somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

ফকির ইলিয়াস
আলোর আয়না এই ব্লগের সকল মৌলিক লেখার স্বত্ত্ব লেখকের।এখান থেকে কোনো লেখা লেখকের অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ, ছাপা, অনুলিপি করা গ্রহনযোগ্য নয়।লেখা অন্য কোথাও প্রকাশ, ছাপা করতে চাইলে লেখকের সম্মতি নিতে হবে। লেখকের ইমেল - [email protected]

''মেহেরজান '' বিষয়ে মফিদুল হক যা বললেন

১২ ই মার্চ, ২০১১ রাত ৮:১৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সম্প্রতি উত্তর আমেরিকা সফরে রয়েছেন বাংলাদেশের বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, লেখক, প্রকাশক মফিদুল হক। বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের প্রতিনিধি হিসেবে কানাডার ভ্যানকুবারে একটি উপস্থাপনা শেষে তিনি নিউইয়র্কে আসেন।
এবার একুশে পদক পেয়েছেন দেশের বিশিষ্ট কবি, নিউইয়র্ক অভিবাসী শহীদ কাদরী। মফিদুল হক, বাংলাদেশে শহীদ কাদরীর পক্ষে এই পদকটি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে গ্রহণ করেন। এই পদকটি কবির হাতে পৌঁছে দেয়ার উদ্দেশেই মফিদুল হকের মূলত এবার নিউইয়র্ক সফর।
পদকটি কবির হাতে তুলে দেয়া উপলক্ষে নিউইয়র্কের জাতিসংঘের বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন গেল ৬ মার্চ ২০১১ রোববার মিশন অডিটরিয়ামে একটি বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। প্রাণবন্ত এই অনুষ্ঠানটি শেষ হওয়ার পর ছিল পানাহার পর্ব। এরই ফাঁকে আমি মফিদুল হককে একটি প্রশ্ন করি। জানতে চাই, বর্তমানে বাংলাদেশে 'মেহেরজান' নামক চলচ্চিত্রটির প্রদর্শনী বন্ধ আছে। মফিদুল হক কী মনে করেন ছায়াছবিটি আবার মুক্তি পাওয়া দরকার? তিনি উত্তর দিতে বেশ কৌশলের সাহায্যে নিলেন মনে হলো। বললেন, তিনি জবাব দেবেন ব্যক্তি মফিদুল হক হিসেবে। 'মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে'র ট্রাস্টি হিসেবে নয়। বললাম, প্লিজ বলুন। তিনি বললেন, বাংলাদেশের দর্শকই সে সিদ্ধান্ত নেবেন। ছবিটি প্রেক্ষাগৃহে চলা উচিত কিনা।
আমি বললাম, আপনার ব্যক্তিগত মতামত কী? তখন তিনি বললেন, তার মত হচ্ছে ছবিটি চলা উচিত। চলতে দেয়া উচিত। কারণ ভিন্নমত, বহুমত প্রকাশের স্বাধীনতা বাংলাদেশের মানুষের রয়েছে। মহান সংবিধান সে স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছে।
আমি বললাম, যে ব্যক্তি স্বাধীনতা কিংবা চিন্তার স্বাধীনতা আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধকে প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে কটাক্ষ করে, যে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা আমাদের বীরাঙ্গনাদের হেয়প্রতিপন্ন করে, আমরা তো তেমন স্বাধীনতার পক্ষে দাঁড়াতে পারি না।
মনো হলো মফিদুল হক বেশ ইতস্তত করলেন। তিনি বললেন, তিনি কখনই এই ছবিটি সেন্সর করে আটকে দেয়ার পক্ষে ছিলেন না। তিনি সবসময়ই ছবিটি মুক্তি ও প্রদর্শনীর পক্ষে ছিলেন। পাঠক লক্ষ্য করুন, 'মেহেরজান' চলচ্চিত্রটির পক্ষে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রবক্তা মফিদুল হক কিংবা আলী যাকেররা কীভাবে সুকৌশলে সাফাই গাইছেন
বিভিন্ন মিডিয়ায়। এদের এই কর্মকান্ড প্রকারান্তরে কাদের ঘরে ফসল তুলছে?

