আমার প্রিয় পোস্ট
- "একটি FB স্ট্যাটাস, কিছু মন্তব্য এবং চ্যানেল আই" - শ খি আ ঈয়ন
- হরফের জলসৌধ - ফকির ইলিয়াস
- মেঘলা মাঘের মুখ - ফকির ইলিয়াস
- সামাজিক সামন্তবাদের দস্যুতা - ফকির ইলিয়াস
- ছবিগুলা কী খারাপ হইলো ? - ফকির ইলিয়াস
- যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে উত্তাল হওয়া সেই দিনগুলির কথা - পথে প্রান্তরে
- মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিঃ আমাকে আঁকড়ে ধরেছিলেন আমার মা - ফকির ইলিয়াস
- দ্বিতীয় বিপ্লব বা বাকশাল : শুনুন বঙ্গবন্ধূর মুখেই - অমি রহমান পিয়াল
- আত্মজীবনীর রঙিন পৃষ্টা - আবু মকসুদ
- কম্পমান পৃথিবীর ছায়া - ফকির ইলিয়াস
- অন্তঃশীল - তমিজ উদ্দীন লোদী
- কথার স্বরবীজ - ফকির ইলিয়াস
- সাহায্য চাই : মন্তব্যের সাথে ছবি যোগ করা যায় কিভাবে ? - ফকির ইলিয়াস
- নেমে যাও শোকপাথর - ফকির ইলিয়াস
- দেশপ্রেমিক ধনিক শ্রেণী ও দরিদ্রতম মুক্তিযোদ্ধারা - ফকির ইলিয়াস
- আলোর জন্য মানুষের তৃষ্ণা - ফকির ইলিয়াস
- বিক্রীত জীবন ও সভ্যতার বিন্যস্ত নখর - ফকির ইলিয়াস
মহান মুক্তিযুদ্ধ ও মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী / রনেশ মৈত্র
০২ রা নভেম্বর, ২০০৮ সকাল ৯:০৫
একটা খুব দরকারি লেখা । তাই এখানে শেয়ার করলাম।
*******************************************************
মহান মুক্তিযুদ্ধ ও মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী
রণেশ মৈত্র
-----------------------------------------------------------------------
যুদ্ধাপরাধী ও কুখ্যাত জামায়াতে ইসলামীর বর্তমান আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী দিব্যি স্বাধীনভাবে আবারও ওমরা হজ পালন করতে (নাকি সৌদি সরকারের সঙ্গে গোপন পরামর্শ করতে) পুনরায় সৌদি আরব গেছেন। নিবটি যেদিন ছাপা হবে ততদিনে হয়তো ওই কুখ্যাত হুজুরটি দেশে ফিরে আসবেন এবং বহালতবিয়তে তার বাসভবনে অথবা তার কার্যালয়ে নানা আয়োজনের মাধ্যমে পিত্তি জ্বালানো নানা বক্তব্য উপস্খিত করবেন একটি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে। এই মহান ব্যক্তিটির বিরুদ্ধে, বিস্ময়কর ব্যাপারই বটে, আজতক কোন সরকারই বিন্দুমাত্র গায়ে আঁচড়ও লাগতে দিলেন না। উল্টো মন্ত্রিত্বের গদিতেও সাদরে বসিয়েছিলেন মুক্তিযুদ্ধেরই একজন প্রয়াত সেক্টর কমান্ডারের পত্নী, যার দুর্নীতি আজ সারা দুনিয়ার মানুষই জানতে পেরেছেন।
তাই ১৯৭১ সালে তার কৃতকর্মের যৎসামান্য ইতিকথা এই নিবরে মাধ্যমে তুলে ধরার চেষ্টা করছি।
সংক্ষেপে তার পারিবারিক পরিচয়টি সর্বাগ্রে তুলে ধরছি। জনৈক খোন্দকার লুৎফর রহমানের একটি সন্তান এই মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী। তার জন্মস্খান হলো গ্রাম-মন্মথপুর, সোনাতলা, পো : বেড়া, থানা : সাঁথিয়া, জেলা : পাবনা। বর্তমানে তিনি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে কীর্তিকলাপের কল্যাণে বাঙালি জাতির সর্বাধিক ও ভীতিকর শত্রু জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির, যার বিরুদ্ধে আজও আদালতে দুর্নীতির মোকদ্দমা বিচারাধীন।
