somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

ফকির ইলিয়াস
আলোর আয়না এই ব্লগের সকল মৌলিক লেখার স্বত্ত্ব লেখকের।এখান থেকে কোনো লেখা লেখকের অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ, ছাপা, অনুলিপি করা গ্রহনযোগ্য নয়।লেখা অন্য কোথাও প্রকাশ, ছাপা করতে চাইলে লেখকের সম্মতি নিতে হবে। লেখকের ইমেল - [email protected]

একজন সাবেক প্রধান বিচারপতির নসিহত / আসিফ আহমদ

১৩ ই জুলাই, ২০০৮ রাত ৩:২৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

একটি চমৎকার লেখা। মুখোশ ঝরে পড়ছে অনেক ভন্ড ব্যক্তিত্বের। আমরা
সত্যের সন্ধানে এগিয়ে যাবোই।

----------------------------------------------------------------------------------
একজন সাবেক প্রধান বিচারপতির নসিহত
আসিফ আহমদ

--------------------------------------------------------------------------------
বিচারপতিগণ অবসরে গেলে ব্রাকেটে অব. হন না। তাদের বিচার-বিশেষণ ক্ষমতা আয়ু যতদিন ততদিন থাকে বলেই হয়তো ধরে নেওয়া হয়। একাত্তরে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী যাতে বাঙালি নিধনযজ্ঞ আরো নিপুণভাবে চালাতে পারে সেজন্য রাজাকার ও আলবদর বাহিনী গঠনের জন্য ইয়াহিয়া খানকে বুদ্ধি দিয়েছিলেন জামায়াতে ইসলামীর প্রাদেশিক আমির গোলাম আযম। ১৯৭১ সালের ২১ জুন জামায়াতে ইসলামীর পত্রিকা দৈনিক সংগ্রামে লেখা হয় : ‘পূর্ব পাকিস্তান জামায়াতে ইসলামীর আমির প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে দুষ্কৃতকারীদের মোকাবেলার জন্য দেশের আদর্শ ও সংহতিতে বিশ্বাসী লোকদের হাতে অস্ত্র সরবরাহ করার আহ্বান জানিয়েছেন।’ এর পরদিন সংগ্রামের সম্পাদকীয়তে লেখা হয় : ‘দেশপ্রেমিকদের অস্ত্রসজ্জিত করা হলে অল্প সময়েই দুষ্কৃকারীদের উচ্ছেদ করা সম্ভব হবে।’ গোলাম আযমের পরামর্শে জামায়াতে ইসলামী এবং তাদের ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রসংঘের (এর নেতা ছিলেন মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মুজাহিদ, কামরুজ্জামান) নেতা-কর্মীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে অস্ত্রসজ্জিত করেছিল পাকিস্তান সেনাবাহিনী। তারা বাংলাদেশ জুড়ে তৎপরও ছিল। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। মুক্তিযোদ্ধাদের উচ্ছেদও করতে পারেনি। কিন্তু বাঙালি জাতির দুর্ভাগ্য, এ অপশক্তি ফের সত্রিক্রয় হয়ে উঠেছে। এমনকি তারা মুক্তিযোদ্ধাদের নামে সমাবেশ ডেকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিনাশের জন্য বক্তব্য দেওয়ারও দুঃসাহস দেখায়। শুত্রক্রবার ঢাকায় তাদের এ ধরনের একটি সমাবেশে বক্তব্য দিয়েছেন একজন সাবেক প্রধান বিচারপতি। তার মনে হয়েছে, একাত্তরের গণহত্যায় হানাদার বাহিনীকে যারা সহযোগিতা করেছে তাদের সেই অপরাধ এখন আর তুলে ধরার দরকার নেই। গোলাম আযম ও মতিউর রহমান নিজামীর মতো যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের কাঠগড়ায় তোলার দাবি তোলাও অযৌক্তিক। কারণ এতে দেশ গড়ার কাজ ব্যাহত হবে। বাহ! কী চমৎকার যুক্তি! কেউ একজন