somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

ফকির ইলিয়াস
আলোর আয়না এই ব্লগের সকল মৌলিক লেখার স্বত্ত্ব লেখকের।এখান থেকে কোনো লেখা লেখকের অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ, ছাপা, অনুলিপি করা গ্রহনযোগ্য নয়।লেখা অন্য কোথাও প্রকাশ, ছাপা করতে চাইলে লেখকের সম্মতি নিতে হবে। লেখকের ইমেল - [email protected]

স্বাধীনতা পদক: শিবনারায়ণ দাশ ও আমাদের দায়ভার / আহমেদ শরীফ শুভ

১৭ ই নভেম্বর, ২০০৯ সকাল ১০:১১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এই লেখাটির সাথে আমি একমত পোষণ করছি।
সরকারের উচিৎ এই মহান মানুষটিকে মূল্যায়ন করা ।

স্বাধীনতা পদক: শিবনারায়ণ দাশ ও আমাদের দায়ভার
আহমেদ শরীফ শুভ

==================================
২০১০ সালের স্বাধীনতা পদকের জন্য সচিবলায়ের কর্মকর্তাদের কাছে সম্প্রতি মনোনয়ন আহ্বান করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাদের গবেষণালব্ধ তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে অসামান্য অবদান রাখায় স্বাধীনতা পদকের জন্য মনোনয়ন দেবেন-জাতি এটাই প্রত্যাশা করে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সপক্ষের সরকারের আমলে জাতীয় মর্যাদাপূর্ণ এ পদকের জন্য যথোপযুক্ত (ডিজার্ভিং) ব্যক্তিরা মনোনয়ন পাচ্ছেন কিনা তা এখন দেখার বিষয়।

স্বাধীনতা পদকের মনোনয়নের জন্য ডিজার্ভিং এমন ব্যক্তিদের নামের তালিকা নিয়ে অন্যবারের মতো এবারো নানামুখী লবিয়িং হবে- সে কথা বলাই বাহুল্য।

তবে এসব লবিয়িংয়ে আর কারো নাম থাকলেও শিবনারায়ণ দাশের নামে থাকবে না- এ কথা নিঃসন্দেহে বলা যায়। শিবনারায়ণকে নতুন প্রজন্ম চেনে না আর পুরনো প্রজন্ম ভুলতে বসেছে। অথচ যে পতাকাটি হাতে নিয়ে আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধ হয়েছিল সে পতাকাটির প্রথম ডিজাইনার ছিলেন তিনি। যদিও ইতিহাস বিকৃতির ধারাবাহিকতায় পতাকা ডিজাইনের এ সত্যটুকুও অবিকৃত থাকেনি। স্বাধীনতার পর সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে যারা ইতিহাস রচনা কিংবা বিকৃত করার সুযোগ পেয়েছেন তাদের কারো কাছেই শিবনারায়ণ প্রিয়ভাজন ছিলেন না। স্বাধীনতার পর তিনি সম্ভোগের কাতারে না গিয়ে প্রতিবাদের কাতারে এসে দাঁড়িয়েছিলেন। সুতরাং সুবিধাভোগীদের দ্বারা রচিত কিংবা বিকৃত ইতিহাস তার প্রতি সদয় না হওয়াই স্বাভাবিক। সে কারণেই বিস্মৃতির অতলে তলিয়ে যাচ্ছেন স্বাধীনতার পতাকার রূপকার শিবনারায়ণ দাশ।

আমরা জীবদ্দশায় কাউকে মূল্যায়ন করতে পারি না বা তার প্রাপ্য স্বীকৃতি দিতে পারি না। শিবনারায়ণ তার প্রমাণ। বাংলাদেশে প্রতি বছর স্বাধীনতা পদক, একুশে পদক দেয়া হয়। প্রশ্নবিদ্ধ ভূমিকা এবং কৃতিত্ব নিয়েও অতীতে অনেকে এসব পদক পেয়েছেন। অথচ আমাদের জাতিসত্তার প্রথম পতাকাটির ডিজাইনার পদক তো দূরের কথা, কোনো রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি কখনো পাননি। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় লালিত তার প্রতিবাদী চরিত্রটি তিনি বিসর্জন দিতে পারেননি বলে তিনি কোনো সরকার বা প্রশাসনের সুনজরে আসতে পারেননি। দেশের গণমানুষের চূড়ান্ত মুক্তির জন্য অসুস্থ শরীর নিয়েও আজো যিনি নিরন্তর ভেবে চলেন আর সংগ্রামের পথ খোঁজেন, সেই শিবনারায়ণ তার আপসহীনতার জন্য নিজের দলের (জাসদ) নেতাদের কাছেও অপ্রিয়ভাজন হয়েছেন। সুতরাং সুধীমহলে তিনি রয়ে গেছেন অপাঙক্তেয়। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ধারক বর্তমান সরকারের আমলে যদি দলীয়বৃত্তের বাইরে এসে তাকে স্বীকৃতি না দেয়া হয় তবে তার দায়ভার আমাদের বইতে হবে জন্মান্তরে। এবারের স্বাধীনতা পদক মনোনয়নে আমাদের প্রথম পতাকার ডিজাইনার শিবনারায়ণ দাশের নাম বিবেচনা করা তাই সময়ের দাবি। এ ব্যাপারে সরকারের সংশ্লিষ্টমহলের সুদৃষ্টি আমাদের কাম্য।

তাকে তার প্রাপ্য স্বীকৃতি দেয়া কিংবা না দেয়ার দায়ভার জাতির এবং সরকারের। কিন্তু যারা তার দীর্ঘদিনের সহগামী তাদের দায়ভার অসুস্থ শিবনারায়ণ দাশের পাশে এসে দাঁড়ানো। তার সহযোদ্ধাদের সবাই অক্ষম, পলায়নবাদী কিংবা বিশ্বাসভ্রষ্ট নন। তাদের অনেকেই আজ সমাজে সুপ্রতিষ্ঠিত। তার পাশে দাঁড়িয়ে সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং তাকে সামাজিক নির্বাসন থেকে ফিরিয়ে আনার দায়ভার সেই সব সহগামীরা এড়াতে পারেন না।
---------------------------------------------------------------
দৈনিক আমাদের সময় / ১৭ নভেম্বর ২০০৯

















৭টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×