somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

ফকির ইলিয়াস
আলোর আয়না এই ব্লগের সকল মৌলিক লেখার স্বত্ত্ব লেখকের।এখান থেকে কোনো লেখা লেখকের অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ, ছাপা, অনুলিপি করা গ্রহনযোগ্য নয়।লেখা অন্য কোথাও প্রকাশ, ছাপা করতে চাইলে লেখকের সম্মতি নিতে হবে। লেখকের ইমেল - [email protected]

ধর্ম নিয়ে কটাক্ষ ও বিএনপির নতুন প্রজন্মের নেতৃত্ব সন্ধান

২১ শে অক্টোবর, ২০১১ সকাল ৭:৪৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


ধর্ম নিয়ে কটাক্ষ ও বিএনপির নতুন প্রজন্মের নেতৃত্ব সন্ধান
ফকির ইলিয়াস
=======================================
শেষ পর্যন্ত বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া তার আরেকটি খোলস উন্মোচন করেছেন। সিলেটের জনসভায় তিনি বলেছেন, 'নতুন নেতৃত্বের হাতে ক্ষমতা তুলে দিতে চাই। নতুন প্রজন্মরা দেশ শাসন করবে। আর আমরা সিনিয়ররা পাশে থেকে দিকনির্দেশনা দেব। আমি তিনবার প্রধানমন্ত্রী ছিলাম। আমার আর কিছু চাওয়া-পাওয়ার নেই।'
খালেদা জিয়ার এই তথাকথিত নতুন নেতৃত্ব কে, তার জবাব দিয়েছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ। তিনি বলেছেন, 'খালেদা জিয়া তার ছেলে তারেক রহমানের হাতে ক্ষমতা তুলে দেয়ার কথা বলেছেন। তিনি চরম দুর্নীতিবাজদের পুনর্বাসনের অপচেষ্টা করছেন।'
সিলেটের জনসভায় খালেদা জিয়া, বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর ধর্মীয় পরিচয় নিয়েও কটাক্ষ করেছেন, যা অত্যন্ত অশালীন, অমার্জিত এবং সামাজিক নীতিবহির্ভূত। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে খালেদা জিয়া যে মন্তব্য করেছেন, তা খালেদা জিয়ার চরম হীনম্মন্যতা, বর্বরতা এবং নোংরা মানসিকতার পরিচয় বহন করেছে। প্রকারান্তরে খালেদা জিয়া দেশের কোটি কোটি হিন্দু ধর্মাবলম্বীর ধর্মীয় চেতনাকে কটাক্ষ করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রের শীর্ষ ক্ষমতাধর। প্রধান নির্বাহী। তিনি হিন্দু ধর্মাবলম্বীর সবচেয়ে বড় ধর্মীয় আচারানুষ্ঠান দুর্গাপূজায় গিয়ে বলেছেন, 'আমাদের মা দুর্গা।' এখানে আমরা শব্দটি বাংলাদেশের অসাম্প্রদায়িক, ধর্মীয় সম্প্রীতির প্রতীক। 'বাংলাদেশ' যেমন 'আমাদের', এদেশের প্রতিটি পালিত ধর্মও তেমনি 'আমাদের'। কে ব্যক্তিগতভাবে কী ধর্ম পালন করেন, তা ভিন্ন বিষয়। কে কী বিশ্বাস করেন, তা তার নিজস্ব চেতনা। প্রধানমন্ত্রী 'প্রতীকী' অর্থে কথাটি বলে সঠিক কাজই করেছেন। খলেদা জিয়া তার উন্নাসিক মন নিয়ে এর অর্থ উদ্ধার করেছেন রাজনৈতিক হীন স্বার্থে। এতে তার অজ্ঞতা, স্বল্পশিক্ষিত জ্ঞানের পরিধি এবং কূট চালটাই প্রকাশিত হয়েছে।
অথচ কে না জানে বেগম খালেদা জিয়ার জীবনাচার কেমন! প্রধানমন্ত্রী তো বলেই দিয়েছেন, যার সকাল শুরু হয় দুপুর ১২টায়, তার মুখে এমন কথা শোভা পায় না।
