আমার প্রিয় পোস্ট
- "একটি FB স্ট্যাটাস, কিছু মন্তব্য এবং চ্যানেল আই" - শ খি আ ঈয়ন
- হরফের জলসৌধ - ফকির ইলিয়াস
- মেঘলা মাঘের মুখ - ফকির ইলিয়াস
- সামাজিক সামন্তবাদের দস্যুতা - ফকির ইলিয়াস
- ছবিগুলা কী খারাপ হইলো ? - ফকির ইলিয়াস
- যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে উত্তাল হওয়া সেই দিনগুলির কথা - পথে প্রান্তরে
- মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিঃ আমাকে আঁকড়ে ধরেছিলেন আমার মা - ফকির ইলিয়াস
- দ্বিতীয় বিপ্লব বা বাকশাল : শুনুন বঙ্গবন্ধূর মুখেই - অমি রহমান পিয়াল
- আত্মজীবনীর রঙিন পৃষ্টা - আবু মকসুদ
- কম্পমান পৃথিবীর ছায়া - ফকির ইলিয়াস
- অন্তঃশীল - তমিজ উদ্দীন লোদী
- কথার স্বরবীজ - ফকির ইলিয়াস
- সাহায্য চাই : মন্তব্যের সাথে ছবি যোগ করা যায় কিভাবে ? - ফকির ইলিয়াস
- নেমে যাও শোকপাথর - ফকির ইলিয়াস
- দেশপ্রেমিক ধনিক শ্রেণী ও দরিদ্রতম মুক্তিযোদ্ধারা - ফকির ইলিয়াস
- আলোর জন্য মানুষের তৃষ্ণা - ফকির ইলিয়াস
- বিক্রীত জীবন ও সভ্যতার বিন্যস্ত নখর - ফকির ইলিয়াস
বিক্রীত জীবন ও সভ্যতার বিন্যস্ত নখর
১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সকাল ৮:৩২
বিক্রীত জীবন ও সভ্যতার বিন্যস্ত নখর
ফকির ইলিয়াস
====================================
সময় পেলেই আমি আমার দুই মেয়েকে নিয়ে বিভিন্ন অভিজাত গ্রন্থবিপণি ঘুরে আসি। নিউইয়র্কে 'বার্নস এন্ড নবলস'-এ আমাদের যাওয়া হয় প্রায় প্রতিমাসেই। বই কেনা, বইপড়া আমার নেশা। আমার দুই মেয়েও বই কিনতে, পড়তে ভালবাসে। আমি তাদের বই কিনে দিতে কখনই কার্পণ্য করি না। সাধারণত 'বার্নস এন্ড নবলস'-এ গেলে আমি আমার পছন্দমতো বইয়ের সেকশনগুলো ঘুরে দেখি। কখনও সেখানে ফ্লোরে বসেই পড়া শুরু করে দেই।
সেদিনও গিয়েছিলাম বই দেখতে, বই কিনতে। ঘুরতে ঘুরতে একটি বইয়ে আমার দৃষ্টি গিয়ে থামল। বইয়ের প্রচ্ছদটিই আকর্ষণীয়। একজন ভারতীয় টিনএজের ছবি। হাতে নিয়ে বইটি পড়া শুরু করলাম। বইটির নাম- সোল্ড (SOLD)। অর্থাৎ বিক্রীত কিংবা যা বিক্রয় হইয়াছে। বইটি কবিতার। ফলে আমার আগ্রহ বেশ বেড়েই গেল। বইটি লিখেছেন-প্যাট্রিশিয়া ম্যাককরমিক। খুব খ্যাতিমান কেউ, এমনও নয়। তারপরও কাব্যগ্রন্থটি উঠে এসেছে বেস্ট সেলারে। পেয়েছে পুরস্কারও।
