মওলানা ভাসানীর সম্পাদনায় বা পৃষ্ঠপোষকতায় প্রকাশিত পত্র-পত্রিকা হ’লঃ
১। ১৯৪৯ সালে প্রথম প্রকাশিত ইত্তেফাক পত্রিকার
প্রতিষ্ঠাতা ও প্রথম সম্পাদক মওলানা ভাসানী
দ্বিতীয় সম্পাদক ইয়ার মোহাম্মদ খান
তৃতীয় সম্পাদক মোজাফফর আহমদ
চতুর্থ সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া
২। জয় সর্বহারা প্রতিষ্ঠাতা মওলানা ভাসানী
সম্পাদক আজাদ সুলতান
৩। সংগ্রামী বাংলা প্রতিষ্ঠাতা মওলানা ভাসানী
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক আফতাব উদ্দিন।
৪। সাপ্তাহিক গণমুক্তি প্রতিষ্ঠাতা মওলানা ভাসানী
সম্পাদক আবু নাসের খান ভাসানী
৫। সাপ্তাহিক হক কথা প্রতিষ্ঠাতা মওলানা ভাসানী
সম্পাদক সৈয়দ ইরফানুল বারি
৬। সাপ্তাহিক প্রাচ্য বার্ত্তা প্রতিষ্ঠাতা মওলানা ভাসানী
সম্পাদক ফজলে লোহানী
৭। ভাসানীর জেহাদ (বুলেটিন)
৮। সত্যকথা (বুলেটিন)
৯। সত্যের জয় (বুলেটিন)
১০। ভাসানীর কথা (বুলেটিন)
১১। ভাসানীর প্রশ্ন (বুলেটিন)
১২। বাংলা খুৎবা
বাংগালী জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান মওলানা ভাসানীর শ্রেষ্ঠত্ব বা গুরুত্ব সম্পর্কে বর্তমান প্রজন্মের ধারণা সৃষ্টির নিমিত্ত বিরাট সংগ্রামী জীবনের কিছুটা অতি সংক্ষেপে হলেও উল্লেখ করা হলঃ
১। মজলুম নেতা মওলানা ভাসানী আসামে লাইন প্রতা আন্দোলনে নেতৃত্ব
দেন।
২। বাঙ্গাল খেদাও প্রতিরোধ অন্দোলনে নেতৃত্ব দেন।
৩। খেলাফত আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন
৪। পাকিস্তান আন্দোলন এবং পাকিস্তান সৃষ্টির পর মুসলিম লীগের
দুঃশাসনের প্রতিবাদে “আওয়ামী মুসলিম লীগ” গঠন করেন।
৫। লিয়াকত আলী খানের মূলনীতি কমিশনের প্রতিবাদ করেন।
৬। জমিদারী প্রথা উচ্ছেদের জন্য আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন।
৭। মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা এর বিরুদ্ধে
আন্দোলন করেন এবং “রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের সর্বদলীয় সংগ্রাম
পরিষদ” এর সভাপতি হিসাবে যথার্থ ভূমিকা পালন করেন।
৮। শেরে বাংলা ও হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীকে নিয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠন
করেন এবং ’৫৪ এর নির্বাচনে ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগের বিরুদ্ধে জয়
লাভ করেন।
৯। সিয়াটো-সেন্টো, পাক মার্কিন সামরিক চুক্তি এবং বাগদাদ চুক্তির
বিরুদ্ধে অবস্থান নেন এবং বাতিলের জন্য আন্দোলন করেন।
১০। সর্ব প্রথম পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্বশাসন দাবী করেন।
১১। হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী বলেন, “পূর্ব পাকিস্তান ৯৮ ভাগ
