টোঙ্গার ইতিহাসে বিশেষ পারদর্শী নৃ-বিজ্ঞানী ডেভিড বার্লি বলেন, এই স্থানটি পোলেনেশিয়ানদের আকর্ষনীয় সমুদ্রযাত্রা দক্ষতার ইঙ্গিত দেয়৷ সম্ভবত ইউরোপীয় যুগের অনেক আগে টোঙ্গানরা হাওয়াই গিয়েছিল৷
নৃ-বিজ্ঞানী বার্লি টোঙ্গায় পাওয়া তথ্য প্রমাণ থেকে অনুমান করেন যে, সম্ভবত পোলেনেশিয়ানরা দুই হাজার নয়শ বছর আগে সেখানে বসবাস করতে শুরু করে৷ স্থানটি হাওয়াই থেকে ৫,০৬০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত৷ সেখানকার মানুষ ও পশুপাখির ছবি টোঙ্গার ফোয়া দ্বীপে মানুষের বসবাসের প্রমান বহন করে৷ বার্লি আরো বলেছেন, তিনি নিশ্চিত যে স্থানটির নাম ক্যাপ্টেন কুক৷ বিশেষ করে তিনি সেই ইংরেজ নাবিকের কথা উল্লেখ করছেন যিনি ১৭৭৭ সালে তিনমাস এই দ্বীপে বাস করেছেন৷বার্লি গত বছর টোঙ্গানের শিল্পী শেন ইগান দুজন অষ্ট্রেলিয় পর্যটকদের মাধ্যমে কানাডার সিমন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তাঁকে টোঙ্গায় এসে এব্যাপারে গবেষণা করার আহ্বান জানান৷বার্লি একটি শেন ইগান ও টোঙ্গার শিল্পকর্ম সমন্ধে বলেছেন যে, ‘‘শিলাতত্ত্বগুলো হাওয়াইয়ান রীতিতে সম্পাদন করা হয়েছে তাই নয়, এটি সুনির্দিষ্টভাবে হাওয়াইয়ের কাপুষ্টিক রীতিকেও প্রকাশ করে, যা একটি গোপন জায়গায় স্খাপন করা হয়েছিল৷ টোঙ্গার সাংস্কৃতিক রীতিনীতি ও কৃষ্টি সমন্ধে ভাল ধারণা রয়েছে শেন ইগানের’’৷
টোঙ্গায় পাওয়া শিল্পকর্মগুলো প্রাচীন হাওয়াই ফর্মের ফিগার বা আকৃতির৷ এই শিল্পকর্মগুলো ১২৫০ থেকে ১৫৫০ সালের মধ্যকার সময়ে তৈরী হয়েছে বলে ধারণা করা হয়৷
মাতাঙ্গি ওয়েবসাইটে ইগান বলেছেন, ছবিগুলোর দৈর্ঘ্য ২০-৩০ সেন্টমিটার৷ ছবিগুলোর মাঝে রয়েছে সেখানকার নারী, কচ্ছপ, কুকুর, পাখি, গিরগিটি আর পায়ের ছাপ৷ তিনি আরো বলেছেন এই ছবিগুলো পূর্ব সময়কে প্রদর্শন করে এবং তা ধীরে ধীরে ক্ষয় হয়ে যাচ্ছে৷ পাথরের এই খাঁজগুলো এখন পান্ডুবর্ণ এবং দিনের আলোতে শিল্পকর্মগুলোর পাঁশে দিয়ে হেটে গেলে কেউ বুঝতেও পারবেনা৷ কিন্তু রাতে টর্চের আলো পড়লে যেন পাথর খোঁদাই করা কাজ গুলো লাফ দিয়ে সরাসরি মানুষের কাছে চলে আসে এবং দশ সহস্র ছবি পাথরের উপর নৃত্যরত অবস্থায় উন্মোচিত হয়৷
ফারজানা কবীর খান (স্নিগ্ধা)
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই মে, ২০১০ দুপুর ২:৩৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