সূচনাতেই বলা হয়েছে, গ্রন্থটি লিখতে গিয়ে লেখিকা ভারত এবং নেপাল সফর করে দীর্ঘ সময় কাটিয়েছেন। তার অভিজ্ঞতালব্ধ চিত্রই ফুটে উঠেছে গোটা গ্রন্থের পঙ্ক্তিমালায়।
গ্রন্থটির অন্যতম চরিত্র ''লক্ষ্মী ''নামের একজন কিশোরী। হিমালয়ের তান্ডবে ওদের শস্যজমি বিনষ্ট হয়ে যায় পুরোপুরি। সংসারে সৎপিতার তদারকি ছিল। শুরু হয় চরম টানাপড়েন। একদিন সৎপিতা লক্ষ্মীকে তুলে দেয় একটি দুষ্টচক্রের হাতে। লক্ষ্মীকে বলা হয় ওকে কাজের খোঁজে পাঠানো হচ্ছে। কিন্তু ক'দিন পরই লক্ষ্মী বুঝতে পারে ও বিক্রি হয়ে গেছে। তাকে লিপ্ত করানো হয় আদিম পেশায়। লক্ষ্মীর জীবনে নেমে আসে মুখোশপরা সমাজের পাশবিক নির্যাতন। একজন কিশোরী লক্ষ্মীর জীবনযাত্রা শুরু হয় এমন অশুভবৃত্তির মাধ্যমেই।
এই গ্রন্থটিতে আরও বেশকিছু চরিত্রের বর্ণনা আছে। ওদের নাম- শাহানা, শিল্পা, প্রিয়া ইত্যাদি। ওদের নিয়ন্ত্রণ করে 'মমতাজ' নামের এক প্রৌঢ়া। সুপ্রিয় পাঠক-পাঠিকা, একটু খেয়াল করলেই দেখবেন, এমন দৃশ্যকল্প নতুন কিছু নয়। গণিকাবৃত্তি এভাবেই নিয়ন্ত্রিত হয়ে থাকে। তারপরও একজন মার্কিনি কবির বর্ণনায় এই 'বিক্রীত জীবন' উপাখ্যান এত বাজার পাচ্ছে কেন? তার একটিই কারণ, গ্রন্থটির লেখিকা তার লেখার প্লট হিসেবে থার্ড ওয়ার্ল্ডকে বেছে নিয়েছেন। ভারত-নেপাল অঞ্চলটি হয়ে উঠেছে তার অন্যতম পছন্দ।
ধনী-সভ্য দেশগুলো, তৃতীয় বিশ্বকে তাদের পর্যবেক্ষণের মাঠ হিসেবে দীর্ঘ সময় থেকেই বিবেচনা করে আসছে। ওই অঞ্চলের মানুষের জীবন, মন, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গও কখনও হয়ে উঠেছে তাদের খুব বেশি 'এক্সপেরিমেন্টাল সাবজেক্ট/ অবজেক্ট '। জীবনকে বাঁচানোর বদলে, বরং জীবনকে কেটে ছিঁড়ে তাদের তত্ত্বজ্ঞান প্রতিষ্ঠায়ই ব্রত হয়েছে কোন কোন মহল। যা মানবতাকে শুধু হত্যাই করেনি, কলঙ্ক লেপে দিয়েছে গোটা মানব সমাজের চোখে-মুখে।
'সোল্ড' গ্রন্থটিতে গ্রন্থকার যে বর্ণনার বুনন নির্মাণ করেছেন তা কি ইউরোপ আমেরিকায় নেই? হ্যাঁ, এখানেও আছে। তারপরও প্রাচ্যের কোন লেখকের কলম দিয়ে সমাজের পচন কিংবা ধর্মের দিকগুলো তুলে ধরিয়ে বাজার মাত করার চেষ্টা কেন হচ্ছে? তার প্রধান কারণ দুটি। প্রথমটি হচ্ছে বিশ্বে মোড়লিপনা ধরে রাখা। আর দ্বিতীয়টি হচ্ছে, মুনাফার বাণিজ্য বর্ধন। এ প্রসঙ্গে আমি একটি ঘটনার কথা বলি। যুক্তরাষ্ট্রের একজন সাংবাদিক চার্লস জিরহাম এক আড্ডায় জানাচ্ছিলেন তার মস্কো সফরের অভিজ্ঞতার কথা।
