somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

ফকির ইলিয়াস
আলোর আয়না এই ব্লগের সকল মৌলিক লেখার স্বত্ত্ব লেখকের।এখান থেকে কোনো লেখা লেখকের অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ, ছাপা, অনুলিপি করা গ্রহনযোগ্য নয়।লেখা অন্য কোথাও প্রকাশ, ছাপা করতে চাইলে লেখকের সম্মতি নিতে হবে। লেখকের ইমেল - [email protected]

আল কায়দাসহ জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে জামায়াতের নেটওয়ার্ক

১৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ ভোর ৬:০১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আল কায়দাসহ জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে জামায়াতের নেটওয়ার্ক
হাসান ফেরদৌস ও শাহীন করিম
=====================================
আন্তর্জাতিক জঙ্গি গোষ্ঠীর সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর সম্পর্ক এবং সন্ত্রাসী কর্মকা-ের জন্য নানা দেশে অবৈধভাবে অর্থ লেনদেন বিষয়ে ৪৫টি অভিযোগ উল্লেখ করে বাংলাদেশ সরকারকে ২০০৫ সালে জানিয়েছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ও ইউএস ডিপার্টমেন্ট অফ জাস্টিস। রাজনৈতিক কারণে তৎকালীন জোট সরকার তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে ভয়াবহ এসব অভিযোগের কোন তদন্ত করেনি। এছাড়া স্বাধীনতাবিরোধী মৌলবাদী সংগঠন জামায়াতে ইসলামীর দেশী-বিদেশী জঙ্গি ও সন্ত্রাসী সংগঠনের সঙ্গে রয়েছে সরাসরি সম্পৃক্ততা। মৌলবাদী এই ইসলামী সংগঠনটি শুধু বাংলাদেশের জন্য হুমকি নয়, এই উগ্রপন্থি মৌলবাদী সংগঠনটি এখন সারা বিশ্বের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব কারণে ২০০৪ সালে রাশিয়ার ফেডারেল সিকিউরিটি ব্যুরো (এফএসবি) জঙ্গিদের অন্যতম অর্থ জোগানদাতা হিসেবে জামায়াতে ইসলামীকে কালো তালিকাভুক্ত করে।
আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক গোয়েন্দা বিশ্লেষক ও ব্রিটিশ নাগরিক চেরিস বস্নাকবার্ন মার্কিন যুক্তরাষ্টের ৯/১১ ট্র্যাজেডির পর পৃথিবীজুড়ে মুসলিম জঙ্গিদের কার্যক্রমের ওপর বিবিসি'র প্যানোরমা প্রোগাম 'এ কোশ্চয়ান অফ লিডারশিপ-২০০৬' শীর্ষক প্রামাণ্য চিত্র তৈরি করতে গিয়ে বিশ্বব্যাপী আল কায়দার অর্থ জোগানদাতা এবং বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামীর নেটওয়ার্ক সম্পর্কে চাঞ্চল্যকর এই তথ্য আবিষ্কার করেন।
ব্রিটিশ নাগরিক বস্নাকবার্ন তার প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন, আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আল কায়দা, ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ফ্রন্ট (আইআইএফ), ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ইসলামিক একশন ফোর্স, পাকিস্তানভিত্তিক লস্কর-ই-তৈয়বা, হিজবুল মোজাহেদীন, এবং জয়েশ-ই-মোজাহেদীন, উত্তর আমেরিকার ইসলামী সার্কেল (আইসিএনএ), যুক্তরাজ্যভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক ফাউন্ডেশন (পূর্ব লন্ডন মসজিদ), মুসলিম এইড, দাওয়াতুল ইসলাম ও ইউকে মুসলিম মিশনের জঙ্গি কর্মকা-ের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। আর জামায়াতে ইসলামীর এসব নেটওয়ার্ক বিস্তৃত করার ক্ষেত্রে নেপথ্যে প্রধান ভূমিকা রাখছে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা ইন্টার সার্ভিস ইটেলিজেন্স (আইএসআই)।