১৯৭১ সালে আমাদের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে জামায়াতের এই নেতা বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের বিরুদ্ধে তার যাবতীয় কর্মকাণ্ড অত্যন্ত উৎসাহের, উদ্যমের ও নিষ্ঠার সঙ্গেই পরিচালনা করেন পাকিস্তানি শত্রু বাহিনীর সহায়তায়। মুক্তিযুদ্ধের সময় জামায়াতে ইসলামীর ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্র সংঘের, বর্তমানে যার নাম (ইসলামী ছাত্রশিবির, বাংলাদেশ) কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ছিলেন তিনি। তার প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে মুক্তিযুদ্ধকে প্রতিহত এবং মুক্তিযোদ্ধাদের নিমর্ল করার জন্য আলবদর বাহিনী নামে এক ভয়াল সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তোলেন তৎকালীন পর্ব পাকিস্তানের ক্ষমতাসীন সরকারের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায়। এই আলবদর বাহিনীরও প্রধান ছিলেন আর কেউ নন নিজামী নামক মাওলানা সাহেবই। তার এই বদর বাহিনীর ঘোষিত উদ্দেশ্য ছিল পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক দৃষ্টিকোণ থেকে স্বাধীনতা যুদ্ধরত বাঙালি জনগোষ্ঠীকে পাকিস্তানি তথা জামায়াতি ব্যাখ্যা মোতাবেক ‘ইসলামী’ জীবনাদর্শে বিশ্বাসী জনগোষ্ঠীতে রূপান্তরিত করা। আলবদর বাহিনীর নেতারা বুদ্ধিজীবী হত্যার নীলনকশা প্রণয়ন করে এবং তাদেরই নির্দেশে মাওলানা নিজামীর প্রত্যক্ষ এবং অপ্রত্যক্ষ পরিচালনাধীনে ১৯৭১ এর ডিসেম্বরে, মুক্তিযুদ্ধে বাঙালি জাতির আনুষ্ঠানিক বিজয় অর্জনের প্রাক মুহর্তে ঢাকাসহ সারাদেশে শত শত বরেণ্য, দেশপ্রেমিক ও প্রগতিশীল বুদ্ধিজীবীকে নির্মমভাবে হত্যা করে। নিজামীর বাহিনীর হাতে নির্মমভাবে বাঙালি বুদ্ধিজীবীদের হত্যার লোমহর্ষক কাহিনী আজতক বাংলাদেশের তাবৎ সংবাদপত্রে ছবি-জীবনীসহ বিস্তারিতভাবে প্রকাশিত হয়ে আসছে।
১৯৭১ সালের ডিসেম্বরের প্রথম দিকে অথবা নভেম্বরের শেষ দিকে ঢাকার আলিয়া মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে (আলবদর বাহিনীর প্রধান ক্যাম্প) ইসলামী ছাত্র সংঘ আয়োজিত এক চা-চক্রে প্রধান অতিথির ভাষণে মতিউর রহমান নিজামী নির্লজ্জের মতো বলেছিলেন, ‘সশস্ত্র ভারতীয় অনুপ্রবেশকারী ও তাদের এ দেশীয় বিশ্বস্ত দালালরা (?) যে সন্ত্রাসী তৎপরতা চালাচ্ছে একমাত্র পর্ব পাকিস্তানের যুবকরাই তাদের কার্যকরভাবে মোকাবেলা করতে সক্ষম। ‘যারা ইসলামকে ভালবাসে শুধু তারাই পাকিস্তানকে ভালবাসে’ এবারের উদ্ঘাটিত এ সত্যটি যাতে আমাদের রাজনৈতিক বুদ্ধিজীবীরা ভুলে যেতে না পারেন সেজন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাতে হবে। এরপর পরই নির্মমভাবে বাঙালি দেশপ্রেমিক বুদ্ধিজীবীদের নির্মমভাবে হত্যা করে তাদের সে পরিকল্পনাকে অত্যন্ত নিপুণভাবেই সক্ষম হয়েছিল।
