somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বন্ধুত্বের আঁড়ালে ভালবাসা কথা বলে

০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১২ রাত ১১:৪৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

১.
ষ্ট্যাশনের বেঞ্চিতে বসে আছি প্রায় আধঘন্টা হতে চললো। আজ ভার্সিটির ফাইনাল পরীক্ষা শেষ হলো। তাই ঢাকা শহর ত্যাগ করে নিজ শহরের উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। এই শীতের রাতে কানে হেডফোন গুজে রাখা সত্তেও গানের সুর গুলি যেন কর্নকুহর ডিঙ্গিয়ে হৃদয় এবং মস্তিস্কে আলোড়ন সৃষ্টি করতে অক্ষম...চারিদিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করলাম কিন্তু ষ্ট্যাশনের এক কোণায় কিছু অর্ধনগ্ন ঘুমন্ত ছিন্নমূল মানুষ ছাড়া আর কাউকেই দেখতে পেলাম না। হাত ঘড়িতে ১১.৩৫ মি. রাত ১ টার ট্রেন আমার...এতো তাড়াতাড়ি ষ্ট্যাশনে আসার জন্যে মনে মনে নিজেকে ১০১ টা গালি দিলাম। কিন্তু আজ যা হয়েছে তার পরে বেশিক্ষণ হলে বসে থাকতে পারলাম না। তাই একাকিত্বকে সঙ্গ দিতে চলে এলাম সময় হবার আগেই।

পকেট থেকে সিগারেটের প্যাকেট বেড় করে একটা সিগারেট ধরালাম। জোড়ে একটা টান দিতেই ভেতরটা শান্তিতে ভরে উঠলো। শীতের রাতে সিগারেটের একেকটা টান যেন অমৃতের একেকটা ফোঁটা। এর মতো আরাম এবং মধুর জিনিস যেন দুনিয়াতে দ্বিতীয়টি নেই। সিগারেটের ধোয়ার উষ্ণতা নিতে নিতেই হাড়িয়ে গেলাম ৪ বছর আগের ভার্সিটির প্রথম দিনগুলিতে।

২.
দিনটি ছিল শনিবার। ভার্সিটি জীবনের প্রথম দিন। তাই ক্লাস শুরু হবার নির্দিষ্ট সময়ের আগেই এসে পরেছিলাম। ভার্সিটি ক্যাম্পাসে ঢুকেই চারিদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা হাজার হাজার অচেনা ছাত্র ছাত্রী দেখে রীতিমত ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। প্রায় এক ঘন্টা যাবত্‍ এদিক ওদিক হাঁটছিলাম এবং একটু পরপর ঘড়িতে সময় দেখছিলাম যে কখন ক্লাসের সময় হবে। কারো সাথে কথাও বলতে পারছিলাম না এই ভয়ে যে যদি উল্টাপাল্টা কিছু বলে ফেলি অথবা যদি সিনিয়র কেউ হয় তাহলে তো একেবারে বাঁশ।

এভাবে ভয় ও উত্‍কন্ঠা নিয়ে কিছুক্ষণ কাঁটানোর পরে ক্লাসের সময় হয় এবং আমিও যেন হাফ ছেড়ে বাঁচি...ক্লাসে গিয়ে ঢুকতেই দেখলাম যে আমার আগেই সবাই এসে উপস্থিত। বসার জন্য পেছনের দুই তিনটা বেঞ্চ এবং সামনের বেঞ্চের একটা সিট খালি। ঐ বেঞ্চের আরেক সিটে কয়েকদিন না খেয়ে শুকিয়ে যাওয়া একটা হাতি অথবা ২৪ ঘন্টা খাওয়া একটা হাইব্রিড প্রজাতির হাতির বাচ্চার সাইজের মেয়ে বসা। তার হাতে একটা লেইস চিপসের প্যাকেট। তার এই অসাধারণ সাইজের কারণেই হয়তো তার পাশে কোন সাধারণ ছাত্র ছাত্রীই বসেনি। প্রথমে মনে মনে ভাবলাম যে পেছনের সিট গুলিতে গিয়ে বসি। পরক্ষণেই ভাবোদয় হলো যে প্রথম ক্লাসেই যদি পেছনে বসি তাহলে স্যারদের মনে এক প্রকারের নেগেটিভ মনোভাব সৃষ্টি হতে পারে আমার জন্য। তাই আর কোন উপায় না দেখেই মনে মনে ২-৩ বার আল্লাহর নাম নিয়ে গিয়ে বসলাম ঐ মেয়েটির পাশে।

