আমার প্রিয় পোস্ট

জন্মোপার থেকে পৃথিবী হয়ে অনন্তে >>> ©www.fazleelahi.com

@ আমার বিশ্বাস: সামহোয়্যারইন ব্লগে কোন রাজাকার নেই

০৯ ই জানুয়ারি, ২০০৮ সকাল ১১:০৮

শেয়ারঃ
0 0 0

(হুঁট করে সরিয়ে দিয়ে, মন্তব্য না লিখে দয়া করে লেখাটি পড়ুন ও বিবেচনা করে মন্তব্য দিন, প্লিজ!)
আন্তর্জালে বাংলা ভাষার গৌরব সামহোয়্যারইন ব্লগ। নেট জগতে প্রবেশ করার পর থেকেই মনে বড় কষ্ট ছিল, বাংলায়, আমার মায়ের ভাষায় লিখতে পারছি না মনের আকুতিগুলো, ভালবাসাগুলো, অনুভবগুলো। লিখতে হয় ইংরেজী অথবা বাংরেজীতে। তারপর ইউনিকোড এলো, সামহোয়্যারইন সহ আরো অসংখ্য ব্লগ-ফোরাম এলো বাংলায়; বাংলা ভাষাকে আন্তর্জালের আওতায় পদার্পণে যাদের মেধা, শ্রম ও যোগ্যতা কাজে লেগেছে, তাদের সবাইকে সালাম এবং অভিনন্দন।

আন্তর্জালে বাংলা চর্চার শুরু থেকেই লক্ষ্য করে আসছি যে, একটা অপশক্তি কখনোই ভাল কিছু করতে দিতে চায় না; তাহলে কি তারা ভাল কিছু করতে চায়? না, তাও তাদের সীমাহীন অযোগ্যতার কারণে অসম্ভব। তাহলে তারা কি চায়? একথার বিশ্লেষণে গেলে বলতে হয় যে, প্রতিটি মানুষই চায় তার প্রচার, ভূমিকা, আধিপত্য। চাই তা তার অধঃস্তন কারো উপর ক্ষমতাবলে হোক কিংবা সম বা তদুর্দ্ধ কারো প্রতি জবরদস্তিমূলকভাবে হোক। একথাটি যেমন সত্যি কোন অযোগ্য-অকর্মা ব্যক্তির ক্ষেত্রে, তেমনি সত্য কোন শেকড়বিহীন-জনবিচ্ছিন্ন দলের ক্ষেত্রে। আর তাই আমাদের রাজপথে সময়ে সময়ে দেখা যায় এগার দলের ঘোষণায় নয়/দশ জনের বিশাল(?), মিছিল আর মুখরোচক নানাবিধ কর্মসূচীর মহড়া। সুতরাং, এই বাংলা ব্লগে এর ব্যতিক্রম হতে যাবে কেন?

অপদার্থ হলেও আত্মজাহিরের এই সব প্রক্রিয়ায় কিন্তু দেশের বড় বড় দলগুলো তেমন মূখ্যতা দেখায়নি। রাজাকার ইস্যূতে এসে স্বাধীন বাংলাদেশের শাসক শেখ মুজিব সাধারণ ক্ষমা ঘোষণার মাধ্যমে দেশের সকল নাগরিকদের সুন্দর সহাবস্থান নিশ্চিত করেছেন। তথাপি উপরোল্লেখিত সেই অপদার্থের দল ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি গঠন করে রাজাকার ইস্যূকে আদালতে উপস্থাপন করলো; আদালত তাদের আবেদনকে খারিজ করে দিয়ে অভিযোগকৃত ব্যক্তিকে এদেশের নাগরিক বলে রায় প্রদানের মাধ্যমে এই ইস্যূর সমাধান করে দিল। মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী শেখ মুজিবের দল আওয়ামী লীগ তার কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে রাজনীতি করে আসছিল এবং এই রাজনীতিতে তারা তাদের ঘোষিত রাজাকারদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে রাজপথে আন্দোলন করেছে, করেছে নব্বুই ও নব্বুই পরবর্তী উত্তাল সময়গুলোতে। বিশ্বের রাষ্ট্র ব্যবস্থায় তত্ত্ববাধায়ক সরকার এখন সুষ্ঠু নির্বাচন প্রক্রিয়া পরিচালনার জন্য একটা বিরল ব্যবস্থা; যা বাংলাদেশেই প্রথম শুরু হয় এবং বাংলাদেশের দেখাদেখি অন্যান্য দেশও এই ব্যবস্থার প্রতি উৎসাহ বোধ করতে শুরু করেছে এবং যার রূপরেখা প্রণয়নকারী অধ্যাপক গোলাম আযম; যিনি আদর্শিক ও পরিস্থিতি বিশ্লেষণে একাত্তরে নিখিল পাকিস্তান বিভাগের বিপক্ষে ছিলেন কিন্তু বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে এই ছত্রিশ বছরে দেশের প্রতি ঐকান্তিক ভালবাসা ছাড়া বিরুদ্ধতার কোন নজীর তার বিরুদ্ধে কেউ দেখাতে পারবে না।

