somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

ফকির ইলিয়াস
আলোর আয়না এই ব্লগের সকল মৌলিক লেখার স্বত্ত্ব লেখকের।এখান থেকে কোনো লেখা লেখকের অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ, ছাপা, অনুলিপি করা গ্রহনযোগ্য নয়।লেখা অন্য কোথাও প্রকাশ, ছাপা করতে চাইলে লেখকের সম্মতি নিতে হবে। লেখকের ইমেল - [email protected]

সাত মার্চের মহাকাব্য এবং তার রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট / আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী

০৭ ই মার্চ, ২০১০ সকাল ৮:০৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সাত মার্চের মহাকাব্য এবং তার রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
--------------------------------------------------------------
সাত মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের ঐতিহাসিক আবাহনী দিন। ১৯৭১ সালের এই দিনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঢাকার রমনার ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) বাংলাদেশের মানুষের কাছে স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রস্তুতির ডাক দিয়েছিলেন। অনেকে বঙ্গবন্ধুর এই ভাষণকে আমেরিকার গেটিসবার্গে দেওয়া প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিঙ্কনের বিশ্ববিখ্যাত ভাষণটির সঙ্গে তুলনা করেন। লিঙ্কনের বলা- 'এ গভর্নমেন্ট অব দ্য পিপল, ফর দ্য পিপল, বাই দ্য পিপল' আজ যেমন সারাবিশ্বের গণতান্ত্রিক চেতনার মর্মবাণী, তেমনি ঢাকায় সাত মার্চের ভাষণে শেখ মুজিবের বলা_ 'এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম' কথাটিও আজ সারা দুনিয়ার নির্যাতিত মানুষের কাছে মুক্তিমন্ত্রতুল্য।
বাংলাদেশের কবি নির্মলেন্দু গুণ শেখ মুজিবের সাত মার্চের ভাষণকে বলেছেন একটি মহাকাব্য। আর সেই মহাকাব্যের মহাকবি হচ্ছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। কবি গুণের কবিতায় বঙ্গবন্ধুকে কবি অভিহিত করার প্রতিধ্বনি শোনা গেছে লন্ডনের সানডে টাইমস পত্রিকার মতো কাগজে। কাগজটি শেখ মুজিবকে নাম দিয়েছিল 'এ পোয়েট অব পলিটিক্স'।
কবি নজরুল ইসলামের 'কাণ্ডারী হুশিয়ার' কবিতাটি পাঠ করে নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু বলেছিলেন, 'রাজনীতি অথবা রাজনৈতিক সংগ্রামে কবিতা অনেক সময় অস্ত্রের চাইতেও শক্তিশালী হাতিয়ার।' এ কথার প্রমাণ হিসেবে তিনি নিজেই ব্রিটিশরাজের বিরুদ্ধে সশস্ত্র স্বাধীনতার সংগ্রাম শুরু করার মুহূর্তে দেশবাসীর উদ্দেশে বলেছিলেন, 'তুম হামকো খুন দো, হাম তুমকো আজাদী দুঙ্গা' ('তোমরা আমাকে রক্ত দাও, আমি তোমাদের স্বাধীনতা দেব।') এটিও একটি কবিতা।