তিনি ১৯৭৭ সালে সে সময়ের বৃহৎ সোভিয়েত ইউনিয়ন সফর করেন। চার্লস তার অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, কমিউনিজমের সে সময়ের তীর্থস্থান সোভিয়েত ইউনিয়নে বাড়তি দুটো ডলারের জন্য তরুণীরা উদগ্রীব থাকত। অনেক মার্কিনী ধনকুবের পর্যটকরা সেই আয়েশ গ্রহণের জন্য ছুটে যেতেন মস্কো অভিমুখে। পুঁজিবাদী যুক্তরাষ্ট্রের ডলার এভাবেই গিয়ে হাতে হাতে উড়ত মস্কোর গণিকামহলে।
ধরা যাক এই যুক্তরাষ্ট্রের কথাই। এখানে কি টিনএজরা সামাজিক সভ্যতার বিন্যস্ত নখর থেকে সম্পূর্ণ নিরাপদ? না, নিরাপদ নয়। মধ্যরাতের টিভিতে 'মিসিং কিডস্' এর ছবিসহ বিবরণ দেখলে গা শিউরে উঠে। পনেরো-আঠারো বছরের কিশোরী। ২০০১ থেকে নিখোঁজ রয়েছে! মানব-শিশুকল্যাণ সংস্থার এমন বিজ্ঞাপন দেখলে পাঁজর ভেঙে যায়। একজন পিতা হিসেবে চোখ জলে ভেসে যায়! হায় জীবন! ন' বছর ধরে নিখোঁজ মেয়েটি এখন কোথায় আছে? কেমন আছে? বেঁচে আছে কি? এমন অনেক ভাবনা মাথায় ঘুরপাক খায়।
অপ্রাপ্ত বয়স্কদের যৌন নির্যাতনে বাধ্য করতে তৃতীয় বিশ্ব এবং প্রথম বিশ্বের মাঝে একটি পার্থক্য আছে। তা হচ্ছে আইনি বাধ্যবাধকতা এবং আইনি সহায়তা। তৃতীয় বিশ্বে বাল্যবিবাহ, শিশু নির্যাতন, সামাজিক অনাচারের সুবিচার হয় না। সুবিচার পাওয়া যায় না। প্রথম বিশ্ব সে বিষয়ে অত্যন্ত সোচ্চার ও সজাগ। ফলে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোও সেবা দিতে সর্বদা প্রস্তুত। তারপরও প্রথম বিশ্বে মানুষের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ চুরি, পাচার, গ্রেভইয়ার্ড থেকে মৃত মানুষের হাড়গোড়-খুলি চুরি, সমাধি থেকে মূল্যবান ধাতু নির্মিত ফলকগুলো চুরির মতো জঘন্যতম ঘটনাও ঘটছে। সেসব ঘটনার খন্ডচিত্র তৃতীয় বিশ্বের মানুষ খুব কমই জানছে, জানতে পারছে। কারণ তা দেখার জন্য, দেখে গ্রন্থ লেখার জন্য যে সাধ্যের দরকার তা নেপাল কিংবা বাংলাদেশের একজন দরিদ্র লেখকের নেই। অথচ মার্কিন লেখিকা প্যাট্রিশিয়া ম্যাককরমিকের সে সাধ্য আছে বলেই তিনি গ্রন্থ লেখার অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য ভারত-নেপাল ছুটে যেতে পারছেন। অথবা তার প্রকাশনা সংস্থা স্পন্সর করে, খরচ দিয়ে তাকে নির্দিষ্ট অঞ্চলে পাঠাচ্ছে। নিজেদের সহস্র অন্ধকার মিথ্যায় ঢেকে, তৃতীয় বিশ্বকে তুলে ধরা হচ্ছে, প্রথম বিশ্বের কাছে চরম মানবতাবিরোধী ভূখন্ড হিসেবে। ফলে ভারত-নেপাল-বাংলাদেশের যে প্রজন্ম যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা কিংবা ইংল্যান্ড-ফ্রান্সে জন্মেছে, তারও বিরূপ ধারণা হচ্ছে পিতা-পিতামহের শিকড় সম্পর্কে। প্রপিতামহের নাড়িপোঁতা সেই রাষ্ট্রভূমি সম্পর্কে।
