ফকির ইলিয়াস
========================================
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দিলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বাংলা ভাষায় রাখলেন তার ৩৪ মিনিটের বক্তব্য। চাইলেন, রাষ্ট্র সমূহের সমান অধিকার। জাতির জনকের পথ অনুসরণ করে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ ২০০৮ এর নির্বাচনে যে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে, জাতিসংঘ ভাষণে সেই চেতনার অনুরণন ঘটালেন শেখ হাসিনা। বললেন, সন্ত্রাসমুক্ত বিশ্বের জন্য সবাইকে কাজ করতে হবে একযোগে। বিশ্ব এখন এক আতঙ্কের মুখোমুখি। এর প্রধান সংকটটি হচ্ছে জঙ্গিবাদ। একটি গুপ্ত ঘাতক ছায়া তাড়া করে ফিরছে বিশ্বের শানি-কামী মানুষকে। ‘শান্তির জন্য ঐক্যবদ্ধ হোন’ এই শ্লোগান নিয়ে সমস্বরে কথা বলছেন বিশ্ব নেতৃবৃন্দ। এবারের জাতিসংঘ অধিবেশনে আসা ধনী রাষ্ট্রের জি-২০ ভুক্ত নেতারাও গুরুত্ব দিয়েছেন এই সমস্যাটিকে।
শান্তি না থাকলে উন্নয়ন সম্ভব হয় না। স্থিতিশীলতা না থাকলে মানুষ কর্মদ্যোমী হতে পারে না। তাই আজ যারা পেছন থেকে ছুরিকাঘাত করে মানুষের পথ চলাকে থামিয়ে দিতে চাইছে এরা সভ্যতার শত্রু, মানতার শত্রু।
বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে খুবই সীমিত শক্তি ও সামর্থের অধিকারী। এই সামর্থ এবং শক্তি নিয়েই দাঁড়াতে চায় বাংলাদেশ বিশ্ব সভ্যতার উন্নয়নে। কথাটি খুব জোর দিয়েই বলেছেন শেখ হাসিনা এবারের যুক্তরাষ্ট্র সফরকালে।। দেখে আপ্লুত হয়েছি, অভিবাসী বাংলাদেশী এবং বিদেশী বিনিয়োগকারীদেরকে নিয়ে যে সভাটি প্রধানমন্ত্রী করেছেন, সেখানে উদার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। এই সভাটির সমন্বয়ক এর দায়িত্বে ছিলেন প্রধামন্ত্রীর পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়। সভাটির মডারেটর হিসেবে খুব বিচক্ষণতা এবং দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন তিনি। বিনিয়োগকারীদেরকে জানিয়েছেন বাংলাদেশের বাণিজ্যের সম্ভাবনা, উজ্জ্বল ভবিষ্যতের কথা। এটা আমরা জানি, সজীব ওয়াজেদ জয় লেখাপড়া করেছেন যুক্তরাষ্ট্রে। উচ্চতার ডিগ্রী নিয়েছেন এখানেই। প্রযুক্তিরমুক্ত ও সৃজনশীল পরশে সমৃদ্ধ তার মনন। বর্তমান সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার যে স্বপ্ন দেখছে এর নেপথ্য কর্মী হিসেবেও ভূমিকা রাখছেন জয়। তা ক্রমশ: ই স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর পাশে বসা জয়ের ছবি দেখে অনেকে প্রশ্ন করছেন, জয় কি করে রাজনীতিতে আসছেন ? আমি মনে করি, হ্যাঁ তিনি রাজনীতিতে আসছেন। তার আসার এই সম্ভাবনা ক্রমশ : উজ্জ্বলতার হচ্ছে। একটা কথা বলে নেয়া দরকার জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র হিসেবে নয়, বর্তমান আধুনিক বিশ্বের প্রেক্ষাপটে সজীব ওয়াজেদ জয়, বাংলাদেশের রাজনীতির মাঠে একজন মননশীল মানুষ হিসেবেই নিজেকে প্রতিষ্ঠা করতে পারেন।
একজন রাজনীতিক গণমানুষের কাছাকাছি ভিড়তে পারেন তার যোগ্যতার বিচারে। আর তা অর্জন করতে হয় শিকড়রের সংস্পর্শের মাধ্যমেই। দীর্ঘ অধ্যবসায়ের মাধ্যমেই একজন রাজনীতিক একটি জাতির রোডম্যাপ করে যেতে পারেন সৎ ধ্যান ধারণার মাধ্যমে। যেভাবে বঙ্গবন্ধু বাঙ্গালী জাতির স্বাধীনতার স্বপ্নটি কাছাকাছি পৌঁছতে পেরেছিলেন।
বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় হতে পারেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ রেহানাও। সে সম্ভাবনাও ক্রমশ : উজ্জ্বল হচ্ছে। এবারের জাতিসংঘ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর সফর সঙ্গী হিসেবে শেখ রেহানা ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন। অবলোকন করেছেন, বিশ্ব নেতৃবৃন্দের সাথে রাষ্ট্রীয় আলাপচারিতা। এটা আওয়ামীলীগের জন্য সুখবর তো বটেই।
গেল ন’মাসে মহাজোট সরকার কতোটা সৃজনশীল কাজ করছে কিংবা করতে পারছে তার হিসেবটি সামনে রেখে এগুতে হবে সরকারকে। মনে রাখতে হবে, সরকারে একটা গৃহদাহ ঘটাবার লোকের অভাব নেই। মোটেও। এরা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুরে সময় ছিল। শেখ হাসিনার সময়েও আছে। খন্দকার মোশতাকের মতো মীর জাফররা কিভাবে ষড়যন্ত্রের নেপথ্যে ছিল তাও ভুলে যায়নি জাতি।
সেই পথ ধরেই আরেক জন নেতা সদ্য নিজ দলের বিরুদ্ধে, দলের সভাপতির বিরুদ্ধে নানা বিষোদগার করতে মিশন নিয়ে মাঠে নেমেছেন। তিনি আব্দুল জালিল। তার অতীত পচিয় দেশবাসীর অজানা নয়। ‘ডেটলাইন ৩০ এপ্রিল’ দিয়ে তিনি ব্যাপক সমালোচিত হয়েছিলেন। এরপর ওয়ান ইলেভেনের সাঁড়াশি অভিযানে তিনি বন্দী হন। রাজনীতি ছেড়ে দেবার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। জেল থেকে ছাড়া পেয়ে আবার রাজনীতিতে ঝেকে বসার প্রত্যয়ী হন।
তথাকথিত ‘মত প্রকাশের স্বাধীনতা’র নামে আব্দুল জলিল ইংল্যান্ডে যা বলেছেন, তা দলের আদর্শ ও চেতনার পরিপন্থী। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন যদি আতাতের নির্বাচন ই হয় তবে তিনি ঐ নির্বাচনে এমপি হলেন কিভাবে ? আব্দুল জলিল তো নিজের পায়েই কুড়াল মারলেন। কেন মারলেন ?
এর নেপথ্য উদ্দেশ্য কি ?
আব্দুল জলিল পূর্ববর্তী আওয়ামীলীগের সরকারের দাপটশালী বাণিজ্য মন্ত্রী ছিলেন। নিজে ‘মার্কেন্টাইল ব্যাংক’ গড়েছেন। মন্ত্রী থাকাকালেই তার বিরুদ্ধে নানা দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতির অভিযোগ ছিল। তিনি সে সব ঢেকে দেবার জন্যই কি এখন নিজ দল ও সরকারের বিরুদ্ধে আবোল তাবোল বলছেন ?
তিনি দলীয় নেত্রী, বঙ্গবন্ধু শেখ রেহানার বিরুদ্ধে যা বলেছেন, শুধু তাই নয়, নিজ দলের বিরুদ্ধে যা বলেছেন, তারপর ঐ দলের সাধারণ সদস্য পদ থাকার অধিকার তার কাছে কিনা তা প্রশ্নবিদ্ধ। যা আওয়ামীলীগের শত্রু পক্ষও বলছে না, সেটাই বলেছেন জলিল। তার নেপথ্য উদ্দেশ্য কি,-তা খোঁজে দেখা দরকার।
আওয়ামীলীগ এবং বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছেই। এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। মনে রাখা দরকার, সময় পরিবর্তনশীল। একজন আধুনিক তরুণ হিসেবে সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম আওয়ামীলীগের যোগ্য সাধারণ সম্পাদক-এ বিষয়ে কারো সন্দেহ থাকার কথা নয়। তারপরও জলিলের গাত্রদাহ স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে তিনি ব্যক্তি সুবিধা না পেয়ে দলের হাই কমান্ডকে কটাক্ষ করছেন। বিশ্ব শানি-তে বাংলাদেশের অংশীদারিত্ব যেমন দরকার, তেমনি দরকার ভবিষ্যতের বাংলাদেশের জন্য সুযোগ্য নেতৃত্ব। দুটি বিষয়ের সমান্তরাল সমন্বয় প্রয়োজন জরুরী ভিত্তিতে।
----------------------------------------------------------------
দৈনিক উত্তরপূর্ব । সিলেট । ৩ অক্টোবর ২০০৯ প্রকাশিত
ছবি- ডন ম্যাকগুরি
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই অক্টোবর, ২০০৯ সকাল ৮:১৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




