somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

ফকির ইলিয়াস
আলোর আয়না এই ব্লগের সকল মৌলিক লেখার স্বত্ত্ব লেখকের।এখান থেকে কোনো লেখা লেখকের অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ, ছাপা, অনুলিপি করা গ্রহনযোগ্য নয়।লেখা অন্য কোথাও প্রকাশ, ছাপা করতে চাইলে লেখকের সম্মতি নিতে হবে। লেখকের ইমেল - [email protected]

আব্দুল খালিক মায়ন : একজন ত্যাগী রাজনীতিকের মহাপ্রয়ান

০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০১১ সকাল ৮:৫৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

শ্রদ্ধা নিবেদন
---------------------
আব্দুল খালিক মায়ন : একজন ত্যাগী রাজনীতিকের মহাপ্রয়ান
ফকির ইলিয়াস
====================================
তৎকালীন খালেদা জিয়া সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন তখন তুংগে। নিউইয়র্কে বেগম খালেদা জিয়া এর আগে ঘোষনা করেছেন-
'' সিলেট বিভাগের আদৌ কোনো যৌক্তিকতা নেই''। আমি সেই খবরটি কভার করে ফ্যাক্স যোগে সিলেটে পাঠাই ঐ দিনই। সিলেটের সবগুলো দৈনিকে সেই সংবাদ হেডলাইন হিসেবে ছাপা হয়। সিলেটের অনেক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ফোনে আমাকে ধন্যবাদ জানান।
আমি তখন দৈনিক সিলেটের ডাকে ( ১৯৮৯- ১৯৯৬) প্রায় নিয়মিত একটি কলাম লিখতাম। '' যুক্তরাষ্ট্রের রোজনামচা'' নামে সেই কলামটি তখন বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করে।
এর সুবাদে আমি বৃহত্তর সিলেটের গুনীজনদের প্রীতিভাজন হবার খানিকটা সুযোগ পাই।
১৯৯৪ সাল। দেশে গিয়েছি। সিলেটে এক মত বিনিময় সভায় তাঁর সাথে দেখা। তিনি আব্দুল খালিক মায়ন। আপাদমস্তক একজন রাজনীতিবিদ। সাথে লোকমান আহমদ। জাসদ এর কেন্দ্রীয় নেতা। লোকমান ভাইয়ের ''দৈনিক আজকের সিলেট'' - এ তখন আমি ''অধিকারের উচ্চারণ'' - নামে আরেকটি কলাম লেখা শুরু করেছি।
মায়ন ভাই জড়িয়ে ধরলেন আমাকে। বললেন,' সিলেটবাসী আপনাকে মনে রাখবে।' আমি তো যেন আকাশ থেকে পড়েছি ! কী যে বলেন !! আমি এমন কী করলাম মায়ন ভাই ? জানতে চাই ।
বললেন- আপনি যা করেছেন তা তো ভোলার নয়।
বললাম , খুলে বলুন মায়ন ভাই ।
বললেন, আপনি সুদূর নিউইয়র্ক থেকে সেই রিপোর্ট টি পঠিয়েছিলেন বলেই তো আমরা আন্দোলনে নেমে পড়েছি।
আমি বললাম , আমি আপনাদের অনুজপ্রতিম। দায়িত্ব নিয়েই আমি লিখেছি।
উল্লেখ্য, সিলেটবাসীর দীর্ঘ আন্দোলনের ফলশ্রুতিতে ১৯৯৪ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর তারিখে চারটি জেলা নিয়ে সিলেটকে বিভাগ হিসেবে ঘোষনা দেয়া হয়। ১৯৯৫ সালের ১ আগস্ট সিলেট বিভাগের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়।