দেশের আরেক প্রধান রাজনৈতিক শক্তি বিএনপি; যারা বিগত শাসন আমলে জামায়াতের সাথে জোট সরকার গঠনের মাধ্যমে দেশবাসীকে একটি সুন্দর ও সফল প্রশাসন উপহার দিতে সক্ষম হয়েছেন। এর দ্বারা কি পরিস্কার হয় না যে, দেশের প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো মূলত রাজাকার ইস্যূকে বড় করে না দেখে বরং দেশের উন্নয়ন-অগ্রগতিকেই বড় করে দেখছেন? তাহলে বিগত সরকারের আমল শেষ হবার সাথে সাথে যেই আওয়ামী লীগ তাদের শাসন আমলেও রাজাকারদের নিয়ে কোন মাথাব্যাথা অনুভব করেনি তারা কেন হঠাৎ সোচ্চার হয়ে গেল এই ইস্যূতে? কারণ, তাদের ঘাড়ে এগারটি ভুত চেপে বসেছিল, যার ফলাফল ছিল ১৪ দল এবং যাদের বিধ্বংসী তাণ্ডব দেশবাসী দেখেছিল অবরোধ ও ২৮ অক্টোবরের বিশ্বনিন্দিত ভয়াল ঘটনার মধ্য দিয়ে।

যা বলছিলাম, শুরু থেকে যতদূর দেখে আসছি, সামহোয়্যারইন ব্লগের ঘাড়েও এগার দলের এগারটি না হলেও অন্তত পাঁচ/সাতটি ভুত তো চেপেছেই। অন্যথা কমরেডদের 'লাল সালাম' চলতে পারে, 'জাযাকাল্লাহু খাইরান' চলতে বাধা ও ব্যঙ্গ হয়, নাস্তিকতা ও সমাতন্ত্র-ধর্মনিরপেক্ষতার গুণ-কীর্তন চলতে পারে ধর্মীয় লেখালেখিকে প্রতিহত করার অপচেষ্টা করা হয়; কেন? আমি কর্তৃপক্ষের প্রতি অঙ্গুলি নির্দেশ করছি না; বরং কর্তৃপক্ষের বোঝা উচিত যে, সামহোয়্যারইনে কর্তৃপক্ষ বাক-স্বাধীনতার বা সকলের নিজ নিজ মতামত প্রকাশের যে অবাধ সুযোগ রেখেছেন, এই বাক-স্বাধীনতার কণ্ঠ রুদ্ধ করে দিতে তৎপর গোষ্ঠীই একদা এই ব্লগ ধ্বংসের নীল নকশা রূপায়ন করে; যার ফলাফল সচলায়তন। বর্তমান পরিস্থিতিও তাদেরই সৃষ্ট এবং সচলায়তনের ব্যর্থতা এবার তারা কি দিয়ে পূর্ণ করতে যাচ্ছে, তাই এখন দেখার বিষয়। তারা সব পারে, মুক্তচিন্তা, মুক্তবুদ্ধি আর বাকস্বাধীনতার জন্য বক্তৃতা করতে পারে, আবার মঞ্চ থেকে নেমে তার মতের বিরোধীদের কণ্ঠরুদ্ধ করে করে দিতেও পারে; পরন্তু এই ব্লগে তো তারা প্রকাশ্য ঘোষণা দিয়েই বাক-স্বাধীনতার অপমৃত্যু ঘটিয়েছে।

