যেন আমাদেরই অপেক্ষায় ছিল। আমরা পৌছানোর পরপরই শুরু হয় অনুষ্ঠান। সেদিনই প্রথমবারের মত আন্দোলন মঞ্চে আসেন কলেজ অধ্যক্ষ। সাধারন শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি পূর্ণ সম্মান প্রদর্শনের আশ্বাস দিয়ে সেদিন তিনিই প্রথম ভাষন দেন। দাপ্তরিক কাজের চাপে অনুষ্ঠান স্থলে তাকতে পারবেন না জানিয়ে সংক্ষিপ্ত ভাষণে তিনি বলেন- এ ব্যাপারে কলেজের সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারণী সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত উপাধ্যক্ষ ঘোষণা করবেন। অধ্যক্ষের বক্তব্য শেষে আন্দোলনকারীদের সাথে একাত্বতা প্রকাশ করে বক্তব্য দেন বরিশালের প্রবীণ সংগঠক-মুক্তিযোদ্ধা আক্কাস আলী। এরপরই আন্দোলনকারীদের সাথে সংহতি প্রকাশে কফিল আহমেদের নেতৃত্বে মঞ্চে ওঠে আমাদের সেই অভিযাত্রী দলের সদস্যরা। এ সময় অভিযাত্রীরা সমস্বরে গেয়ে ওঠে কফিলেরই একটি গান-“বানিয়েছি ডুগডুগি, বাজাও বাজাও...”। এ সময় উপস্থিত ছাত্র-ছাত্রীরাও উদ্বেল-উচ্ছাসে তাদের বরন করে নেয়। তাদের এই উচ্ছাস অভিযাত্রীদের উপহার দেয় এক মোহনীয় অনুভুতি। এরপর কফিল আহমেদ সহ একে একে সংগীত পরিবেশন করেন- রাজু, অভিজিৎ দাস এবং গানের দল মনোস্মরণী ও চিৎকার। গানের ফাঁকে ফাঁকে বক্তব্য প্রদান-আবৃত্তিও চলছিল। এরই মধ্যে বক্তব্য প্রদান করেন কলেজের উপাধ্য। তিনি বলেন, “শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই কলেজের সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারণী সভায় মুক্তিযুদ্ধ, মহাত্মা অশ্বিণী কুমার দত্ত ও কবি জীবনানন্দ দাসের ভাস্কর্য/(অবলিক) সৃত্মিফলক নির্মাণ করা হবে”। তার এই বক্তব্যের পর আন্দোলনকারীরা খুশি হওয়ার বদলে উল্টো খেপে যায়। তাদের শ্লোগানেই জানা যায় যে তারা সৃত্মিফলক জাতীয় কিছু নির্মাণ করতে রাজি না। তারা ভাষ্কর্যই চায়। এ সময় বক্তব্য দিতে গিয়ে আন্দোলন কমিটির আহবায়ক মাহফুজ বলেন, “আমাদের দাবির মধ্যে তো কোন ‘/(অবলিক)’ ছিল না। কিন্তু কতৃপক্ষের সিদ্ধান্তে এই ‘/(অবলিক)’ এর উপস্থিতি কেন? এ আবার কাদের সাথে আপোষের ষরযন্ত্র? এই ভাষ্কর্য নিয়ে কোন টাল-বাহানা চলবে না।” এ সময় মাহফুজ ঘোষণা দেন যে, ভাষ্কর্য নির্মাণের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের পূর্ব পর্যন্ত তাদের এই আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। এসময় উপস্থিত সকলেই এই আন্দোলনের শেষ অবধি একাত্ম থাকার কথা পূণর্ব্যক্ত করেন। পুরো ক্যাম্পাস প্রকম্পিত হয় একটি শ্লোগানে- “ভাস্কর্যের দাবিতে, আমরা সবাই এক সাথে”। পরে আবারও গান ধরেন কফিল আহমেদ। ফের উদ্বেল হয় সব। উজ্জীবিত হয় নব প্রেরণায়।
