প্রভাবের দ্বন্দ্ব ও অসহায় জাতিসত্তা
ফকির ইলিয়াস
=========================================
এই দ্বন্দ্বটা প্রকটই হচ্ছে। আর তা হচ্ছে প্রভাব বিস্তারের। মুখোমুখি দুই পক্ষ। একপক্ষ সমাজের কালো টাকার মালিক। অপশক্তির অধিপতিরা। অন্যপক্ষ সরকার। জিতবে কে? কার জেতা উচিত? মাঝখানে মানুষেরা খুবই অসহায়। তারা জানেন না কী করতে হবে। কোন পক্ষকে সমর্থন করলে মুক্তি পাওয়া যাবে জানা নেই তাদের। অপশক্তিরা হরণকারী। আর সরকারপক্ষ হচ্ছে মুক্তিদাতা। কিন্তু সরকারপক্ষ জিতে উঠছে না কেন? কেন বারবার মুখ থুবড়ে পড়ছে জাতিসত্তার স্বপ্ন?
জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ‘নদী বাঁচাও, ঢাকা বাঁচাও’ নামে একটি সমাবেশ হলো। এর বক্তব্য হওয়া উচিত ছিল ‘নদী বাঁচাও- দেশ বাঁচাও’। তা হয়নি। তারপরও শুরু হয়েছে এটা শুভ লক্ষণ। প্রধানমন্ত্রী সমীপে অনেক দাবিই জনগণের থাকে। এর মাঝে যুক্ত হয়েছে ‘নদী বাঁচাও’ দাবিটি। পরিবেশ বাঁচানোকে অনেকেই গৌণ বিষয় মনে করেন। আসলে তা একটি প্রধান বিষয়। বিশেষ করে বাংলাদেশের মতো রাষ্ট্রে। যেখানে ভূমিখেকোর মতো দানবরা সদা তৎপর। যেখানে বৃক্ষ কর্তনকারীরা উল্লাস করে বন উজাড় করে। এদের শিকড় অনেক বিস্তৃত। এরাই প্রভাবশালী। এদের হাত অনেক লম্বা।
‘নদী বাঁচাও ঢাকা বাঁচাও’ সমাবেশে অনেক রাজনীতিকই উপস্থিত ছিলেন। ছিলেন জাতীয় সংসদের স্পিকার এডভোকেট আব্দুল হামিদও। তাদের বক্তব্য টিভিতে শুনলাম। মন্ত্রীরা বললেন, প্রভাবশালী মহলকে রুখতে হবে। কারা এই প্রভাবশালী? তাদের হাত কি সরকারের হাতের চেয়েও শক্তিশালী? যদি না হয় তবে সরকার তাদের সঙ্গে পেরে উঠছে না কেন? বাংলাদেশে নদী বাঁচানোর দাবিটি দীর্ঘদিনের। এই সব নদীগুলো ভরাট হয়ে যাওয়ার ফলে বদলে গেছে গ্রামীণ জনপদের সুস্থ জীবনযাত্রা। বন্যার সময় দ্রুতই আক্রান্ত হচ্ছে ফসলি জমি। এর কোনো প্রতিকার নেই।
নদীগুলো ড্রেজিং করার কোনো উদ্যোগ নেই। বাজেট নেই। আজ ঢাকা বাঁচাও স্লোগান তোলা হচ্ছে। ঢাকা বাঁচানোর জন্য অনেক কিছু করা দরকার। প্রয়োজন পরিকল্পিত নগরায়ন। তা নিয়ে অনেক তত্ত্ব-উপাত্ত আওড়ানো হয় প্রতি বছর। কাজের কাজ কিছুই হয় না। একশ্রেণীর ফড়িয়া বুর্জোয়া টাকা দিয়ে সরকারকে কিনে নেয়। কিনে নেয় উচ্চপদস্থদেরকে। তাদের ইচ্ছে মতো পরিকল্পনা পাস করিয়ে নেয়। নগরে ভবন গড়ে ইচ্ছে মাফিক। সমাজের