somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

ফকির ইলিয়াস
আলোর আয়না এই ব্লগের সকল মৌলিক লেখার স্বত্ত্ব লেখকের।এখান থেকে কোনো লেখা লেখকের অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ, ছাপা, অনুলিপি করা গ্রহনযোগ্য নয়।লেখা অন্য কোথাও প্রকাশ, ছাপা করতে চাইলে লেখকের সম্মতি নিতে হবে। লেখকের ইমেল - [email protected]

এই সহিংসতা ভেঙে ফেলতে পারে শান্তির সাঁকো

৩১ শে জানুয়ারি, ২০১২ সকাল ১১:০৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এই সহিংসতা ভেঙে ফেলতে পারে শান্তির সাঁকো
ফ কি র ই লি য়া স
====================================
২০০৫ সালের মার্চে বাংলাদেশ সফর করতে গিয়েছিলেন মার্কিন সেনাবাহিনীর প্যাসিফিক কমান্ডের তৎকালীন কমান্ডার অ্যাডমিরাল উইলিয়াম জে. ফ্যালন। তিনি ঢাকায় একটি বিষয় বেশ পরিষ্কার করে বলে এসেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী চক্রের কার্যক্রম রয়েছে। অ্যাডমিরাল ফ্যালন যা বলেছিলেন, তা তিনি বলেছিলেন মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর প্রাপ্ত রিপোর্টের ভিত্তিতেই। মার্কিন অ্যাডমিরাল স্পষ্ট করে বলেন, এই সন্ত্রাসী চক্রগুলো শুধু বাংলাদেশের জন্যই নয়, গোটা বিশ্বের মুক্তিকামী গণতান্ত্রিক মানুষের জন্যই হুমকিস্বরূপ।
কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার ছয় সপ্তাহের মধ্যে অ্যাডমিরাল ফ্যালনের বাংলাদেশ সফর ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোয় সন্ত্রাসের উৎস ও গতি যে গভীরভাবে মনিটর করছে, ওই সফর ছিল তারই একটি পর্ব। অ্যাডমিরাল ফ্যালনের সফরের পর পরই বাংলাদেশের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এম মোরশেদ খান, ফ্যালনের বক্তব্যকে উড়িয়ে দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তিনি তা পারেননি। আর না পেরেই বলতে বাধ্য হয়েছিলেন, কোন দেশেই সন্ত্রাস কারও পক্ষে একা দমন করা সম্ভব নয়।
প্রশ্ন উঠে, এর আগে চারদলীয় জোট সরকার যেখানে দেশে মৌলবাদী সন্ত্রাসী নেই বলেই হুংকার দিয়ে আসছিল, সেখানে হঠাৎ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুর এত নরম করেছিলেন কেন? নাকি দেয়াল ভেঙে বন্যা ঢুকতে শুরু করেছিল জোটের মসনদে? যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাডমিরালের বক্তব্যের পর পরই তখন সাহায্য চাওয়ার এত প্রয়োজন কেন পড়েছিল?
লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের বৈঠকে বাংলাদেশ বিষয়ে প্রস্তাব গৃহীতের পরও দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন, বাংলাদেশ কোন ইউনিয়নের অঙ্গুলি নির্দেশে চলবে না। বাংলাদেশ কারও অঙ্গুলি নির্দেশে চলুক তা বোধহয় কোন দাতা দেশের সদস্যরাও চায় না। তারা চায় বাংলাদেশে সন্ত্রাস, রাজনৈতিক দুর্বৃত্তপনা, দুর্নীতি বন্ধ হোক। দেশে সব নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হোক এবং গণতন্ত্রের ক্রমবর্ধমান ধারা অব্যাহত থাকুক।
এরপর অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসে। কিন্তু সেই পরাজয় কি ভুলতে পেরেছিলেন বিএনপি নেত্রী? না, পারেননি। তার জন্য আরও বড় সংকট, তার দুই পুত্রের বিদেশে অবস্থান।
অ্যাডমিরাল ফ্যালন তার সফরকালে বেশ কিছু যৌক্তিক প্রশ্ন উথাপন করেছিলেন। চট্টগ্রামে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র লাপাত্তা হয়ে যাওয়া এবং এর আংশিক উদ্ধার ও পার্বত্য অঞ্চলে বিভিন্ন জঙ্গিবাদী গ্রুপের গোপন আস্তানা- এসব বিষয়ে মি. ফ্যালনের উদ্বেগের নিশ্চয়ই অনেক কারণ ছিল। তিনি তো স্পষ্ট করেই বলেছিলেন, গণতন্ত্রে ভিন্নমত থাকবে। কিন্তু কারা সব মতের মুক্তিকামী মানুষের জন্য হুমকিস্বরূপ, তাদের চিহ্নিত করতে হবে। অ্যাডমিরাল ফ্যালন ঢাকায় যা বলে এসেছিলেন, তা নতুন কিছু নয়। বিষয়টির নতুনত্ব হচ্ছে এই, দেশে এখন ‘হিযবুত তাহ্রীর’ নামে নিষিদ্ধ সংগঠনটি ডানা মেলছে।