আন্দোলন মঞ্চের এই অনুষ্ঠান শেষ হয় দুপুর ২টার দিকে। এরপর জীবনানন্দ চত্ত্বরে কিছুণ আড্ডা মেরে আমরা চলে গেলাম নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনাল এলাকার খাবারের হোটেল ধানসিঁড়িতে। সেখানে দুপুরের খাওয়া-দাওয়ার পর সবাই একটু ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন হল। কেউ চলে গেলেন হোটেলে বিশ্রাম নিতে, কেউ পূর্বপরিচিতদের সাথে দেখা করতে, আবার কেউ স্রেফ ঘুরে বেড়াতে। অভিযাত্রীদের দলের মধ্যের ‘বরিশাইল্লা’ আমি ও অভিজিৎ দাস তখনই কেবল একটু সময়ের জন্য সুযোগ পেয়েছিলাম নিজেদের বাসায় যাওয়ার। অবশ্য সন্ধ্যা ৬টায় হোটেল প্যারাডাইসেই আবার সবাই এক হলাম। সেখান থেকে লঞ্চঘাট ফেরার পূর্বে আমরা ঘুরে এলাম সেই বাড়ির উঠোন থেকে, যেটি ছিল কবি জীবনানন্দের বরিশাল শহরের আবাসস্থল। সেই সাথে দেখে এলাম বরিশাল চারুকলা বিদ্যালয়ের সংগ্রহশালা। লঞ্চঘাটে আমাদের বিদায় দিতে দল বেঁধে হাজির হল বি এম কলেজে ভাষ্কর্য নির্মাণ আন্দোলন কমিটির কর্মীরা। মাহফুজ, মিছিল বা রাহাতের মত আন্তরিক এই ছেলে গুলোর আতিথিয়তায় মুগ্ধ চিত্তেই বিদায় নিয়েছি আমরা। সেই সাথে ওদের প্রতি ছিল অন্তরের অন্ত:স্থলের শুভ কামনা। তাছাড়া আন্দোলনটির যে সফল রুপ, তাতে সব মিলিয়ে তৃপ্তির এক ঢেঁকুর তুলে নিশ্চিন্তেই ঢাকা ফিরে ছিলাম আমরা।
তবে আজ দুপুরে (২ জুন,০৯) ওদের খবর নিতে ফোন করে সুসংবাদের বদলে দু:সংবাদই পেলাম। ওদের আন্দোলন আজ এক নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। শুনলাম, আজ বিএম কলেজের অধ্যর সাথে দেখা করে যে কোন মূল্যে ক্যাম্পাসে ভাষ্কর্য নির্মাণ ঠেকানোর হুমকী দিয়েছে স্থানীয় মৌলবাদি গোষ্ঠি। কোরআন-সুন্নাহ রক্ষা কমিটির ব্যানারে এই ষড়যন্ত্রকারীরা এখন ঝামেলা পাকানোর তালে আছে। তাদের এই আগ্রাসী আচরনে আতঙ্ক বাড়ছে। আন্দোলনকারীদের সাথে এই মৌলবাদি গোষ্ঠির সংঘর্ষেরও আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এই অবস্থায় আশঙ্কা আর হুমকীর ভয়ে কলেজ কতৃপক্ষ আবার ভাস্কর্য নির্মাণ প্রক্রিয়া ঝুলিয়ে রাখবে কিনা তা’ই ভাবছি। আর একটা প্রশ্ন কেবলই খুব ঘোর-পাক খাচ্ছে মাথার ভিতর। কেউ বলতে পারেন- এমন প্রক্ষাপটে এই মুহুর্তে আমাদের কি করা উচিত..? অনেক গুলো উত্তরো অবশ্য মাথায় আসছে। তবে কোনটা ঠিক বুঝতেছিনা।

