জলের বিবেক দেখে জেনে যাই ,নদীরাও উৎসারিত হয়। আরেকটু এগিয়ে যেতেই চোখে পড়ে কিছু হাড়গোড়। পৃথক করি মাটি ও হাড়ের দূরত্ব। কী এক অদম্য ঝড় এসে আমাকে উড়িয়ে নিতে চায় । এখন ফালগুন মাস। এমন ঝড় হবার কথা নেই । তবুও উড়ন্ত খড়ের তাঁবুর মতোই উড়ে আমার প্রাণ ! এ কেমন উজানচিহ্ন আমাকে প্রতিঘাত করে ! এ কেমন বেদনার লীলাভ্রান্তি ! আমি আরেকটু এগিয়ে যাই । এখানে একটা চর জেগেছিল গেল বছর। এখন নেই । দেখে মনে হয় , সমতল চারাভূমি। খুব যতনে কেউ বুনেছে পাইজন ধানের স্তবক । একটা সদ্য কবরও শুয়ে আছে এর একটু দক্ষিণে । উত্তরের আকাশ ছোঁয়া কদম গাছটার ডালে বসে বাঁশী বাজাচ্ছে এক উদভ্রান্ত বালক । একটি বালিকা আরেকটি বাঁশী হাতে বসে আছে গাছটির নীচে। মেয়েটি , ছেলেটির প্রেমিকা হবে হয়তোবা । তবে কী সুর ও বৃক্ষের সাথে ওরা মেতেছে প্রেমের গম্ভীরায় ! হতে পারে । না ও হতে পারে । আমি এসব ধারদেনার পসরা সাজাতে সাজাতে নদীটির উজানের উৎস খুঁজি । ভোর গড়িয়ে গেছে অনেক আগেই। আর কিছুক্ষন পর জাগবে
সকাল। তারপর দুপুরের দুরন্তপনা। কড়া রোদের তাতে আরের সবুজের মিহিদানাঘ্রাণ । বুকে তুলে বিকেলের অপেক্ষায় বসে থাকবে তুমি - গাঁয়ের ওপারে । আমার আর ফেরা হবে কী না এই বেঘোরে, আমি করে
যাবো কষ্টের উপাত্ত নির্মাণ ।
ছবি -
রবার্ট জার
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১২:০১