somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

ফকির ইলিয়াস
আলোর আয়না এই ব্লগের সকল মৌলিক লেখার স্বত্ত্ব লেখকের।এখান থেকে কোনো লেখা লেখকের অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ, ছাপা, অনুলিপি করা গ্রহনযোগ্য নয়।লেখা অন্য কোথাও প্রকাশ, ছাপা করতে চাইলে লেখকের সম্মতি নিতে হবে। লেখকের ইমেল - [email protected]

অপ্রধান লেখকদের ভূমিকা এবং নিয়তি / সৈয়দ আবুল মকসুদ

১৪ ই জুন, ২০০৮ সকাল ৯:১৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সাহিত্য বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ লেখা। কালের বিবেচনায় ভাবনাগুলো কে
শেয়ার করার জন্য এখানে তুলে রাখলাম।

--------------------------------------------------------------------------------
অপ্রধান লেখকদের ভূমিকা এবং নিয়তি
সৈয়দ আবুল মকসুদ

=====================================
কোন সাহিত্যের অপ্রধান লেখকদের নিয়তি বিশেষ সুখকর নয় : মানুষ তাদের ভুলে যায়। দীর্ঘায়ু হলে জীবনের শেষ দিকে তারা আর সমাদর পান না। পাঠক তো বটেই, সাহিত্যের ইতিহাস রচয়িতারাও তাদের এক সময় বর্জন করেন। কিন্তু আমাদের সাহিত্যের স্বার্থে অপ্রধান লেখকদের উৎকৃষ্ট সাহিত্যকর্মের মূল্যায়ন হওয়া প্রয়োজন
সঙ্গীত হোক, সাহিত্য হোক, বিজ্ঞান হোক, শিল্পকলা হোক, যে কোন সৃষ্টিশীল ক্ষেত্রেই যার যার কাজ বা ভূমিকার ওপর তার স্থান নির্ধারিত হয়ে থাকে। গুণ বিচারে যার কাজ তুলনাহীন তার স্থান শীর্ষে। তা ছাড়াও অসামান্য অবদান যাদের, বড় বড় আসনগুলোও তারাই যে পাবেন তা অবধারিত। মধ্যম ও ছোট ভূমিকা যাদের তাদের জায়গাও যথাস্থানেই হবে, সেটাই জগতের নিয়ম।
কোন সাহিত্যে অপ্রধান বা গৌণ কবি-সাহিত্যিকদের ভূমিকাও খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সম্মিলিতভাবে তারা একটি বিরাট ভূমিকা পালন করেন, কিন্তু তাদের সৃষ্টিকর্মের আবেদন অল্পকাল পরেই থাকে না। সমকালের দাবি তারা খুব ভালোই পূরণ করেন, কিন্তু কালোত্তীর্ণ হতে পারেন না। তারা চিরকালের নন শুধু সমকালের।
কোন কবি-সাহিত্যিক গৌণ হন দুই কারণে : ভালো লিখেও খুব কম লেখেন বলে প্রধানদের পঙ্ক্তিতে তার স্থান হয় না। পৃথিবীতে শুধু গুণ নয়, পরিমাণেরও একটি মূল্য রয়েছে। দ্বিতীয়ত, কেউ প্রচুর লিখে সমকালে প্রচুর খ্যাতি পান, কিন্তু লেখার মান ততো উঁচু নয় অথবা রচনার কোন বৈশিষ্ট্য বা মৌলিকতা নেই। প্রধানদের তালিকায় তাদের নাম ওঠে না।
কোন সাহিত্যের অপ্রধান বা গৌণ লেখকদের নিয়তি বিশেষ সুখকর নয় : একদিন মানুষ তাদের ভুলে যায়। দীর্ঘায়ু হলে জীবনের শেষ দিকে তারা আর সমাদর পান না। আবার কেউ বা অনেকদিন স্মরণীয় হন, তাদের রচনাও পঠিত হয় বহু দিন। কিন্তু তারপরও পাঠক তো বটেই, সাহিত্যের ইতিহাস রচয়িতারাও তাদের এক সময় বর্জন করেন। তারা আর কারও আলোচনা-গবেষণার বিষয়বস্তু বলে গণ্য হন না। বাংলা সাহিত্যে এমন অপ্রধান লেখকের সংখ্যা প্রচুর। কারও কারও কোনও কোনও লেখা খুবই চমৎকার। তাদের উৎকৃষ্ট রচনাও ক্লাসিক সাহিত্যের মর্যাদা পাবে না বটে, কিন্তু টিকে থাকবে বেশ কিছুদিন।