ক্লাস চলাকালীন দুই একবার চোখাচোখি হলেও মেয়েটির সাথে কথা হয়নি একবারও। অবশেষে সফলতার সাথে আমার ভার্সিটি জীবনের প্রথম ক্লাসের সমাপ্তি ঘটে। দ্বিতীয় ক্লাস শুরু হতে আরো এক ঘন্টা বাকী। ক্যাম্পাসের পথে হাঁটছি আমি। হঠাত্‍ এক কোণায় দেখলাম যে সেই মেয়েটি বসা..এখনো বসে বসে সেই অর্ধসমাপ্ত চিপসের প্যাকেট থেকে চিপস খাচ্ছে আনমনে। মনে মনে কিছুটা সাহস সঞ্চয় করে গেলাম তার কাছে।

-বসতে পারি কি ??

-ক্লাসে তো জিজ্ঞেস করেন নি..এখন জিজ্ঞেস করছেল কেন ! বসুন..

-ক্লাসে যে কোন সিটে বসার জন্য একজন ছাত্র একটা অধিকার ভর্তি হবার সময়ই পেয়ে যায়..কিন্তু এখানে আপনার সাথে বসার জন্য বন্ধুত্বের যে অধিকারটা প্রয়োজন তা এখনো আমার নেই।

হয়তো আমার কথা গুলি তার মাথায় ভাল ভাবে কাজ করেনি। তার গোল আলুর মতো চোখ গুলিতে ক্রমেই তীক্ষ্নতা বাসা বাঁধছে। তাকে এই পরিস্থিতি থেকে বেড় করার জন্য বললাম,

-আচ্ছা আপনার নামটা জানে পারি কি ?

- হুম । আমি নদী। আপনি ?

- ঈষাম।
একই ক্লাসে পড়ে আপনি আপনি করাটা কেমন যেন দেখায় না ?

- (স্মিত হেসে) তাইতো। আচ্ছা কোথায় থাকো তুমি ?

এভাবে আরো কতো কাজের অথবা অকাজের কথা যে আমরা বললাম তার ইয়ত্তা নেই। কথা বলতে বলতে কখন যে দ্বিতীয় ক্লাসের সময় হয়ে গেল বুঝতেই পারলাম না।

৩.
প্রায় দুই বছরের মত হয়ে গেলো ভার্সিটি জীবনের..যে ক্যাম্পাসটা প্রথমে অচেনা মনে হতো এখন এইটাই আমাদের সবচেয়ে আপন । নদী সহ আরো ৮-৯ জনের একটি মাঝারী আকারের ফ্রেন্ড সার্কেল তৈরী হয়ে গেলো আমাদের। সারা দিন ক্যাম্পাসে আড্ডা দেয়া অথবা ক্যাফেটেরিয়ায় চা কফি হাতে একে অপরকে নিয়ে হাসি তামাসা করাটাই আমাদের প্রতিদিনকার কাজ। মাঝে মাঝে ছুটির দিন সবাই মিলে হাড়িয়ে যেতাম ঢাকার কোলাহল থেকে বহু দূরে গ্রাম বাংলায়,সবুজের বাগানে ডুব লাগাতাম এবং বুক ভরে নিঃশ্বাস নিতাম সতেজতায়।

এতো দিনে আমার আর নদীর সম্পর্কটা তুই থেকে তুমি গড়িয়ে তুই এ নেমে আসে। একজনকে ছাড়া আমরা আরেকজন ছিলাম অপূর্ণ। তাই মাঝে মাঝে অন্যরা ভাবতো আমরা হয়তো প্রেম করছি। সব শুনে আমরা শুধু হাসতাম । আমাদের দুজনের মাঝে ভালবাসার অভাব ছিলনা ঠিকই কিন্তু তা শুধুই বন্ধুত্বের গন্ডির ভেতরে।

৪.
অনেক গুলা বন্ধু থাকা সত্তেও কখনো কখনো এমন একজন বন্ধুর প্রয়োজন হয় যার সাথে জীবনের ছোট বড় সব ধরণের কথা শেয়ার করা যায়। যে বন্ধুটি কখনো আমার সুখে প্রাণ ভরে হাসবে অথবা কখনো আমার দুঃখে তার চোখেও অশ্রুধারা বয়ে যাবে। কিন্তু সব ছেলে এবং মেয়েদেরকেই এই ধরণের বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করা যায়না।