 

সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে জুন, ২০০৯ দুপুর ২:৫০ | বিষয়বস্তুর স্বত্ত্বাধীকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ০২ রা জুন, ২০০৯ রাত ১০:১৪
কৌশিক বলেছেন: মুই আগে কমেন্ট কইরা লই...আহারে কতদিন যাইনা.
০২ রা জুন, ২০০৯ রাত ১০:২২

লেখক বলেছেন: হুমম...

০২ রা জুন, ২০০৯ রাত ১০:২৩

লেখক বলেছেন: আপনাকেও ধন্যবাদ...
এমন প্রক্ষাপটে এই মুহুর্তে আমাদের কি করা উচিত..?

৩. ০২ রা জুন, ২০০৯ রাত ১০:২৩
রানা বলেছেন: ভাস্কর্য নির্মানের জন্য প্রয়োজনে বৃহত্তর আন্দোলনের প্রস্তুতি নিন...... জামাত শিবিরের ভয় আমরা করি না।

ঐদিন সন্ধ্যায় বগুড়া রোডস্থ জীবনান্দের বাড়ীর ওখানে দাড়িয়ে আড্ডা মারছিলাম। দু/তিন জন ছেলে এসে জীবনান্দের বাড়ী কোনটি জানতে চাইলে দেখিয়ে দিয়েছিলাম। একজনের পিঠে গিটার ছিল....... এখন বুঝলাম তারা কারা ছিল।
০২ রা জুন, ২০০৯ রাত ১০:৪৯

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ রানা ভাই...কইলজায় জোড় পাইলাম

৪. ০২ রা জুন, ২০০৯ রাত ১০:২৪
নীল লাল সবুজ বলেছেন: মহাত্মা অশ্বিণী কুমার দত্ত ও কবি জীবনানন্দ দাসের নামে গরিব ছাত্রদের নামে ২ টা বৃত্তি চালু করা যায় না? ভাষ্কর্য ছাড়া বি এম কলেজ এত দিন চলেনি? Sorry আপনাকে কিন্তু কষ্ট দেয়ার জন্য বলিনি।
০২ রা জুন, ২০০৯ রাত ১০:৫০

লেখক বলেছেন: ভাষ্কর্য ছাড়া বি এম কলেজ এত দিন চলেছে, কিন্তু আর কত..?

৫. ০২ রা জুন, ২০০৯ রাত ১০:৩১
অণৃণ্য বলেছেন: আচ্ছা, খোঁজ নিয়ে পরিস্থিতি জানবো।পরে বলবো।বেশি বা কম আতন্কিত হওয়ার দরকার নেই এই মূহুর্তে। কাল জানাবো , সাথে আছি। মনেও থাকবে।
০২ রা জুন, ২০০৯ রাত ১০:৫০

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ দাদা...

৬. ০২ রা জুন, ২০০৯ রাত ১১:০৩
ঋভু অনিকেত বলেছেন:
''ভাষ্কর্য ছাড়া বি এম কলেজ এত দিন চলেনি?''
লাল নীল সবুজ এর অদ্ভুত প্রশ্ন!
শতবর্ষী ব্রজমোহন কলেজ (বি.এম কলেজ নয়), শুরু থেকে এ পর্যন্ত অনেক কিছু ছাড়াই চলেছে বলে এখনো সে সব কিছু ছাড়া চলতে হবে!
ব্রজমোহন কলেজকে বি.এম কলেজ বলার প্রচলন কারা চালু করেছে তা অনুসন্ধান করলেই জানতে পারবেন, জানতে পারবেন, কারা জীবনানন্দ অশ্বিনী কুমার দত্ত এর ভাষ্কর্য প্রতিষ্ঠা করতে দিতে চায় না।
০২ রা জুন, ২০০৯ রাত ১১:০৮

লেখক বলেছেন: ভালো বলছেন ভাইয়া...ধন্যবাদ।

৭. ০২ রা জুন, ২০০৯ রাত ১১:০৬
রজত সরকার বলেছেন: জীবনানন্দের নামে ভাস্কর্য বা মুর্তি যাই হোক বাঁধা দেয় কে? তারা কি বাঙলাদেশী?

হ্যাঁ বাঙলাদেশী----এরা বাংলাদেশের ভূখন্ডটিতে সেই ৪৭ থেকে চেষ্টা করে যাচ্ছে জাতিগত ভাবে বাঙালীত্ব থেকে ইসলামীত্বে দীক্ষিত করার ।
০২ রা জুন, ২০০৯ রাত ১১:০৮

লেখক বলেছেন: হুমম...

