somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

ফকির ইলিয়াস
আলোর আয়না এই ব্লগের সকল মৌলিক লেখার স্বত্ত্ব লেখকের।এখান থেকে কোনো লেখা লেখকের অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ, ছাপা, অনুলিপি করা গ্রহনযোগ্য নয়।লেখা অন্য কোথাও প্রকাশ, ছাপা করতে চাইলে লেখকের সম্মতি নিতে হবে। লেখকের ইমেল - [email protected]

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন ও একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী আজ ১৯ জানুয়ারী

১৯ শে জানুয়ারি, ২০১০ সকাল ৯:১৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

স্মৃতিতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন ও একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি - যুক্তরাষ্ট্র শাখা
--------------------------------------------------------------------
মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন ও একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির প্রতিষ্টা বার্ষিকী আজ ১৯ জানুয়ারী ।শহীদ জননী জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে ১৯৯২ সালের এই দিনে সংগঠনটি জন্ম নিয়েছিল।
আঠারোতম প্রতিষ্টা বার্ষিকীর এই দিনে মনে পড়ছে আজ অনেক স্মৃতি। অনেক কথা ।
শহীদ জননীর নেতৃত্বে এই কমিটি গঠিত হয়েছিল দুটি পৃথক কমিটির
সমন্বয়ে।একটি ছিল '' মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন পরিষদ '' আর অন্যটি ছিল '' একাত্তরের ঘাদক দালাল নির্মূল কমিটি ''।
এই দুটি কমিটি একত্র করে গঠিত হয় - '' মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন ও একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল জাতীয় সমন্বয় কমিটি ''। এর আহ্বায়ক এর দায়িত্ব দেয়া হয় শহীদ রুমীর আম্মা বেগম জাহানারা ইমামকে।
কমিটি যাত্রা শুরুর পরই , তৎমালীন সাপ্তাহিক বিচিত্রা - য় একটি আহ্বান ছাপা হয় । তাতে শহীদ জননী বহির্বিশ্বে এই কমিটির
শাখা গঠনের আহ্বান জানান। ছিল ফোন নম্বর ও ।
আমি সে সপ্তাহেই নিউইয়র্ক থেকে ঢাকায় ফোন করি । কথা হয় শহীদ জননীর সাথে।
তাঁর '' একাত্তরের দিনগুলি'' পাঠ করে আমিও হয়ে পড়েছিলাম তাঁর সন্তান।
শহীদ জননী আমাকে দিক নির্দেশনা দিলেন । বলে দিলেন কীভাবে কী
করতে হবে।
আমি তখন টগবগে তরুণ । নিউইয়র্কে সংগঠন গড়ার কাজ আমার রপ্ত
ছিল ভালোই।
কাজে লেগে গেলাম। ফোনে কথা হলো অনেকের সাথে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদেরকে আহ্বান জানালাম।
আমরা ক'জন তরুণ মিলে আহ্বান করলাম সভা। আব্দুর রউফ খান মিষ্টু,
দেওয়ান শাহেদ চৌধুরী , নাজমুল হক হেলাল, চন্দন দত্ত, আবু তালেব,
সালেহ আহমদ মনিয়া, ...... আমার পাশে একঝাঁক তরুণ।
আমরা পর পর ক'টি সভা করলাম। প্রায় প্রতিদিনই কথা বলে নির্দেশনা
নিলাম শহীদ জননীর।
এলেন মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের রাজনীতিকরা।
ড. নুরুন নবীকাজী জাকারিয়া - কে যৌথ আহ্বায়ক করে গঠিত হলো
কমিটির যুক্তরাষ্ট্র শাখা। সদস্য সচিব করার জন্য আমার নাম প্রস্তাব
করা হলো । আমি সবিনয়ে বললাম , আমি তরুণ। সিনিয়র কাউকে
সে দায়িত্ব দেয়া হোক।
সদস্য সচিবের দায়িত্ব দেয়া হলো বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা ফরাসত আলী কে।
আমাকে দেয়া হলো সহকারী সদস্য সচিব এর দায়িত্ব।
...........................
আমরা কাজে নেমে পড়লাম। শুরু হলো না না লবিয়িং। ১৯৯২ সালের
২৬ মার্চ ঢাকায় গণ আদালত বসলো ।
আমরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে একজন বিশিষ্ট আইনজীবি পাঠালাম।
তার নাম - টমাস কে কিটিং । তিনি গণআদালত প্রত্যক্ষ করার জন্য ঢাকায় গেলেন । আমেরিকায় ফিরে কাজ করলেন আমাদের পক্ষে , বিভিন্নভাবে।
...............................
এক অসম সাহসের অধিকারিনী ছিলেন মা, জাহানারা ইমাম। তাঁকে আমি '' মা '' ডাকতাম। তাঁর সাথে কাজ করার স্মৃতি আমার জীবনের
শ্রেষ্ঠ প্রেরণা ।
এই সেই জাহানারা ইমাম , যাকে ১৯৮১ সালে সামরিক শাসক জিয়াউর
রহমান তার কেবিনেটে মহিলা বিষয়ক উপদেষ্টা বানাবার জন্য প্রস্তাব দিয়েছিলেন। সেই সময় অনেক বাম- ডানপন্থীরা জিয়াউর রহমানের
সাথে যোগ দিলেও শহীদ জননী তা প্রত্যাখান করেছিলেন দৃঢ়তার সাথে।
.............................
এই সেই জাহানারা ইমাম , যাকে দেশের মফস্বল এলাকার তরুণেরা চিঠি
লিখে বলেছে , - মা আপনি হুকুম দিন। নরঘাতক গোলাম আজম কে হত্যা করে আমি ক্ষুডিরামের মতো হাসিমুখে ফাঁসিতে ঝুলবো।
এমন চিঠিপত্র সে সময় জাতীয় দৈনিকেও ছাপা হয়েছে।
গণআদালত বসার একসপ্তাহ আগে নির্মূল কমিটির ঢাকা মহানগর শাখা
ঘোষণা দিয়েছিল, গণ আদালতের কর্মসূচি সফল করার জন্য মৃত্যুন্জয়
স্কোয়াড গঠন করা হবে। যারা নিজের জীবন দিয়ে হলেও এই কর্মসুচি
সফল করবে। এই ঘোষনা পত্রিকায় ছাপা হবার পর প্রতিদিন শত শত
তরুণ নির্মূল কমিটির অফিসে এসে নাম লিখিয়েছে। অংগীকারনামায়
সাক্ষর করেছে।
................................
মনে পড়েছে, সেই বছরই জাতিসংঘে ভাষণ দেবার জন্য তৎকালীন
প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদ জিয়া নিউইয়র্কে এলে , আমরা হাজারো
প্রবাসীরা প্লাজা হোটেলের সামনে থমকে দিয়েছিলাম তার গাড়ীর বহর।
তীব্র প্রতিকূলতা ডিঙিয়ে ছুটে এসেছিলেন বাঙালীরা আমেরিকার বিভিন্ন
অংগরাজ্য থেকে।
.............................
আজ সেই সংগঠনের প্রতিষ্টা বার্ষিকী ।
মা , তুমি নেই । আমরা বেঁচে আছি । আছে প্রজন্ম।
এই শ্যামল বাংলায় ঘাতক- রাজাকার- আলবদর যুদ্ধাপরাধীদের বিচার
হবেই , মা ।
তোমার সন্তানেরা তোমার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করবেই , ইনশাআল্লাহ ।





সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে জানুয়ারি, ২০১০ সকাল ১০:০০
১১টি মন্তব্য ১১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাংলা সাহিত্যে জায়গা পাচ্ছেন ওসমান হাদী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১২ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:১৭


সংবাদপত্র যা বলছে
জাগো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১০ জুন ২০২৬ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যবই পরিমার্জন-সংক্রান্ত কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেকসহ... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুকুলে নয় শেখ হাসিনা (আপা) প্রতিকুল পরিস্থিতিতেই বেশি অকুতোভয়।

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৪




একদিকে তিনি ঘোষণা দিয়েছেন তিনি দেশে ফিরছেন, আরেকদিকে তিনি প্রায় নিশ্চিন্ন করে দেয়া আওয়ামী লীগকে পুনর্গঠন করে ফেলেছেন! এবং সেই সঙ্গে তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশের অগণতান্ত্রিক, ভয়ঙ্কর এবং অবৈধ রাজনৈতিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিএনপির আবালীপনা।

লিখেছেন তানভির জুমার, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮

বিএনপি ৫০ হাজার নাচের শিক্ষক নিয়োগ দিতে যাচ্ছে। যার পেছনে ১০ বছরে ব্যায় হবে ১৫ হাজার কোটি টাকা। যা দিয়ে ফুল প্যাকেজ ৩০ টি জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান... ...বাকিটুকু পড়ুন

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

লিখেছেন নতুন নকিব, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২৪

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সারা দেশ শোকাহত। এতগুলো নিষ্পাপ প্রাণের মৃত্যু নিঃসন্দেহে অত্যন্ত বেদনাদায়ক... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×