টেক্সাস অঙ্গরাজ্য থেকে ফোন করেছিলেন শ্রদ্ধেয় মাহবুবুর রহমান জালাল। এমআর জালাল বহির্বিশ্বে মহান মুক্তিযুদ্ধের শানিত চেতনার অকুতোভয় সৈনিক। তার সঙ্গে, মফিদুল হকের সাথে বিনিময় হওয়া কথাগুলো শেয়ার করলাম। তিনি জানালেন আরও বেদনাদায়ক একটি ঘটনা। বললেন, গেল কিছুদিন আগে ঢাকার মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর ফান্ড রেইজিংয়ের আয়োজন করে। সেই ফান্ড রেইজিংয়ে ইসলামী ব্যাংকের অন্যতম কর্ণধার, দিগন্ত গ্রুপের শীর্ষ মালিক, জামায়াত নেতা মীর কাশেম আলী এবং তার অধীনে দাতারা নাকি মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরকে প্রায় চার কোটি টাকা ডোনেশন করেন। প্রধানমন্ত্রীও নাকি সে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। পরে এই দাতাদের প্রকৃত পরিচয় কী, তা নিয়ে কেউ কেউ প্রশ্ন তোলার পর বিষয়টি ফাঁস হয়ে পড়ে। এবং প্রধানমন্ত্রী নিজেও হতবাক হন। এরপর নাকি মুক্তিযুদ্ধের সাক্ষী মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের কর্মকর্তারা সিদ্ধান্ত নেন সেই ডোনেশনের প্রায় চার কোটি টাকা ফেরত দিয়ে দেবেন। এমআর জালাল বলেন, এই টাকাগুলো ফেরত দেয়া হয়েছে কি-না সেই সংবাদ এখনো দেশবাসীকে জানানো হয়নি। এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোন বিবৃতি, সংবাদ বিজ্ঞপ্তিও দেয়নি মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর।
এম আর জালালের দেয়া এই সংবাদটি আমাকে ভীষণভাবে ভাবিয়েছে। মনে পড়েছে শহীদ জননী জাহানারা ইমামের কথা। তিনি আমাকে বলেছিলেন, 'মনে রেখ, টাকাওয়ালা আল-বদর রাজাকাররা আমাদের পক্ষের প্রগতিবাদী শক্তির কাউকে কাউকে টাকা দিয়ে কিনে নিতে পারে।'
সেটা ছিল ১৯৯২ সালের আরেক মার্চ। যখন তিনি ঢাকায় গণআদালত করার জন্য বিশ্বব্যাপী জনমত তৈরিতে নিরলস শ্রম দিয়ে যাচ্ছিলেন।
এখানে উল্লেখিত ঘটনাগুলো আমার শঙ্কা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। তবে কি টাকার কাছে হেরে যাবে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার? তবে কি তছনছ হবে নতুন প্রজন্মের সব অসাম্প্রদায়িক স্বপ্নের বাগান? যে নিরঙ্কুশ রায় দিয়ে মহাজোট সরকারকে ক্ষমতায় বসিয়েছিল বাঙালি জাতি, তা কি অবশেষে অপমানিত হবে?
খবর বেরিয়েছে, ঢাকায় বিশ্বকাপ ক্রিকেটের গ্র্যান্ড স্পন্সর ইসলামী ব্যাংক। এই ব্যাংকের টাকায় ঢাকার রাজপথে বঙ্গবন্ধুর বাণী সংবলিত ব্যানার ফেস্টুন ঝুলছে। শোভা পাচ্ছে জাতির জনক আর বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর রঙিন ছবি। আমি খুবই ব্যথিত হয়েছি এটা অনুধাবন করে-তাহলে তো মীর কাশেম আলী-কামরুজ্জামান চক্র বড় অঙ্কের টাকাই ঢালছে সরকারের বিভিন্ন ফান্ডে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মীর কাশেম আলীর এভাবে টাকা ঢালার পিছনে মতলব হচ্ছে, জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের দন্ড মওকুফ কিংবা কমিয়ে আনা।
আমরা ইতোমধ্যে জেনে গেছি, শেয়ারবাজারে মতলববাজ একটি মদদপুষ্ট চক্র কীভাবে ধস নামিয়েছে। তাহলে কী আমরা এটাও জানব, একই কৌশলে জেলগেট থেকে পুষ্পমাল্য পেয়ে বেরিয়ে আসবেন একাত্তরের আল-বদর কমান্ডার নিজামী-মুজাহিদ? প্রশ্নগুলো আমি গোটা জাতির কাছে সবিনয়ে করতে চাই।
মার্চ বাঙালির গৌরবের মাস। ৭ মার্চে গর্জে উঠেছিল বঙ্গবন্ধুর শাণিত আঙুল। '৯২-এর ২৬ মার্চে গণআদালত বসিয়ে নরঘাতক শিরোমনির গো. আযমের বিচার কার্যকর করা হয়েছিল শহীদ জননী জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে। সেই ২০১১-এর মার্চে গোটা দেশবাসী জানতে চায়, মানবতাবিরোধী, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দ্রুত অগ্রগতি কেন সাধিত হচ্ছে না? কেন টাকার খেলার কাছে ঢাকা পড়ছে সরকারি আলো-আঁধারির কূটচাল?
বাঙালি হারেনি। বাঙালি হারবে না। ক্ষতিগ্রস্ত হন তারাই, যারা বাঙালি জাতির সঙ্গে ওয়াদা করে তা পূরণ করেন না। 'মেহেরজান' ছায়া ছবির টাকা দাতা, বিশ্বকাপের গ্র্যান্ড স্পন্সর যে কোন কালো শক্তিই হোক না কেন, প্রজন্ম তাদের চিহ্নিত করবেই। আর তাই হোক এই মার্চের প্রত্যয়।
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×