পরিশেষে বলবো, আমার বিশ্বাস এই ব্লগে একাত্তরের কোন রাজাকার নেই। আর তৎপরবর্তী সময়ে কারো রাজাকার হবার কোন সুযোগও আসেনি। তাই এই অপশক্তি যে অপপ্রচার চালাচ্ছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। একাত্তরে যারা মুক্তিযুদ্ধ করেছেন বা তার বিরোধিতা করেছেন কিংবা নিস্ক্রিয় ছিলেন যুদ্ধ কিংবা প্রতিরোধ থেকে তাদের সবারই বয়স অন্তত ষোল থেকে বিশ হওয়া জরুরী; যেমন আমার বাবা উচ্চমাধ্যমিকে পড়তেন আর সেখান থেকেই মুক্তিযুদ্ধে যোগ দিয়েছিলেন। অথচ এই ব্লগে যারা ব্লগাচ্ছেন, তাদের অধিকাংশই যুবক বা নব্য যুবক। কেউ কেউ এমনো থাকতে পারেন যারা একাত্তরে শিশু কিংবা বালক/বালিকা ছিলেন; যাদের তখন কোন পক্ষীয় ভূমিকা রাখার বয়সই ছিল না। সুতরাং, প্রমাণিত হলো যে, যাদেরকে রাজাকার বলে আখ্যায়িত করা হচ্ছে, তারা কেউই রাজাকার নয়। তারা স্বাধীন বাংলাদেশের সন্তান। পরন্তু তাদের প্রতি এহেন মিথ্যারোপের জন্য তারা ইচ্ছা করলে আদালতের মাধ্যমে আইনের আশ্রয় নিতেও পারেন।

আরেকটি কথা না বললেই নয়; তা হলো, একাত্তরে নিখিল পাকিস্তান বিভাজনের বিপক্ষে অনেকগুলো দল ও অনেক ব্যক্তিরা অবস্থান নিলেও রাজাকার বলতে শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট দলের প্রতি ইঙ্গিত করা হয় কেন? একাত্তরে যারা রাজাকার ছিল তারা সে দলে আছে বলে পুরো দলটিকে কেন রাজাকার আখ্যা দেয়া হয়? তাদের সন্তানদেরকে কেন রাজাকার আখ্যা দেয়া হয়? সে দলটি তো একটি ইসলাম প্রতিষ্ঠার আন্দোলনকারী দল, আর সে দলের সমর্থন করলেই রাজাকার হয়ে যায়? যদি এমনটি কেউ ভেবে থাকেন তাহলে তার উদ্দেশ্য পরিচ্ছন্ন যে, সে রাজাকারদের বিরুদ্ধে বলছে না বরং ইসলামের বিরুদ্ধে কথা বলছে, তাই দয়া করে ভেবে বলুন। অপর দিকে, আপনারাই তো চলচিত্র তৈরী করেছেন, তাতে গান লিখে সুর করে গেয়েছেন: 'মানুষ মরণশীল পৃথিবীতে আসে/ কাউকে দিওনা দোষ পিতার দোষে/ মা বলেছেন, মানুষ যদি হতে হয়/ পাপকে করো ঘৃণা; পাপীকে নয়।' অথচ আপনারা কি করছেন? পাপকে তো করছেনই ঠিক আছে, সাথে সাথে পাপীকেও, অথচ যাদের ব্যাপারে দেশকে ভালবাসা ছাড়া আর কোন উদাহরণ কেউ দিতে পারনি এই ছত্রিশ বছরে। শুধুকি তাই, আপনারা তাদের সন্তানদেরকেও আক্রমণ করছেন; এটা কি মানবতার পর্যায়ে পড়ে? না কি আপনারাই মানুষ নন?