সেই খালেদা জিয়াই এখন বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের মোহে প্রায় মরিয়া হয়ে উঠেছেন। তিনি 'নতুন প্রজন্মের নেতৃত্ব' বলতে তার ছেলে এবং তার সাঙ্গপাঙ্গদের রাজত্ব কায়েমের কথাই বুঝিয়েছেন।
আমর প্রশ্ন হচ্ছে, ২০০১-২০০৬ সালে এই তথাকথিত 'তরুণ নেতৃত্ব' তো ক্ষমতায় ছিল। পনেরো কোটি মানুষের বাংলাদেশ শাসিত হয়েছিল একটি 'হাওয়া ভবন' দ্বারা। প্রকাশ্যে ক্ষমতায় না থাকলেও তারেক রহমানই ছিলেন ক্ষমতার মুখ্য নিয়ন্ত্রক। মাত্র একজন 'স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী' শাসন করেছিলেন গোটা দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বিষয়টি ভাবা যায়? বর্তমানে দুজন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং প্রতিমন্ত্রী মন্ত্রণালয় চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন। সেখানে একজন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর ছিলেন সর্বেসর্বা।
খালেদা জিয়ার গত ক্যাবিনেটে অনেক তরুণ মন্ত্রীই ছিলেন, যাদের লুটপাটের ফিরিস্তি অত্যন্ত দীর্ঘ। খালেদা জিয়া আবারও নতুন নেতৃত্বের নামে সেই চরম দুর্নীতিবাজ, অর্থ পাচারকারীদের ক্ষমতায়ন চাইছেন, তাতে কারও সন্দেহ থাকার কথা নয়।
যুক্তরাষ্ট্রে আমাদের একটি প্রশ্ন নভেম্বর-ডিসেম্বর মাস এলেই শুনতে হয়। 'ডু ইউ সেলিব্রেট ক্রিসমাস?' আমাকে কেউ প্রশ্নটি করলে আমি সানন্দে হ্যাঁ বলি। ক্রিসমাস খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের বড় একটি ধর্মীয় উৎসব। 'বড়দিন' বাংলাদেশেও ঘটা করে পালিত হয়। ক্রিসমাসে আমরা যারা অভিবাসী বাঙালি আছি, তারা উপহার আদান-প্রদান করি। বাচ্চাদের স্কুল-কলেজ ছুটি থাকে। আমরা কেউ কেউ ভ্যাকেশন কাটাই। বড়দিনে নিজের বাড়িতে অথবা বন্ধুদের বাড়িতে পার্টির আয়োজন হয়। পানাহার চলে। এই যে আয়োজন, এটার নামই সেলিব্রেশন। বড়দিন পালনের জন্য আমি একজন মুসলমান 'চার্চে' যাওয়ার তো দরকার নেই। খালেদা জিয়াকে বিষয়টি কে বোঝাবে? তিনি দুর্গাপূজা নিয়ে কটাক্ষ করে যে নির্লজ্জ আচরণ করেছেন, তার জন্য নিজের অনুতপ্ত হওয়া উচিত।
পত্রপত্রিকার সংবাদ থেকে জানা যাচ্ছে, তারেক রহমান ইংল্যান্ড থেকে নিজের দল গোছানোর জন্য তৎপর রয়েছেন। রাজনীতি যখন করবেন, তখন সব ঝড়-তুফান মেনেই তাকে পথ চলতে হবে। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, নির্বাসন দুই ধরনের হয়, একটি দুর্নীতিবাজদের পলায়নপর নির্বাসন আর অন্যটি নীতিবান রাজনীতিকদের নির্বাসন। তিউনিশিয়ার সাবেক শাসকও তো এখন নির্বাসনে। তার কীর্তিকলাপ বিশ্ববাসী জানে। তারেক রহমান কোন ধরনের নির্বাসন কাটাচ্ছেন, তা দেশবাসীর অজানা নয়। সময়ে হয়তো তারা আরও জানতে পারবেন, দেখতে পারবেন। তবে দেশের জনগণের অর্থ, স্বপ্ন এবং স্বাধীনতা লুটেপুটে খাওয়ার জন্য হাওয়া ভবনওয়ালিরা যেভাবে মরিয়া ছিল, তারা তা হাসিল করতে পারেনি। আবার নতুন প্রজন্মের শাসনের দোহাই দিয়ে তাদের অসমাপ্ত খায়েশ মেটাতে চায়। বিষয়টি বর্তমান প্রজন্মকে বুঝতে হবে।