জামায়াতে ইসলামীর দৈনিক সংগ্রামের ১৪ নভেম্বরে প্রকাশিত সংখ্যাটিতে মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর লেখা একটি নিবে বলা হয়েছিল, ‘আমাদের পরম সৌভাগ্যই বলতে হবে, দেশপ্রেমিক পাক-বাহিনীর সহযোগিতায় এ দেশের ইসলামপ্রিয় অসম সাহসী তরুণ সমাজ বদর যুদ্ধের স্মৃতিকে অবলম্বন করে পাকিস্তানের সশস্ত্র সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় হিন্দু বাহিনীকে পরাভত করে আলবদর বাহিনী গঠন করেছে। সেদিন আর খুব দরে নয় যে যৌথভাবে তারা হিন্দু-বাহিনীকে পর্যুদস্ত করে হিন্দুস্তানের অস্তিত্বকে খতম করে সারা বিশ্বে ইসলামের বিজয় পতাকা উড্ডীন করবে (সাবাস)। নিজামী ছাহেবের এই সুখস্বপ্ন যে নিতান্তই একটি অর্থহীন দিবাস্বপ্ন মাত্র তা তিলে তিলে প্রত্যেক্ষ করলেও এবং দেশ-বিদেশে তাদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে বিচার প্রক্রিয়া শুরু করার দাবি অত্যন্ত সোচ্চার হয়ে উঠলেও নিজামী ছাহেবরা কিন্তু তা মানতে আজও নারাজ। কারণটি হয়তো বা এই যে, বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে এবং অতীতের সব নির্বাচিত অনির্বাচিত সরকারকে এবং তাদের অতীত কার্যকলাপ প্রত্যক্ষ করেই তারা তাবৎ সন্দেহমুক্ত হয়েছে যে, আগামীতেও যারাই ক্ষমতায় আসুক, জামায়াতে ইসলামী বা যুদ্ধাপরাধীদের আদৌ কোন ভয়ের কারণ নেই। তাই তারা এখন মরিয়া।
বস্তুত একদিকে, স্বাধীনতাবিরোধী চারদলীয় নিজমী-খালেদা জোট এবং বর্তমানে আসন্ন মহাজোট গঠন করতে আওয়ামী লীগ যেভাবে মরিয়া উঠে পড়েছে বা প্রকাশ্যেই তারা তা ঘোষণাও করেছে তাতে তাদের মনে কোন ধর্মীয় দল বেআইনি ঘোষণার বা যুদ্ধাপরাধী বিচারের কথা বলুক না কেন, তা যে ওরা কেউ করবে না সেটা বুঝবার মতো ক্ষমতা জামায়াতে ইসলামীর আছে।
যাই হোক, শান্তি কমিটি গঠনের বা আলবদর বাহিনী গঠন করার পর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যারা যুদ্ধ করেছে তাদের সমলে ধ্বংস করার আহµান সংবলিত নিজামীর ভাষণ ও বিবৃতির বহু বিবরণ ১৯৭১ সালে জামায়াতে ইসলামীর মুখপত্র দৈনিক সংগ্রামে সবিস্তারে ছাপা হয়েছে। যশোরে রাজাকার সদর দপ্তরে সমবেত রাজাকারদের উদ্দেশ করে নিজামী বলেছিল, ‘জাতির [পাকিস্তানের] এ সঙ্কটে বা সঙ্কটজনক এক চরম মুহর্তে প্রত্যেক রাজাকারের উচিত ইমামদারির সঙ্গে তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব ও জাতীয় কর্তব্য অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করা এবং ওইসব ব্যক্তিকে খতম করতে হবে যারা সশস্ত্র অবস্খায় পাকিস্তান ও ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছে।’
মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর বিরুদ্ধে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে তার নিজ এলাকাবাসীর হত্যা, লুটতরাজ, অগ্নিসংযোগ, ধর্ষণ, নির্যাতন ইত্যাদির অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে। পাবনা জেলার বেড়া থানার বৃশালিখা গ্রামের আমিনুল ইসলাম ডাবলু শহীদ জননী জাহান আরা বেগমের প্রতিষ্ঠিত গণতদন্ত কমিশনকে জানিয়েছিলেন যে, তার পিতা মোহাম্মদ সোহরাব আলীকে নিজামীর নির্দেশেই হত্যা করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, নিজামীর নির্দেশেই তাদের এলাকার প্রফুল্ল, পিতা নয়না প্রামাণিক, ভাদু, পিতা ক্ষিতীশ প্রামাণিক, মনু পিতা ফেলু প্রামাণিক এবং ষষ্ঠী প্রামাণিক, পিতা প্রফুল্ল প্রামাণিককে নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনার কয়েকজন প্রত্যক্ষ সাক্ষীও রয়েছে বলে তিনি জানিয়েছিলেন।