স্বায়ত্বশাসন পেয়েছে” এর প্রতিবাদে ও সেন্টো সিয়াটো চুক্তির
প্রতিবাদে নিজহাতে গড়া প্রতিষ্ঠান আওয়ামী লীগ ও পত্রিকা ইত্তেফাক
থেকে সরে আসেন।
১২। পশ্চিম পাকিস্তানের আব্দুল গফ্ফার খান, মাহমুদ আলী কাসরী, ওয়ালী খান, মাহমুদুল হক ওসমানি, আব্দুস সামাদ আচকযাই, আব্দুল মজিদ সিন্ধ, মিয়া ইফতেখার, মেজর ইসহাক, আতাউল্লাহ খান মঙ্গল, কনিজ ফাতেমা সহ বহু প্রভাবশালী নেতা ও পূর্ব পাকিস্তান থেকে হাজী মোহাম্মদ দানেশ, মাহমুদ আলী, মহিউদ্দিন আহম্মদ, দেওয়ান মাহবুব আলী, অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহম্মদ, মোহাম্মদ সুলতান, সৈয়দ আলতাফ আলী, পীর হাবিবুর রহমান, আব্দুল জব্বার, হাতেম আলী খান, অধ্যাপক আসাব উদ্দিন, গাজি উল হক, আবুল বাশার, মির্জ্জা নুরুল হুদা কাদের বক্স, মোহাম্মদ তোয়াহা, আবদুল মতিন, আবদুল হক, আনোয়ার জাহিদ,
খন্দকার মোহাম্মদ ইলিয়াস, মশিহুর রহমান, সিরাজুল হোসেন খান, সেলিনা বানু প্রমুখ প্রগতিশীল নেতৃবৃন্দকে সংগে নিয়ে জাতীয় স্বার্থে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি গঠন করেন।
১৩। আব্দুল হক, মোহাম্মদ তোয়াহা, মতিন আলাউদ্দিনকে দিয়ে কৃষক সমিতি গঠন করে কৃষকদের সচেতনতা ও তাদের মধ্যে রাজনৈতিক চেতনা সৃষ্টি করার ব্যবস্থা নেন।
১৪। চীন ভ্রমণ ও চেয়ারম্যান মাওসেতুং এর সাথে সাাৎ ও আমাদের দেশের সাথে চীনের স্থায়ী সম্পর্ক স্থাপন ও সেতু বন্ধন সৃষ্টি।
১৫। পাকিস্তানীদের এক চেটিয়া শোষণের প্রতিবাদে “আসসালামু আলাইকুম” বা “লাকুম দীনুকুম অলইয়াদিন” বলা।
১৬। স্বাধীন পূর্ব পাকিস্তানের ঘোষণা দিয়ে আইয়ুব খানের গোল টেবিল বৈঠকের বিরোধিতা করেন।
১৭। ঊনসত্তরের গণ আন্দোলনে নেতৃত্ব দান।
১৮। আগরতলা মামলা থেকে শেখ মুজিবের মুক্তির জন্য জ্বালাও পোড়াও আন্দোলন।
১৯। ক্যান্টনমেন্ট ঘেরাও করতে গণ মিছিল ও জ্বালাময়ী বক্তৃতা দ্বারা জনতাকে খেপিয়ে দিয়ে মন্ত্রী সুলতান ও আইয়ুবের কনভেনশন
মুসলিম লীগ দলিয় এম.এন.এ নেসার আলী লস্করের বাড়ী, মর্নিং নিউজ পত্রিকা অফিস, আগরতলা মামলার বিচারপতি মিঃ রহমানের বাসভবনে (ঢাকায়) অগ্নি সংযোগ ও কার্ফূ ভঙ্গ করেন
২০। ’৭১ এ আত্মগোপন করে ভারতে গমন
২১। স্বাধীনতা অন্দোলনের উপদেষ্টা কমিটির সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন। ২২। বাংলাদেশ স্বাধীনের পর ভারতের আধিপত্যবাদ ও সম্প্রসারণবাদ নীতি এবং শোষণের বিরুদ্ধে আন্দোলণে বলিষ্ঠ নেতৃত্ব দান এবং গঙ্গার পানির জন্য ঐতিহাসিক “ফারাক্কা মিছিল”।
২৩। পশ্চিমা সাংবাদিকদের প্রোফেট অব ভাইওলেন্স বা ফায়ার ইটার মওলানা আখ্যা।
২৪। বিশ্ব শান্তি সম্মেলনে যোগদান ও সভাপতিত্ব করা -
সবই তাঁর আন্দোলনের অংশ।
তাঁর এই সব আন্দোলন ও দাবীর পক্ষে অসংখ্য সম্মেলন আয়োজন করেন। যেমন