তবে নিকৃষ্ট আর গৌণকে গুলিয়ে ফেললে চলবে না। তারা এক জিনিস নন। নিকৃষ্টদের বর্জিত হওয়াই নিয়তি, উপেক্ষাই তাদের প্রাপ্য। কিন্তু অপ্রধানরা তা নন। তারা বর্জনীয় নন, ধীরে ধীরে আড়াল হয়ে যাওয়াই তাদের ভাগ্যলিখন। কেউ জোর করে তাদের অবহেলা করে না, তবে তারা স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় ধীরে ধীরে বিস্মৃতির দিকে চলে যান। পুরনো বইয়ের সেলফে তাদের উপস্থিতি সত্ত্বেও, কোন প্রকাশক তাদের রচনা পুনর্মুদ্রণ করা সত্ত্বেও, পাঠক তাদের প্রতি আকৃষ্ট হন না।
অপ্রধান লেখকরাও অনেক সময় বরং অপ্রধান লেখকরাই বেশিরভাগ সময় অসামান্য খ্যাতি অর্জন করেন। তাদের বই বিক্রি হয় গরম সিঙ্গাড়া বা চানাচুরের মতো। সাধারণ পাঠকরা তাদের বই চুটিয়ে কেনেন। বই বিক্রি করে তারা কেউ বিরাট বিত্তের অধিকারী হন। কিন্তু সাহিত্যের স্থায়ী ইতিহাসে তাদের স্থান হয় না।
দু’রকমের অপ্রধান লেখক আছেন, কেউ সধলড়ৎ সরহড়ৎ অর্থাৎ প্রধানদের মধ্যে অপ্রধান বা গৌণ; এবং সরহড়ৎ সধলড়ৎ বা অপ্রধানদের মধ্যে প্রধান। কখনও কখনও এই দুই দলের পার্থক্য করা বেশ কঠিন। তবে আমার বিবেচনায় প্রধানদের মধ্যে যিনি গৌণ তার মর্যাদা বেশি। তাকে ইতিহাস অনেক বেশিদিন স্মরণ করে। বড়দের প্রসঙ্গ উঠলে তার নামটিও আসে।
পঞ্চাশের শেষ এবং ষাটের দশকে যেসব লেখকের লেখা দেখলে আমরা হুমড়ি খেয়ে পড়তাম, এখনকার পাঠকরা তাদের বিশেষ স্পর্শ করেন না। বিমল মিত্রের ‘সাহেব বিবি গোলাম’, ‘কড়ি দিয়ে কিনলাম’ প্রভৃতি একটানা পড়তে গিয়ে আমার চোখই নষ্ট করে ফেলেছিলাম। গজেন্দ্র কুমার মিত্রের ‘কলকাতার কাছেই’ পড়েননি সেকালে এমন পাঠক খুব কমই ছিলেন। জরাসন্ধের ‘লৌহ-কপাট’, ‘পাড়ি’, ‘ন্যায়দণ্ড’ প্রভৃতির এক রকম স্বাদ, অন্যদিকে অবধূতের ‘মরুতীর্থ হিংলাজ’, ‘নীলকণ্ঠ হিমালয়’, ‘ভোরের গোধূলি’ প্রভৃতির স্বাদ অন্যরকম।
প্রধান লেখকদের প্রায় সমপর্যায়ের ছিলেন নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়, প্রমথনাথ বিশী, নরেন্দ্রনাথ মিত্র, বিমল কর, সৌধান্ত্র মোহন মুখোপাধ্যায়, মনোজ বসু প্রমুখ। নারী লেখক ছিলেন অনেকেই। তাদের মধ্যে অনুরুপা দেবী, নিরূপমা দেবী, আশা দেবী প্রমুখ অত্যন্ত খ্যাতিমান ছিলেন। লেখিকা হিসেবে এবং বুদ্ধদেব বসুর পত্নী হিসেবে প্রতিভা বসুর খ্যাতি ছিল। কলকাতার হিন্দু মধ্যবিত্তের জীবনের নানা চিত্র তাদের লেখায় ভালোই আঁকা হয়েছে।
