somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

ফকির ইলিয়াস
আলোর আয়না এই ব্লগের সকল মৌলিক লেখার স্বত্ত্ব লেখকের।এখান থেকে কোনো লেখা লেখকের অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ, ছাপা, অনুলিপি করা গ্রহনযোগ্য নয়।লেখা অন্য কোথাও প্রকাশ, ছাপা করতে চাইলে লেখকের সম্মতি নিতে হবে। লেখকের ইমেল - [email protected]

গণিকা-সংস্কৃতি ও বাঙালি সমাজ / আবুল আহসান চৌধুরী

০৪ ঠা এপ্রিল, ২০১০ সকাল ৯:১০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গণিকা-সংস্কৃতি ও বাঙালি সমাজ
আবুল আহসান চৌধুরী

-------------------------------------------
মূলত পাশ্চাত্য শিক্ষার আনুকূল্যে উনিশ শতক বাঙালি সমাজের সার্বিক উত্থানের কাল হয়ে উঠেছিল। অবশ্য এর পাশাপাশি সমাজ-অভ্যন্তরে অনাচারের একটি চোরা-স্রোতও বহমান ছিল। ভুঁইফোঁড় নব্যধনী এবং সেই সঙ্গে শিক্ষিত সম্প্রদায়ের একাংশের মধ্যেও চারিত্রিক ভ্রষ্টাচার দেখা দেয়। এমনকি সমাজের নেতৃস্থানীয় খ্যাতিমান ব্যক্তিবর্গের কেউ কেউও এই নৈতিক স্খলন থেকে মুক্ত ছিলেন না। সুরাপান, বেশ্যাসক্তিত ও রক্ষিতা-পোষণ সেকালে এক ধরনের সামাজিক স্বীকৃতি লাভ করেছিল। কোনো কোনো ক্ষেত্রে গণিকাচর্চা গৌরব ও মর্যাদার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হতো।

২. কালীপ্রসন্ন সিংহ হুতোম প্যাঁচার নক্সায় উনিশ শতকের কলকাতার ‘বেশ্যাবাজির সরস বিবরণ দিয়েছেন। ‘আজব শহর কলকেতায় ‘খ্যামটা খানকির খাসা বাড়ি, ভদ্রভাগ্যে গোলপাতা’। ‘হুতোমে’র সৌজন্যে জানা যায়: ‘বেশ্যাবাজিটি আজকাল এ শহরে বাহাদুরির কাজ ও বড় মানুষের এলবাত পোশাকের মধ্যে গণ্য, অনেক বড় মানুষ বহুকাল হলো মরে গ্যাছেন। কিন্তু তাঁদের রাঁড়ের বাড়িগুলো আজও মনিমেন্টের মতো তাঁদের স্মরণার্থে রয়েছে- সেই তেতলা কি দোতলা বাড়িটি ভিন্ন তাঁদের জীবনে আর এমন কিছু কাজ হয়নি, যা দেখে সাধারণে তাঁদের স্মরণ করে।’ এতো গেলো ‘অকৃতি-অধমদের কথা। যাঁরা ছিলেন সমাজপতি-কীর্তিমান, পতিতা-রক্ষিতার প্রতি তাঁরাও যে বিমুখ কিংবা নির্লিপ্ত ছিলেন, তা নয়। ভারত-পথিক রাজা রামমোহন রায় ‘নিকির’ নাচ দেখেই সন্তুষ্ট ছিলেন না, বাঁধা রক্ষিতাও ছিল তাঁর। এই যবনী রক্ষিতার গর্ভে তাঁর পুত্রও জন্মেছিল। দ্বারকানাথ ঠাকুরের বাগানবাড়ি-বিলাস ও বাইজি-আসক্তি তাঁর সাধ্বী-পত্নী বরদাস্ত করেননি। দ্বারকানাথকে বহির্বাটীতেই রজনী যাপন করতে হতো, অন্দরমহলে প্রবেশ তাঁর জন্য নিষিদ্ধ হয়েছিল। কলকাতার বউবাজারে দ্বারকানাথের পরিবারের কোনো সদস্যের মালিকানায় ৪৩ কক্ষের এক বিশাল বেশ্যাবাড়িও ছিল। কারো কারো ধারণা, নটী সুকুমারী দত্তের প্রেমে মজেছিলেন জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর- কাদম্বরী দেবীর আত্মহত্যার কারণ নাকি এই অবৈধ সম্পর্ক। ব্যভিচারী রমেশদার আত্মকথায় ঠাকুরপরিবার সম্পর্কে চাঞ্চ্যকর কিছু তথ্যের সন্ধান মেলে।