৮. ০২ রা জুন, ২০০৯ রাত ১১:১০
নীল লাল সবুজ বলেছেন: আমার প্রিয় কলেজটিতে রক্তের দাগ দেখতে চাই না। শিক্ষিত সমাজ সহনশীল হোক আমি তাই চাই। সময় আসবেই..
০২ রা জুন, ২০০৯ রাত ১১:২২

লেখক বলেছেন: প্রোফাইলে তো মাশাল্লাহ এক বীরের ছবি লাগাইয়া রাখছেন। মাগার কইলজার জোড় এত কম ক্যান..?
আপনার প্রথম কেমন্টসেই আমার বোঝা হয়ে গেছে যে আপনার বোধের দৌড় কতদূর। আমি এখন শিওর যে আপনি শিবিরের লেজুর বৃত্তিরচর্চা করছেন। আর যদি তাই না হয় তবে...

৯. ০৩ রা জুন, ২০০৯ সকাল ১০:০০
ঋভু অনিকেত বলেছেন: আমার প্রিয় কলেজটিতে রক্তের দাগ দেখতে চাই না।

এইতো লাল নীল সবুজের চরিত্রের প্রকাশ ঘটলো!
সময় তোদের কখনোই আসবে না। তোদের শায়েস্তা করার জন্য নতুন প্রজন্মের মুক্তিযোদ্ধা তৈরি হয়ে গেছে।ভেবেছিস ষড়যন্ত্র আর অর্থের জোর থাকলেই সব কিছু সম্ভব! তোদের সে আশার গুড়ে বালি....। তোরা ইতিহাস জানিস না। তোদের প্রপিতামহ আইয়ুব-ইয়াহিয়ার চেয়ে তোদের শক্তি অবশ্যই বেশী নয়। ১৯৭১ এ যে কৃষক,যে শ্রমিক কাস্তে হাতুড়ি ছাড়া আর কোন অস্ত্র চিনতো না সে কৃষক সে শ্রমিক স্টেনগান হাতে সুপ্রশিক্ষিত পাকিস্তানী আর্মির সাথে লড়েছে।আর তোরা যদি মনে করে থাকিস একাত্তরের সে উদ্যম আর নেই। তাহলে মহা ভুল করবি! বাঙালি জাতির ইতিহাস অন্যরকম। সময় এলেই টের পাবি।
০৩ রা জুন, ২০০৯ রাত ১০:২৩

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ ঋতু...
বেশ জবাব দিয়েছেন...

১০. ০৩ রা জুন, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:৫৬
অণৃণ্য বলেছেন: মৌলবাদীরা ভাস্কর্য তৈরীর বিরুদ্ধে যারা গিয়েছে তারা চরমোনাইর অনুসারী। মমতাজী যে বলাকা ভেঙ্গেছে সেও নিজে পীর বনে যাওয়ার আগে চরমোনাই পীরের (ফজলুল করীম)সাথেই ছিলেন।এখনো ওদের সাথে তার যোগাযোগ আছে। মানে তার আন্দোলনে চরমোনাইর মুরীদরা হাজির থাকে। এই হলো গিয়া অবস্থা।
০৩ রা জুন, ২০০৯ রাত ১০:২৪

লেখক বলেছেন: আপডেট তথ্যের জন্য ধন্যবাদ।

১১. ০৪ ঠা জুন, ২০০৯ রাত ১২:১৮
সন্ধ্যাগীত বলেছেন: লেখকের হয়ে লিখছি এ ভাববে না।
লেখাটি "লাল নীল সবুজ" এর জন্য

(নীল লাল সবুজ বলেছেন: মহাত্মা অশ্বিণী কুমার দত্ত ও কবি জীবনানন্দ দাসের নামে গরিব ছাত্রদের নামে ২ টা বৃত্তি চালু করা যায় না? ভাষ্কর্য ছাড়া বি এম কলেজ এত দিন চলেনি? Sorry আপনাকে কিন্তু কষ্ট দেয়ার জন্য বলিনি।

নীল লাল সবুজ বলেছেন: আমার প্রিয় কলেজটিতে রক্তের দাগ দেখতে চাই না। শিক্ষিত সমাজ সহনশীল হোক আমি তাই চাই। সময় আসবেই..)