চেরিস বস্নাকবার্ন তার প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন, ১৯৪১ সালে মাওলানা মওদুদী প্রতিষ্ঠিত জামায়াতে ইসলামীর বাংলাদেশ ছাড়াও পাকিস্তান, ভারত, কাশ্মির, শ্রীলঙ্কা এবং আফগানিস্তানে বিস্তৃত নেটওয়ার্ক রয়েছে। ভারতের আসাম প্রদেশের মুসলিম বিদ্রোহীদের নিয়ে আলাদা রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে আসামের বিচ্ছিন্নতাবাদী মুসলিম ইউনাইটেড লিবারেশন টাইগার্স অফ আসাম (মাল্টা)-এর সঙ্গে জামায়াতে ইসলামী ও তাদের ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবির কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন থেকে প্রাপ্ত অর্থ জামায়েতে ইসলামী দ্বারা পরিচালিত ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের মাধ্যমে লেনদেন হয়ে থাকে। লেবাননের জঙ্গি সংগঠন জামেয়া ইসলামিয়া, সৌদি আরবভিত্তিক ওয়ার্ল্ড এসেম্বলি অফ ইয়ুথ (ডবিস্নউএএমওয়াই), ইন্ট্যারন্যাশনাল চেরিটেবল অর্গানাইজেশন (আইআইসিও), যুক্তরাজ্যভিত্তিক মুসলিম এইড, আল কিদমত ফাউন্ডেশনসহ বিভিন্ন উগ্রপন্থি সংগঠনের কাছ থেকে জামায়াতে ইসলামীর জন্য অর্থ সংগ্রহের কাজ করেন জামায়াত নেতা মঈন উদ্দিন খান ও আশরাফুজ্জামান। এরা দু'জনই ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রত্যক্ষ বিরোধিতাকারী ও চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধী। এছাড়া জামায়াত নেতা ডা. আবদুল্লাহ মো. তাহের ওয়ার্ল্ড এসেম্বলি অফ ইয়ুথের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেন। আর এসব কারণে ২০০৪ সালে রাশিয়ার ফেডারেল সিকিউরিটি ব্যুরো (এফএসবি) আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জামায়াতে ইসলামীকে সন্ত্রাসীদের অন্যতম অর্থ জোগানদাতা হিসেবে চিহ্নিত করে কালো তালিকাভুক্ত করেছে।
এসব তথ্যের ওপর ভিত্তি করে চেরিস বস্নাকবার্ন ২০০৬ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের ইউএন প্লাজায় 'ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স টু ডিসকাস টেররিজম, ডেমোক্রেসি এন্ড ইকনোমিক ডেভেলপমেন্ট ইন বাংলাদেশ' শীর্ষক সেমিনারে তিনি বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামীর নেতিবাচক কর্মকান্ড নিয়ে বিভিন্ন তথ্য উপস্থাপন করেন। এ ব্যাপারে তিনি বিএনপি'র বেশকিছু সিনিয়র নেতার সঙ্গেও আলাপ করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন। জামায়াতে ইসলামী শুধু বাংলাদেশের জন্য হুমকি নয়, এই মৌলবাদী সংগঠনটি এখন সারা বিশ্বের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে চেরিস বস্নাকবার্ন উল্লেখ করেছেন। সাম্প্রদায়িক এই দলটির কার্যক্রমের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
চেরিস বস্নাকবার্নের ওই প্রতিবেদন থেকে আরও জানা যায়, ১৯৬২ সালে সৌদি আরবে প্রতিষ্ঠিত মুসলিম ওয়ার্ল্ড লীগ (এমডব্লিউএল) বিশ্বের বিভিন্ন দেশের উগ্রপন্থি ইসলামী দলগুলোকে আর্থিকভাবে সাহায্য করে থাকে। সেখানে মাঝে মধ্যে বিভিন্ন দেশের উগ্রপন্থি ইসলামী দলের প্রধানরা একত্রিত হন। মাওলানা মওদুদী ছিলেন এই সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আল কায়দার সমন্বয়ক হিসেবে যাকে মনে করা সেই সৌদি ব্যবসায়ী ওয়্যাল হামজা জালাইদানও ছিলেন এই সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা সদস্য।
২০০৫ সালে জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তানের নেতা কাজী হোসাইন আহমেদ ও বাংলাদেশে জামায়াতি ইসলামের আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী সৌদি আরবে অবস্থিত মুসলিম ওয়ার্ল্ড লীগের (এমডবিস্নউএল) প্রধান কার্যালয়ে গোপন বেঠকে মিলিত হন। সেখানে তারা বিশ্বব্যাপী মৌলবাদী কার্যক্রম শক্তিশালী করার ব্যাপারে আলোচনা করেন।
জামায়াতের জঙ্গি নেটওয়ার্ক