মহাত্মা গান্ধী সশস্ত্র স্বাধীনতার সংগ্রামে বিশ্বাসী ছিলেন না। তার স্বাধীনতা আন্দোলনের মন্ত্র ছিল অহিংস অসহযোগ। কিন্তু তিনি ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের ডাক দিতে গিয়ে কবিতার ভাষায় বলেছেন, 'করেঙ্গে ইয়া মরেঙ্গে'। অর্থাৎ দেশ স্বাধীন করে ছাড়ব অথবা মৃত্যুবরণ করব। তাই বলা চলে, মহাত্মা গান্ধীও তার স্বাধীনতার আন্দোলনে কবিতাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারে দ্বিধা করেননি।
একাত্তর সালের সাত মার্চের ভাষণ অবশ্যই একটি মহাকাব্য এবং এই মহাকাব্যের কবি শেখ মুজিব। মহাকাব্যের মতো এই কবিতার পরিধি বিস্তৃত নয়। কিন্তু বক্তব্যে, ভাবে ও ব্যঞ্জনায় মহাকাব্যের চাইতে বড় এবং বিস্তৃত। লিঙ্কনের কয়েক লাইনের গেটিসবার্গ-ভাষণের মতো শেখ মুজিবের সাত মার্চের ভাষণটিও তার অন্যান্য ভাষণের চাইতে তুলনামূলকভাবে ছোট হলেও শক্তিতে দুর্জয়। এই ভাষণ বাংলার মানুষের সুপ্ত চেতনাকে প্রচণ্ড আঘাতে জাগ্রত করেছে।
এই ভাষণটির তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া ছিল তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের মানুষকে স্বাধীনতা যুদ্ধে উদ্বুদ্ধ করা। কিন্তু এই ভাষণটির মধ্যে যে সুদূরপ্রসারী একাধিক রাজনৈতিক দর্শনের সমন্বয় ঘটেছিল, তা অনেক পরে এই ভাষণটির বিশ্লেষণ দ্বারা অনেকে উপলব্ধি করেছেন। এ বিষয়টির দিকে প্রথম আমার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন কলকাতার অধুনালুপ্ত দৈনিক যুগান্তর পত্রিকার এককালের সম্পাদক বিখ্যাত সাংবাদিক বিবেকানন্দ মুখোপাধ্যায়।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় আমি কলকাতায় ছিলাম। বিবেকানন্দ মুখার্জিকে নামে চিনতাম এবং তার লেখাও পড়েছি। তখন তার সঙ্গে আমার পরিচয় এবং ঘনিষ্ঠতা। তিনি আমাকে তার দুই খণ্ডে লেখা 'দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের ইতিহাস'ও উপহার দিয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ সম্পর্কে আলোচনা প্রসঙ্গে তিনি আমাকে বলেন, 'এই ভাষণটিকে তোমরা সাধারণভাবে নিও না। এটি শুধু তোমাদের দেশের স্বাধীনতার ঘোষণা নয়; এর মধ্যে উপমহাদেশের দুটি শক্তিশালী রাজনৈতিক ধারার দর্শনের প্রভাব রয়েছে এবং তোমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের পরবর্তী ধাপেরও নির্দেশ রয়েছে। ভাষণটি স্কুল-লেভেল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় পর্যন্ত পাঠ্যবিষয়ের অন্তর্ভুক্ত হওয়া উচিত এবং বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের পঠন-পাঠনে এই ভাষণের ঐতিহাসিক বিশ্লেষণ প্রয়োজন।'