সেকালে বাংলা সাহিত্যে অনেক বিশিষ্ট অপ্রধান লেখক ছদ্মনামে লিখতেন। তেমন লেখকদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য যাযাবর, জরাসন্ধ, অবধূত, বেদুইন, উত্তম পুরুষ, দিব্যদর্শী, শঙ্কর, কনিষ্ক, রূপদর্শী, শ্রীপান্থ, শঙ্কু মহারাজ, বহুরূপী, নীলকণ্ঠ, নিশাচর, কালকূট, দ্বৈপায়ন, শ্রীপারাবত প্রমুখ। যাযাবরের ‘দৃষ্টিপাত’ সেকালের নব্য যুবক-যুবতীদের অনেকটা মুখস্থ ছিল, আজ বিশেষ কেউ পড়ে না। শক্তিপদ রাজগুরু, রমাপদ চৌধুরী খুবই জনপ্রিয় লেখক ছিলেন। রাশি রাশি গল্প-উপন্যাস লিখেছেন। শক্তিপদ রাজগুরুর ‘মণি বেগম’-এ আরবি-ফারসি শব্দের চমৎকার ব্যবহার দেখা যায়। তার ‘শাল পিয়ালের বন’, ‘কাজল গাঁয়ের কাহিনী’, ‘কুমারী মন’, ‘জনম অবধি’, ‘মেঘে ঢাকা তারা’ প্রভৃতি একসময় পাঠকপ্রিয় ছিল। রমাপদ চৌধুরীর ‘অরণ্য আদিম’, ‘দ্বীপের নাম টিয়া রঙ’, ‘দুটি চোখ দুটি মন’, ‘বন পলাশীর পদাবলী’ প্রভৃতি একনিঃশ্বাসে পড়ার মতো বই।
নীহার রঞ্জন গুপ্তের রহস্য-উপন্যাসগুলো এখনকার পাঠকদের আনন্দ দেয় না। কিন্তু সেকালে ঘরে ঘরে পঠিত হতো তার ‘কালো ভ্রমর’ (চার খণ্ড), ‘উত্তর ফাল্গ-নী’, ‘কলঙ্কিনী কঙ্কাবতী’, ‘রাতের রজনীগন্ধা’, ‘কিরীটী অমনিবাস’, ‘হাসপাতাল’, ‘কোমল গান্ধার’ প্রভৃতি। শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের আজ হয়তো কোন পাঠকই নেই। কত যে রহস্যকাহিনী লিখেছেন তিনি, খ্যাতি ছিল অসামান্য। পাঠক নেই আজ আশুতোষ মুখোপাধ্যায়, সঞ্জয় ভট্টাচার্য, স্বরাজ বন্দ্যোপাধ্যায়, হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়, জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী, পরিমল গোস্বামী, সন্তোষ কুমার ঘোষ, কৃষাণু বন্দ্যোপাধ্যায়, সুশীল জানা, অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়, শচীন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, সুধীরঞ্জন মুখোপাধ্যায়, নারায়ণ সান্যাল, চিত্তরঞ্জন মাইতি প্রমুখ লেখকের।
ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়ের উপন্যাস ‘মেঘমেদুর’, ‘সন্ধ্যারাগ’, ‘ভাগিরথী বহে ধীরে’, ‘নরবিগ্রহ’ প্রভৃতি মানুষের হাতে হাতে ঘুরতো। নিমাই ভট্টাচার্য্যরে উপন্যাস আমরা না পড়লেও তার পাঠক ছিল বিপুল। তার ‘আকাশ ভরা সূর্যতারা’, ‘ডিপ্লোম্যাট’, ‘কেয়ার অব ইন্ডিয়ান এমবেসী’, ‘ব্যাচেলার’ প্রভৃতি কত সংস্করণ হয়েছে তার ঠিক নেই।
পাঠকের ও প্রতিষ্ঠানের আনুকূল্য গৌণ লেখকরাই খুব বেশি পান। বিশেষ করে পূর্ববঙ্গের সমাজে। উপন্যাসে প্রথম যিনি বাংলা একাডেমী পুরস্কার পান তার নাম এখন কেউ জানে না : আবুল হাসেম খান। নিশ্চয়ই সেকালে তার কিছু খ্যাতি ও বন্ধু ছিল। বহু গৌণ ও সামান্য লেখক পেয়েছেন বাংলা একাডেমী পুরস্কার, যেমন মবিন উদ্দিন আহমদ, কাজী আফসার উদ্দিন মাহমুদ, মাহমুদা খাতুন সিদ্দিকা, আনিস চৌধুরী, শাম্স রশীদ, আ ন ম বজলুর রশীদ, সরদার জয়েনুদ্দিন, ইব্রাহিম খলিল, লায়লা সামাদ, আবদুর রশীদ, শহীদ আখন্দ প্রমুখ। রচনার মান নয়, অনেক দিন ধরে গল্প-উপন্যাস লিখছেন বলেই তাদের পুরস্কার দেয়া হয়।