প্রতিবেশী ‘মিয়া’র অর্থাৎ সম্পন্ন মুসলমান সম্প্রদায়ও এই ‘বাবু’দের অনুসরণ করতেন। পদমদীর নবাব মীর মহম্মদ আলী তাঁদেরই একজন। বিষাদ-সিন্ধুর লেখক মীর মশাররফ হোসেনের পিতা মীর মোয়াজ্জেম হোসেন ভদ্রাসনের বা’রবাড়িতেই রূপসী নামের এক রক্ষিতাকে মহাসমাদরে রেখেছিলেন। আর মশাররফ নিজেও কেবল ‘দাসী-বান্দী’তেই তৃপ্ত ছিলেন না,পতিতা-গমন তাঁর নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত হয়েছিল। সত্যনিষ্ঠ মশাররফ অকপটে তাঁর ডায়েরিতে লিখে গেছেন, গ্রামের বাড়ি লাহিনীপাড়ায় থাকায় সহজে শহরে যাওয়ার প্রয়োজন বা সুযোগ হতো না। কিন্তু যেদিন হাতের কাছের শহর কুষ্টিয়ায় যাওয়া পড়তো সেদিন ছয়মাসের ‘দাদ’ একদিনে তুলে নিতেন, নিজে মজে অবিদ্যাদের মজিয়ে, উৎসবের আনন্দে শহরে অবস্থানের প্রায় পুরোটা সময়ই কাটিয়ে আসতেন বেশ্যাপাড়ায়। দেশীয় গণিকা শুধু নয়, ‘ইঙ্গ-বঙ্গ বারাঙ্গানা’র প্রতিও হাত বাড়িয়েছিলেন এবং তাঁকে সন্তানও উপহার দিয়েছিলেন। মরমি কবি হাছন রাজার কথাও এই প্রসঙ্গে উল্লেখ করতে হয়। হাছন রাজার জ্যেষ্ঠ পুত্র দেওয়ান গনিউর রাজার বেশ্যাসক্তির বিবরণ তাঁর সফরভিত্তিক আত্মকথায় মেলে।

রাম-শ্যাম-যদু-মধু মতো হামেশাই পতিতা-দর্শনে যেতো। অবশ্য অনেক ‘মহাত্মা’ই সম্মান বাঁচিয়ে গোপনে পতিতার বাঁধা খদ্দের ছিলেন, রক্ষিতা-পোষণ করতেন না উচ্চবর্গের ধনী রাজা-জমিদার-জোতদার-বণিক-ব্যবসায়ী-উকিল-মোক্তার-আমলা-ফয়লা কমই ছিলেন। পতিতাচর্চা সেকালের অনেক বিত্তবান শিক্ষিত বাঙালির কালচারে পরিণত হয়েছিল। অবশ্যই একাজে সকলের পদ্ধতি ও রুচি অভিন্ন ছিল না। বাঙালি মুসলমানও যে এ-বিষয়ে পিছিয়ে ছিল না, তার প্রমাণও আমরা কিছু কিছু পাই।