আমাদের মনে আছে, সন্ত্রাস দমনে কঠোর মনোভাবাপন্ন যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ান সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের উত্থান সম্পর্কে সত্যিকার অর্থেই উদ্বিগ্ন ছিল, এখনও আছে। ‘মডারেট মুসলিম কান্ট্রি’ কিংবা ‘উদারপন্থী গণতান্ত্রিক দেশ’ ইত্যাদি তকমা কারা দিয়েছিল, তাও আমরা ভুলে যাইনি। কথা হচ্ছে, যে কোন বিশেষণেই বাংলাদেশকে তারা ভূষিত করুক, এ দেশটিতে জঙ্গিবাদের কর্কট শক্তি যে বাষ্প ছড়াচ্ছে, তা জানান দিচ্ছে সাম্প্রতিককালের গ্রেফতার ঘটনা।
এদিকে প্রধান বিরোধী দল আন্দোলনের নামে নৈরাজ্য করার প্রয়াস চালাচ্ছে। মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশের নামে সহিংসতা কারা ছড়াতে চেয়েছিল, তা দেশবাসীর এখন আর অজানা নয়। কিন্তু কথা হচ্ছে, সরকার বিরোধী দলের প্যারালালে কর্মসূচি দিয়ে অবস্থা আরও সংকটাপন্ন করে তুলতে চাইছে কেন? বিরোধী দলের আন্দোলন তো এভাবে ঠেকানো যাবে না। অতীতেও যায়নি। সরকারি দল সব সময়ই ক্রেডিট নেয়, নিতে চায়। আমার মনে পড়ছে, ২০০৫ সালে নিউইয়র্ক সফরে এসে একইভাবে নিজ সরকারের পক্ষে সাফাই গেয়েছিলেন তারেক রহমান।
চট্টগ্রামে মেয়র নির্বাচনে মহিউদ্দিন চৌধুরীর বিজয়কেও সে সময়ের সরকারের নিরপেক্ষতা বলে বর্ণনা করেছিলেন তারেক রহমান। তিনি বলেছিলেন, বর্তমান সরকারের অধীনেই সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ যে অবস্থা তা অতীতেও ছিল। কিন্তু এমনটি তো এই স্বাধীন দেশের মানুষের কাম্য ছিল না। মনে রাখতে হবে, একাত্তর-পূর্ববর্তী সময়ের আন্দোলন ও বর্তমান সময়ের আন্দোলনের ধারা, গতি-প্রকৃতি এক হতে পারে না। হওয়া উচিতও নয়।
এই সহিংসতা যদি শান্তির সাঁকো ভেঙে ফেলে, তাহলে লাভবান হবে কে? সেই কালো শক্তিরা? অবশ্যই তারা এমন সুযোগের অপেক্ষায় আছে।
২৯ জানুয়ারি, ২০১২ চাঁদপুর ও লক্ষ্মীপুরে চারজন নিহত হয়েছেন। পুলিশের গুলিতে এমন মৃত্যু প্রমাণ করে সরকার মরিয়া হয়ে উঠেছে। তা দেশের জন্য, মানুষের জন্য তীব্র উৎকণ্ঠার কারণ। আর বিদেশী বিনিয়োগ? তা শিকেয় উঠবে, উঠছে ক্রমশ। মানুষ বাঁচাতে সরকারকে সহনশীল হতেই হবে। নয়তো, তাদের ভুলের মাশুল জাতির জন্য আরও দুর্ভাগ্য বয়ে আনতে পারে।
৩০ জানুয়ারি ২০১২
-----------------------------------------------------------------
দৈনিক যুগান্তর/ ঢাকা / ৩১ জানুয়ারি ২০১২ মঙ্গলবার






















০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

লিখেছেন নতুন নকিব, ১১ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:০৩

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

মানুষের জীবন মূলত অসংখ্য ছোট-বড় সিদ্ধান্তের সমষ্টি। প্রতিটি বাঁকে, প্রতিটি মোড়ে আমাদের কোনো না কোনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

লিখেছেন আঘাত প্রাপ্ত একজন, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:২৬

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

[সম্ভাবনার ক্রমানুসারে নয়ঃ]

আর্জেন্টিনা: আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ তার ডিফেন্স আর ইনজুরি । ৩৮ বছরের তরুণ(!) সেন্টারব্যাক ওতামেন্দি আর কমপক্ষে এক হালি হাফ-ফিট ফুটবলার নিয়ে ১৯ জুলাই পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×