প্রতিটি স্তরে স্তরে এসব দুর্বৃত্তের বাস। এরা কোথায় নেই! চ্যানেল আইতে একটি প্রতিবেদন দেখলাম। ব্রাজিলে লোক পাঠানোর নামে বিজ্ঞাপন ছাপিয়েছে জাতীয় দৈনিকে একটি চক্র। ঢাকায় ব্রাজিলের দূতাবাস নেই এখন পর্যন্ত। অথচ এরা বলছে তারা ব্রাজিলের ভিসার ব্যবস্থা করে লোক পাঠাবে। এ জন্য তারা ৫০ হাজার থেকে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত নিচ্ছে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে। বেকার মানুষের ভিটেমাটি বিক্রি করে এসব টাকার জোগান দিচ্ছে। তারপর সব হারিয়ে পথে নামছে। প্রশ্ন হচ্ছে কোনো বৈধ লাইসেন্স না থাকার পরও এরা পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিচ্ছে কিভাবে? এরা মানুষকে ঠকাচ্ছে কিভাবে? এরাও প্রভাবশালীদের ছায়াপুত্র?
বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রভাবশালীরা দলীয় স্বার্থে অন্ধ হয়ে যা কিছুই করতে পারে এর কোনো সীমাবদ্ধতা নেই। পিলখানা হত্যাযজ্ঞের আরেকটি উদাহরণ আমরা দেখলাম। এই হত্যাযজ্ঞের খুনি বিদ্রোহী অনেক বিডিআর জওয়ান পালিয়ে গিয়েছিল। এদেরকে পালাতে সাহায্য করার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বিএনপির সাবেক সাংসদ নাসিরুদ্দিন পিন্টু। এটা সাম্প্রতিক ঘটনা। এই অভিযোগ শুরু থেকেই শোনা যাচ্ছিল। এবার দেখা যাক তার বিরুদ্ধে এই আনীত অভিযোগ কতোটা প্রমাণিত হয়। তার শাস্তি কী হয়।এ রকম দেখার অনেক প্রত্যাশা দেশের মানুষের। সাতক্ষীরা থেকে নিজস্ব রেডিও ট্রান্সমিশন কেন্দ্রসহ ধরা পড়েছে শিবিরের কর্মীরা। তারা একটি নিজস্ব নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে তা তো নতুন করে বলার কিছু নেই। একই রকমের অয়ারল্যাস নেটওয়ার্ক সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরেরও ছিল। ফখরুদ্দীন আহমদ সরকারের সময়ে তাকে গ্রেপ্তারের পর এমন নেটওয়ার্কের সন্ধানই পেয়েছিলেন গোয়েন্দারা।
বাবর চক্র দেশে এমন নেটওয়ার্ক গড়লেন কিভাবে? এর উত্তর খুবই সহজ। কারণ জোট সরকারের আমলে সরকারের প্রভাব আর সকল অশুভ শক্তির প্রভাব একাকার হয়ে গিয়েছিল। ফলে চিহ্নিত করা কষ্টকর ছিল কে সরকার পক্ষ আর কে অশুভ শক্তির পক্ষ। এখন তো সে অবস্থা নেই। তাহলে সরকারি প্রভাব, সকল অশুভ শক্তির প্রভাবশালীকে পরাস্ত করতে পারবে না কেন? কেন পূরণ হবে না গণমানুষের প্রত্যাশা?
