somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

ফকির ইলিয়াস
আলোর আয়না এই ব্লগের সকল মৌলিক লেখার স্বত্ত্ব লেখকের।এখান থেকে কোনো লেখা লেখকের অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ, ছাপা, অনুলিপি করা গ্রহনযোগ্য নয়।লেখা অন্য কোথাও প্রকাশ, ছাপা করতে চাইলে লেখকের সম্মতি নিতে হবে। লেখকের ইমেল - [email protected]

সরকারের দিনবদলের প্রত্যয় এবং জনগণের প্রাত্যহিক প্রত্যাশা

১১ ই জুন, ২০০৯ সকাল ১০:০০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সরকারের দিনবদলের প্রত্যয় এবং জনগণের প্রাত্যহিক প্রত্যাশা
ফকির ইলিয়াস
========================================
বদলে দেবার অন্যতম পূর্ব শর্ত হচ্ছে নিজেকে বদলে দেয়া। এই স্লোগানটি আজকাল অনেকের মুখেই শোনা যায়। দেশে এবং বিদেশে সর্বত্রই এই বদলে যাবার, বদলে দেবার ঢেউ। বিষয়টি খুবই সৃজনশীল। তার সঙ্গে কারো দ্বিমত থাকার কথা নয়। কিন্তু বদলানোর প্রকৃত প্রক্রিয়া কী? কিভাবে বদলানো যেতে পারে একটি সমাজ? কিভাবে বদলানো যেতে পারে একটি রাজনৈতিক সংস্কৃতি? কিভাবে উন্নয়ন সাধন সম্ভব অর্থনৈতিক ভিত মজবুত করার কর্মকাণ্ডে?
আমাদের সবার জানা, সাম্প্রতিককালের ওয়ান-ইলেভেনও বাংলাদেশে সংঘটিত হয়েছিল বদলে দেবার প্রত্যয় নিয়ে। টিভিতে আমরা জোর প্রচারণা দেখলাম- ‘এখন সময় জনগণের’। স্বাধীন বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রটিতে ‘জনগণের সময়’ সব সময়ই থাকার কথা ছিল। এই জনগণের সময় প্রতিষ্ঠার জন্যই ৩০ লাখ শহীদ জীবন আর ২ লাখ নারী তাদের সম্ভ্রম উৎসর্গ করেছিলেন। কিন্তু বিনিময়ে ‘জনগণের সময়’ কি বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল? না হয়নি। আর হয়নি বলেই ওয়ান-ইলেভেনের প্রয়োজন পড়েছিল একটি তীব্র সংকটময় পরিস্থিতি থেকে দেশকে পুনরুদ্ধারের জন্য।
ব্যর্থতার হিসেবাংকটি হচ্ছে এই, ওয়ান-ইলেভেন যে চেতনা নিয়ে শুরু হয়েছিল- তা ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। নীতিনির্ধারকরা হোঁচট খেয়েছেন। হাত মিলিয়েছেন বিভিন্ন পরিস্থিতিতে। ফলে দেখা গেছে, যাদের বারবার জামিন নামঞ্জুর হচ্ছিল- তারাই ক্রমশ মুক্তি পেতে থাকেন দল বেঁধে। ‘রাঘব বোয়াল’ দুর্নীতিবাজ ধরার নামে প্রকৃত দুর্নীতিবাজ ও জনপ্রিয় রাজনীতিকদেরকে পরিমাপ করা হচ্ছিল একই নিক্তিতে। ‘কিংস পার্টি’ তৈরি করে রাজনৈতিক মেরুকরণের প্রচেষ্টাও ব্যর্থ হয় শুরুতেই। এর কারণ কী? কারণটি হচ্ছে রাষ্ট্রের জনগণ তাদের ক্ষমতা দেখিয়েছেন। তারা ওই ডাকে সাড়া দেননি। না দেবার অন্যতম কারণ হচ্ছে ওয়ান-ইলেভেন তার প্রকৃত ইমেজ ধরে রাখতে পারেনি।
এরপর অনেক চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে অনুষ্ঠিত হলো নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতাই শুধু নয় নিরঙ্কুশ বিজয় পেলো শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মহাজোট। নিউইয়র্ক টাইমসের মতো প্রভাবশালী পত্রিকার মতে, বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে সব সময়ই বিভিন্ন কৌশলে কোণঠাসা করে রাখা হয়েছে।