১। ১৯২৪ সনে আসামের ধুবড়ী জেলার ব্রক্ষ্মপুত্র নদের ভাষান চরে ঐতিহাসিক সম্মেলন আয়োজন করেন।
২। ১৯৩১ সনে টাঙ্গাইলের সন্তোষের জমিদারের অত্যাচারের বিরুদ্ধে কৃষকদের বিদ্রোহ সংঘটিত করেন। জমিদারের বিরোধী আন্দোলনের সংগঠক হিসাবে জমিদার এর পে সরকারী কর্তৃপ মওলানা ভাসানীকে টাঙ্গাইল এলাকা থেকে বহিষ্কার এর নির্দেশ দেন।
৩। ১৯৩২ সনে টাঙ্গাইল থেকে বহিস্কৃত হওয়ার পর সিরাজগঞ্জ কাওয়া খোলায় কৃষক সম্মেলন অনুষ্ঠান করেন যাহা বঙ্গ আসাম প্রজা সম্মেলন নামে খ্যাত। এই সম্মেলনের কারণে সরকার কর্তৃক তিনি পাবনা জেলা হইতে বহিস্কৃত হন। ইহার পর তিনি রংপুর জেলার গাইবান্ধা মহুকুমায় কৃষক সম্মেলন করেন।
৪। ১৯৩৪ সনে রাজশাহী জেলার মহুকুমা নওগাঁতে আর একটি কৃষক সম্মেলন করেন। ইহার ফলে সরকারী আদেশ তাহাকে বাংলা ত্যাগের নির্দেশ দেয়া হয়। তাই তিনি পূনর্বার আসামে চলে যান। ৫। ১৯৩৭ সনে আসাম প্রদেশের মুসলিম লীগের সভাপতি হয়েও তিনি মুসলিম লীগের মুখ্যমন্ত্রী স্যার সাদুল্লাহর গণবিরোধী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলেন।
৬। ১৯৩৮ সনে রংপুরের গাইবান্ধায় পুনরায় কৃষক সম্মেলনের আয়োজন করেন।
৭। ১৯৪০ সনে মুসলিম লীগের ঐতিহাসিক লাহোর সম্মেলনে যোগদান করেন।
৮। ১৯৪৬ সনে ভারত বিভাগের পূর্বে আসামের সিলেট জেলায় অনুষ্ঠিত গণভোটে নেতৃত্ব দেন যার ফলে সিলেটে পাকিস্তানের পে বিজয় অর্জিত হয়।
৯। ১৯৪৭ সনে তিনি আসাম মুজাহিদ সম্মেলন, ন্যাশনাল গার্ড সম্মেলন, নওজোয়ান সম্মেলন ও লিটারারী কনফারেন্সের আয়োজন করেন।
১০। ১৯৪৮ সনে পূর্ব পাকিস্তানের সৃষ্ট রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে সর্বদলীয় সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি হিসাবে নেতৃত্ব দেন।
১১। ১৯৪৯ সনে আরমানিটোলা ময়দানে অনুষ্ঠিত আওয়ামী মুসলিম লীগের জনসভায় তৎকালনি পূর্ব পাকিস্তান মন্ত্রীসভার বিরুদ্ধে অনাস্থা আনয়ন ও আন্দোলন শুরু করেন।
১২। ১৯৫৪ সনে সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমে বিশ্বশান্তি সম্মেলনে যোগদান করেন ও বিশ্বশান্তির স্বার্থে পরাশক্তি সমূহের বিরুদ্ধে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখেন। এই সম্মেলনে তিনি বাংলা ভাষায় বক্তৃতা দেন। কোন আন্তর্জাতিক সম্মেলনে এটাই বাংলাভাষায় প্রথম বক্তৃতা।
১৩। ১৯৫৬ সনে পাকিস্তানের স্বাধীন ও নিরপে পররাষ্ট্রনীতির দাবী তুলে আওয়ামী মুসলিম লীগের ঐতিহাসিক কাগমারী সম্মেলন সংগঠিত করেন।
১৪। বাংলাদেশের স্বাধীনতা লাভের পর বেশ কয়েকটি সম্মেলন সংগঠন করেন যার মধ্যে ফারাক্কা মিছিল ও রাজশাহীর মাদ্রাসা ময়দানের সভা অন্যতম প্রধান।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