আমার ঐ পর্যায়ের একজন বন্ধু ছিল। নাম মাহবুব। তার সাথে আমি আমার ছোট বড় সব ধরণের কথা বলতাম অনায়াসেই। কেন জানি তার সাথে কথা বললে নিজেকে অনেক হালকা মনে হতো। যা আর কারো সাথে কথা বললেই হতো না। সব ছেলে বন্ধুদের মধ্যে মাহবুবই একমাত্র প্রকৃত বন্ধু আমার। ভার্সিটির হলে দুজন একই রুমে থাকার কারণে আমাদের বন্ধুত্বটা দিন দিন আরো দৃঢ় হয়। কিন্তু আমার এই বন্ধুটির জীবনে যে কতো কষ্ট তা আমি এবং নদী ছাড়া কেউই জানতো না।

মাহবুব হলো দরিদ্র বাবা মায়ের একমাত্র ছেলে। তার আরো তিনটি বোন রয়েছে ছোট ছোট। বাবা মায়ের দারিদ্রতা এবং বোনদের ভালো বিয়ে দেয়ার জন্য অনেক কষ্ট করে পড়ালিখা চালিয়ে যাচ্ছে মাহবুব। কিছু দিন আগে তার বাবা অসুস্থ হয়ে পরলে একেবারে দিশেহারা হয়ে পরে সে। বাবার চিকিত্‍সার জন্যে পর্যাপ্ত পরিমাণ টাকাও ছিলোনা তার কাছে। তখন আমি ও নদী মিলে তার বাবার সব চিকিত্‍সার খরচ বহন করেছিলাম। আরেকবার আমাদের তৃতীয় বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষার রেজিস্ট্রেশন ফি না দেয়াতে পরীক্ষা দেয়া বন্ধ হয়ে যেতে বসেছিল মাহবুব। আমার নিজের পারিবারিক অবস্থাও এতোটা ভালোনা যে আমি তাকে সাহায্য করবো। পরে নদীর থেকে টাকা নিয়ে তার পরীক্ষা দেয়ার ব্যাবস্থা করে দেই।

যতোবারই আমরা তাকে সাহায্য করতাম ততোবারই তার চোখের কোণে অশ্রুরেখা দেখতে পেতাম। প্রতিবারই সে বলতো যে,

"দেখিস, আমিও একদিন তোদের অনেক বড় উপকারে আসবো..জীবন দিয়ে হলেও সব ঋণ শোধ করবো"

শত চেষ্টা করেও আমরা তাকে বোঝাতে ব্যর্থ হতাম যে, "প্রকৃত বন্ধুত্বের মাঝে কখনো কোন প্রতিদান পাবার আশা থাকেনা..কোন প্রতিদানে আশা নিয়ে আমরা তাকে সাহায্য করিনি..করেছিলাম হৃদয়ের মাঝে এক অপরিশীম ভালবাসার টানে।"

৫.
ভালবাসার মায়া বড়ই কঠিন। যে একবার এই মায়ায় আটকা পরে যায় তার পক্ষে এই মায়ার জাল ছিড়ে বেড় হয়ে আশাটা খুবই কষ্টসাধ্য হয়ে দাড়ায়।

দিন দিন এমনই এক প্রকার ভালবাসার মায়ায় জড়িয়ে পড়ছিলাম নদী কে ঘিরে। তার সহজ সরল বচনভঙ্গি এবং হৃদয়ের পবিত্রতা আমাকে আকৃষ্ট করতো সবসময়। মন বলতো এই বন্ধুত্বের সম্পর্কটাকে আরো একধাপ এগিয়ে পূর্ণতা প্রদান করতে কিন্তু বিবেক বলতো উল্টো কথা। কারণ নদীর পারিবারিক অবস্থা এবং আমাদের পারিবারিক অবস্থার মধ্যে ছিল বড় ধরণের পার্থক্যের দেয়াল। যে দেয়াল ডিঙ্গিয়ে দুজনের মাঝে ভালবাসার পথ প্রতিষ্ঠা করা কখনোই সম্ভব না।