৩. উনিশ শতকের বাঙালি সমাজের পতিতামগ্ন পুরুষের চালচিত্র কেমন ছিল তার বিবরণ সেকালের অনেক খ্যাতকীর্তি মানুষের স্মৃতিচর্চায় পাওয়া যায়। এ থেকে পতিতা-সংস্কৃতির সামাজিক চিত্রের নিপুণ পরিচয় মেলে। মনীষী রাজনারায়ণ বসু তাঁর সে কাল আর এ কাল-এ উল্লেখ করেছেন : ‘এক্ষণকার লোক পানাসক্ত ও পূর্ব্বাপেক্ষা বেশ্যাসক্ত।ঃ যেমন পানদোষ বৃদ্ধি পাইতেছে, তেমনি বেশ্যাগমনও বৃদ্ধি হইতেছে। সে কালে লোকে প্রকাশ্যরূপে বেশ্যা রাখিত। বেশ্যা রাখা বাবুগিরির অঙ্গ বলিয়া পরিগণিত হইত; এক্ষণে তাহা প্রচ্ছন্নভাবে ধারণ করিয়াছে, কিন্তু সেই প্রচ্ছন্নভাবে তাহা বিলক্ষণ বৃদ্ধি পাইতেছে। বেশ্যাগমন বৃদ্ধি পাইতেছে, তাহার প্রমাণ বেশ্যাসংখ্যার বৃদ্ধি। পূর্ব্বে গ্রামের প্রান্তে দুই এক ঘর দৃষ্ট হইত; এক্ষণে পল্লিগ্রামে বেশ্যার সংখ্যা বিলক্ষণ বৃদ্ধি পাইতেছে। এমন কি, স্কুলের বালকদিগের মধ্যেও এই পাপ প্রবলাকার ধারণ করিয়াছে। যেমন পানদোষ বৃদ্ধি পাইতেছে, তেমন বেশ্যাগমনও বৃদ্ধি পাইতেছে। ইহা সভ্যতার চিহ্ন। যতোই সভ্যতা বৃদ্ধি হয় ততোই পানদোষ, লাম্পট্য ও প্রবঞ্চনা তাহার সঙ্গে সঙ্গে বৃদ্ধি হইতে থাকে।’ পতিতালয় ও পতিতাবৃত্তি মহানগর, মফস্বল শহর, গঞ্জ ছাড়িয়ে গ্রামীণ জনপদেও প্রসারিত হয়েছিল। কর্তাভজা সম্প্রদায়ের সতীমার মেলায় উল্লেখযোগ্য বেশ্যা-সমাগম হতো। সংবাদ প্রভাকর পত্রিকার (৪ এপ্রিল ১৮৬৪) সূত্রে জানা যায়, সেখানে ‘কুলকামিনী অপেক্ষা বেশ্যাই অধিক’। দীনেন্দ্রকুমার রায় সাক্ষ্য দিয়েছেন, গ্রামীণ মেলা বা আড়ং-এও পতিতার ‘টঙ্’ জাঁকিয়ে বসতো। তাদের শিকার ছিল মোহিনী-মায়ায় মুগ্ধ গ্রামের চাষাভূষো ও সাধারণ মানুষ।

৪. নদীয়ার মহারাজার দেওয়ান কার্ত্তিকেয়চন্দ্র রায় তাঁর আত্ম-জীবনচরিত-এ ‘গণিকালয়ের ইতিহাস’ নামে একটি উপ-অধ্যায়ে এ-বিষয়ে কৌতূহল-জাগানো তথ্য ও কাহিনী পরিবেশন করেছেন। তাঁর সূত্রে জানা যায় : ‘কৃষ্ণনগরের কেবল আমিনবাজারে বেশ্যালয় ছিল। গোয়াড়ীতে কয়েক ঘর গোপ ও মালো গাঁড়ার ও অন্যান্য নীচ জাতির বসতি ছিল। পরে যখন ইংরেজ গভর্নমেন্ট এই স্থান প্রশস্ত ও নদীতীরস্থ দেখিয়া ইহাতে বিচারালয় সকল স্থাপন করিলেন, সেই সময় সাহেবেরা গোয়াড়ীতে পশ্চিম দিকে, ও তাঁহাদের আমলা উকীল ও মোক্তারেরা ইহার পূর্ব্ব দিকে, আপন আপন বাসস্থান নির্মাণ করিতে লাগিলেন। তৎকালে বিদেশে পরিবার সঙ্গে লইয়া যাইবার প্রথামত অপ্রচলিত থাকাতে, প্রায় সকল আমলা, উকীল বা মোক্তারের এক একটি উপপত্নী আবশ্যক হইত। সুতরাং তাঁহাদের বাসস্থানের সন্নিহিত স্থানে স্থানে গণিকালয় সংস্থাপিত হইতে লাগিল। পূর্ব্বে গ্রিস দেশে যেমন পণ্ডিতসকলও বেশ্যালয়ে একত্রিত হইয়া সদালাপ করিতেন সেইরূপ প্রথা এখানেও প্রচলিত হইয়া উঠিল। যাঁহারা ইন্দ্রিয়াসক্ত নহেন, তাঁহারাও আমাদের ও পরস্পর সাক্ষাতের নিমিত্ত এই সকল গণিকালয়ে যাইতেন। সন্ধ্যার পর রাত্রি দেড় প্রহর পর্যন্ত বেশ্যালয় লোকে পরিপূর্ণ থাকিত। বিশেষত পর্ব্বোপলক্ষে তথায় লোকের স্থান হইয়া উঠিত না। লোকে পূজার রাত্রিতে যেমন প্রতিমা দর্শন করিয়া বেড়াইতেন, বিজয়ার রাত্রিতে তেমনই বেশ্যা দেখিয়া বেড়াইতেন।’