আরিল, প্লিজ খুঁজে দেখুন, সামহোয়্যারইন ব্লগে যদি একাত্তরের কোন রাজাকার থাকে তো তাকে বের করে দিন, এটা আমারো দাবী। তারপর যারা রাকাজার নয়, তাদেরকে রাজাকার ডাকার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারী করুন এই ব্লগে। এই নীতিটি অবলম্বন করে দেখুন প্লিজ; আমার বিশ্বাস আপনি বিদেশী হলেও এবং ব্যবসায়িক দৃষ্টিভঙ্গিতে এই ব্লগ চালালেও বাংলাদেশী ও বাংলাভাষাভাষীদের নিকট এই ব্লগ একটি সুন্দর উপহার হিসেবে বিবেচিত হবে। ধন্যবাদ।
09.01.2008, মদীনা মুনাওয়ারা, সৌদি আরব।

 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): রাজাকারব্লগ ;
প্রকাশ করা হয়েছে: দিনকাল  বিভাগে । বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ০৯ ই জানুয়ারি, ২০০৮ সকাল ১১:১২
আওরঙ্গজেব বলেছেন: সুন্দর পোস্টের জন্য ধন্যবাদ।
০৯ ই জানুয়ারি, ২০০৮ সকাল ১১:২০

লেখক বলেছেন: আমি খুবই দুঃখিত যে, কানেকশন শ্লো থাকার কারণে লেখাটি দু'বার পোষ্ট হয়ে গিয়েছিল। প্রথমটিতে ছবি আসেনি তাই ওটা মুছে দিয়েছি আর তাতে কোন একজনের একটি মন্তব্য মুছে গেছে। ভাল করে খেয়ালও করতে পারিন।

আওরঙ্গজেব-
আপনাকেও ধন্যবাদ। সকাল থেকে কষ্ট করে লিখলাম। বাংলা ভাষার প্রতিনিধিত্বকারী এই ব্লগটিকে সুন্দর রাখার জন্য যদি কিছুমাত্র কাজে লাগে, তাহলেই সাফল্য।

২. ০৯ ই জানুয়ারি, ২০০৮ সকাল ১১:২১
বিবেক সত্যি বলেছেন: আরিল, প্লিজ খুঁজে দেখুন, সামহোয়্যারইন ব্লগে যদি একাত্তরের কোন রাজাকার থাকে তো তাকে বের করে দিন, এটা আমারো দাবী। তারপর যারা রাকাজার নয়, তাদেরকে রাজাকার ডাকার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারী করুন এই ব্লগে।



+
০৯ ই জানুয়ারি, ২০০৮ সকাল ১১:৩৩

লেখক বলেছেন: বিবেক সত্যি-
+ এর জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি। এবং সহমত পোষণ করলে কর্তৃপক্ষের নিকট এই দাবী পেশ করুন সবাই।
আমরা চাই আন্তর্জালে বাংলা ভাষার প্রতিনিধিত্বকারী এই ব্লগ বেঁচে থাকুক, সুন্দর ভাবেই বেঁচে থাকুক।

৩. ০৯ ই জানুয়ারি, ২০০৮ সকাল ১১:২৬
প্রিয় বলেছেন: এই না হোল কথা! আপনার সহমত অনেকের বিশ্বাস, বাংলাদেশেও কোন রাজাকার নাই।
০৯ ই জানুয়ারি, ২০০৮ সকাল ১১:৪০

লেখক বলেছেন: প্রিয়-
দেখুন, প্রিয় মানুষদেরকে বেশী কঠোর ভাবে বলতে নেই, তাই সহজ করে বলছি। এই দুঃস্বপ্নের কারণেই আপনারা রাতে ঠিকভাবে ঘুমুতে পারেন না। দিনে ভালভাবে জেগে থাকতে পারেন না। আমি তো চ্যালেঞ্জ দিয়েছি লেখায় যে, একাত্তরের পর আর কারো রাজাকার হবার সুযোগ ছিল না। আপনি প্রমাণ করুন যে, ছিল। পারবেন?
দেশে যারা এখনো একাত্তরের রাজাকার আছে, তাদের বিরুদ্ধে মুজিব থেকে নিয়ে বর্তমান পর্যন্ত যারাই যে পদক্ষেপ নিয়েছে উল্লেখ করা চেষ্টা করেছি এবং তাদের প্রচেষ্টায় জাতি ও জাতীয় আদালত যে রায় দিয়েছেন, তাও দেশের মানুষ জানে, বুঝে ও মানে।

