somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

ফকির ইলিয়াস
আলোর আয়না এই ব্লগের সকল মৌলিক লেখার স্বত্ত্ব লেখকের।এখান থেকে কোনো লেখা লেখকের অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ, ছাপা, অনুলিপি করা গ্রহনযোগ্য নয়।লেখা অন্য কোথাও প্রকাশ, ছাপা করতে চাইলে লেখকের সম্মতি নিতে হবে। লেখকের ইমেল - [email protected]

সন্ত্রাসীদের রুট পরিকল্পনা ও রাজনীতিকদের টক শো সংস্কৃতি

০৫ ই জুন, ২০০৯ সকাল ৮:০৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সন্ত্রাসীদের রুট পরিকল্পনা ও রাজনীতিকদের টক শো সংস্কৃতি
ফকির ইলিয়াস
=======================================
বাংলাদেশে মাফিয়া চক্রের বিস্তার এবং রুট নির্মাণ বিষয়ে মিডিয়া আবার সরগরম। প্রতিদিন জানা যাচ্ছে নতুন নতুন তথ্য। ডন দাউদ ইব্রাহিমের অন্যতম সহযোগী মার্চেন্ট দাউদকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতার হয়েছে আরেক সন্ত্রাসী জাহিদ শেখ। পত্রিকান্তরে জানা যাচ্ছে এরা দু'জনেই ভারতের নাগরিক। অথচ তারা পাসপোর্ট পেয়েছে বাংলাদেশী নাগরিক হিসেবে। রয়েছে জাতীয় পরিচয়পত্রও। চৌদ্দ কোটি মানুষের দেশ বাংলাদেশ। এই দেশের প্রতিটি মানুষকে শনাক্ত করা কঠিন কাজ। যেহেতু জন্মনিবন্ধন কিংবা সামাজিক নিরাপত্তা (সোশ্যাল সিকিউরিটি) ক্রমিক ব্যবস্থা নেই, তাই কে কোথাকার বাসিন্দা তা জানা-বোঝাও মুশকিল।
পশ্চিমবঙ্গ (কোলকাতা ) বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী প্রদেশ। সেখানের মানুষজনও বাংলাভাষী। আর বাংলা এমন কঠিন কোন ভাষা নয় যে তা শিখে নিতে বেশি বেগ পেতে হয়। বেশ কিছু বিহারি বাংলাদেশে জন্ম না নিয়েও বাংলা ভাষায় দক্ষ। রয়েছে অনেক রোহিঙ্গাও যারা বাংলা জানে, বোঝে। এসব নানা সমীকরণের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান। তাছাড়া যারা আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী চক্রের গডফাদার তারা বিভিন্ন ভাষায় দক্ষ,সে কথা সব দেশের গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারাই জানেন।
বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসীচক্রের একটি নিরাপদ রুট হতে পারে-সে বিষয়ে পাশ্চাত্যের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও বেশ ক'বছর থেকে নানা ধারণা দিয়ে আসছে। এর কারণ আছে। কারণ হচ্ছে বাংলাদেশ বেশ ক'টি দিক থেকেই নিরাপদ দেশ চোরাকারবার, অবৈধ অস্ত্র পাচার প্রভৃতি কাজের জন্য। প্রথমত, যে বিষয়টি প্রচলিত আছে তা হচ্ছে বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে 'ঘুষ'-এর বখরা দিয়ে যে কোন অপকর্ম চালিয়ে যাওয়া সম্ভব। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর দুর্বলতাকেই আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসীচক্র মুখ্য সুযোগ হিসেবে দেখে। এরপর দ্বিতীয় সুযোগটি হচ্ছে, এরা মনে করে টাকা দিয়ে দরকার মতো রাজনীতিকদেরও কিনে নেয়া যায়। অনেকটা হয়ও তাই। দশ ট্রাক অস্ত্র মামলা কিংবা মার্চেন্ট দাউদ গ্রেফতার হওয়ার পর যেসব তথ্য পাওয়া যাচ্ছে তা তো সেই সাক্ষ্যই দিচ্ছে যে, বেশ কিছু রাজনীতিক রাঘব বোয়াল এর নেপথ্যে জড়িত।
এটা বিশ্ব স্বীকৃত, বাংলাদেশের মানুষ শান্তিপ্রিয়। পারতপক্ষে তারা কোন ধরনের ঝামেলাতেই যেতে চান না। আন্তর্জাতিক চোরাকারবারিরা সেই সুযোগই কাজে লাগায়। এখানে আরও একটি বিষয় স্পষ্ট করা দরকার তা হচ্ছে,-আন্তর্জাতিক চোরাকারবারি, মাফিয়াচক্রকে বাংলাদেশে কারা মদদ দিচ্ছে, এদের লাভ কি? এর উত্তরটি হচ্ছে,এসব অশুভ শক্তি দেশে প্রতিপত্তি বাড়ানোর ফলে গোটা দেশ অরক্ষিত হবে। সরকার বেকায়দায় পড়বে। এই সুযোগে রাজনৈতিক ফায়দা নিতে ব্যস্ত হবে সরকারের প্রতিপক্ষ। বিভিন্ন সংস্থাকে দেয়া বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে আমরা জানছি, মাত্র তিন মাসের মধ্যেই গোটা দেশে সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক মজবুত করার পরিকল্পনা ছিল গুলশান কুমার হত্যা মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি মার্চেন্ট দাউদের। তা থেকেই ধারণা করা সহজ বাংলাদেশ কত বড় সঙ্কটকালীন নতুন ঝড়ের সম্মুখীন হতে যাচ্ছিল।