দুই .
আব্দুল খালিক মায়ন ছিলেন সাহসী মানুষ। একাত্তরে জীবন বাজী রেখে মহান মুক্তিযুদ্ধ করেছিলেন। ছাত্র রাজনীতিতে মনন ও সৃজনশীলতা বজায় রেখে নিজেকে পরিশুদ্ধ করে গড়ে তুলেছিলেন। না, রাজনীতির কাছে তার চাওয়া-পাওয়ার কিছুই ছিল না। অত্যন্ত ধীশক্তি সম্পন্ন এই মানুষটি সব সময় একটি অসাম্প্রদায়িক - সম্প্রীতির বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখতেন।
মনে পড়ছে , কয়েক বৎসর আগে তিনি যুক্তরাষ্ট্র সফরে এসেছিলেন। এখানে ''জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব আমেরিকা''র কিছুটা আভ্যন্তরিন টানাপোড়েন চলছিল।
এখানে এসেই মায়ন ভাই লেগে যান, সেই টানাপোড়েনের সংকট লাঘবে। উভয় পক্ষের সাথে কথা বলে, প্রচুর সময় কাটিয়ে তিনি অনেকটা সার্থকও হয়েছিলেন।
বলেছিলাম - মায়ন ভাই এখানে এসেও সালিশ শুরু করে দিলেন ?
হেসে বলেছিলন - আরে ফকির ইলিয়াস , ঢেঁকি স্বর্গে গেলেও ধান ভানে !- বলে একটা কথা আছে না ।
এই ছিলেন আমাদের শ্রদ্ধাভাজন মায়ন ভাই।
প্রায় শেষ জীবনে এসে তিনি বিয়ানীবাজার উপজেলার চেয়ারম্যান হিসেবে বিপুল ভোটে পাশ করেছিলেন। তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছিলাম। বলেছিলেন, যেন মানুষের
জন্য কাজ করতে পারি।
দেখেছি, সিলেট বিভাগের প্রতিটি সংকটকালীন সময়ে ধীরপায়ে রাজপথে যাঁরা দাঁড়িয়েছেন , আব্দুল খালিক মায়ন ছিলেন তাঁদের অগ্রপথিক।
১৯৯৪ সালে সিলেটের হাসান মার্কেট-মধুবনের পয়েন্ট মোড়ে 'সিলেট বিভাগ বাস্তবায়ন পরিষদ' এক বিশাল জনসভার আয়োজন করে। সেই সভায় আমাকে বক্তৃতা দেবার সুযোগ করে দিয়েছিলেন তিনি। আমার পাশে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন - এখন বক্তব্য রাখবেন লক্ষ লক্ষ প্রবাসী বাঙালীর প্রতিনিধি ফকির ইলিয়াস ।
তাঁর আন্তরিকতা কোনোদিনই ভোলার নয়।
প্রবাসী বাঙালীর প্রতি তাঁর ভালোবাসা ছিল অকৃত্রিম। তিনি সবসময় বলতেন , আপনারা প্রবাসীরা দেশে এসে কোনো সংকটের মুখোমুখি হলে আমাকে জানাবেন। আমি সাধ্যমতো সব সহযোগিতা করবো।
এটা ভাবতে খুবই কষ্ট হচ্ছে , মাত্র ৬১ বছর বয়সে তিনি চলে গেলেন। নিবেদিত প্রাণ এই মানুষটি আজীবন মানুষের পাশে থাকতে চেয়েছিলেন।
বাংলাদেশের মাটি অনন্তকাল স্মরণ করবে এই বীর মানুষটিকে। এই প্রজন্ম তাঁর চেতনায় শাণিত হবে, আমি খুব স্পষ্ট করে তা বলতে পারি। কারণ তিনি ছিলেন খুবই কর্মঠ এবং বিচক্ষণ।
যে বিয়ানীবাজারের মাটিতে তিনি শায়িত হয়েছেন, সেই বিয়ানীবাজারের মাটি অনেক কৃতিসন্তান জন্ম দিয়েছে। স্বর্ণ গর্ভা এই মাটির মানুষেরা তাঁর স্মৃতি রক্ষায় এগিয়ে আসবেন বলেই আমার বিশ্বাস। তাঁর পরিবারবর্গের প্রতি লক্ষ লক্ষ প্রবাসী বাঙালীর সমবেদনা।
স্যালুট ইউ, ডিয়ার কমরেড।
আমি তাঁর বিদেহী আত্মার চিরশান্তি কামনা করছি। #
নিউইয়র্ক , ৩১ জানুয়ারি ২০১১
----------------------------------------------------------------------
দৈনিক উত্তরপূর্ব / সিলেট / ১ ফেব্রুয়ারি ২০১১ প্রকাশিত
Click This Link
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

লিখেছেন নতুন নকিব, ১১ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:০৩

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

মানুষের জীবন মূলত অসংখ্য ছোট-বড় সিদ্ধান্তের সমষ্টি। প্রতিটি বাঁকে, প্রতিটি মোড়ে আমাদের কোনো না কোনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

লিখেছেন আঘাত প্রাপ্ত একজন, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:২৬

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

[সম্ভাবনার ক্রমানুসারে নয়ঃ]

আর্জেন্টিনা: আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ তার ডিফেন্স আর ইনজুরি । ৩৮ বছরের তরুণ(!) সেন্টারব্যাক ওতামেন্দি আর কমপক্ষে এক হালি হাফ-ফিট ফুটবলার নিয়ে ১৯ জুলাই পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×