বিলাতে সাপ্তাহিক গুলো প্রকাশের পাশাপাশি বিভিন্ন দিবস উপলক্ষে
স্মরণিকা বের হতো। এই নিবন্ধের শুরুতে আমি কিছু নাম উল্লেখ করেছি,
যারা বিলাতের সাহিত্য ভুবন কে আলোকিত করেছেন বিভিন্ন সময়ে।
বিলাত থেকে ছোট কাগজ প্রকাশনায় কাজল রশীদ সম্পাদিত ''শব্দরূপ''
একটি দৃষ্টান্ত। এই লিটল ম্যাগ টি ই একটি পরিপূর্ণ ছোটো কাগজের দাবীদার। যদিও তা খুব সমৃদ্ধ ছিল না। এর পর যে ছোটো কাগজ টি
সমৃদ্ধ হয়ে প্রকাশিত হয় , তা হচ্ছে - ''শব্দপাঠ''। ''শব্দরূপ'' আনুষ্টানিক ভাবে বিলুপ্ত ঘোষনা করে '' শব্দপাঠ'' প্রকাশে ঐক্যবদ্ধ হন - আতাউর রহমান মিলাদ, আবু মকসুদ ও কাজল রশীদ। তারা তিনজন খুব দক্ষতার সাথেই এই কাগজ টি প্রকাশ করে যাচ্ছেন। পাশাপাশি গড়ে তুলেছেন,-প্রবাস প্রকাশনী । যে প্রকাশনী টি ইতিমধ্যে বেশ কিছু সৃজনশীল, মননশীল গ্রন্থ প্রকাশ করেছে।
............................................
এখানে বলে নেয়া ভালো , বিলাতে সাহিত্যচর্চা একটা নবতর প্রাণ পেয়েছে ১৯৯০ সালের পরে। কিছু সিনিয়র সাহিত্যিক , আব্দুল গাফফার
চৌধুরী , কাদের মাহমুদ, অমরনাথ চক্রবর্তী ,আব্দুল মতিন, তাসাদ্দুক আহমদ, -এঁদের হাত ধরে এগিয়েছেন ফরীদ আহমদ রেজা, শামীম আজাদ, আতাউর রহমান মিলাদ , সফিয়া জাহির, রেণু লুৎফা, মুকিদ চৌধুরী , সিকদার কামাল , সৈয়দ শাহীন,আব্দুল মুখতার মুকিত, আ ম নেসওয়ার, আজম ফারুক, তাবেদার রসুল বকুল প্রমুখ ।
এখানে উল্লেখ করা দরকার, গোলাম মুরশিদ বিশিষ্ট সাহিত্যিক হলেও
তিনি সব সময়ই থেকেছেন গণবিচ্ছিন্ন। ফলে , বিলাতের পাঠকের প্রতি
দায়বোধ তিনি কখনও দেখিয়েছেন বলে আমার মনে হয় নি। বরং না না
রকম বিতর্ক তৈরি করে বাজার ধরার অপচেষ্টা করেছেন।
..............................................
বিলাত থেকে বিশেষ করে কবিতা নিয়ে একাধিক সংকলন এর আগেও
বেরিয়েছে। আজ যারা কবিতা লিখছেন , কিংবা সাহিত্য জগতে পদচারণার প্রস্তুতি নিচ্ছেন , তাদের সেসব ইতিহাস জানা দরকার বলে মনে করি। তা জানলে - তারা শুধু উপকৃতই হবেন না, নিজেকে তৈরী
করতে পারবেন সময় উপযোগী করে।
এই নবীন পাঠকরা যদি '' এখানে একুশ '' নামের স্মরণিকাটি না পড়েন তবে জানতে পারবেন না , ১৯৮০ দশকে কিভাবে পালিত হতো বিলাতে একুশ । কে কি লিখতেন সে সময়ে ।
এখানে আরো দুটি স্মরণিকার কথা উল্লেখ করা খুব দরকারি ।
সেগুলো হচ্ছে - '' কবিতার মত একুশে ফেব্রুয়ারি '' / সম্পাদক মাসুদ আহমেদ , জুলাই ১৯৮৮ । এবং ''পূর্বদেশ'' / সম্পাদক রেণু লুৎফা ,
ডিসেম্বর ১৯৯৬।
...........................................
এই সময়ে বিলাতের ছড়া গগণ কে উজ্জ্বল করে যারা রেখেছেন , তাদের
মাঝে উল্লেখযোগ্য নাম - দিলু নাসের । বিশেষ করে এরশাদ বিরোধী
আন্দোলনে, দেশের গণতান্ত্রিক মানুষের প্রত্যাশার পক্ষে দিলু নাসের সব সময়ই থেকেছেন সোচ্চার। এমন সপ্তাহ ও দেখা গেছে , দিলু নাসেরের
ছড়া গুরুত্বের সাথে ছাপা হয়েছে বিলাতের একাধিক সাপ্তাহিকের
শেষ পৃষ্টায়। ছড়া লিখে সুনাম কুড়িয়েছেন - রব্বানী চৌধুরী ও।
পরবর্তী সময়ে , শাহাদত করিম ও এসে যোগ দিয়েছেন এই কাফেলায়।
..........................................
বিলাতের কবিদেরকে নিয়ে যে সব কবিতার সংকলন প্রকাশিত হয়েছে,
এর মাঝে '' বৃটেনে কবি ও কবিতা '' / সম্পাদক - তাবেদার রসুল বকুল।
প্রকাশ কাল - ১ জুন ১৯৯৯।
এই গ্রন্থটির সূচি আমি এই নিবন্ধের সাথে যোগ করছি।
প্রিয় পাঠক- পাঠিকা , দয়া করে আপনারা ঐ সূচিটার দিকে একটু নজর
বুলাবেন। ওখানে যারা লিখেছিলেন , কিংবা যাদের কবিতা স্থান পেয়েছিল, তারা সবাই এখন কি লেখালেখিতে সক্রিয় আছেন ?
না - নেই। অনেকেই এখন কালের অতলে হারিয়ে গেছেন। অথবা বলা
যায় তারা মৌসুমী কবি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলেন। মহাকাল তাদেরকে গ্রহণ করে নি।
তাই বলি, সাহিত্য নিয়ে উচ্চকন্ঠ হওয়ার কোনো কারণ নেই।
অতিপ্রগতিবাদী সেজে যারা লেখালেখির শব্দায়নে অন্যের নির্মল
চরিত্র হননের পাঁয়তারা করেন , এরা মানবতার শত্রু। কবিতার শত্রু।
কবিতা ধ্যানের বিষয়। নগ্নতার শিল্পিত প্রকাশ হতেই পারে। কিন্তু
হিন্দি গানের কলি কবিতার রসদ করে যারা দাঁত বের করে হাসার চেষ্টা
করেন , তাদেরকেও কি আমরা কবি বলবো ?
কবিতা বলবো ?
( চলবে ..........)
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই আগস্ট, ২০০৯ রাত ১২:৩০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