দুই.
বর্তমান মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পরদিন থেকেই নানা ফন্দিফিকির শুরু হয়েছে বিভিন্ন শিবিরে। প্রথম এবং প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে এই সরকারকে কুপোকাত করে দেয়া। এজন্য রাষ্ট্রের প্রধান নির্বাহীর জীবননাশের হুমকির সংবাদও আমরা দেখছি পত্রপত্রিকায়। বিষয়গুলো নিয়ে খুব গভীরভাবে ভাবা দরকার। পাশাপাশি ভাবা দরকার সরকারের ভেতরে অবস্থান করে কোন মহল সরকারকে ক্রমশ বিতর্কিত, অজনপ্রিয় করে তোলার চেষ্টা করছে কি না।
ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের দু'জন নিরীহ ছাত্র র্যাবের গুলিতে প্রাণ হারিয়েছে। এ নিয়ে বিতর্ক হচ্ছে দেশে-বিদেশে। এই দু'জন ছাত্র কি চিহ্নিত সন্ত্রাসী ছিল? এরা কিভাবে কোন পরিস্থিতিতে এনকাউন্টারের শিকার হলো। তার বিশদ দেশবাসী জানতে চায়। এ বিষয়ে একটি স্বচ্ছ তদন্ত অবশ্যই হওয়া দরকার।
বাংলাদেশে র‌্যাব ভাল কাজ অবশ্যই করছে তা অস্বীকার করার উপায় নেই। কারণ কোন রাষ্ট্রে সন্ত্রাসীরা যখন কৌশল বদলায় তখন নতুন, প্রশিক্ষিত, আধুনিক সশস্ত্র শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গঠন জরুরি হয়ে পড়ে। র‌্যাব সাহসিকতার সঙ্গে সেসব কাজই করছে। তবে রাতের বেলায় সহযোগী সন্ত্রাসী খুঁজতে গিয়ে পালানোর সময় গুলি এবং হত্যা-এই ঘটনাবলি ধারাবাহিকভাবে মেনে নেয়া কঠিন। বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুলি, নির্যাতন কোন সভ্য দেশ-সমাজই মেনে নিতে পারে না। বিচারের যতই দীর্ঘসূত্রতা থাক না কেন, শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তো আইন হাতে তুলে নিতে পারে না।
বাংলাদেশে চিহ্নিত সন্ত্রাসী, খুনি, দাগি আসামিদের স্বল্পকালীন বিশেষ আদালতে বিচারের ব্যবস্থা করা হোক-এই দাবি জনগণের দীর্ঘদিনের। বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে এমন কিছু আইনের সংস্কার প্রয়োজন সর্বসম্মতিক্রমে। কারণ এই দানব শক্তির হাত থেকে রাজনীতিক, সাধারণ মানুষ, মাটি-বিত্ত-বৈভব কিছুই মুক্ত নয়। সুযোগ পেলে তারা যে কাউকে গ্রাস করবে, ছোবল দেবে।
বাংলাদেশের বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রীর পরস্পরবিরোধী বেশকিছু বক্তব্য মানুষকে নানা প্রশ্নবাণে বিদ্ধ করছে। পিলখানা হত্যা মামলা, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, প্রবাসীদের জন্য নির্মিতব্য ব্যাংক বিভিন্ন ইসু্যতে কয়েকজন মন্ত্রী পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিয়েছেন। এটা কোন সরকারের জন্য শুভ লক্ষণ নয়। পাবলিকলি কোন কমেন্ট করার আগে মন্ত্রীদের পারস্পরিক বোঝাপড়া থাকা দরকার। তাছাড়া রাষ্ট্রীয় শীর্ষ সিদ্ধান্তগুলোতে সব মন্ত্রীরই সমানভাবে জানা উচিত।
একটি কথা দুঃখের সঙ্গেই বলি, বাংলাদেশের রাজনীতিবিদরা (সরকারি এবং বিরোধীদলীয়) যত বেশি টিভি টক শোতে হাজির হন, তেমনটি বিশ্বের অন্য কোন দেশে দেখা যায় না। বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি থেকে এই টক শো পর্বটি ঝেড়ে ফেলা খুবই জরুরি। কারণ কথা যতই বেশি বলা হয় কর্মপরিধি ততই বেশি কমে আসে। বিভিন্ন দেশে টক শোতে অংশ নেন সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী, পেশাজীবী, বিশেষজ্ঞ, প্রযুক্তিবিদ, সামরিক এক্সপার্টসহ অন্যান্য অভিজ্ঞরা। রাজনীতিবিদরা তা শোনেন। অনুধাবন করেন। ভাল দিকগুলো বিবেচনায় এনে গণকল্যাণে কাজে লাগান।
মনে রাখতে হবে বাংলাদেশকে টার্গেট করে একটি আন্তর্জাতিক মহল বেশ পূর্ব থেকেই বিভিন্নভাবে সক্রিয় রয়েছে। এরা এই রাষ্ট্রের বিভিন্ন সেক্টরকেই গ্রাস করতে তৎপর। এই অবস্থায় রাজনীতিকরা যদি শুধু কথার বুলিই আওড়ান- তবে পক্ষান্তরে সেই দানবশক্তিই মদদ পাবে। এই রাহুগ্রাস থেকে রাষ্ট্রকে মুক্ত রাখতে প্রতিটি দেশপ্রেমিক নাগরিকের ঐক্যের কোন বিকল্প নেই।
নিউইয়র্ক, ২ জুন ২০০৯
------------------------------------------------------------------
দৈনিক সংবাদ।ঢাকা । ৫ জুন ২০০৯ শুক্রবার প্রকাশিত