৫. উনিশ শতকের বাংলার সামাজিক চিত্র আঁকতে গিয়ে শিবনাথ শাস্ত্রী তাঁর রামতনু লাহিড়ী ও তৎকালীন বঙ্গসমাজ বইয়ে কার্ত্তিকেয়চন্দ্র রায়ের বিবরণ তুলে দিয়ে ভিন্ন কাহিনীও শুনিয়েছেন : ‘দেওয়ানজী তদানীন্তন কৃষ্ণনগরের যে অবস্থা বর্ণনা করিয়াছেন, তদনুরূপ অবস্থা তখন দেশের অনেক নগরেই বিদ্যমান ছিল। সে সময়ের যশোহর নগরের বিষয়ে এরূপ শুনিয়াছি যে, আদালতের আমলা, মোক্তার প্রভৃতি পদস্থ ব্যক্তিগণ কোনোও নবাগত ভদ্রলোকের নিকটে পরস্পরকে পরিচিত করিয়া দিবার সময়ে- ‘ইনি ইহার রক্ষিতা স্ত্রীলোকের পাকা বাড়ি করিয়া দিয়াছেন, এই বলিয়া পরিচিত করিতেন। রক্ষিতা স্ত্রীলোকের পাকাবাড়ি করিয়া দেওয়া একটা মান-সম্ভ্রমের কারণ ছিল। কেবল কি যশোরেই, দেশের সর্ব্বত্রই এই সম্বন্ধে নীতির অবস্থা অতীব শোচনীয় ছিল।’

কলকাতা বা মফস্বলেও বারাঙ্গনা দুর্লভ ছিল না, কলকাতা তো ছিল বেশ্যা-বাইজির স্বর্গভূমি। ভুবনচন্দ্র মুখোপাধ্যায়ের ‘হরিদাসের গুপ্তকথা’ থেকে ‘কাটছাঁট’ করে রমাকান্ত চক্রবর্তী যা উদ্ধৃত করেছেন এই তথ্য সমর্থনের জন্য তা-ই যথেষ্ট : ‘গরানহাটা থেকে কলুটোলা রাস্তা পর্যন্ত বেড়িয়ে বেড়িয়ে দেখলেম দুধারি বারান্দায় রকমারি মেয়েমানুষঃ অনেক রকম মেয়েমানুষঃ গৃহস্থের বাড়ির কাছে বেশ্যা, ছেলেদের পাঠশালার পাশে বেশ্যা, কোথাও বা ভালমানুষের মাথার উপর বেশ্যা। অধিক কথা কি, ব্রাহ্মসমাজ মন্দিরের আষ্টেপৃষ্ঠে বেশ্যাঃ।’ এইসব রূপোপজীবীনীর পৃষ্ঠপোষকের অভাব ছিল না সেকালে।

কলকাতার পাশাপাশি সেকালে ঢাকার চিত্রটা কেমন ছিল, তা এবারে দেখা যাক। ঢাকা প্রকাশ পত্রিকার সৌজন্যে জানা যায়, ১৮৬৪ সাল নাগাদ ঢাকা শহরে- ‘সদর রাস্তার উভয় পার্শ্বে উত্তম উত্তম যে সকল দালান আছে, তাহার সমুদয় প্রায়ই বেশ্যাপূর্ণ হইয়াছে। বেশ্যাবাস সংশ্রব নাই, রাজপথের উভয় পার্শ্বে এরূপ উৎকৃষ্ট দালানই না বলিলে হয়।’

নগরনটীরা ‘বাবু’দের বশে রাখতেন কোন মন্ত্রে, সেই বিবরণ দিয়েছেন ভবানীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর নববাবুবিলাস-এ : ‘ছলনা, ছেনালি, ছেলেমি, ছাপান, ছেমো আর ছেঁচরামি, এই ছয় ছ-এর কৃতকামে বাবুদের মোহাবিষ্ট রাখতেন বেশ্যারা।’