১৯৭১-এ ৭ নম্বর সেক্টরের অন্যতম মুক্তিযোদ্ধা আবদুল কুদ্দুসকে (পিতা মৃত ডা. সৈয়দ আলী ক্ষোলাবাড়িয়া, থানা ও জেলা পাবনা (সাং মাধবপুর) আলবদর, বাহিনীর সদস্যরা ধরে নিয়ে গেলে তিনি প্রায় দুই সপ্তাহ আল বদরদের ক্যাম্পে ক্যাম্পে অবস্খান করেন। ক্যাম্পে অবস্খানের সময় তিনি সেখানে আলবদর কর্তৃক মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা, অগ্নিসংযোগ, ধর্ষণ ও নির্যাতন ইত্যাদির গোপন পরিকল্পনা গ্রহণ করতে প্রত্যক্ষ করেন। এসব পরিকল্পনা প্রণয়নে মতিউর রহমান নিজামী প্রত্যক্ষভাবে নেতৃত্ব দেন বলে তিনি পরিবর্তীতে জানান। ২৬ নভেম্বর জনৈক সাত্তার রাজাকারের সহযোগিতায় ধুলাউড়ি গ্রামে (পাবনা জেলায় সাঁথিয়া থানাধীন) পাকিস্তানি সৈন্যরা ৩০ জন মুক্তিযোদ্ধাকে এক রাতে হত্যা করে। মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর পরিকল্পনা ও নির্দেশ অনুযায়ী সাত্তার রাজাকার তার কার্যক্রম পরিচালনা করত বলে তিনি জানিয়েছেন। মুক্তিযোদ্ধা কুদ্দুস আলবদর বাহিনীর একটি সমাবেশ এবং গোপন বৈঠকে তাদেরই বু বলে ভান করে উপস্খিত ছিলেন বলেও জানান।
এই বৈঠকে মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীও উপস্খিত ছিলেন। তিনি তার বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধকে প্রতিহত এবং মুক্তিযোদ্ধাদের সমলে ধ্বংস করার নির্দেশ দেন। বৈঠকে কোথায় কোথায় আওয়ামী লীগ ও মস্কোপন্থি ন্যাপ নেতাদের বাড়িঘর আছে, দোকান-পাট আছে তা চিহ্নিত করা হয়। তিনি আরও জানান, মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী মুক্তিযোদ্ধাদের ঘাঁটি ধ্বংস এবং আওয়ামী লীগ ও ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির নেতাদের শেষ করে ফেলার নির্দেশ জারি করেন। বৈঠকের পরদিনই রাজাকার বাহিনীর সহযোগিতায় বৃশালিখা গ্রামটি পুরোপুরি অতর্কিতে ঘিরে ফেলা হয়, ব্যাপক গোলাগুলি চালানো হয়, নির্যাতন, লুটতরাজ এবং বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ প্রভৃতি করে ভয়াবহ এক ধ্বংসযজ্ঞ পরিচালনা করা হয়।
মুক্তিযোদ্ধা কুদ্দুস আরও জানান, মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী তার নিজ গ্রামের বটেশ্বর সাহা নামক এক তরুণ মুক্তিযোদ্ধাকে বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে। নিজামীর বিরুদ্ধে প্রায় অনুরূপ অভিযোগ এনেছেন সাঁথিয়া থানার মিরপুর গ্রামের মোহাম্মদ শাজাহান আলী, পিতা জামাল উদ্দিন। যুদ্ধের সময় হঠাৎ রাজাকারদের হাতে ধরা পড়লে আরও কয়েকজন আটক মুক্তিযোদ্ধার সঙ্গে তার গলায়ও ছুরি চালানো হয়েছিল। একই সঙ্গে আটক অন্যদের জবাই করে হত্যা করতে সক্ষম হলেও শাজাহান আলী ঘটনাচক্রে বেঁচে যান। কিন্তু তার সহযোদ্ধা