আমার মূল থিম হলো এই ব্লগে একাত্তরের কোন রাজাকার নাই; এটা আমার বিশ্বাস। এবং আরিলের প্রতি অনুরোধ করেছি, থাকলে তাকে বের করে দিন। তারপর আর বাকী থাকছে বর্তমান প্রজন্ম, তাদেরকে রাজাকার ডাকা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও আইনত মানহানীমূলক অপরাধ। তারা ইচ্ছে করলে এর জন্য আইনের আশ্রয় নিতে পারেন।

তাই ব্লগের সুন্দর পরিবেশ রক্ষায় দয়া করে আর কোন নতুন দুঃস্বপ্নের জগত থেকে বেরিয়ে আসুন। প্লিজ। প্রিয়, প্রিয়ই থাকুন।

৪. ০৯ ই জানুয়ারি, ২০০৮ সকাল ১১:৩০
হুদাই বলেছেন: তথাপি উপরোল্লেখিত সেই অপদার্থের দল ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি গঠন করে রাজাকার ইস্যূকে আদালতে উপস্থাপন করলো;


একথা যে বলে সে রাজাকার!!!
০৯ ই জানুয়ারি, ২০০৮ সকাল ১১:৫৯

লেখক বলেছেন: হুদাই-
মন্তব্যে আপনার নিজের কথা যা বলেছেন- "একথা যে বলে সে রাজাকার!!!" -এই ধ্যান-ধারণার গণ্ডি থেকে বেরিয়ে আসুন দয়া করে, তাহলে আশার করা যায় যে, দেশের জন্য কিছু করতে পারবেন।

কেউ একজন তার মতের বিরুদ্ধবাদী কারো বিরোধিতা করলেই তাকে রাজাকার ডাকাটা আপনাদের একটা রোগ হয়ে দাঁড়িয়েছে; এর চিকিৎসা প্রয়োজন।

আরো বলতে হয় যে, এভাবে কথায় কথায় ভিন্নমতের মানুষদেরকে রাজাকার বানিয়ে ফেলার মাধ্যমে আপনারা স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়কার রাজাকারদেরকে সাধারণ মানুষদের নিকট সহনশীল করে তুলেছেন। তাই হয়ত দেখবেন, একাত্তর পরবর্তী 'রাজাকার' শব্দ আর বর্তমান 'রাজাকার' শব্দ গ্রহণে দেশের মানুষের মধ্যে দারুন ব্যবধান। একসময় এই শব্দে আঁতকে উঠতো, আর এখন মানুষ আপনাদের দোষারোপিত কিংবা সত্যিকারের রাজাকারদেরকেই ভোট দিয়ে তাদের নেতৃত্বের আসনে বসায়।
ভাবতে পারেন? এটা কেন হলো? এ জন্য যে, আপনাদের দোষারোপিত কিংবা সত্যিকারের রাজাকাররা দেশকে ভালবাসার মানদণ্ডে দেশের মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।

তাহলে বুঝুন এবং আশার করবো নিজেদের কথাবার্তা বলার ক্ষেত্রে নতুন করে ভাববেন। ভাল থাকুন।

৫. ০৯ ই জানুয়ারি, ২০০৮ সকাল ১১:৪০
শাহীন - চট্টগ্রাম বলেছেন: ধন্যবাদ সুন্দর পোস্টে র জন্য।
০৯ ই জানুয়ারি, ২০০৮ দুপুর ১২:১১

লেখক বলেছেন: শাহীন-চট্টগ্রাম-
প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকুক আন্তর্জালে নেতৃত্বদানকারী বাংলাভাষার এই সুন্দর ব্লগটিকে সুন্দরভাবে বাঁচিয়ে রাখার জন্য। ধন্যবাদ আপনাকেও।