ছবি- সরিনা বাগএ্যগ
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই জুন, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:৪৩
৫টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলা সাহিত্যে জায়গা পাচ্ছেন ওসমান হাদী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১২ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:১৭


সংবাদপত্র যা বলছে
জাগো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১০ জুন ২০২৬ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যবই পরিমার্জন-সংক্রান্ত কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেকসহ... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, ক্রাউড ফান্ডিং-এর সুযোগ তৈরি করে সরকারী লাভজনক প্রজেক্টে জনগণের বিনিয়োগ নিন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১২ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:৩১

বাংলাদেশের বর্তমান সরকার বিনিয়োগ পরিস্থিতি নিয়ে চিন্তিত, তা বুঝা যাচ্ছে। নাহলে, খোদ প্রধানমন্ত্রী দেশে বিনিয়োগ নিয়ে আসতে জনগণকে অনুরোধ করতেন না। আমার মন হয়, দেশের মানুষের কাছেই অনেক সম্পদ আছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিএনপির আবালীপনা।

লিখেছেন তানভির জুমার, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮

বিএনপি ৫০ হাজার নাচের শিক্ষক নিয়োগ দিতে যাচ্ছে। যার পেছনে ১০ বছরে ব্যায় হবে ১৫ হাজার কোটি টাকা। যা দিয়ে ফুল প্যাকেজ ৩০ টি জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

×