নির্বাচনে জেতাকে নানা প্রক্রিয়ায় ব্যাহত করা হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন পর্যবেক্ষণকারী সংস্থার মতে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন তুলনামূলক যে কোনো নির্বাচনের চেয়ে ‘ফ্রি এন্ড ফেয়ার’ হয়েছে। তাহলে দেখা যাচ্ছে রাষ্ট্রের মানুষের প্রকৃত ভালোবাসা, আস্থা এবং শক্তি নিয়েই মহাজোট ক্ষমতায় এসেছে। আর সে জন্যই সঙ্গত কারণে এই সরকারের কাছে জনগণের প্রত্যাশা অনেক বেশি।
ক্ষমতা গ্রহণের ৫ মাস সময়ে শেখ হাসিনার সরকার যে খুব অনুকূল সময় কাটাতে পেরেছে- তা বলার কোনো অবকাশ নেই। মহাজোট সরকার তীব্র দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, নিরাপত্তাহীন জনজীবন, আর সংকটময় প্রতিবেশ পরিস্থিতির মধ্য দিয়েই ক্ষমতা গ্রহণ করে। এগুলো মোকাবেলায় সরকার যখন নানা পরিকল্পনা গ্রহণে ব্যস্ত ঠিক তখনই ঘটে যায় পিলখানা হত্যাকাণ্ডের মতো মানবসভ্যতার ইতিহাসের জঘন্যতম ঘটনা। এতে নিহত হন দেশের কৃতী সেনা অফিসাররা। ভেঙে পড়ে সীমান্ত রক্ষাকারী বাহিনী ‘বাংলাদেশ রাইফেলস।’ শোক সাগরে ভাসে গোটা দেশ-জাতি।
মনে রাখা দরকার পিলখানা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তারাই বেশি খুশি হয়, যারা নবম জাতীয় সংসদের ফলাফলকে মেনে নিতে পারেনি। মুখে তারা যাই বলুক না কেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে যারা নিশ্চিহ্ন করে দেবার স্বপ্ন দেখে প্রতিনিয়ত, মূলত এরাই বিভিন্ন অজুহাতে বিষয়টি নিয়ে নেতিবাচক মাতামাতি শুরু করে। যেহেতু বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মতো জাতীয় স্বার্থ রক্ষাকারী বাহিনী এই মর্মান্তিকতার শিকার, শুধুমাত্র সে জন্যই এই চক্রটি বেশিদূর এগুতে পারেনি অথবা এগোবার চেষ্টা করেনি।
দুই.
বাংলাদেশে একটি রাজনৈতিক পক্ষের অন্যতম সহযোগী শক্তি হচ্ছে মৌলবাদী জঙ্গিবাদী শক্তি। ক্ষমতায় যেতে, ক্ষমতায় টিকে থাকতে এই সাম্প্রদায়িক দানব শক্তির প্রত্যক্ষ সহযোগিতা এরা সব সময়ই নিয়েছে, নিচ্ছে এবং নেবে। বর্তমান সরকারকে অগ্রসর হতে হচ্ছে প্রতিদিন এই দানব শক্তিটিকে মোকাবেলা করেই। দশ ট্রাক অস্ত্র আমদানির নেপথ্য নায়ক যারা- তারা কতোটা ভয়ঙ্কর, তা ক্রমশই বেরিয়ে আসছে। বলা দরকার, রাষ্ট্রের মানুষ এই জঙ্গিবাদী শক্তিকে বিনাশ করার জন্যই বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকারকে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা দিয়েছে।
একটি জাতিসত্তার প্রথম এবং প্রধান চাওয়াটি হচ্ছে, শান্তিময় নিরাপত্তা। সেই নিরাপত্তা থেকেই দেশের মানুষ বঞ্চিত থেকেছে স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ের অধিকাংশ বছর। সামরিক যাঁতাকলের দাপট, মৌলবাদী আস্ফালন, ফতোয়াবাজদের দৌরাত্ম্য, সন্ত্রাসীদের পেশিশক্তি সন্ত্রস্ত রেখেছে সাধারণ মানুষকে। এই শঙ্কার চির অবসান বারবারই কামনা করেছে বাঙালি জাতি। কিন্তু ব্যাপক রাজনৈতিক সহযোগিতা তারা পায়নি।