মাঝে মাঝে নদীর চোখে মুখেও আমার জন্য ভালবাসা ফুটে উঠতো। কথায় কথায় একদিন জিজ্ঞেস করে বসেছিল যে জীবনসঙ্গী হিসেবে আমার কেমন মেয়ে পছন্দ। মনে মনে বলতে ইচ্ছে করছিল যে তোকেই আমার জীবনসঙ্গী করতে চাই। কিন্তু পারিনি বলতে। যা কখনো সম্ভব নয় সেই কথা বলেই বা কি লাভ। তাই দূরত্ব সৃষ্টি করানোর জন্যেই বলেছিলাম,

"আমার কারিনার মতো জিরো ফিগারের বউ চাই।বিয়ের পর যাকে কোলে নিয়ে সারা জীবন আদর করা যাবে"

সেদিন নদী আর একটা কথাও বলেনি। নিশ্চুপে চলে গিয়েছিল আমার সামনে থেকে। পরে জানতে পেরেছিলাম এই ঘটনার পর থেকে নদী নাকি নিয়মিত জিম করেছে। এবং আমার জন্য প্রায় তিন মাসে পাঁচ কেজি ওজনও কমিয়েছিল।

দেখতে দেখতেই ফাইনাল পরীক্ষার শেষ দিনটি চলে আসে। এই কয়েকটা দিন নদীর সাথে কোন ধরণের যোগাযোগই ছিলনা আমার। পরীক্ষা দিয়েই হলে এসে আমার জন্যে আসা একটি চিঠি হাতে ধরিয়ে দিল দারোয়ান। কে দিয়েছে জিজ্ঞেস করতেই বললো যে একটু আগে একটি মেয়ে দিয়ে গেছে। তাড়াতাড়ি রুমে এসে চিঠিটি খুলি আমি। তড়িঘড়িতে চিঠির একটা কোণা ছিড়ে যায়। চিঠি পড়া শুরু করি আমি সাথে সাথেই।


ঈষাম,
কেমন আছিস দোস্ত?? আশা করি অনেক ভালোই আছিস। পরীক্ষার আগে এই কয়েকটা দিন তোর সাথে কথা বলতে পারিনি। তোর কোন খবরও নিতে পারিনি। তোর ফোনও রিসিভ করিনি আমি। হয়তো ভাবছিস আমি তোকে ভুলে গিয়েছি!! তোকে ছাড়া অনেক সুখেই আছি আমি !!

ভাবাটাই স্বাভাবিক..কিন্তু না রে। তোকে ছাড়া একদমই সুখে নেই আমি। যে মানুষটি একজন প্রকৃত বন্ধুর মত চারটি বছর আমাকে আগলে রেখেছিল,আমার সকল সুখ দুঃখে একমাত্র সঙ্গী হয়ে ছিল এবং নিঃসঙ্গতার সাগর থেকে উদ্ধার করেছিল সেই মানুষটির সাথে এতোদিন কথা না বলে কিভাবে সুখে থাকি বল ??

হয়তো ভাবছিস এতোই যখন কষ্ট তোকে ছেড়ে থাকা তাহলে এতো দিন দূরে থাকলাম কেনো..?? কিন্তু কি করবো বল !! তোর কাছে থেকে যে দিন দিন তোর ভালবাসার বাঁধনে জড়িয়ে যাচ্ছি। কিন্তু তোর দ্বারা তো আমাকে ভালবাসা সম্ভব না। তাই তো চলে এলাম তোর থেকে অনেক দূরে,অনেক অনেক দূরে।

আজ রাত ১০ টায় আমার ফ্লাইট। চলে যাচ্ছি আমেরিকাতে বাবার কাছে চিরদিনের জন্য। ভালো থাকিস,অনেক ভালো থাকিস....


শুধু তোরই,
নদী


চিঠিটা পরে কিছুক্ষণের জন্য নিথর হয়ে বসে রইলাম। হঠাত্‍ মাহবুবের ডাকে বাস্তবে ফিরে আসলাম। তার পীড়াপীড়িতে সব খুলে বলতে হলো তাকে। সে আমাকে অনেক বললো গিয়ে নদীকে ফিরিয়ে আনতে। কিন্তু গেলাম না। যার আশা ছেড়ে দিয়েছি তার জন্যে ফিরে যাওয়াটা ঠিক হবেনা। ঐ দিনই গিয়ে রাতের ট্রেনের টিকিট কেঁটে আসলাম বাসায় ফিরে যাবার জন্যে...