নিম্ন মধ্যবিত্ত বাঙালি মুসলমান সমাজ নিয়ে কাজী আবুল হোসেন বহু উপন্যাস লিখেছেন পঞ্চাশের দশকে। এখন তা কেউ ছুঁয়েও দেখবে না। সিলেটের সৈয়দ শাহাদৎ হোসেন সেকালে ভালো উপন্যাস লিখতেন। আজ মানুষ তাকে ভুলে গেছে। আর একজন কথাশিল্পী ছিলেন হামিদ আলী। মোটের ওপর ভালোই লিখতেন। কবি শাহাদৎ হোসেনকেও আজ ভুলে গেছে পাঠক। তার লেখার কোন আবেদন নেই।
মহিলাদের মধ্যে পঞ্চাশ ও ষাটের দশকে জাহানারা হাকিম, জোবেদা খানম, সৈয়দ লুৎফুন্নেসা, লায়লা সামাদ প্রমুখ খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। রোমেনা আফাজ আজীবন সাহিত্যচর্চা করেছেন। চেষ্টা করেছেন গল্প-উপন্যাসে তার পরিচিত জীবন তুলে ধরতে।
বন্দে আলী মিয়া শিশু-কিশোরদের জন্য খুব মন্দ লেখেননি। তার নাম থাকবে আরও বহুদিন। মহিউদ্দীনের কবিতা-উপন্যাস কেউ পড়ে না। তিনি প্রগতিশীল লেখক ছিলেন, শ্রমজীবী মানুষের পক্ষে লিখেছেন। আজ তিনিও বিস্মৃত। অনেক লেখালেখি করলেও একমাত্র ‘জিব্রাইলের ডানা’র জন্য শাহেদ আলী এখনও পরিচিত। আবু জাফর শামসুদ্দিন চেষ্টা করেছেন পূর্ববাংলার মানুষের কাহিনী লেখার। তার ‘ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান’ বা ‘পদ্মা মেঘনা যমুনা’ শিল্প হিসেবে মূল্যবান নয়। আকবর উদ্দিন নাটক ইত্যাদি লিখেছেন। আকবর হোসেন একশ্রেণীর পাঠকের কাছে ষাটের দশকে জনপ্রিয় ছিলেন। তার ‘অবাঞ্ছিত’, ‘কী পাইনি’, ‘মোহমুক্তি’ প্রচুর বিক্রি হয়েছে। দৌলতন্নেসা খাতুন বা রাজিয়া মাহবুবের নামও আমরা স্মরণ করতে পারি। ‘কন্যাকুমারী’ লিখে আবদুর রাজ্জাক পুরস্কৃত হয়ে হারিয়ে যান।
একটি সময় দস্যু বাহরাম সিরিজ তরুণদের মধ্যে জনপ্রিয় ছিল। তার লেখক যে আবুল কাশেম তা অনেকেই জানেন না। স্বপন কুমারের রহস্যকাহিনী আমাদের শৈশবে অসামান্য জনপ্রিয় ছিল। কাজী আনোয়ার হোসেন বহু রহস্য-উপন্যাসের স্রষ্টা, সাহিত্যের ইতিহাসে তার নাম থাকা উচিত।
নীতি, আদর্শ ও অকাল মৃত্যুর কারণে অনেকে অনেকদিন স্মরণীয় হয়ে থাকেন। যেমন সোমেন চন্দ। অদ্বৈত মল্লবর্মণও অকাল প্রয়াত। তবে তার ‘তিতাস একটি নদীর নাম’ অসামান্য দলিল, যা বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে চিরকাল টিকে থাকবে। অমরেন্দ্র ঘোষ বহু গল্প-উপন্যাস লিখেছেন, কিন্তু তার ‘চর কাসেম’ চমৎকার কাজ। দেশভাগের পরে তিনি পশ্চিমবঙ্গে চলে যান।
বাংলা সাহিত্যে অপ্রধান কবি-লেখক অগণিত। তাদের কাজের পরিমাণ বিপুল এবং যার অধিকাংশই অপাঠ্য। রবীন্দ্রনাথের ভাষা ধার করে বলতে পারি, নদীর পনের আনা পানি কাজে লাগে না বটে, কিন্তু নদীতে পনের আনা পানি না থাকলে ওই এক আনাও ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে যায়। সেজন্যই অপ্রয়োজনীয় পনের আনার অতি প্রয়োজন। বাংলা সাহিত্য প্রাণবš- রেখেছেন অপ্রধান ও গৌণ লেখকরাই। বাংলা সাহিত্য যদি বিরাট এক বৃক্ষ হয়ে থাকে তাহলে তার মূল কাণ্ড ও বড় বড় শাখাগুলো হল তার প্রধান লেখকরা মধুসূদন, বঙ্কিমচন্দ্র, রবীন্দ্রনাথ, নজরুল প্রমুখ অপ্রধান লেখকরা তার মাঝারি ও ছোট ছোট ডালপালা। বৃক্ষটি জীবন্ত ও ফলবান কিনা তা তার ডালপালা দেখেই বোঝা যায়।