একটি রাষ্ট্র খুব বেশি ধনী না হলেও তার নিজস্ব যে ধনসম্পদ, চিত্ত-বিত্ত থাকে তা যদি সুচারুরূপে বণ্টন করা সম্ভব হয় তবে সে রাষ্ট্রে ক্রমশ শান্তির সুবাতাস বইয়ে দেয়া খুব অসম্ভব কিছু নয়। প্রতিবেশী রাষ্ট্রসমূহ এর উদাহরণ। মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর আজ অন্যতম বাণিজ্যকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে এই অঞ্চলে। বাংলাদেশ বারবারই পিছিয়েছে। আর রাজনৈতিক অপশক্তিরা এই সুযোগে বিদেশে পাচার করেছে কোটি কোটি টাকা।
এটা খুবই স্পষ্ট যে, এই অপশক্তিসমূহের বিরুদ্ধে জোর ব্যবস্থা নেবার জন্যই এই তরুণ প্রজন্ম আজ সোচ্চার হয়েছে রাজনৈতিকভাবে। একটা বিষয় লক্ষণীয়, গেলো এক দশকে বাংলাদেশে দলীয় রাজনীতির প্রতি তরুণ প্রজন্মের আগ্রহ ক্রমশ কমেছে। তারা ধরে নিচ্ছে কিংবা নিতে যাচ্ছে, রাজনীতি মানেই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। কিন্তু দেশের স্বার্থ সম্পর্কে, দেশের মানুষের ইচ্ছে-আকাক্সক্ষা সম্পর্কে তারা সোচ্চার থেকেছে।
এই শুভ লক্ষণটি সমাজ নির্মাণে একটি ইতিবাচক দিক বলে আমি মনে করি। কারণ প্রজন্ম দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে দেশকে ভালোবাসা দিতে পারছে। বর্তমান সরকারকে এই ভালোবাসার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া একান্ত জরুরি। বাংলাদেশের একটি প্রধান সমস্যা হচ্ছে বেকারত্ব। দারিদ্র্য, নিষ্পেষণের শিকার হয়ে মাধ্যমিক পরীক্ষা শেষ না করেই এই প্রজন্মের সন্তানকে হতে হচ্ছে বিদেশমুখী। করতে হচ্ছে মানবেতর শ্রমিকের কাজ। তা বাংলাদেশের রাজনীতিকদের অজানা নয়। কিন্তু তার পরও দেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বেকার যুবকদেরকে কর্মক্ষম করার পদ্ধতি উদ্ভাবনে দলগুলো কি ঐক্যবদ্ধ হতে পেরেছে? না, পারেনি। আর পারেনি বলেই দেশের বেকারত্ব বাড়িয়ে দিয়েছে সামাজিক অপরাধসমূহ। যা প্রকারান্তরে ক্ষতির কারণ হচ্ছে গোটা দেশের জনগণের।
বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকার তাদের নির্বাচনী অঙ্গীকারে প্রতি পরিবারে একজনকে চাকরি, কর্মক্ষম করার সুযোগ দানের কথা বলেছিলেন। সে বিষয়টি মনে রেখে মেধাবী প্রজন্মকে প্রাধান্য দেয়া দরকার। আমরা পত্রপত্রিকায় দেখেছি, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এ বিষয়ে একটি তালিকা প্রণয়নের কাজ শুরু হচ্ছে। এ তালিকা তৈরিতে দেশের মেধাবী, মননশীল প্রজন্মরা যাতে সুযোগ পান সে বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে হবে। মনে রাখা দরকার শুধুমাত্র দলীয় দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনায় না এনে দলনিরপেক্ষদেরকেও কর্মক্ষম করে তুলতে সরকারকে উদ্যোগী হতে হবে। কারণ তরুণ প্রজন্মের যে ভোটাররা পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখে মহাজোটকে ভোট দিয়েছে তা ভুলে গেলে চলবে না।