আর নতুন প্রজন্মের রাষ্ট্র শাসনের কথা যদি বলাই হয়, তবে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ২০০৮ সালে তো তা চালু করেই দিয়েছে। বর্তমান মন্ত্রিসভায় অনেক মন্ত্রী আছেন, যারা তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধি। অনেক সিনিয়র নেতাকে পাশে বসিয়ে রেখে আওয়ামী লীগ নতুন নেতৃত্ব দিয়েই দেশ চালাচ্ছে। খালেদা জিয়া আজ যা বলছেন, আওয়ামী লীগ তা বাস্তবায়ন করেছে গত সংসদ নির্বাচনে জেতার পরেই।
পনেরো কোটি গণমানুষের বাংলাদেশে রাতারাতি কেউই সব সমস্যা সমাধান করতে পারবে না। বর্তমান সরকারও যে আলাদীনের চেরাগ দিয়ে দেশ পাল্টে দিচ্ছে, তা বলার কোন সুযোগ নেই। যদি তা-ই হতো তবে বিশ্বব্যাংক দুর্নীতির অভিযোগ তুলে পদ্মা সেতু প্রকল্প থামিয়ে দিতে পারত না। মন্ত্রী-এমপিদের আত্মীয়স্বজন ও তাদের পোষ্যদের দুর্নীতি স্বজনপ্রীতি ছাপা হতে পারত না জাতীয় দৈনিকগুলোর পৃষ্ঠাজুড়ে।
সব নতুন নেতৃত্বই যে নীতিবান হয় না, তা আমরা অতীতে দেখেছি, এখনো দেখছি। খালেদা জিয়া রাষ্ট্রের জন্য নতুন নীতিমালা তৈরি করে রাজনীতি নতুনদের হাতে তুলে দেয়ার ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন। বিএনপির একজন সিনিয়র নেতা কদিন আগে যুক্তরাষ্ট্রে সফরকালে তার দলের কর্মীদের এক ঘরোয়া সভায় বলেছেন, তারেক রহমান আগামী দিনের প্রধানমন্ত্রী আর বেগম খালেদা জিয়া আগামী দিনের রাষ্ট্রপতি। খালেদা জিয়ার খায়েশের সঙ্গে সেই তথ্য মিলে যাওয়ার একটি যোগসূত্র রয়েছে।
বর্তমান সরকার দেশের প্রতিটি ক্ষেত্রে সুশাসন কায়েম করতে পারছে না, তা সত্য। তবে প্রায় আড়াইবছরে দেশে জঙ্গিবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারেনি, এটা অত্যন্ত উজ্জ্বল সত্য। অথচ বেগম জিয়ার নেতৃত্বে চারদলীয় জামায়াতি জোটের অন্যতম এজেন্ডা ছিল দেশে পাকিস্তান-আফগানিস্তানের আদলে জঙ্গিবাদ প্রতিষ্ঠা করা। কী জঘন্যভাবে তাদের সময়ে দেশে জঙ্গিতন্ত্র প্রতিষ্ঠা পেতে যাচ্ছিল, তা এ প্রজন্মের ভুলে যাওয়ার কথা নয়।
বাংলাদেশ তিরিশ লাখ শহীদের রক্তের ঋণে প্রতিষ্ঠিত দেশ। এই দেশে এখনো অনেক রাজাকার রয়েছে, যারা এই 'তিরিশ লাখ' শহীদ সংখ্যাই মানে না। এদের প্রবক্তারাই আজ নতুন নেতৃত্বের নামে দখলদার চাইছে। বিষয়গুলো মনে রাখতে হবে সবাইকে।
নিউইয়র্ক, ১৯ অক্টোবর ২০১১
-------------------------------------------------------------------------------
দৈনিক সংবাদ / ঢাকা / ২১ অক্টোবর ২০১১ শুক্রবার প্রকাশিত





















১৫টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×