তার মতে, অবিভক্ত ভারতে স্বাধীনতার সংগ্রামে দুটি শক্তিশালী ধারা ছিল। একটি ধারায় গান্ধী-রাজনীতির দর্শন ছিল অহিংস-অসহযোগ এবং নিরস্ত্র প্রতিরোধ, যাকে তিনি সত্যাগ্রহ নামেও অভিহিত করেছেন। গান্ধী মনে করতেন, সশস্ত্র ব্রিটিশ রাজশক্তির সঙ্গে তার নিরস্ত্র দেশবাসী যুদ্ধ করে পারবে না। অনর্থক রক্তক্ষয় হবে। সুতরাং নিরস্ত্র নৈতিক যুদ্ধে তিনি ব্রিটিশরাজকে পরাভূত করতে চেয়েছিলেন।
নেতাজী সুভাষ বসু ছিলেন গান্ধী-রাজনীতির এই ধারা ও দর্শনের বিরোধী। তিনি সশস্ত্র মুক্তিসংগ্রাম দ্বারা ভারতের (অবিভক্ত) স্বাধীনতা অর্জনে বিশ্বাসী ছিলেন এবং সেই বিশ্বাস অনুযায়ী বিদেশে পালিয়ে যান এবং ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য আজাদ হিন্দ ফৌজ গঠন করেন। তার অসাম্প্রদায়িক রণধ্বনি ছিল জয় হিন্দ এবং যুদ্ধে লিপ্ত তার বাহিনীকে মুক্তি ফৌজ নামেও অভিহিত করা হতো।
শেখ মুজিবের রাজনৈতিক জীবনের সূচনা বিশ্লেষণ করলেও দেখা যাবে, তিনি শহীদ সোহরাওয়ার্দীর অনুসারী হিসেবে রাজনীতি শুরু করলেও সুভাষ চন্দ্রের সশস্ত্র সংগ্রামের রাজনৈতিক দর্শনই তাকে বেশি অনুপ্রাণিত করেছে। ১৯৪২ সালে ছাত্র থাকাকালে তিনি সুভাষচন্দ্রের নেতৃত্বে পরিচালিত কলকাতায় ইংরেজদের নির্মিত হলওয়ে মনুমেন্ট ভাঙার আন্দোলনে ও মিছিলে যোগ দিয়েছিলেন। আবার ১৯৪৬ সালে দেশভাগের আগে কলকাতা ও অবিভক্ত বাংলার বিভিন্ন স্থানে যে ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হয় তা প্রতিরোধের জন্য মহাত্মা গান্ধী যখন কলকাতার বেলেঘাটার বাড়িতে বসে আমরণ অনশন ধর্মঘট শুরু করেন, তখন সেই অনশন থেকে গান্ধীজিকে বিরত করার জন্য তিনি শহীদ সোহরাওয়ার্দীর সঙ্গে একজন যুবনেতা হিসেবে ওই বাড়িতে গান্ধী সমীপে গিয়েছিলেন।
গান্ধী ও সুভাষের রাজনীতির মধ্যে তিনি যে সুভাষ বসুর রাজনীতিরই বেশি অনুরক্ত ছিলেন তা আরও বোঝা যায়, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর গণভবন নামে পরিচিত প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনের নিচের তলার বড় হলঘরটি তিতুমীর, ক্ষুদিরাম, সূর্যসেন প্রমুখ অগি্নযুগের বিপ্লবী নেতাদের ছবি দ্বারা সজ্জিত করার পর। এসব ছবির মধ্যে সবচেয়ে বড় ছবিটি ছিল সুভাষ বসুর। শেখ মুজিবের মুক্তিবাহিনীও মুক্তি ফৌজ নামে পরিচিত ছিল এবং রণধ্বনি ছিল জয় বাংলা।
রাজনৈতিক জীবনের সূচনায় তখনকার রাজনৈতিক ও সামাজিক পারিপার্শিকতার প্রভাবে বঙ্গবন্ধু মুসলিম লীগের সাম্প্রদায়িক রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েছিলেন। কিন্তু সাতচলি্লশের দেশভাগের আগেই তিনি আবুল হাশিমের নেতৃত্বাধীন মুসলিম লীগের প্রগতিশীল অংশের সঙ্গে যুক্ত হন এবং একই সময়ে হাশিম-শরৎ বসু মিলে যে অসাম্প্রদায়িক স্বাধীন যুক্ত বাংলা গঠনের পরিকল্পনা করেছিলেন, তার পক্ষে জোরালো অবস্থান গ্রহণ করেন। র‌্যাডক্লিফের ছুরিতে বাংলা ভাগ হলেও পূর্ববাংলাকে একটি স্বাধীন অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্ররূপে গঠনের চিন্তা তার মনে কাজ করতে থাকে তখন থেকেই।