ঊনিশ শতকের এইসব ‘সরস্বতীর ইতর সন্তান’ (সুমন্ত বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছ থেকে কথাটা ধার করে বলছি) বিশ শতক কিংবা চলমান একুশ শতকেও লুপ্ত হননি, কেবল পোশাক-আশাক, প্রণালী-পদ্ধতি বদলেছে। সেকালে রাখ-ঢাক ছিল না, একালে কিছুটা ছদ্মবেশ ধারণ করতে হয়, কাল ও যুগের হাওয়া বদলে যাওয়ার ফলে। সোনাগাছি, রামবাগান বা হাড়কাটা গলি তার প্রাচীন ‘আভিজাত্য’ নিয়ে এখনো বহাল আছে। শুধু নেই এ-পারের অনেককালের পুরনো টানবাজার আর বাবুবাজারÑ গোয়ালন্দের আলো জ্বলছে টিমটিম করে। পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করেই সমাজস্বাস্থ্য-রক্ষায় উৎসাহী সমাজকর্মী ও মৌলবাদী শাস্ত্রবাহকেরা এইসব ‘পাপের আলয়’ উচ্ছেদ করে ‘বিশ্বময় [দিয়েছে] তারে ছড়ায়ে’।

৬. নানা কারণে উনিশ শতকের পতিতা-সংস্কৃতির অবক্ষয় নেমে আসে বিশ শতকে। সেই রমরমা না থাকলেও পতিতাদের মান ও চাহিদা বাড়তে থাকে ভিন্ন কারণে। সাধারণত পতিতারা সামাজিকভাবে ঘৃণিত-অবহেলিত হলেও বাংলার সাংস্কৃতিক জগতে তাঁদের একটি গৌরবময় ভূমিকা ছিলÑ বিশেষ করে সংগীতে ও থিয়েটারে, আরো পরে সিনেমায়। ফলে বারবনিতাদের কেউ কেউ জনপ্রিয়তা, আর্থিক প্রতিষ্ঠা ও সামাজিক মর্যাদাও পেয়েছিলেন। সুকুমারী দত্ত, নটী বিনোদিনী, গওহরজান, ইন্দুবালা, আঙ্গুরবালা, কমলা ঝরিয়া, কাননবালা-এ ক্ষেত্রে এঁদের নাম বিশেষভাবে উল্লেখ করতে হয়। বিনোদিনীর কথা সুবিদিত, গওহরজানের নামও অজানা নয়। প্রতিষ্ঠার শীর্ষে যখন তখনো ইন্দুবালা নিজেকে ‘রামবাগানের কসবি’ বলে গৌরববোধ করেছেন। অন্ধগায়ক কৃষ্ণচন্দ্র দে অবিদ্যাপাড়া থেকে উঠে আসা অভিনেত্রী-গায়িকা তারকাবালা ওরফে মিস্ লাইটকে নিয়ে থাকতেন। মিস্ লাইটকে তিনি একটি পুত্রসন্তানও উপহার দিয়েছিলেন। এ-নিয়ে পরিবারে, বেশ অশান্তিও হয়েছিল। কমলা ঝরিয়ার ‘বাবু’ ছিলেন প্রখ্যাত নট-নাট্যকার-সংগীতকার তুলসী লাহিড়ী। কাননবালার ঘরে নজরুল তো প্রায় নিয়মিতই যেতেন। পরে কাননবালা ‘জাতে’ উঠেছিলেন অধ্যক্ষ হেরম্ব মৈত্রের ছেলে অশোক মৈত্র, এবং আরো পরে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপালের এ.ডি.সি. হরিদাস ভট্টাচার্যকে বিয়ে করে। আঙ্গুরবালার সঙ্গে সংগীত ও থিয়েটারের অনেক শিল্পীরই ‘বাবা-বিবি’ সম্পর্ক ছিল। কিন্তু এরপরও এঁদের কেউ কেউ ‘সতী’ সাজার চেষ্টা করেছেন- নিজেকে ‘কুলীন কন্যা’ বলেও দাবি করেছেন। কলের গান বেশ্যা-বাইজিদের প্রতিভা প্রকাশের বড় মাধ্যম হয়ে উঠেছিল এর সূচনালগ্ন থেকেই। তবে ভদ্রঘরের মেয়েরা আরো পরে গান-বাজনার, সিনেমা-থিয়েটারে আসতে শুরু করেন দিনবদলের পালার সূত্রে।