৬.
ট্রেনের হুইসেলের শব্দে হঠাত্‍ অতীতের স্মৃতির পাতা থেকে বর্তমানে ফিরে আসলাম। হাতের ঘড়িতে ১২.৫৬ মি. । হাতের সিগারেটের দিকে নজর পরতেই দেখলাম যে সিগারেটটা নিজে নিজেই নিভে গেছে। ট্রেন প্লাটফর্মে থামতেই ধীরে ধীরে ট্রেনে গিয়ে উঠলাম। সাথের মালপত্র সব ভেতরে রেখে ট্রেনের দরজায় এসে দাড়ালাম। মনে মনে শেষবারের মত শহরটাকে বিদায় জানালাম। প্রায় দশ মি. বাদেই ট্রেন চলা শুরু করলো ধীরে ধীরে। কিন্তু কিছুটা দূরেই দেখলাম যে সাদা কি যেন একটা ছুটে আসছে প্লাটফর্ম দিয়ে ট্রেনের সাথে সাথেই কিন্তু ট্রেন থেকেও দ্রুত গতিতে। চারিদিকে এতো কুয়াশা যে ঠিক মতো বোঝতেও পারছিনা যে কি এটা। ক্ষাণিক বাদেই যখন একেবারে আমার কাছাকাছি চলে আসলো তখন তাকে দেখে অবাক না হয়ে পারলামনা। এটা আর কেউ না, স্বয়ং আমার নদী ছুটে আসছে আমার জন্য।

নিজে থেকেই আমার হাতটি বাড়িয়ে দিলাম তার দিকে। যেই নদী ট্রেনের দরজায় পা দিল তেমনি ট্রেনের গতিও বেড়ে গেলো হঠাত্‍।

নদী এখন আমার সামনে দাড়িয়ে অনবরত হাপাচ্ছে এবং আমি অবাক দৃষ্টিতে চেয়ে আছি তার দিকে। হঠাত্‍ তার কথায় সম্ভিত ফিরে পেলাম।

- তুই যে আমাকে ভালোবাসোস এইটা আগে বললি না কেন ??

নদীর চোখে মুখে ক্লান্তি ও রাগের এক অন্যরকম চিত্র ফুটে উঠেছে যার ফলে তার টমাটোর মতো গাল গুলি আরো লাল হয়ে আছে।


- না মানে....আমি...

- ঐ রামছাগল ! না মানে আমি কি ! আগে বললে তো এতো কষ্ট করে দৌড়ে আসতে হতো না আমাকে ।

- ভালোই তো হয়েছে। এইভাবে প্রতিদিন দৌড়ালে ২-৩ মাসে শিওর কারিনার চেয়েও স্লিম হয়ে যাবি।

- কি বললি !

সাথে সাথেই বুকে দুই তিনটা ধড়াম ধড়াম ঘুসি এসে পড়লো। আমিও পরক্ষণেই দুই হাত বাড়িয়ে জড়িয়ে নিলাম আমার নদীকে...

পরে জানতে পারলাম যে মাহবুব এয়ারপোর্টে গিয়ে নদীকে সব বলে দিয়েছে। আমাদের ছোট ছোট সাহায্য গুলোর ঋণ এতো বড় একটা উপকার করে যে শোধ করবে সে তা আমি কল্পনাতেও ভাবিনি।

নদীকে নিয়ে এখন আমি যাচ্ছি বাসার উদ্দেশ্যে। জানি কিছুক্ষণ পরেই আমাকে অনেক গুলি প্রশ্নের সম্মুখিন হতে হবে। কিন্তু তবুও আজ আমি পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানুষ। সব ধরণের পরিস্থিতির সম্মুখিন হতে পারবো আমি যদি ভালবাসার মানুষটি পাশে থাকে.....
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই মে, ২০১২ রাত ১:৩৭
৪০টি মন্তব্য ৪১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাখি মন

লিখেছেন সামিয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:১০



রাত গভীর হলে পাখিটা বারান্দায় এসে বসে। দূরের আকাশে তখনও কিছু আলো জ্বলজ্বল করে, কিন্তু পৃথিবীর কোলাহল ধীরে ধীরে স্তব্ধ হয়ে আসে। সেই নীরবতার মধ্যে বসে পাখিটার মনে হয়, মানুষ... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র - ভ্রাম্যমান লাইব্রেরী ভাবনা

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:৪৬


শ্রদ্ধেয় আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যাররে হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র তার জন্মলগ্ন ১৯৭৮ সাল থেকে অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছে। আমার মনে পড়ে, আমি স্কুলে পড়াকালীন সময়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে স্কুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৫



যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×