বঙ্গবন্ধু তার আত্মজীবনী লেখায় ডিকটেশন দেওয়ার সময় আমাকে বলেছিলেন, দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন থেকে ফজলুল হক, ফজলুল হক থেকে সুভাষচন্দ্র, সুভাষচন্দ্র থেকে আবুল হাশিম-শরৎচন্দ্র (সুভাষ বসুর ভাই) এবং দেশভাগের পর ভাষা আন্দোলন ও ছয় দফা পর্যন্ত যদি বাংলার রাজনীতির গতিধারা বিশ্লেষণ করো, তাহলে দেখবে অসাম্প্রদায়িক স্বাধীন বাংলার সুপ্ত চেতনার জন্ম সাতচলি্লশের বাংলাভাগের আগেই এবং সেই চেতনারই প্রথম বহিঃপ্রকাশ আটচলি্লশ সালেই অসাম্প্রদায়িক ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে।
আমি বঙ্গবন্ধুকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, আপনি গান্ধী-রাজনীতির কখনো অনুরাগী ছিলেন না। ছিলেন সুভাষ বসুর রাজনীতির অনুরাগী। তাহলে '৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সূচনায় আপনি গান্ধীর মতো পাকিস্তানি শাসকদের বিরুদ্ধে অহিংস অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দিয়েছিলেন কেন? কেন শুরুতেই সশস্ত্র সংগ্রামের ডাক দেননি?
বঙ্গবন্ধু বলেছেন, 'কেন, আমার ৭ মার্চের বক্তৃতায় কি সশস্ত্র সংগ্রামের ডাক দেইনি? তাহলে ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোল, তোমাদের যার যা আছে তাই নিয়ে প্রস্তুত থাকো, কথাগুলো কেন বলেছিলাম? আবার একই বক্তৃতায় দেখবে, হানাদারদের প্রতি শান্তি প্রস্তাবও আছে। বলেছি, তোমরা আমাদের ভাই। আমার মানুষকে হত্যা করো না। আমার এই প্রস্তাবে তারা সাড়া না দিলে তাদের ভাতে মারব, পানিতে মারব এই কথাও বলেছি। এটা নিরস্ত্র প্রতিরোধের ডাক। একটি নিষ্ঠুর বিদেশি হানাদার বাহিনীর সামনে আমি সহসা নিরস্ত্র মানুষকে ঠেলে দিতে পারি না। তাই গান্ধীজির কৌশল গ্রহণ করে প্রথমে অহিংস অসহযোগের কথা বলেছি। কিন্তু একই সঙ্গে সশস্ত্র মুক্তি সংগ্রামের প্রস্তুতির ডাকও দিয়েছি।'
বঙ্গবন্ধুর সাত মার্চের ভাষণ যে স্বতঃস্ফূর্ত কিন্তু একটি সুচিন্তিত ভাষণ এটা বুঝতে আমার আর তখন দেরি হয়নি। কলকাতার সম্পাদক বিবেকানন্দ মুখোপাধ্যায়ও আমাকে সাত মার্চের ভাষণের এই ব্যাখ্যাটিই দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর মতো এত স্পষ্ট করে বলেননি। আমার আর বুঝতে দেরি হয়নি যে, অহিংসা ছিল গান্ধীর কাছে কৌশল নয়; বিশ্বাস। কিন্তু শেখ মুজিবের কাছে মুক্তিযুদ্ধের সূচনায় অহিংস-অসহযোগ ছিল তার সাময়িক কৌশল; বিশ্বাস নয়। তার বিশ্বাস ছিল সুভাষ চন্দ্রের সশস্ত্র যুদ্ধের রাজনৈতিক দর্শনে। সাত মার্চের ভাষণে তিনি গান্ধীর অহিংস অসহযোগকে বিশ্বাস হিসেবে নয়, সাময়িক কৌশল হিসেবে এবং সুভাষের রণনীতিকে রাজনৈতিক লক্ষ্য হিসেবে এমন চমৎকারভাবে মিশ্রিত করে জনগণকে জনযুদ্ধের জন্য প্রস্তুত করেছিলেন, যার কোনো তুলনা সমসাময়িক বিশ্বে নেই।