বাংলাদেশের সংবাদ মিডিয়া খুললেই আমরা যা দেখি তাতে পজিটিভ দিক কম। নেগেটিভ দিক বেশি। সম্প্রতি মাধ্যমিক পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে। ফলাফল ভালো করেছে অনেকেই। এই যে ছাত্র সমাজ, এই যে মেধাবী প্রজন্ম এরাই আগামী দিনের রাষ্ট্রনায়ক। রাষ্ট্রের কর্ণধার। কিন্তু আমরা পত্রপত্রিকায় দেখছি প্রায় অর্ধ লাখ ছাত্রছাত্রীর কলেজে যাওয়ার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ আসন নেই সারা দেশে। দেশে প্রাইভেট কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিযোগিতা বেড়েছে। পাঁচ-সাতটি রুম ভাড়া করেই শুরু হচ্ছে প্রাইভেট কলেজ। এতে পরিচালকরা মুনাফার মুখ দেখছেন ঠিকই। কিন্তু ছাত্রছাত্রীরা প্রকৃত শিক্ষার আলোমুখ দেখছে না।
মনে রাখা দরকার শিক্ষা খাতের উন্নয়নের কথা শুধু মুখে বললেই কোনো কাজ হবে না। এর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। এর কার্যকারিতার সুফল ঘরে ঘরে পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। একটি জাতিকে সকল ধরনের অভিশাপ থেকে মুক্তি দিতে পারে সে দেশের শিক্ষার মান। শিক্ষিত মানুষ।
এখানে আরেকটি বিষয় স্পষ্ট করে বলা দরকার। তা হচ্ছে, বাংলাদেশে শিক্ষার ক্যারিকুলাম সমসাময়িক করার দাবিটিও বর্তমান সময়ের। কারণ এই যুগে এসে আকবর, বাবর আর আলীবর্দী খাঁর শাসনামলের ইতিহাস আর বিশেষ কোনো দরকারি নয়। পানিপথের যুদ্ধ ইতিহাস পড়ে আধুনিক প্রজন্মের কিছু তুলনামূলক অবস্থা জানা ছাড়া আর কোনো উপকারেই আসবে না। তাই শিক্ষার বিষয় বিজ্ঞানমনস্ক, প্রযুক্তিনির্ভর, আধুনিক করাটা খুবই জরুরি। এ ক্ষেত্রে উন্নত বিশ্বের শিক্ষা ব্যবস্থার যোগাত্মক দিকগুলো বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় অনুকরণীয় হতে পারে।
শুরুতেই বলেছি, বাংলাদেশে সামাজিক দ্বন্দ্ব, রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব বাড়ছেই। এতে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। যাদের অন্যের ওপর নির্ভর করে থাকা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। মানুষ স্বনির্ভর হতে পারলেই এই দ্বন্দ্ব কমে আসবে। কারণ এখন শিক্ষিত সমাজ, দুর্নীতিবাজ প্রভাবশালীদের টুঁটি চেপে ধরতে পারবে সহজেই। এটা বিশ্বাস করতে কষ্ট হয়, আমাদের রাজনীতিকরা মুখে অবৈধ প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে অনেক কথা বললেও নিজ নিজ স্বার্থের জন্য তারা মধ্য দুপুরেই এদের সঙ্গে হাত মেলান। আর এই আস্কারা পেয়েই এসব দখলদার ক্রমশ গ্রাশ করছে গোটা জাতির স্বপ্ন, ইচ্ছা, মাটি, বৃক্ষ। বর্তমান সরকার যে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন মানুষকে দেখাচ্ছেন এর বাস্তবায়ন করতে হলে দক্ষ সৎ কর্মী বাহিনী গড়ে তুলতে হবে। আর এজন্য শিক্ষাকে প্রাধান্য দিতে হবে সর্বাগ্রে।
নিউইয়য়র্ক, ৩ জুন ২০০৯
--------------------------------------------------------------------
দৈনিক ভোরের কাগজ।ঢাকা। ৬ জুন ২০০৯ শনিবার প্রকাশিত
ছবি- আনা লেবরেইরো
আমাদের গ্রামের গল্প!

আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন
পণ্ডশ্রম

এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,
চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।
কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,
আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।
দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন
আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?
আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?
ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন
ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই
আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।
তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন
১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে
আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।