somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

@ পর্দা নারীজাতির সম্মান বৃদ্ধি করেছে (১)

০৪ ঠা জুলাই, ২০০৭ সকাল ১১:৩৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

নারীকে সম্মানিত করেছে ইসলাম-চার পড়ুন ।
::নারীকে সম্মানিত করেছে ইসলাম-পাঁচ::
সৃষ্টির ভারসাম্য রক্ষার জন্যই সৃষ্টিতে সৃষ্টিতে পার্থক্য; এ পার্থক্য অব্যশই কল্যাণের। কেননা, সকল সৃষ্টির মান ও গুণাগুণ যদি সমপর্যায়ের হতো, তাহলে এই সুন্দর এবং সুসামঞ্জস্যশীল পরিবেশ পৃথিবীবাসী কখনোই দেখতে পেত না; একথা জ্ঞানী মাত্রই স্বীকার করবেন নির্দ্বিধায়। সৃষ্টিকুলের মধ্যে পৃথিবীর পরিচালনার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে মানুষকে। মানুষের বংশ রক্ষা ও পৃথিবীকে আবাদ করার জন্য অন্য সকল প্রাণীর মতই প্রজনন ব্যবস্থা রাখা হয়েছে মানুষের মাঝেও। এছাড়াও মানব জাতির দুই পরিপূরক অংশ-পুরুষ এবং নারী-নিজেদের মধ্যে এমন আরো অসংখ্য গুণাবলী ধারণ করে থাকে, যার মাধ্যমে তারা পরস্পরকে সাহায্য করে নিজেদের জীবন যাপন থেকে শুরু করে পৃথিবীর এই ব্যবস্থাপনাকে টিকিয়ে রাখার মত যাবতীয় ব্যাপারাদিতে। এটাই বাস্তবতা এবং এটাই বিজ্ঞানসম্মত, এটাই বিশ্বস্রষ্টার বিধান এবং এটাই ন্যায্য বিধি-বন্টন। মানুষ এখান থেকেই শুরু করে তার সামনে এগুনোর ধারাবাহিকতা এবং এতেই তার জন্য যাবতীয় কল্যাণ নিহিত; স্বল্প জ্ঞান ও পরিধির সীমাবদ্ধতার কারণে চাই সে তা বুঝুক বা না বুঝুক।

এখন যদি কেউ তার সীমাবদ্ধ চিন্তা, অপ্রতুল জ্ঞান, দৃষ্টির জ্যামিতিক কৌণিকতা এবং সর্বোপরি অজ্ঞতার আচ্ছন্নতায় নিমজ্জিত হয়ে এ জাতীয় প্রশ্ন তোলা শুরু করে যে, স্রষ্টা কেন নারী-পুরুষ আলাদা করলেন? স্রষ্টা কেন পুরুষ থেকে নারী সৃষ্টি করলেন? নারীর সুষমা পুরুষের চেয়ে কেন বৃদ্ধি করে দিলেন? নারী সন্তান প্রসব করবে আর পুরুষেরা কেন করবে না ইত্যাদি ইত্যাদি? তাহলে সে তার সমপর্যায়ভুক্ত একটা দল অবশ্য পেয়ে যাবে কিন্তু পৃথিবীর তাবৎ সুস্থ ও স্বাভাবিক জ্ঞান প্রত্যাখ্যান করে এসেছে উন্মাদনার এসব নব নব চটকদারীতাকে। উল্লেখ্য যে, আধুনিক বৈজ্ঞানিক আবিস্কারের আতশবাজীর ঝলকানীতে দৃষ্টিরঞ্জিত করে কিংবা বলা যায় মোহাচ্ছন্নতায় ফেলে এই পন্থীরা আজ অনেক প্রভাবশালীদেরকেই সম্মোহিত করতে সক্ষম হয়েছে। আর সেই সুবাদে প্রচারণার ক্ষেত্রে বেশ সুবিধা অর্জন হাতিয়ে নিচ্ছে।

কিন্তু এই সমাজ মানুষের হাতেই তৈরী, আর মানুষ তৈরী দু'টি মৌলিক উপাদানে- দেহ ও আত্মা। দেহের নিয়ন্ত্রণ মানুষের হাতে দেয়া আছে বলে এর চাহিদা মেটাতে মানুষ পৃথিবীর উন্নয়ণের প্রায় পুরোটাই ব্যবহার করছে। কিন্তু আত্মার নিয়ন্ত্রণ স্রষ্টা নিজের হাতেই রেখেছেন। আর এ দুই দিকের ভাবনা, চাহিদা ও সুবিধার বিবেচনাতেই গড়ে উঠেছে সামাজিক ব্যবস্থাপনা। যেখানে এবং যে যুগেই এই ব্যবস্থাপনায় মানুষ শুধুমাত্র নিজেদের নফস্ ও দেহ মিলিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে, সেখানেই দেখা দিয়েছে অশান্তি ও নৈরাজ্যতা। অন্যদিকে যখনি মানুষ নিজ আত্মা-বিবেক এবং আত্মার স্রষ্টা ও নিয়ন্ত্রকের বিধান অনুসরণ করে সমাজ ব্যবস্থা বিনির্মাণ করেছে, তখনকার সমাজে মানুষ সর্বোচ্চমাত্রার শান্তি উপভোগ করেছে। তাই সরল রেখা থেকে যত দূরেই ছিটকে পড়ুক না কেন, আত্মার সাথে সামঞ্জস্যশীল পদ্ধতিকে মানুষ কোন কালেও অস্বীকার করতে পারেনি। অর্থাৎ, সামাজিক জীবনের অতি সাধারণ ও স্বাভাবিক প্রবণতাকে, নিয়ম-পদ্ধতিকে, প্রাকৃতিক বৈপরীত্যকে মানুষ নিজেদের বাস্তবতা বলেই জেনে এসেছে; যার বিকল্প অথবা বিকৃত চিন্তা সাধারণভাবে মানুষ ভাবতেও পারে না।

তাই এ জাতীয় সাধারণ কোন বিভ্রান্তির ধোঁয়া দেখলেই সেখানে মানুষ স্রষ্টার বিধানও খুঁজতে যায় না; বরং নিজেরাই তা নিভিয়ে দিতে প্রবল হয়। অন্যকথায় আত্মার প্রশান্তির ছায়ায় আশ্রয় নেয়া মানুষের অতি স্বাভাবিক একটা প্রবণতা; কেউ এসব সাধারণ বিধানকে তার স্রষ্টার বিধান বলে স্বীকার করে ও মেনে চলে আর কেউ স্রষ্টার দেয়া আত্মাকে-বিবেককে কাজে লাগিয়ে অন্য কোন প্রচলিত বিধানের আওতায় কিংবা বিবেকের ফয়সালা বলেই পালন করে; দু'দিক থেকেই সাধারণ ও স্বাভাবিকতার বিপরীত ভ্রান্তিকে তারা বিতাড়ন করে।
(এটি এই পর্বের ভূমিকা)
(অসমাপ্ত)

নারীদের অধিকার ও মর্যাদা বিষয়ে কয়েকটি আলোচনা শুনতে পাবেন এখানে ।
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা জুলাই, ২০০৭ সকাল ১১:৪০
২৭টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×