বিশ্বের চারপাশে ঘটে যাওয়া অমানবিক, অমর্যাদাকর, বর্বর ঘটনাবলির দৃশ্যচিত্র একজন কবি কিংবা লেখক তার লেখায় তুলে আনতেই পারেন। কিন্তু এসব স্থাবর কাঁটাগুলো দূর করবে কে? দূর করতে এগিয়ে আসতে হবে রাষ্ট্রপক্ষকে। পারস্পরিক সৌহার্দ্য, রাষ্ট্রীয় আইনের উপাদান বিনিময়, সংহতির শক্তিচর্চা সর্বোপরি মানবিক বিবেক জাগ্রত করে তোলার মাধ্যমেই এসব সামাজিক অনাচার রোধ করা সম্ভব।
আমরা দেখছি, নন-গভর্নমেন্ট অর্গানাইজেশন (এনজিও) এর নামে পাশ্চাত্যের একটি শ্রেণী প্রাচ্যে গিয়ে কর্মকান্ড চালালেও নেপথ্যে এক ধরনের শোষণের মনোবৃত্তি লালন করছে কেউ কেউ। এমন মানসিকতার চির অবসান প্রয়োজন। বিক্রীত মানব জীবনকে উপজীব্য করে যারা যশ এবং অর্থ দুটোর পেছনে ছুটছেন, তাদের অজানা নয় মানবতাবোধই বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ শক্তির নাম। কিন্তু তারা তার পরিচর্যা করছেন না।
বিক্রীত জীবনের গ্লানি আমাদের যেমন পীড়া দেয়, ঠিক তেমনি সভ্যতার বিন্যস্ত নখরও আমাদের আতঙ্কিত করে তোলে সমানভাবে। একজন কবি যেমন সুন্দরের পূজারি, একজন কৃষকও তেমনি সুন্দরের বিবর্তক। তার ফলানো ফসলের হাসি, ধানচারার সবুজ মাঠে বয়ে যাওয়া ঢেউ আমাদের আশায় নবতর দোলা দিয়ে যায়। রাষ্ট্র ও সমাজের প্রধান শত্রু 'দারিদ্র্য' 'অভাবের তাড়না'-ই সৃষ্টি করে ক্ষত। তাই আবারও বলি, দারিদ্র্যমুক্ত বিশ্বই হতে পারে প্রজন্মের শ্রেষ্ঠ আশ্রয়।
নিউইয়র্ক , ১৫ সেপ্টেম্বর ২০০৯
--------------------------------------------------------------------
দৈনিক সংবাদ। ১৮ সেপ্টেম্বর ২০০৯ শুক্রবার প্রকাশিত
বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
সুমিন শাওন বলেছেন:
বইটি পড়ার ইচ্ছা থাকলো, কবিকে ধন্যবাদ
লেখক বলেছেন: হাঁ , পড়বেন। ভালো থাকুন ।
লেখক বলেছেন: পড়ার জন্য অশেষ ধন্যবাদ ।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ আপনাকে ।
তমিজ উদ্দীন লোদী বলেছেন:
বই এবং বইটির বিশ্লেষণ উভয়ই ভালো লাগলো।
লেখক বলেছেন: অশেষ ধন্যবাদ
আহমাদ অব্দুল্লাহ বলেছেন:
আপনার দরদী মন ও স্বাধীনচেতা স্বত্মার প্রতি সালাম। আশাকরি আপনার লেখকস্বত্মা সময়মত এসবের জবাব দেবেই....