বাহ্ লাল নীল সবুজ বেশ বলেছোতো; হ্যাঁ, মহাত্মা অশিন্বী কুমার দত্ত ও জীবনানন্দ'র নামে গরীব ছাত্রদের জন্য বৃত্তি চালু করা যায়।
কিন্তু প্রশ্ন হলো আর্থিক ভাবে অস্বচ্ছল নাকি মেধায় অস্বচ্ছলদের জন্য বৃত্তির ব্যবস্থা করা হবে সেটা নিয়ে চিন্তায় পড়ে যেতে হচ্ছে। যদি মেধায় গরীবদের জন্য বৃত্তি হয় তবে তোমাকে প্রথম পজিশনটি দিয়ে দিচ্ছি।

লাল নীল সবুজ তোমার উচিত এক্ষুনি প্রোফাইল থেকে নূর হোসানের ফটোটি সরিয়ে ফেলা। তুমি বিপ্লব ও বিপ্লবীদের অসম্মান করেছো। ছাত্রদের অসম্মান করেছো; অসম্মান করেছো মেধাবীদের।
উপরোক্ত যে দু জন মানুষের নাম তুমি নিয়েছো তাঁরা প্রত্যেকেই স্ব মেধায় বলীয়ান আর যথেষ্ট শক্তিশালী কথায়। বরিশাল - এর গৌরব এই জনেরা। আর বি এম কলেজের এত দিনের উজ্জ্বলতা এদের-ই প্রতিফলন।
বি এম কলেজ রক্তের বন্যায় ভেসে যাবে। আর এ রক্ত দান করবে বি এম কলেজের সব ছাত্র-ছাত্রী। এতে তাদের কোনো আক্ষেপ নেই। তবু ও ভাস্কর্য গড়ে উঠবে বিএম কলেজে। আর এই ভাস্কর্য চত্ত্বর থেকে গড়ে উঠবে নতুন নতুন প্রশ্ন আর মূল্যবোধের আন্দোলোন। গড়ে উঠবে অন্যায় এর বিরুদ্ধে আন্দোলন। বি এম কলেজের কৃতিত্ত্ব হরণকারী প্রশাসনিক অবকাঠামোকেও গড়তে হবে নতুন করে।
বড় আফসোসের বিষয একজন সরকারী অধ্যক্ষ ঠিকমতো কথা বলতে জানে না। আর সে হয় ওই কলেজের কান্ডারী। এখন-ই সময় হুঁশীয়ার হওয়ার। সব অপশক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর।

আর মুখোশধারীদের জন্য রয়েছে আমার আগুন ফুল্কি; এসো, দেখো, জ্বলে যাবে মেধাবীদের, ছাত্রদের, বিপ্লবীদের রক্তলাভায়।


বিপ্লব দীর্ঘজীবি হউক
১২. ০৪ ঠা জুন, ২০০৯ বিকাল ৪:০৭
শ খি আ ঈয়ন বলেছেন: চমৎকার মন্তব্যের জন্য সন্ধ্যাগীতকে সংগ্রামী অভিনন্দন।
বিপ্লব দীর্ঘজীবি হউক...সংগ্রাম ছড়িয়ে পড়ুক. . .
১৩. ০৫ ই জুন, ২০০৯ সকাল ৯:৪৬
ঘোর বলেছেন: জীবনানন্দ দাশতো হিন্দু ছিল না, ব্রাহ্ম ছিল।

জামাতের ক্ষেপার কারণ কি? শত্রুর শত্রুতো তাগো বন্ধু হওনের কথা।
০৭ ই জুন, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:৩১

লেখক বলেছেন: আমিও তো তাই ভাবতাছি...

১৪. ০৭ ই জুন, ২০০৯ সকাল ১০:৫৫
বাকী বিল্লাহ বলেছেন: চিৎকার এর গান শুনতে যেতে চেয়েছিলাম, যাওয়া হয়নি।
আন্দোলন সফল হোক।
০৭ ই জুন, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:৩২

লেখক বলেছেন: আপনিও আমাদের সাথে একাত্ব হোন...

 

মোট সময় লেগেছে ১.০২৫১ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
পেশায় সংবাদ শ্রমিক
নেশা শব্দচাষ আর গান...
শখ ফটোগ্রাফী...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই