somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাংলাদেশের গ্যাসের ভরসায় বিদ্যুৎ কেন্দ্র হচ্ছে ত্রিপুরায় !!!

৩১ শে মার্চ, ২০১১ দুপুর ১২:৩৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বাংলাদেশের গ্যাসের উপর নির্ভর করেই ত্রিপুরার পালাটানা বিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরি করছে ভারত। এমনই খবর দিয়েছে সে দেশের বহুল প্রচলিত বাংলা দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা। বুধবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ প্রসঙ্গে বলা হয়- ‘মূলত বাংলাদেশের গ্যাসের উপর নির্ভর করে প্রতিটি ৩২৬ মেগাওয়াটের মোট ২টি ইউনিট গড়ে তোলা হবে। হাসিনা-মনমোহন চুক্তির ভিত্তিতে এই প্রকল্পর কথা ভাবা হয়।’
‘বাংলাদেশ হয়ে যন্ত্র এল ত্রিপুরায়’-শিরোনামে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনটি ছিল এদেশে ভারতের ফ্রি ট্রানজিট সুবিধা কার্যকর হওয়া সম্পর্কিত। এর শুরুতেই জানানো হয়, পালাটানা বিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরির সরঞ্জামের প্রথম কনভয় বুধবার বাংলাদেশ হয়ে ত্রিপুরায় পৌঁছেছে। মোট ৪টি ট্রাকে আখাউড়া সীমান্তে এসে পৌঁছায় বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৩৬০ টন যন্ত্রপাতি। ১২০ চাকার ওই ৪ টি ট্রাককে সহর্ষে স্বাগত জানান চেকপোস্টে হাজির হাজার দুয়েক ত্রিপুরাবাসী। প্রতিবেদনে বলা হয়- ‘এই প্রথমবারের মত বাংলাদেশের ট্রানজিট সুবিধা পাওয়বন্দর ও সড়কপথ ব্যবহার করে ভারতে কোনও প্রকল্পের যন্ত্রাংশ নিয়ে আসা হল।’
জানা গেছে, অয়েল অ্যাণ্ড ন্যাচারাল গ্যাস কমিশন (ওএনজিসি), ত্রিপুরা সরকার ও ইনফ্রাষ্ট্রাকচার লিজিং অ্যাণ্ড ফিনান্সিয়াল সার্ভিসেস-এর যৌথ উদ্যোগে ২০০৮ সালে তৈরি ‘ওএনজিসি ত্রিপুরা পাওয়ার কম্পানি’ (ওটিপিসি) এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের কাজ করছে। ওই সংস্থার ম্যানেজিং ডিরেক্টর সুধীন্দ্র কুমার দুবের বরাত দিয়ে আনন্দবাজার দাবি করেছে, চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই এ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিটটি চালু করা হবে। পত্রিকাটির আগরতলা সংবাদদাতা তার এই প্রতিবেদনে আরো জানান, এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিশালাকার সব যন্ত্রাংশ আশুগঞ্জ থেকে প্রায় ১শ কিলোমিটার দুরবর্তী ত্রিপুরার পালাটানায় নেয়ার জন্য বিগত ৩ মাস ধরে পরিকাঠামো গড়ার কাজ করা হচ্ছে। এ জন্য বাংলাদেশে ১৬টি বাইপাস ও ত্রিপুরায় ৮টি বাইপাস তৈরি করা হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশে ৩টি জেটি ও ৩টি পার্কিং লটও তৈরি করা হয়েছে।

অপর একটি সূত্রে জানা গেছে- ওই পালাটানা বিদুৎ কেন্দ্র স্থাপনের জন্য ‘ওভার ডাইমেনশনাল কার্গো’ বা ওডিসির আওতায় (শুল্ক ছাড়া) কমপে ৮৬ জাহাজ পণ্য আসছে। এর মধ্যে ৫টি জাহাজ থেকে পণ্য খালাস করা হয়েছে। প্রথম দফায় গত ৯ মার্চ ভারতীয় এবিসি কোম্পানির একটি জাহাজ ১৪০ টন ওজনের বিশাল ২টি ‘টারবাইন’ নিয়ে কলকাতা থেকে আশুগঞ্জে আসে। এমভি সাইকা নামের জাহাজটি গত ২২ ফেব্রুয়ারি কলকাতার খিদিরপুর নৌবন্দর ছেড়ে আসে। পরবর্তীতে ১২ মার্চ এমভি মোস্তাদির-২ ও এমভি সোনালী ১৬ মার্চ, এমভি হেংগিং-২ নামের অপর একটি জাহাজ ২০ মার্চ ও আরও একটি জাহাজ ২৪ মার্চ আশুগঞ্জ নৌবন্দরে পণ্য খালাস করে।
এর আগে গত বছরের ৩১ মে আশুগঞ্জ বন্দর ব্যবহার করে কলকাতা থেকে আগরতলায় পণ্য পরিবহনের চুক্তি করে বাংলাদেশ। গত বছরের জানুয়ারিতে নয়াদিল্লি সফরের সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের যৌথ ইশতেহারের আলোকে বাংলাদেশ সরকার মে মাসে আশুগঞ্জকে ৫ম বন্দর ঘোষণা করে। আশুগঞ্জে আন্ত:মহাদেশীয় ট্রানশিপমেন্ট কেন্দ্র চালুর ঘোষণাও দেয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে সরকার ইনল্যান্ড ওয়াটার ট্রানজিট অ্যান্ড ট্রেড (আইডব্লিউটিটি) চুক্তিতে এক সংযোজনীর মাধ্যমে আশুগঞ্জ দিয়ে ত্রিপুরায় ভারতীয় কার্গো ট্রান্সশিপমেন্টের অনুমোদন দিয়ে আশুগঞ্জকে দ্বিতীয় ট্রানশিপমেন্ট পয়েন্ট ঘোষণা করে।

প্রসঙ্গত, ভারতীয় পণ্যবোঝাই ট্রেইলার চলাচলকে সড়ক অবকাঠামোর তি ও স্বাধীনতা-সার্বভৌত্বকে উপোর পাশাপাশি আর্থিকভাবেও বড় তির কারণ হিসেবে দেখছেন বিশেজ্ঞরা। তাছাড়া এই ট্রানজিট বাংলাদেশকে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় স্বাধীনতাকামীদের সঙ্গে যুদ্ধের মুখোমুখি দাঁড় করাতে পারে; এমন শঙ্কাও রয়েছে। হাসিনা-মনমোহন চুক্তির পর থেকে বিরোধী দলও অনবড়ত এমন অভিযোগ করে আসছে।
১১টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিলিয়নিয়ার রবিন খুদা ও আমাদের জাতীয় অগ্রাধিকার

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ০৯ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৩০

বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় কী?

কর্মসংস্থান? না।

বিনিয়োগ? না।

ডলার সংকট? না।

গার্মেন্টস খাতে ছাঁটাই? না।

ব্যাংকিং খাতের আস্থা সংকট? না।

সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো— কোনো অনুষ্ঠানে জুলাই চেতনা কত মিলিলিটার ঢুকেছে, কে কতবার উচ্চারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×