লেখক বলেছেন: সত্য বলে যেতেই হয় ।
শুভেচ্ছা নিন ।
লেখক বলেছেন: সেটাই বাস্তবতা এবং নিঠুর ।
ধন্যবাদ
আসিফবিডি৫৯ বলেছেন:
অস্বীকার করবোনা আমদের আর্থ-সামাজিক দুর্বলতাকে পুঁজি করেই প্রাচ্যের লেখকরা তাদের গল্প লেখার প্লট খুঁজে পায় অথবা প্লট খুঁুজতে গাঁটের পয়সা খরচ করে এখানে আসে। কিন্তু কেন। মূলত এটাতো সত্যি যে, আমাদের আর্থ-সামাজক অবস্থা আর অতিমাত্রায় পরনির্ভরতা আমাদেরকে এ অবস্থায় দাড় কারিয়েছে। গত কয়েক বছরে প্রাচ্যের অর্থায়নে পরিচালিত এনজিওগুলোর ক্রমাগত নেতিবাচক প্রচারণাও এরসাথে যোগ করেছে নতুন মাত্রা। আর এটাওতো ঠিক আমাদের দৈন্যদশা অতিমাত্রায় প্রচারিত না হলেতো সেখানকার ধনীরাতো এনজিওদের সাহায্যের নামে পয়সা দেবে না। সোল্ড-এর লক্ষ্মীর মত মেয়েরা অহরই বিক্রি হচ্ছে। পাক-ভারত উপমহাদেশের সর্বত্রই শাহানা, শিল্পা আর প্রিয়ারা পাচার হচ্ছে অথবা বিক্রি হচ্ছে। বলাবাহুল্য তাদের ঠাঁই হচ্ছে আদিম পেশার মত এক ভয়াবহ কর্মকান্ডে। সর্বত্রই মমতাজের মত মাসীরা তাদের নিয়ন্ত্রণ করছে। ক্ষেত্রবিশেষ এদের কেউ কেউ প্রাচ্যেও চলে যাচ্ছে। কিন্তু কেন, কারণতো একটাই আর্থ-সামাজিক নিরাপত্তার অভাব। পার্শ্ববর্তী দেশ ছাড়াও ইদানিং যোগ হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের ধনকুবেরদের মনোরঞ্জনের জন্য তথাকথিত হাউজমেটের নামে মানব পাচার। আমদের দেশের চেয়েও অনেক অনেক বেশি কদাচার কিন্তু এসব দেশে হচ্ছে। আপনার লেখায়ই তা ফুটে ওঠেছে। মিসিং কিড নামে ৮ বছর ধরে সন্তôান হারানোর বিজ্ঞাপন প্রচারইতো এর বড় উদাহরণ। এছাড়া আরো যেসব অজাচার সেখানে ঘটে তার বিবরণ দিতে হলোতো মহাভারত হয়ে যাবে। তারপরও কিন্তু তারা আমাদের ছিদ্র ধরতেই গাঁটের পয়সা খরচ করে এখানে আসে। এটাকে কি বলবো? নিজেদের অপরাধ আড়াল করতেই কি তারা আমাদের দুর্বলতাকে পুঁজি করে এমন উলম্ফন দেখান। মানবাধিকারের ধড়্গজাধারী বলে নিজেদের ওরা যতই জাহির করুক সেখানেইতো মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ড সবচেয়ে বেশি ঘটে। আর এসবের প্রমাণতো আপিন নিজেই উপলদ্ধি করতে পারেন যেহেতু, সেখানে বসবাস করেন। আমার এক প্রবাসী জার্মান বন্ধু সেদিন আমার কাছে লেখা এক মেইলে লিখলেন, তার দেখা একটি মেয়ে কয়েকদিন আগে ভায়বহ এইডস রোগে আক্রান্তô হয়ে তাঁর চোখের সামনেই মৃত্যুবরণ করেছে। মৃত্যুর