০৯ ই জানুয়ারি, ২০০৮ দুপুর ১২:৩৯

লেখক বলেছেন: হলদে ডানা-
এই একমত হওয়াটাকে সোচ্চার করুন। আওয়াজ তুলুন যে, ব্লগে যদি একাত্তরের রাজাকার থাকে, তবে তাকে বের করে দেয়া হোক। অন্যথা এই প্রজন্মকে রাজাকার ডাকার অনধিকার চর্চার দুঃসাহস যেন কেউ না করে।

৭. ০৯ ই জানুয়ারি, ২০০৮ দুপুর ১২:৫০
উন্মনা রহমান বলেছেন:

দেশে কোন সন্ত্রাসী নেই। - কালা জাহাংগীর
০৯ ই জানুয়ারি, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:৩৫

লেখক বলেছেন: উন্মনা রহমান-
আমি পোষ্টে সামহোয়্যারইন ব্লগের কথা বলেছি। আপনার কোটেশনটা অনেকটা এইরকম হয়ে গেছে যে, "আমরা সবার বাক-স্বাধীনতা চাই" (তবে জামায়াত কথা বলতে পারবে না)

ঠিক বলেছি তো নাকি প্রমাণও লাগবে?

৮. ০৯ ই জানুয়ারি, ২০০৮ দুপুর ১২:৫২
উন্মনা রহমান বলেছেন:
মডারেট করতাছেন জানলে মন্তব্য করতাম না। আমার মন্তব্য মুইছা ফালান।
০৯ ই জানুয়ারি, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:৩৬

লেখক বলেছেন: মন্তব্য মডারেট করছি না জেনে যখন দিয়েছেন, তখন মুছবো কেন? আপনি তো থাকার জন্যই দিয়েছেন এবং থাকছেও। আর আমার জবাবের মাধ্যমে প্রথম পাতায়ও গেছে।

সুতরাং নো টেনশন :)

০৯ ই জানুয়ারি, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:৩৭

লেখক বলেছেন: অপার্থিব-
৩ দেয়ার তো সুযোগ নেই, হয় ৫ নয় ০ অথবা হাঁ এবং না। যাইহোক, আপনাকে ধন্যবাদ।

১০. ০৯ ই জানুয়ারি, ২০০৮ দুপুর ১:৫৮
রিউ বলেছেন: ধন্যবাদ। সুন্দর পোষ্টের জন্য।

ব্লগে লেখা হয়না অনেক দিন। কেন? কিছুটা বিরক্ত আর অধৈর্য্য হয়ে। আপনার লেখা দেখে কেন জানি ইচ্ছে হল একটু লিখতে।

আমার ক্ষুদ্র জ্গানে যতটুকু বুঝি, তাতে সারা বাংলাদেশে কথিত রাজাকারদের সংখ্যা (জামাত-শিবিরের সকল সমর্থক ও যদি রাজাকার হয়) মোট জন সংখ্যার (ভোটারের) মাত্র ৩-১০%। এই একটি ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠি কি ভাবে ৩৬ টি বছর অবশিষ্ট ৯৭-৯০% জনগোষ্ঠির উপর আধিপত্য বিস্তার করে আসল, আমার মাথায় আসেন।

ক্ষমতার অংশিদারিত্বের কথা ও যদি বলা হয়, তবো তাদের অংশিদারিত্ব ওই ৩-১০% ই। অথচ বিগত ৩৬ বছরের সমস্ত অপকর্মের দায় ওই ৩-১০% ক্ষমতার অংশিদারী গোষ্ঠির উপরই চাপানো হয়। একটি দেশের ৯৭-৯০ ভাগ মানুষ যদি ভাল হয়, তাহলে ৩-১০ ভাগ খারাপ মানুষ কি ভাবে দেশটাকে খারাপ করে ফেলতে পারে? আমার গণিতের জ্গান এই হিসাবটা করতে পারে না।

বর্তমানে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা হল "স্বাধীনতা বিরোধী আর যুদ্ধাপরাধীদের (জামাতের)" বিচার করা। আমি অস্বীকার করব না যে বাংলাদেশের স্বাধীনতা বিরোধী আর যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রয়োজন নেই। কিন্তু এটাই কি সব সমস্যার সমাধান? ধরুণ, যদি জামাতকে বাংলাদেশে রাজনীতি করতে দেয়া না হয়, তাদের কে বিচারের সমোখিন করা হয় (তাতে হয়তো দেখা যাবে দলের খুব নগন্য সংখ্যক কর্মী দোষী সাব্যস্ত হবে), তাতে কি সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে?