প্রধান লেখকদের সামান্য কাজেরও আমরা মূল্য দিই, অন্যদিকে অপ্রধান লেখকদের অসামান্য কাজকেও করি অবহেলা। বাংলা সাহিত্যের বহু গৌণ লেখকের অসামান্য ও মূল্যবান কাজ রয়েছে। কোন কোন অপ্রধান লেখকের অনেক নগণ্য কাজের ভিড়েও অত্য মূল্যবান সাহিত্যকর্মও রয়েছে দু-একটি। গত ১০০ বছরে প্রণীত তেমন গ্রন্থের সংখ্যা প্রচুর। সেগুলো পাঠকের চোখের আড়ালে থাকা সাহিত্যের জন্য ক্ষতিকর। সেই সব সাহিত্যকর্মকে ঘর্মাক্ত করা সমালোচকদের দায়িত্ব। আমাদের সাহিত্যের স্বার্থে অপ্রধান লেখকদের উৎকৃষ্ট সাহিত্যকর্মের উপযুক্ত মূল্যায়ন হওয়া প্রয়োজন।
-------------------------------------------------------------------------------
দৈনিক যুগান্তর।সাহিত্য সাময়িকী। ১৩ জুন ২০০৮ শুক্রবার





























সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই জুন, ২০০৮ সকাল ৯:১৭
৬টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আজকাল

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৭ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:৫১



আজকাল আমার মনে হয় -
আমাকে কেউ পছন্দ করে না,
কারো কাছে গেলে, সে বিরক্ত হয়।
পোশাক অগোছালো, এলোমেলো চুল,
চোখের দৃষ্টি কেমন ঘোলাটে!
বীরত্ব দেখানোর কিছু নেই।
চতুর পুরুষ স্ত্রীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে ৯টি বছরঃ একজন লিলিপুটিয়ান থেকে সত্যিকার ব্লগার হয়ে উঠার গল্প

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:২৮

আজ আমার ৩য় বইয়ের জন্য চুক্তি করতে প্রকাশক আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। প্রকাশনা সংস্থা 'উত্তরণ'-এর মাসুদ ভাইয়ের বাংলাবাজারের অফিসে ঘণ্টাখানেক ছিলাম। তাঁর সাথে কথা বলতে বলতেই আমার মনে একটি বোধোদয় আসে! আমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×