দারা, চাঁদ, মুসলেম উদ্দিন, আখতার উদ্দিন, শাজাহান প্রমুখদের বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে গরু জবাই করার লম্বা ও ধারালো ছুরির আঘাতে আঘাতে জবাই করে পৈশাচিকভাবে হত্যা করা হয়। সেদিন প্রায় ১০/১২ জন মুক্তিযোদ্ধাকেও ওরা হত্যা করেছিল। মুক্তিযোদ্ধা কবিরের গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। এ হত্যাকাণ্ডের নীলনকশটিও মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী স্বয়ং করেছিল বলে শাজাহান আলী জানিয়েছেন। মাওলানা মতিউর রহমান ও তার সহযোগী আলবদরদের নৃশংস বর্বরতার অজস্র কাহিনী পাবনা, ঢাকাসহ বাংলাদেশের সর্বত্র আজও ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে।
(সিডনি থেকে)
--------------------------------------------------------------------------------------
দৈনিক সংবাদ । ২ নভেম্বর ২০০৮ রোববার
প্রকাশ করা হয়েছে: ভিন্নআলো বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ০২ রা নভেম্বর, ২০০৮ সকাল ৯:০৬ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
লেখক বলেছেন: মুখোশ উন্মোচিত হবেই
ধন্যবাদ
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ আপনাকে
লেখক বলেছেন: থ্যাংকস এ লট
লেখক বলেছেন: বিনীত ধন্যবাদ আপনাকে , প্রিয় জানা ।
লেখক বলেছেন: মাদ্রাসায় পড়লেই মালানা লিখতে পারে । এটা তো বাংলাদেশে
নতুন নয় ।
স্বপ্নশিকারী বলেছেন:
অনেক ধন্যবাদ লেখাটি লেখার জন্য।কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায় ,কিভাবে মু্ক্তিযুদ্ধের পর তার কি হল?
রাফা বলেছেন:
অজস্র ধন্যবাদ ,এটুকুই শেষ নয় এই গাদ্দার পুরো নয় মাস বাংলার মাটিকে জালিয়ে পুড়িয়ে ছারখার করেছে।
রামন বলেছেন:
ধন্যবাদ আপনাকে এই পোষ্টটির জন্য। নিজামী যে এক কুখ্যাত ব্যাক্তি তা জানতাম। আপনার পোষ্ট পড়ার পর মনে হল এ লোককে কুখ্যাত বললে কম বলা হবে, এ হচ্ছে বিশ্বকুখ্যাত নিজামী। কতবড় নির্লজ্জ হলে পরে অতীতের কুকর্ম ভুলে গিয়ে বেহায়ার ন্যায় এ দেশে রাজনীতি করে।
বেয়াকুফ বলেছেন:
পাকিস্তানী বাপের দারা পয়দাকৃত কোন চারটা জারজ মাইনাস দিসে। নাম গুলা দিয়েন তো?
বেয়াকুফ বলেছেন:
যাক, শেষ পর্যন্ত একাত্তরের ছাগাতনা জারজের বাচ্চাটা সাহস কইরা জানান দিসে। কিন্তু এইটাত পাঁচ নাম্বার জারজ, বাকি চার চারটা জারজ কে কে?
এখনও গল্প লিখি বলেছেন:
নিজামকে থু.......খুন যাদের নেশা, সাধারণ ধর্মানুরাগীরা তাদের ভালবাসে কেমন করে?
ঘেন্না...
অচেনা সৈকত বলেছেন:
রনেশ মৈত্রকে আমি ব্যক্তিগতভাবে চিনি।আমার শহরেরই মানুষ।উনার তথ্যবহুল লেখাটি ব্লগে প্রকাশ করার জন্য ধন্যবাদ।
ফকির ইলিয়াস বলেছেন:
সবাইকে বিনীত ধন্যবাদ । এই ধন্যবাদ রনেশ দা কে । রনেশ মৈত্র।
যিনি অভিবাসে জীবনে থেকেও তার মাতৃভূমিকে প্রাণের চেয়েও বেশি
ভালোবাসেন।
কোন রাজাকার মাইনাস দিলো , তাতে কি যায় আসে ???
লেখক বলেছেন: পড়ার জন্য অশেষ ধন্যবাদ
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...




















অনেক ধন্যবাদ ইলিয়াস ভাই