আমি যতটুকু জানি, বাংলাদেশে স্বাধীনতা যুদ্ধের কারণ ছিল সাধারণ মানুষদেরকে তাদের প্রাপ্য অধিকার থেকে বন্চিত করা। সেই অধিকার আদায়ের সংগ্রামই একদিন স্বাধীনতার সংগ্রামে রুপ নেয়। তাতে সতস্ফুর্ত ভাবে অংশ নেয় বাংলাদেশের সাধারণ জনগন। যে অধিকারের জন্য স্বাধীনাতার সংগ্রাম হল, সেই অধিকার কি সাধারণ মানুষ পেয়েছে? আমার চেয়ে বাংলাদেশের সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষগুলোই ভাল বলতে পারবে। আর বলতে পারবে তারা, যাদের কে মধ্যরাতে লাইন দিয়ে উচ্চ মুল্যে চাল, ডাল এবং জীবন বাঁচানোর সামান্য রসদ জোগার করতে হয়।

এই ব্লগে অনেকেই একাত্তুরে জামাতের ভূমিকার সমালোচনা করে একমাত্র তাদেরকেই স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশের সমস্ত অনাচার আর খারাপ কাজের জন্য দোষারোপ করেন। কিন্তু স্বাধীনতার পরে তাদের কি কি কাজের জন্য বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ কি কি ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তার একটা বিবরণ কি আপনাদের কাছ থেকে পেতে পারি? পেলে হয়তো তাদের ব্যাপারে আমার মত কিছু মানুষ সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারত। আমার জন্ম স্বাধীনতার পরে। তাই স্বাধীনাতার পরের ব্যাপারগুলোই আমার কাছে বেশী গুরুত্ত্বপূর্ণ।

এরকম একটা বিবরণ বিশেষ করে কানাডার প্রবাসী "এক্সিমো"-এর কাছে থাকতে পারে। অন্যদের কাছে থাকলে তারাও লিখতে পারেন।

(আমার এই লেখা পড়ে এই ব্লগের অনেকেই আমাকে রাজাকার বলে ফেলতে পারেন। আগেও এরকম কিছু হয়েছে। অবশ্য তাদের কথায় আমার কোন যায় আসে না। কারণ, তাদের কে আমার অপ্রকৃতিগ্রস্হ মনে হয়।)

০৯ ই জানুয়ারি, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:৪০

লেখক বলেছেন: রিউ-
এ মন্তব্য পড়ার আগেই আপনার প্রায় তিন/চার মাস পর লেখা ব্লগের লেখাটি পড়েছি ও মন্তব্য দিয়েছি, সেটাই এখানেও তুলে দিলাম। ভাল থাকবেন।

ফজল বলেছেন: " আমি অস্বীকার করব না যে বাংলাদেশের স্বাধীনতা বিরোধী আর যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রয়োজন নেই। কিন্তু এটাই কি সব সমস্যার সমাধান? ধরুণ, যদি জামাতকে বাংলাদেশে রাজনীতি করতে দেয়া না হয়, তাদের কে বিচারের সমোখিন করা হয় (তাতে হয়তো দেখা যাবে দলের খুব নগন্য সংখ্যক কর্মী দোষী সাব্যস্ত হবে), তাতে কি সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে? তাতে কি সাধারণ মানুষ দুবেলা পেট পুড়ে খাওয়ার নিশ্চয়তা পাবে। মানুষের একদম মৌলিক কিছু অধিকার (খাদ্য, বস্র, বাসস্থান, চিকিৎসা, শিক্ষা) নিশ্চিত হবে।"

ভাই, অনেক দিন পর ফিরে এলেন, বিগত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে এই জানুয়ারী; অনেকটা সময়।

