আমাকে আসতেই হয়, রক্তারিক সিম্ফনীর দুর্নিবার আকর্ষণে,
এইখানে মারেফত সংগীত সাধক পিতামহের স্মৃতি বিজড়ত -ফকির কুটিরে ।
আমি আসি বলে -ফকির কুটির- অজপাড়াগাঁ, শহর, দেশ, মহাদেশ,
গ্রহের সীমানা পেড়িয়ে মহাবিশ্ব হয়ে যায়,
শব্দ বীণায় বেহুলার নৃত্য চপল প্রচেষ্টায়
ঘুমন্ত বিশ্বখানি লন্দিরের মত পাশ ফিরে শোয়,
জীবন উন্মাদনায় উচ্ছ্বল পদচারণা করে ছন্দবদ্ধ অবয়বে।
আমি আসি বলে- চুলখোলা আয়েশা আক্তার হাওয়ার মত চঞ্চলতায়
দিগ্বিদিক ছুটাছুটি করে ডুবুরির প্রশ্বাস থেকে উৎপন্ন বুদ্ বুদে র মত।
আয়েশাকে চিনি নিজেকে যতটা জানতে পারি তার মত করে।
হৃদয়খানি দেখেছিলাম ঝর্ণার স্বচ্ছ জলের আবহে,
আমাকে সমুদ্র জেনে গতির চঞ্চলতায় সদা প্রবহমান।
ও সমুদ্রে উপচে পড়া পূর্ণিমা চাঁদের বিচ্ছুরিত বর্ণালী,
আয়েশার হাসির পাশে তুমি এতটা ফ্যাকাশে কেন!
ও ঘনকালো মেঘে ঢাকা শ্রাবণের আকাশ
কেন তোমাকে আয়েশার কেশ বলে ভ্রম হয়?
ও শূন্য সাগরে ভাসা পঞ্চমী-চাঁদ, ডিঙ্গি নায়ের অবয়বে কতটুকু আর বক্র তুমি
আয়েশার তীব্র শ্লেষের কাছে,বললে যখন -নষ্ট পুরুষ- আমাকেই।
- আয়েশা! আমি তোমাকে? না, না -এক রাত্রি'তে প্রকৃতি রুক্ষ ছিল,
যে বায়ু দেহে শীতলতা নিয়ে আসে তা উড়নচণ্ডী ছিল,
সুপারি গাছটা হঠাৎ খেয়ালে মাটি ছোঁয়ার প্রবণতায় উত্তাল ছিল,
ডাল সমেত পাতারা গাছ হারিয়ে উঠানে নৃত্যরত ছিল,
তুমি ছিটকে এসেছিলে আমার বুকে। ক্রমে বাইরের প্রকৃতি
আমাদের মাঝে উঠেছিল জেগে,
হঠাৎ ঝড়ের প্রচন্ডতায় তীর্যক বৃষ্টি এলো আমার অন্তর্গত
নৈতিকতার বর্ষণ হয়ে। বললাম- যাও।
মনে পড়ে, ষ্পষ্ট মনে পড়ে তুমি বলেছিলে -যাবো? কেন যাবো?
আমি তোমাকে যেতে দিয়েছি, ...
আপন কথার যৌক্তিক বর্ষনে শরৎ আকাশের মত আমি রিক্ত।
দুর্বিষহ নীরবতায় আয়েশা স্নানের করলো আয়োজন।
চুলায় চড়ানো হাড়ির পাশে আমাকে টেনে নিয়ে নিচু-লয়ে বললে-
তুমি খড়ি দাও আপন পাহালে, আমি স্নান করে আসি দূরের ঘাটে।
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে আগস্ট, ২০০৯ দুপুর ১২:৫০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