খুন করল। তাকে আসামির কাঠগড়ায় তুলতে অনেক দেরি হয়ে গেল। তারপর খুনির পক্ষের আইনজীবী যুক্তি দেখালেন, অনেকদিন আগের ঘটনা বিচারের কোনো অর্থ নেই। বিচারে তার দন্ড হলে তার সন্তানরা এতিম হবে। তিনি যে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছেন তার কর্মচারীরা বেকার হয়ে যাবে। তাদের তরুণী স্ত্রীরা এ অবস্থায় এমনকি পতিতা হয়েও যেতে পারে। তারা সল্পব্দ্যায় খদ্দের ধরতে রাস্তায় নেমে পড়বে। তাতে এমনকি মাননীয় বিচারপতি আপনি যখন ওই সময়ে রাস্তায় বের হবেন আপনার গাড়িতেও তারা উঠে পড়ার চেষ্টা করতে পারে। অতএব, এ অবস্থায় আপনিই বলুন, এ মামলা কি চালানো উচিত? একজন সাবেক প্রধান বিচারপতি জামায়াতে ইসলামীর মতো দলের একাত্তরের অপরাধ যেভাবে ঢাকতে চেয়েছেন তাতে মুক্তিযোদ্ধা শুধু নয়, প্রতিটি বাঙালির শংকিত হওয়ার কারণ রয়েছে। একাত্তর ভুলে গেলে বাঙালির কিছু থাকে না। আমাদের মর্যাদা ও গর্বের ওই সংগ্রাম ভুলে গেলে মাথা উঁচু করে চলার উপায় থাকে না। স্বাবলম্বী হওয়ার লক্ষ্য পূরণের সম্ভাবনা থাকে না। ওই অপশক্তির পক্ষে যারা নসিহত করে তারা এটাই চায়। এ কারণেই একাত্তরের ঘাতকদের পক্ষে আস্ফালনকারী অপশক্তি কে কোথায় লুকিয়ে আছে তার অনুসন্ধান দরকার। বিচার বিভাগ, প্রশাসন, আইন-শৃংখলা বাহিনীসহ কোথাও বাঙালি জাতির গৌরবের দিনগুলোতে যারা শত্র“র পক্ষে ছিল তাদের সমর্থক কারো অবস্থান গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। এ লক্ষ্য অর্জনের জন্য মুক্তিযোদ্ধাদের, একাত্তরের চেতনার ধারকদের ঐক্যবদ্ধ হওয়া সময়ের দাবি। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবির পাশাপাশি এ বিষয়টিও তাদের সমান মনোযোগ দাবি করে। ‘বিচারপতি, তোমার বিচার করবে যারা আজ জেগেছে এই জনতা...’ এ গান একাত্তরের প্রেক্ষাপট সৃষ্টিতে অবদান রেখেছিল। এ জনতা আজও বাঙালির ভরসা ও সাহসের উৎস। তারা জেগে উঠলে কারো নসিহত একাত্তরের ঘাতক ও তাদের দোসরদের রক্ষা করতে পারবে না।
---------------------------------------------------------------------------------
দৈনিক সমকাল । ১৩ জুলাই ২০০৮ প্রকাশিত
১৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আজকাল

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৭ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:৫১



আজকাল আমার মনে হয় -
আমাকে কেউ পছন্দ করে না,
কারো কাছে গেলে, সে বিরক্ত হয়।
পোশাক অগোছালো, এলোমেলো চুল,
চোখের দৃষ্টি কেমন ঘোলাটে!
বীরত্ব দেখানোর কিছু নেই।
চতুর পুরুষ স্ত্রীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে ৯টি বছরঃ একজন লিলিপুটিয়ান থেকে সত্যিকার ব্লগার হয়ে উঠার গল্প

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:২৮

আজ আমার ৩য় বইয়ের জন্য চুক্তি করতে প্রকাশক আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। প্রকাশনা সংস্থা 'উত্তরণ'-এর মাসুদ ভাইয়ের বাংলাবাজারের অফিসে ঘণ্টাখানেক ছিলাম। তাঁর সাথে কথা বলতে বলতেই আমার মনে একটি বোধোদয় আসে! আমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×