বাংলাদেশে কর্মসংস্থানের একটি প্রধান স্থল হলো শিল্প, মিল, কলকারখানা। গোটা বিশ্বে যখন ইন্ডাস্ট্রি, ফ্যাক্টরি বানাবার প্রতিযোগিতা চলছে- তখন বাংলাদেশে নানা অজুহাতে বিভিন্ন মিল, কলকারখানা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। কেন বন্ধ করা হয়েছে, এর নেপথ্য কারণগুলোর ব্যাপক অনুসন্ধান করে, এসব মিল ফ্যাক্টরিগুলো খুলে দিয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার। আমরা জানি শোষক বেনিয়া গোষ্ঠী ছাড়াও শ্রমিক সংগঠনের নামে আরো একটি শোষক শ্রেণী গড়ে উঠেছে বাংলাদেশের মিলকারখানা সেক্টরে। এদের মুখোশ উন্মোচন করে সাধারণ শ্রমিকদেরকে এদের শোষণ নিষ্পেষণের হাত থেকে মুক্তি দেয়া প্রয়োজন। এ বিষয়ে শ্রম ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগ দরকার।
তিন.
অনেকেই বলছেন, বাংলাদেশে মোবাইল ফোন বাণিজ্যটি একটা ভালো অবস্থান দখল করে নিয়েছে। আমি মনে করি মোবাইল ফোনের সুফল লাভের পাশাপাশি অপরাধকর্ম সংঘটনেও মোবাইল ফোন একটি ভূমিকা রেখে চলেছে। মোবাইল ফোনে হুমকি, অপরাধ কর্মের নেটওয়ার্ক গড়ে তোলাসহ অনেক ধরনের হীন কর্মই হচ্ছে এই ফোন বাণিজ্যের সুবাদে। যা ইতিমধ্যেই বর্তমান সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আলোচনায়ও এসেছে। এ বিষয়ে আইন প্রণয়নের প্রচেষ্টাও শুরু হয়েছে। আমার একটি প্রশ্ন মনে জাগে সব সময়, যে দিনমজুর পেটে-ভাতে দিন গুজরান করতেও হিমশিম খায়, সেই লোকটিও দুটি মোবাইল ফোন রাখে কী করে? এই ফোনের বিল কে দেয়? কিভাবে দেয়া হয়?
বাংলাদেশে মোবাইল ফোনের এই বিস্তার লাভের সঙ্গে এর অপকারিতা রোধেও বিভিন্ন পথ খোঁজা প্রয়োজন। বিশেষ করে মোবাইল ফোন, সিমকার্ড বিক্রি ইস্যু করার আগে ওই ব্যক্তির পরিচয় সুষ্ঠুভাবে শনাক্ত করা একান্ত জরুরি। ‘কলার আইডি’ প্রথাটিও আরো প্রযুক্তিগতভাবে শক্তিশালী করা উচিত। এবং এই সংক্রান্ত অপরাধকর্মের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির বিধানও সময়ের দাবি।
বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু হলে সামাজিক, পারিপার্শ্বিক অবস্থা আরো অস্থিতিশীল করে তোলা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে বিচার করতে সেটাই নিয়ম। এতে কারো নেপথ্য হুমকি-ধমকি কোনো মতেই কোনো ফ্যাক্টর হতে পারে না।
সর্বোপরি বর্তমান সরকারের কর্মকাণ্ডে গতি সঞ্চার ও জনগণের প্রত্যাশা পূরণের লক্ষ্যে কয়েকটি বিশেষ কাজে দৃষ্টি দেয়ার জন্য আমি এই নিবন্ধের মাধ্যমে অনুরোধ রাখতে চাই।
১. দেশের কৃষিকর্মে বিজ্ঞানসম্মত চাষাবাদ প্রক্রিয়া শুরু করার উদ্যোগ প্রয়োজন। কৃষককূলকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বর্তমান যুগোপযোগী করে তুলতে হবে। ভরাট নদীগুলোকে খননের কাজে হাত দেয়া বিষয়টি নিয়েও ভাবতে হবে।
২. আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর আধুনিকায়ন দরকার। প্রয়োজনীয় যানবাহন, অস্ত্রসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সরঞ্জামে শক্তিশালী করতে হবে বিশ্বের সুসভ্য দেশের বাহিনীগুলোর আদলে।
৩. গৃহায়ন, যোগাযোগ ব্যবস্থা, ট্রাফিক কন্ট্রোল বিষয়গুলোতে প্রতিদিনই এগিয়ে যাচ্ছে গোটা বিশ্ব। অবৈধভাবে বহুতল ভবন নির্মাণ, অপরিকল্পিতভাবে বাসস্থান নির্মাণের বিরুদ্ধে কঠোরতম অবস্থান নিতে হবে সরকারকে। এ বিষয়ে যারা দুর্নীতির আশ্রয় নেয় বা নিচ্ছে- এদেরকে শাস্তির আওতায় আনতে হবে।
৪. বর্তমান সরকারের সময়কালেই তাদের অঙ্গীকারগুলোর পক্ষে কাজ করতে হবে। মনে রাখতে হবে নির্বাচন আরো আসবে। জনগণের কাছে, নেতাদেরকে যেতেই হবে ভোটের জন্য। এ সময়ে বিরোধী দলের সঙ্গে সরকারি দলের সহনশীল আচরণও একান্তভাবে কাম্য।
৫. ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার অন্যতম শর্ত হচ্ছে- পরিশ্রমী, মেধাবী মানবসম্পদ গড়ে তোলা। এ লক্ষ্যে শিক্ষার মান বাড়াতে হবে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে মেধাবীদেরকে সুযোগের দ্বার উন্মুক্ত করে দিতে হবে। বিদেশে অবস্থানরত মেধাবী বাঙালি পেশাজীবীদেরকে রাষ্ট্রের উন্নয়নে ভূমিকা রাখার সুযোগ দিতে হবে।
বাঙালি স্বপ্নবাজ জাতি। স্বপ্ন দেখেই যাচ্ছে। বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকার যদি বাঙালির এই স্বপ্নের সিকিভাগও পূরণ করতে সমর্থ হয়, তবেই তারা সার্থক হতে পারবে, সন্দেহ নেই।
-------------------------------------------------------------------------
দৈনিক ভোরের কাগজ, ঢাকা। প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী সংখ্যা
১১ জুন২০০৯ বৃহস্পতিবার প্রকাশিত।


ছবি- আলেকজান্ডার দ্রুম







সর্বশেষ এডিট : ১১ ই জুন, ২০০৯ সকাল ১০:০৬
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

লিখেছেন আঘাত প্রাপ্ত একজন, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:২৬

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

[সম্ভাবনার ক্রমানুসারে নয়ঃ]

আর্জেন্টিনা: আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ তার ডিফেন্স আর ইনজুরি । ৩৮ বছরের তরুণ(!) সেন্টারব্যাক ওতামেন্দি আর কমপক্ষে এক হালি হাফ-ফিট ফুটবলার নিয়ে ১৯ জুলাই পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলা সাহিত্যে জায়গা পাচ্ছেন ওসমান হাদী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১২ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:১৭


সংবাদপত্র যা বলছে
জাগো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১০ জুন ২০২৬ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যবই পরিমার্জন-সংক্রান্ত কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেকসহ... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

×