বিবেকানন্দ মুখোপাধ্যায় আমাকে বলেছিলেন, 'শেখ মুজিবের সাত মার্চের ভাষণে তোমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের পরবর্তী ধাপে করণীয় কী, তারও নির্দেশ রয়েছে। নইলে তিনি ৭ মার্চের ভাষণে এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম বলেই ক্ষান্ত হতেন, সঙ্গে মুক্তির সংগ্রাম কথাটি উচ্চারণ করতেন না।' কথাটি দীর্ঘকাল আমার মনে ছিল না। ১৯৭৫ সালের জানুয়ারি মাসে আমি লন্ডন থেকে কিছুদিনের জন্য ঢাকায় গিয়েছিলাম। তখন বঙ্গবন্ধু বাকশাল গঠনের প্রাথমিক প্রস্তুতি নিয়ে ব্যস্ত। তবু একদিন তার বত্রিশ ধানমণ্ডির বাড়িতে দেখা হতেই বিবেকানন্দ মুখোপাধ্যায়ের কথাটা মনে পড়েছিল এবং জিজ্ঞাসা করেছিলাম, বঙ্গবন্ধু আপনি সাত মার্চের ভাষণে স্বাধীনতার সংগ্রাম কথাটা বলেই ক্ষান্ত হননি, মুক্তির সংগ্রাম কথাটাও যোগ করেছেন। এটা কি কথার পিঠে কথা বলা, না এর কোনো তাৎপর্য ছিল?
বঙ্গবন্ধু বললেন, তখন আসন্ন যুদ্ধের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আমিও কথাটার তাৎপর্য ততটা ভেবে দেখিনি। তারপর মনে হয়েছে আমার অবচেতন মনে কথাটার তাৎপর্য লুকানো ছিল। স্বাধীনতার সংগ্রাম বলতে আমি বুঝিয়েছি, বিদেশি শাসন অবসানের যুদ্ধ। কিন্তু বিদেশি শাসনের অবসান হলেই দেশের মানুষের মুক্তি অর্জিত হয় না। তাই স্বাধীনতা অর্জনের পরবর্তী ধাপ হচ্ছে অর্থনৈতিক ও সামাজিক মুক্তি অর্জনের লড়াই। যে মুক্তি অর্জনের লক্ষ্যে আমার বাকশাল গঠন এবং দ্বিতীয় বিপ্লবের লক্ষ্যে যাত্রা।
বঙ্গবন্ধু ১৯৭৫ সালের জানুয়ারি মাসে একথাগুলো আমাকে বলেছিলেন। ওই বছর আগস্ট মাসেই দেশি-বিদেশি চক্রান্তে তিনি পরিবারের অধিকাংশ সদস্যসহ নিহত হন। আমার মনে হয়, বঙ্গবন্ধু তার দ্বিতীয় বিপ্লব সফল করতে না পারায় তার প্রথম বিপ্লব একটি স্বাধীন সুখী সেক্যুলার বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্য থেকেও দেশটি অনেক পেছনে চলে এসেছে। বঙ্গবন্ধু এখন নেই, কিন্তু তার সাত মার্চের ভাষণ আছে। এই ভাষণে বর্ণিত স্বাধীনতা ও মুক্তি সংগ্রামের তাৎপর্য ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট বাংলাদেশের মানুষ বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের কাছে জোরালোভাবে তুলে ধরতে হবে। এই ভাষণই অসাম্প্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশকে নতুনভাবে জেগে ওঠার প্রেরণ জোগাতে পারে।
লন্ডন, ৫ মার্চ, শুক্রবার, ২০১০
---------------------------------------------------------------------
দৈনিক সমকাল / ৭ মার্চ ২০১০
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই মার্চ, ২০১০ সকাল ৮:২৪
৭টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×