বাংলাদেশ: ১৮৮ ও ১৪৭
জিম্বাবুয়ে একাদশ: ১১৩ ও ২২৫/৬
ফল: জিম্বাবুয়ে একাদশ ৪ উইকেটে জয়ী
ভাই কি বলবো বাংলাদেশের টেষ্টের স্কোর দেখলে (১৮৮ + ১৪৭=৩৩৫বিনিময়ে ২০উইকেট।) মনে হয় আমাদের পাড়ার ছোট ভাইদের ১৫/২০ ওভারের ম্যাচ চলছে। আমার এক ছোট ভাগিনা বলেই ফেললো কেন আমাদের না নামিয়ে ওই গাঁধাদের নামানো হল?
আসলে কথায় আছে ক্রিকেট বড় রং বদলায়। বড় দৈর্ঘ্যের ম্যাচে আরও বেশি। যে উইকেটে প্রথম দিন ১৪ উইকেট পড়েছিল, দ্বিতীয় দিন ১৮টি, তৃতীয় দিনে হঠা ৎ সেটি ব্যাটসম্যানদের দিকে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিল। পড়ল মাত্র ৪ উইকেট।
যে উইকেটে ২০০ রান তাড়া করা অসম্ভব বলে গত পরশু দ্রুত একমত হয়ে গিয়েছিলেন গ্রান্ট ফ্লাওয়ার ও হিথ স্ট্রিক, সেখানে জিম্বাবুয়ের দ্বিতীয় সারির দল হাতে ৪ উইকেট রেখেই পৌঁছে গেল ২২৩ রানের টার্গেটে। ১২৫ বলে অপরাজিত ৮৭ রানের ইনিংস খেলে এতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখলেন যে মুতিজাওয়া, তিনি টেস্ট দলেই জায়গা পাননি। ৪১ রানের অসমাপ্ত সপ্তম উইকেট জুটিতে মুতিজাওয়াকে যিনি সঙ্গ দিলেন, সেই ম্যালকম ওয়ালারও না।
অচেনা কন্ডিশনে প্রস্তুতি ম্যাচে পরাজয়টাকে খুব বেশি গুরুত্ব না দেওয়ার একটা চেষ্টা বাংলাদেশ দল করবে, সেটিই স্বাভাবিক। দলের সঙ্গে আসা নির্বাচক হাবিবুল বাশার যেমন বললেন, ‘প্রস্তুতি ম্যাচে প্রস্তুতি নেওয়াটাই সবচেয়ে বড় কথা। জয়-পরাজয়টা খুব বড় ব্যাপার নয়। আমাদের ব্যাটসম্যানদের প্রস্তুতিটা ঠিকমতো হলো না, এটাই আফসোসের ব্যাপার। তবে আমি নিশ্চিত, টেস্ট ম্যাচে ব্যাটিং এমন খারাপ হবে না।’
কিসের ভিত্তিতে এই আশাবাদ? বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের পরও তো বলেছিলেন, দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটসম্যানরা ভালো করবে। বাংলাদেশ করেছে ৪১ রান কম। আশা করতে হয় বলেই কি করছেন হাবিবুল? এখানেও আসছে উইকেট। জিম্বাবুয়েতে অনেক খেলার অভিজ্ঞতা থেকে হাবিবুল বলছেন, ‘আমি নিশ্চিত, হারারে স্পোর্টস ক্লাবের উইকেট এর চেয়ে অনেক ভালো হবে।’
হাবিবুলের সঙ্গে একমত লোক পাওয়া গেল প্রচুর। জিম্বাবুয়ে দলের প্রায় সব খেলোয়াড় তিন দিনই বাংলাদেশকে দেখতে মাঠে। দ্বিতীয় সারির দলের কাছে বাংলাদেশ হেরে যাওয়ার একটা মনস্তাত্ত্বিক সুবিধা দেখছেন সবাই। তবে সঙ্গে সঙ্গেই যোগ করে দিচ্ছেন, টেস্টের উইকেট এমন হবে না। বাংলাদেশ দলের এক সাপোর্ট স্টাফ অবশ্য এই পরাজয়ের ভালো একটা ব্যাখ্যা দিলেন, ‘জিম্বাবুয়েতে এসে আমরা প্রথম ম্যাচে হারব, এটা আর নতুন কী!’
শুধু জিম্বাবুয়েতে এসে নয়, নিজেদের দেশেও জিম্বাবুয়ের কাছে প্রথম ম্যাচে হারাটা একটা অভ্যাস বানিয়ে নিয়েছে বাংলাদেশ দল। এবার সেই ‘প্রথম ম্যাচে পরাজয়’-এর নিয়মটা প্রস্তুতি ম্যাচেই সারা হয়ে গেল বলে একটা স্বস্তিও নাকি আছে। এর সবই আসলে সান্ত্বনার কথা। যা হওয়ার তা তো হয়েছেই। দুই দিন পরই টেস্ট ম্যাচের আগে সেটিকে যত কম গায়ে মাখা যায় ততই ভালো।
পরাজয়ের গ্লানির সঙ্গে আরেকটি ছোট্ট দুশ্চিন্তাও অবশ্য উপহার দিয়েছে এই ম্যাচ। কাল সকালে ওয়ার্মআপের সময় বাঁ হাতের কড়ে আঙুলে চোট পেয়েছেন মাহমুদউল্লাহ। সেটি খুব গুরুতর নয় বলেই সবার ধারণা। তবে সারা দিন মাঠেই না নেমে টেস্টে খেলা নিয়ে একটু সংশয় বোধহয় জাগিয়েই রাখলেন মাহমুদউল্লাহ।
এই দল কিভাবে ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া কিংবা দ. আফ্রিকার মত দলের সাথে খেলবে? সেটাই এখন দেখার বিষয়।
ধন্যবাদ সবাইকে।
সূত্র : বাংলাদেশ নিউজ পেপার ও ক্রিকইনফো

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