৭. ভারতবর্ষীয় সমাজে গণিকাবৃত্তির চল যে বহুকাল থেকেই ছিল নানা সূত্রে তার পরিচয় পাওয়া যায়। শাস্ত্রে-ধর্মে-সমাজে এই প্রথার এক ধরনের স্বীকৃতি জুটেছিল। ঋগে¦দ, অথর্ববেদ, যজুর্বেদে গণিকা-বেশ্যাদের প্রসঙ্গ বহুবার এসেছে। শাস্ত্রের পাশাপাশি ইতিহাসের সাক্ষ্যও দুর্লভ নয়। বাংলার নানা তাম্রশাসন ও লেখমালায় সংগীত-নৃত্যপটিয়সী রাজনটী ওরফে রাজবেশ্যাদের পরিচয় মেলে। ধর্মীয় আচারের আড়ালেও আবার কখনো পতিতার জীবনযাপন করতে হয়েছে- ‘দেবদাসী’ প্রথা তার একটি বড় দৃষ্টান্ত। কালীঘাটের পটচিত্রে বেশ্যাসম্ভোগের দৃশ্য যেমন আছে, তেমনি অনেক মন্দিরের গায়ে উৎকীর্ণ টেরাকোটাতেও এমন দৃশ্য মেলে। মধ্যযুগের সাহিত্যেও বেশ্যা-বারাঙ্গনা অপাঙ্ক্তেয় ছিল না,- চটজলদি যদি চোখ মেলা যায় তাহলে গোপীচন্দ্রের গান, ঘনরাম চক্রবর্তীর ধর্মমঙ্গল, দোনা গাজীর সয়ফুলমুলক বদিউজ্জামাল, আবদুল হাকিমের লালমতি সয়ফুল মুল্লুক, শুকুর মাহমুদের গুপীচন্দ্রের সন্ন্যাস- এইসব নানা কাব্যপুথিতে বেশ্যা-সংস্কৃতির সরস বিবরণ খুঁজে পাওয়া যাবে। এক সময়ে যে শাস্ত্রজ্ঞ ‘আলিম’-এর সঙ্গে ‘রাজবেশ্যা’র সহাবস্থান ছিল তা দোনা গাজীর কাব্য সয়ফুলমুলক বদিউজ্জামান-সূত্রে জানা যায়। রাজকুমারের বিদেশযাত্রায় তাঁর সফরসঙ্গীদের বর্ণনায় পাওয়া যায় :

আলিম পণ্ডিত আর জ্যোতিষী গণক

নানা যন্ত্র রাজবেশ্যা গাহন নর্তক।

নিঃসন্দেহে এই তথ্য কৌতূককর ও সেইসঙ্গে কৌতূহলোদ্দীপক। এরপর আঠারো-উনিশ শতকে কলকাতার নাগরিকজীবন এবং দেখাদেখি ছোট-বড় মফস্বল শহরেও গণিকাচর্চা জীবনযাত্রার অনিবার্য প্রয়োজনীয় অনুষঙ্গ হয়ে উঠলো। নব্যবাবু-সমাজে ‘বেশ্যাবাজি’ ছিল বাবুগিরির প্রধান অঙ্গ। ডব্লিউ ডব্লিউ হান্টারের বেশ কয়েক খণ্ডে প্রকাশিত ঞযব ঝঃধঃরংঃরপধষ অপপড়ঁহঃ ড়ভ ইবহমধষ (১৮৭৫-৭৭)-এ বিভিন্ন জেলার পতিতাদের পরিসংখ্যান দেওয়া আছে। এই জেলাওয়ারি তথ্য থেকে বেশ্যার যে-সংখ্যা জানা যায় তার আংশিক বিবরণ এইরকম : ২৫ পরগণা : ১৫৩৮০, যশোর : ৯৫৯, নদীয়া : ২১১১, মেদিনীপুর : ১৩৩৯, হুগলি : ৩১২৪, বাঁকুড়া : ২৭০, বর্ধমান : ৫৩১, ঢাকা : ১৭৩৮, বাকরগঞ্জ : ১১৮৯, ফরিদপুর : ৭৬১, ময়মনসিংহ : ২২১৮। এ-তো সরকারের ঘরে বেশ্যার খাতায় নাম লেখানো তালিকা থেকে গৃহীত পরিসংখ্যান। এর বাইরের হিসেব তো হান্টার সাহেব পাননি। তবুও এ থেকে সহজেই অনুমান করা চলে, বাঙালি সমাজে বেশ্যার সমাদর কেমন ছিল।