আগে মেয়েটি ডাক্তারের কাছে কনফেশন দিয়ে গেছে এই বলে যে, তার এইডস রোগের একমাত্র কারণ তার জন্মদাতা পিতা। বন্ধুটি আরো লিখেছে, শুধু এইডস রোগে মৃত্যুর কারণে এই মেয়েটির বিষয় বাইরে এসেছে। অথচ এ দেশে এটি নাকি খুবই স্বাভাবিক ঘটনা। অনেক মাই নাকি তার মেয়েকে নিজের স্বামীর কাছ থেকে রক্ষা করতে পারে না। অথচ তথাকথিত ওই সব সভ্যতার ধারকরাই আমাদের দেশে নিজের গাঁটের পয়সা খরচ করে আসেন লেখার প্লট খুঁজতে।
লেখককে ধন্যবাদ এমন একটি বই সম্পর্কে আমাদেরকে জানানোর জন্য। লেখাটি সত্যি খুব ভালো লেগেছে।
লেখক বলেছেন: অশেষ ধন্যবাদ আপনাকে ।
এই বাস্তবতা ও মানসিকতার পরিবর্তন না এলে
সমাজে মুক্তি আসবে না ।
লেখক বলেছেন: থ্যাংকস ।
নীলবকুল বলেছেন:
খুব ভালো লাগলো । বড় সত্য প্রকাশিত হয়েছে এই লেখায়
লেখক বলেছেন: পড়ার জন্য ধন্যবাদ ।
প্রথম বিশ্বে যতোই আইনী গন্ডি দেয়া থাকুক, তাদের ঘরের অপরাধের সীমা-পরিসীমা নেই। আমার একটা রিপোর্ট করতে গিয়ে ২০০৭ সালের রিসার্চ ওয়র্কের একটা সেকেন্ডারী ডাটায় পাই যে এ্যামেরিকার প্রায় ৬৫% মেয়ে নিজের আপন বাবাদের দ্বারা রেইপড্। গণিকাবৃত্তি যাদের ঘরে ঘরে এতোটা নোংরাভাবে গড়ে উঠেছে সেখানে বাইরে যাবার প্রয়োজন পড়ে না। পশ্চিমা বিশ্বের আরো অনেক নোংরামী-ই ওদের রিয়েলিটি শোগুলোতেও উঠে এসেছে। কিন্তু ঔদ্ধত্ব, ঐশ্বর্য আর ভদ্রতার মোটা মুখোশের নিচে ধামাচাপা পড়ে থাকে সেসব। আর সেসব আঙুল তুলে দেখানোর মতো কেউ নেই। এটাই সবচে' দুঃখজনক ঘটনা।
অসাধারণ যৌক্তিক ব্যবচ্ছেদ। বইটা পড়ে দেখবো। পোস্ট ভাল লাগলো।
লেখক বলেছেন: আপনি ঠিকই বলেছেন। মানবিক মূল্যবোধের জয় হোক ।
ধন্যবাদ
নেক্সাস বলেছেন:
তারপরও একজন মার্কিনি কবির বর্ণনায় এই 'বিক্রীত জীবন' উপাখ্যান এত বাজার পাচ্ছে কেন? তার একটিই কারণ, গ্রন্থটির লেখিকা তার লেখার প্লট হিসেবে থার্ড ওয়ার্ল্ডকে বেছে নিয়েছেন। ভারত-নেপাল অঞ্চলটি হয়ে উঠেছে তার অন্যতম পছন্................কবি আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ ।
অসাধারন লিখনীতে বাস্তবতার ব্যবচ্ছেদ।
লেখক বলেছেন: লেখাটা আমাকেও ভাবিয়েছে বহু বার । আমি অনেক লিখেছি , লিখি।
কিন্তু এই লেখাটা আমাকে জাগ্রত করেছে অন্যভাবে ।
আপনাকে অশেষ ধন্যবাদ পড়ার জন্য ।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
