চেরিস বস্নাকবার্নের প্রতিবেদন সূত্র থেকে জানা যায়, বাংলাদেশের জনগণের ধর্মীয় অনুভূতিকে ব্যবহার করে মাওলানা মওদুদীর হাত ধরে প্রতিষ্ঠা পাওয়া এই জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশে ইসলামী শরিয়া আইন চালুর লক্ষ্য নিয়ে বাংলাদেশের সরকার ও রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে গড়ে তোলে শক্তিশালী অবস্থান। এ লক্ষ্যে বাড়াতে থাকে আন্তর্জাতিক যোগাযোগ। পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসএই'র সহযোগিতায় আন্তর্জাতিক পর্যায়ের সন্ত্রাসী সংগঠন ওসামা-বিন লাদেনের আল কায়দা ও ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ফ্রন্টের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলে জামায়াতে ইসলামী। একইভাবে বাংলাদেশ ও ভারতের বিভিন্ন জঙ্গি গ্রুপের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলে তাদের ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবির।
চেরিস প্রতিবেদন সূত্র আরও জানায়, একইভাবে উত্তর আমেরিকায় ইসলামিক সার্কেল (ইকনা -আইসিএনএ) ও যুক্তরাজ্যভিত্তিক মুসলিম এইড নামক সন্ত্রাসী সংগঠনের সঙ্গেও সম্পর্ক গড়ে তোলে জামায়াত। যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্যের মুসলিম কমিউনিটি থেকে জাকাত ফান্ডের নামে অর্থ সংগ্রহ করে তারা। আর অর্থ সংগ্রহের দায়িত্ব যারা রয়েছেন তারা ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত। এদের মধ্যে রয়েছে মঈন উদ্দিন চৌধুরী এবং আশরাফুজ্জামান খান। তারা যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, অস্ট্রেলিয়াসহ আল-খিদমত ফাউন্ডেশন, মুসলিম এইড বাংলাদেশ শাখার মাধ্যমে মূলত অর্থ সংগ্রহের কাজ করে থাকে।
আল-খিদমত বিভিন্ন জঙ্গি গ্রুপ ছাড়াও হিযবুল মোজাহেদীন এবং জামায়াতের সামরিক শাখাকে আর্থিক সহায়তা দিয়ে থাকে। আল-খিদমত পাকিস্তানের ক্ষমা করে দেয়া আড়াই হাজার আল কায়দা গেরিলাকেও পুনর্বাসনে সহায়তা করেছে।
প্রতিবেদন থেকে আরও জানা যায়, জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র আল-খিদমত ও মুসলিম এইডকে জঙ্গি সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করেছে। ২০০৪ সালে রাশিয়ার ফেডারেল সিকিউরিটি ব্যুরো (এফএসবি) জঙ্গিদের অন্যতম অর্থ জোগানদাতা হিসেবে জামায়াতে ইসলামীকে কালো তালিকাভুক্ত করে মার্কিন যুক্তরাষ্টের ৯/১১'র ঘটনার পেছনে জামায়াতের যোগসূত্র থাকতে পারে বলে পেন্টাগনকে জানিয়েছে।
জামায়াতের আল কায়দা লিংক
চেরিস বস্নাকবার্নের প্রতিবেদনে থেকে আরও জানা যায়, জামায়াতে ইসলামী ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে হত্যা, লুটতরাজ, ধর্ষণ ও অগি্নসংযোগসহ যুদ্ধাপরাধের মতো গুরুতর অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিল। বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে আহমদিয়া সমপ্রদায়ের ওপর হামলার সঙ্গেও তারা জড়িত হয়ে পড়ে। এছাড়া জঙ্গি সংগঠন জামা'আতুল মোজাহেদীন বাংলাদেশ (জেএমবি), জাগ্রত মুসলিম জনতা (জেএমজেবি) গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও মুখ্য ভূমিকা পালন করে জামায়াতে ইসলামী ও এর ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবির। জামায়াতে ইসলামী নিয়ন্ত্রিত ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ (আইবিবিএল)-এর মাধ্যমে আল কায়দাসহ বিভিন্ন দেশের জঙ্গিদের অর্থ লেনদেনের কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের অন্যতম স্পন্সর হচ্ছে সৌদি ব্যবসায়ী ইয়াছিন কাদিরের শ্যালক শেখ আহম্মেদ সালাহ জামজুম। তিনি ছিলেন সৌদি আরবের সাবেক অর্থমন্ত্রী। এছাড়াও কুয়েতভিত্তিক রিভাইভেল অফ ইসলামিক হেরিটেইজ (আরআইএইচএস)-এর আর্থিক কার্যক্রমও পরিচালিত হতো ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে। ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট দেশব্যাপী একযোগে সিরিজ বোমা হামলায় অংশ নেয়া জঙ্গিদের অর্থ জোগানদাতা হিসেবেও ওই ব্যাংককে অভিযুক্ত করা হয়। এছাড়া ওই ব্যাংকটির বিরুদ্ধে চট্টগ্রামে জামায়াতের স্থাপিত ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটির মাধ্যমে বিনিয়োগসহ দাওয়াতি কার্যক্রম ও ইসলামিক ফিন্যান্সিয়াল সেক্টরেও প্রচারণা চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে ২০০০ সালে ভারতের আসামের মুসলিম জঙ্গিবাদী সংগঠন 'মুসলিম ইউনাইটেড লিবারেশন টাইগার্স অফ আসাম'কে (মালটা) বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মাধ্যমে পাকিস্তানের জামায়াতে ইসলামীর বিপুল পরিমাণ অর্থ পাঠানোর একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য উদঘাটন করেছিল ভারতের গোয়েন্দারা। এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ও ইউএস ডিপার্টমেন্ট অফ জাস্টিস'র পক্ষ থেকে বিভিন্ন জঙ্গি গোষ্ঠীর সঙ্গে অর্থ লেনদেন সম্পর্কে ৪৫টি অভিযোগ উল্লেখ করে বাংলাদেশ সরকারকে চিঠি দেয়া হলেও রাজনৈতিক কারণে তৎকালীন জোট সরকার সেসব অভিযোগ তদন্ত করেনি।
আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা বিশেষজ্ঞ বস্নাক বার্ন তার প্রতিবেদনে এ কথাও উল্লেখ করেন, মুসলিম ইউনাইটেড লিবারেশন টাইগার্স অফ আসাম (মালটা) উত্তর ভারতে ইসলামী শরিয়া আইন চালুর জন্যে কাজ করে যাচ্ছে। তারা আসামে বিভিন্ন বোমা হামলার ঘটনার সঙ্গেও জড়িত রয়েছে। মাল্টার সঙ্গে বাংলাদেশের হরকাতুল জিহাদ আল ইসলামী (হুজি) এবং ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন ইউনাইটেড লিবারেশন ফ্রন্ট অফ আসাম (উলফা)-এর যোগসূত্র রয়েছে। এদের অর্থ জোগানদাতা হচ্ছে পাকিস্তানের আইএসআই।
এদিকে ২০০৫ সালে লন্ডনে অনুষ্ঠিত 'দি রাইজ অফ পলিটিক্যাল ইসলাম ইন বাংলাদেশ' শীর্ষক সেমিনারে চেরিস বস্নাকবার্ন তার উত্থাপিত প্রবন্ধে বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থা এনএসআই, ডিজিএফআই'র উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছে, জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত ১০টি এনজিও বাংলাদেশে জঙ্গিদের অর্থ জোগানের কাজে সহায়তা করে থাকে। এনজিওগুলো হচ্ছে ইসলামিক হেরিটেইজ সোসাইটি (আরআইএইচএস), রাবিতা-আল-আলম-আল ইসলামী (মুসলিম ওয়ার্ল্ড লীগ), সোসাইটি অফ সোস্যাল রিফর্মস, কাতার চ্যারিটেবল সোসাইটি, আল-মুন্তাদা আল-ইসলামী, ইন্ট্যারন্যাশনাল রিলিফ এজেন্সি, আল-ফোরকান ফাউন্ডেশন, ইন্ট্যারন্যাশনাল রিলিফ অর্গানাইজেশন (আইআরও), কুয়েত জয়েন্ট রিলিফ কমিটি এবং মুসলিম এইড বাংলাদেশ (ইউকে)।
সংবাদ সংস্থার এবিসির বরাত দিয়ে তিনি জানান, মুসলিম এইড (ইউকে) ১৯৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এর প্রতিষ্ঠাতা পাকিস্তানের নাগরিক ইউসুফ ইসলাম। এই সংস্থাটির বিশ্বব্যাপী পাঁচটি শাখা রয়েছে। বাংলাদেশ ছাড়াও পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও জার্মানিতে এদের শাখা রয়েছে। মুসলিম এইড বাংলাদেশের চেয়ারম্যান হিসেবে এক সময় দায়িত্ব পালন করেন জামায়াতে ইসলামী নেতা মাওলানা আবদুস সোবাহান। একই সময় তিনি বিগত বিএনপি জোট সরকারের আমলে সংসদ সদস্যও ছিলেন।
এই সংগঠনটি বাংলাদেশ ছাড়াও পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, বসনিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও জার্মানির উগ্র ধর্মভিত্তিক, চরমপন্থি ও সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোকে আর্থিক সাহায্য করে থাকে। ২০০৩ ও ২০০৪ সালে জাকার্তার অস্ট্রেলিয়ান দূতাবাসে বোমা হামলাসহ বিশ্বজুড়ে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালাতে মুসলিম এইড আর্থিক সাহায্য করেছে। ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইন্দোনেশিয়ায় বিভিন্ন সময় সন্ত্রাসী কার্যক্রমের পেছনেও ছিল মুসলিম এইড।

[ দৈনিক সংবাদ রিপোর্ট / ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১০ ]
৩১টি মন্তব্য ৩১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×