পতিতাবৃত্তির মতো আদিম পেশার সঙ্গে জড়িত হওয়ার পেছনে আর্থ-সামাজিক কারণ তো ছিলই, তার ওপরে প্রতারণা-প্রলোভন-পারিবারিক নির্যাতনের হাতও ছিল। অনেক সম্ভ্রান্ত ঘরের রমণীও অবস্থার শিকার হয়ে বারবনিতার জীবন বেছে নিতে বাধ্য হন। কখনো ধর্মীয় সংস্কার-আচার-প্রথা ও ‘পবিত্র পতিতা’র জন্ম দিয়েছে। লোকজীবনে দেহসাধনার নামে যে অবাধ যৌনাচার চলে আসছে তাতে ভণ্ড পীর, কামুক সাধু কিংবা বৈরাগী-বৈষ্ণবের আখড়াও বাদ যায় না। যা হোক, বারাঙ্গানাদের কেউ মোটামুটি শিক্ষিত। ছিলেন, আবার কেউ বা নিজের চেষ্টায় চলনসই লেখাপড়াও শিখেছিলেন। পতিতাদের মধ্যে কেউ কেউ সন্তানদের প্রাতিষ্ঠানিক বিদ্যাশিক্ষার তাগিদও অনুভব করেছেন, কিন্তু ভদ্রসমাজ তাঁদের এই ‘স্পর্ধাকে বরদাশত করেন নি। হীরা বুলবুলের ছেলে কিংবা বিনোদিনীর মেয়েকে স্কুলে ভর্তি করা নিয়ে উনিশ শতকের কলকাতায় তুলকালাম ঘটনা ঘটে গিয়েছিল।

জাত-পতিতা, ভদ্র-পতিতা কিংবা ছদ্ম-পতিতাদের মধ্যে দু-চারজন সাহিত্যচর্চাও করতেন- কেউ আবার নিজের জীবনকথাও লিখেছেন। এসব রচনায় পতিতাদর জীবনের অন্তরঙ্গ কাহিনী- তাঁদের ঘরোয়া জীবনের চালচিত্র প্রতিফলিত। এই ধরনের আত্মকথা সময়ের বিশ্বস্ত সামাজিক দলিল হিসেবে বিবেচনার যোগ্য। অন্ধ গলির নারকীয় ভুবনের এসব কাহিনী নাটকীয় ঘটনায় পূর্ণ, কখনো বা উপন্যাসকেও হার মানায়। এই ধরনের বইয়ের মধ্যে সেকালের বিখ্যাত অভিনয়শিল্পী নটী বিনোদিনীর আমার কথা (১৩১৯), মানদা দেবীর শিক্ষিতা পতিতার আত্ম-চরিত (১৩৩৬), তিনকড়ি দাসীর আমার জীবন (১৯০০)-এর কথা উল্লেখ করা যায়। বিদ্যাদর্শন (৫ম সংখ্যা, ১৮৪২) পত্রিকায় ‘কলিকাতা নিবাসিনী বেশ্যা’র পত্র কিংবা রূপ ও রঙ্গ (১৫ কার্তিক ১৩৩১ ও ২২ কার্তিক ১৩৩১ পত্রিকায় অভিনেত্রী অরুন্ধতী ও সৌদামিনীর ছদ্ম-পরিচয়ের আত্মকথায় অবিদ্যা-জীবনের বেদনার করুণ কাহিনী বিবৃত হয়েছে। কানন দেবীর সবারে আমি নমি-তে (১৩৮০) তাঁর ‘পাড়া’র জীবনের কথা এড়িয়ে গেছেন। অবিদ্যাপাড়ার অভিনত্রেী সুকুমারী দত্তের আত্মজৈবনিক নাটক অপূর্ব্বসতী নাটক (১২৮২)-এর কথাও এখানে বলতে হয়। আবার কেউ কেউ পত্রি-পত্রিকায় অগ্রন্থিত স্মৃতিকথা কিংবা সাক্ষাৎকারেও কিছু কথা বলেছেন। অবশ্য আড়াল মেনে অনেক কথাই বলেন নিÑ বিশেষ করে তাঁদের ‘বাবু’দের কথা পতিতাজীবনের কথা। কেউ কেউ আবার হাস্যকরভাবে ‘সতী’র ছদ্মবেশ ধারণের কোশেশ করেছেন।

পাশাপাশি যেসব ‘বাবু’রা পতিতালয়ে নিয়মিত যেতেনযাঁদের বাঁধা ‘মাগ’ ছিলÑ তাদের কেউ কেউ স্মৃতিকথা লিখলেও তাতে তাঁরা এই কলুষিত জীবনের কাহিনীর ধারে-কাছেও যান নি- নিজেদের এক ধরনের ‘মহাপুরুষ’ হিসেবেই প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছেন। অথচ সেকালে ও একালে অনেকেই অবিদ্যার গৃহে পদধূলি দিয়েছেন- নিয়মিত রক্ষিতার হাতে পান-তামাক খেয়েছেন- অঙ্কশায়ী হয়েছেন। মানদা দেবী শিক্ষিতা পতিতার আত্ম-চরিত-এ জানিয়েছেন কোন ধরনের মানুষ আসতেন তাঁদের ঘরে : “ঃ আমার মতো পাপরতা, পতিতা নারীর পদতলে যে সকল পুরুষ তাহাদের মান, মর্যাদা, অর্থসম্পত্তি, দেহমন বিক্রয় করেছেঃ তাদের সমাজ মাথায় তুলে রেখেছে- তারা কবি ও সাহিত্যিক বলিয়া প্রশংসিত, রাজনীতিক ও দেশসেবক বলিয়া বিখ্যাত- ধনী ও প্রতিপত্তিশালী বলিয়া সম্মানিত। এমন কি অনেক ঋষি-মোহন্তও গুরুগিরি ফলাইয়া সমাজের শীর্ষস্থানীয় অধিষ্ঠিত আছেন, তাহা সমাজ জানিয়া শুনিয়াও নীরব।” সত্যের খাতিরে সমালোচনার ভয় উপেক্ষা করে আমরা সেকাল ও একালের কিছু নামী ব্যক্তির উদাহারণ পেশ করি। বাংলা টপ্পাগানের জনক রামনিধি গুপ্ত ওরফে নিধুবাবুর সঙ্গে নাকি বারবধূ শ্রীমতির ‘নিষ্কাম’ ও ‘পবিত্র’ সম্পর্ক ছিল- তাঁর চরিত্রে মহিমা আরোপের জন্য এই ধরনের কাহিনী প্রচারের প্রয়োজন হয়। কথাশিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের জীবনে পতিতা ও রক্ষিতার ভূমিকা কম নয়। প্রমথেশ বড়-য়া ও যমুনা দেবীর সম্পর্কের বৈধতাও প্রশ্নহীন নয়- যেমন একালে উত্তম-সুপ্রিয়ার সম্পর্ক। লাজুক-আত্মমুখীন-অন্তরালের সাহিত্যিক এবং হতদরিদ্র মানুষ মানুষ জগদীশ গুপ্তও কলকাতায় রক্ষিতা পুষতেন। অবিদ্যাপাড়ার গায়িকাদের সঙ্গে নজরুলের অন্তরঙ্গ সম্পর্কের সাক্ষ্য দুর্লভ নয়। নৃপেন্দ্রকৃষ্ণ চট্টোপাধ্যায়ের বাঁধা-রক্ষিতা ছিলেন প্রখ্যাত কীর্তন-গায়িকা রাধারানী দেবী। তুলসী লাহিড়ীর পুত্র হাবু লাহিড়ী বলতে দ্বিধা করেননি, তাঁর পিতা ও সংগীতশিল্পী কমলা ঝরিয়া ‘প্রায় স্বামী-স্ত্রীর মতো বসবাস করিতেন’। প্রয়োজনে এই তালিকা আরো দীর্ঘ করা যায়। আগেই বলেছি, কৃতবিদ্যদের মধ্যে এ বিষয়ে বোধহয় একমাত্র ব্যতিক্রম মীর মশাররফ হোসেন। আরেকজন অখ্যাত রমেশচন্দ্র মুখোপাধ্যায় এম.এ। রমেশচন্দ্র সমাজজীবনে প্রতিষ্ঠিত ও পরিচিত না হলেও-পতিতা-পল্লীর একজন জনপ্রিয় নায়ক ছিলেন-যিনি তাঁর পাপ্লাত পতিতামগ্ন জীবনের কথা খোলামেলা পাঠকদের শুনিয়েছেন তাঁর স্মৃতিচর্চা-ব্যভিচারী রমেশদা’র আত্মকথায়।

দৈনিক ভোরের কাগজ /২ এপ্রিল ২০১০

সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা এপ্রিল, ২০১০ সকাল ৯:১১
৭টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×