এসেই যে লেখা দিলেন, আপনাকে আগেও মিস করেছি এখন আরো করবো। কোট করা অংশটা পড়ে দু'চোখ পানিতে ভরে গেল। গতকালও মদীনার চায়ের দোকানে বসে শুনি, অতি সাধারণ মানুষেরা সমানে বকছে, কেননা, তারা আশংকা করছে যে আগামী দিনগুলোতে তাদের বৌ-বাচ্চারা হয়ত না খেয়ে থাকবে। এই হলো প্রবাসীদের অর্থাৎ, যারা আমরা টাকা কামাচ্ছি, আমাদের কথা। আর যারা দেশের মাটিতে দিন এনে দিন খায়, তাদের অব্স্থাটা কি!!!! সত্যিই শিউরে উঠতে হয়।

আশা করবো লিখবেন নিজের মত করে, মন্তব্যে বাঁধ দেয়ার ব্যবস্থা আছে এখন, পছন্দ মত আপনালয় সাজাতে পারবেন তাতে।

১১. ০৯ ই জানুয়ারি, ২০০৮ দুপুর ২:৩৭
নুর3ডিইডি বলেছেন: যদি ৭১ এর পরের কাউকে রাজাকার বলা প্রয়োজন মনেকরে কেউ, তাহলে তাদেরকেই বলতে হবে রাজাকার, যারা দেশের জন্য হুমকি, যারা দেশের ক্ষতিকরছে, যারা গালিবাজি করে , সন্ত্রাসীকরে দেশটাকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্রেলিপ্ত।

ধন্যবাদ ফজলে এলাহি ভাই। খুব সুন্দর সময়উপযোগি পোষ্ট।
০৯ ই জানুয়ারি, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:৪৬

লেখক বলেছেন: নুর3ডিইডি-
সুন্দর বলেছেন। একাত্তরের পর যেখানে আর রাজাকার হবারই সুযোগ নেই, সেখানে কাউকে রাজাকার বলা মানে তার গণতান্ত্রিক অধিকারে হস্তক্ষেপ করা।

এ ব্যাপারে বিগত আওয়ামী শাসনামলে সাংসদ দেলোয়ার হোসেন সাঈদী ওনার সংসদের বক্তৃতায় ওপেন চ্যালেঞ্জ ছুঁড়েছিলেন যে, তিনি রাজাকার নন, তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় কোন রাজনৈতিক দলেও ছিলেন না; কেউ প্রমাণ করতে পারলে করে দিন, অন্যথা তাকে রাজাকার বললে তিনি দশ কোটি টাকার মানহানি মামলা করবেন। কিন্তু কেউই ওনার এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করার মত দুঃসাহস বা বোকামী যেটাই বলেন; করেনি।

তাই বলছি, যারা এসব মিথ্যাচার ও বানোয়াট কথা বলে দেশে অরজকতা সৃষ্টিতে তৎপর, তাদেরকে রুখে দিতে হবে। প্রয়োজনে আইনের আশ্রয়ে যেয়ে।

১২. ০৯ ই জানুয়ারি, ২০০৮ বিকাল ৩:২৬
আশরাফ রহমান বলেছেন: এখানে রাজাকার না থাকলেও বাকশাল পরিবারের সদস্যরা আছেন বলে আমার বিশ্বাস । নইলে মানুষের কণ্ঠরোধ করার চিন্তা এরা কিভাবে করে ? এখানে মানুষ থাকার পাশাপাশি কিছু অমানুষও আছে যারা প্রতিপক্ষকে আক্রমন করে অশালীন ভাষায়। রিকশাচালকদের ভাষাও এদের চেয়ে অনেক উন্নত। এসব গালিবাজ ও বাকশালদের দ্রুত ব্যান করা উচিত।
১০ ই জানুয়ারি, ২০০৮ রাত ১২:২৭

লেখক বলেছেন: আশরাফ রহমান-
বাকশালীদের আন্তরিক চেহারা বোধ হয় সেই আগের মতই র'য়ে গেছে, তাই আগের চেহারাটাকে যদি বর্তমানের কাছে উপস্থাপন করা যায়, তাহলে আশা করছি দেশের নতুন প্রজন্ম এ থেকে নিজেদের জন্য দিকনির্দেশনা পাবে।

১০ ই জানুয়ারি, ২০০৮ রাত ১২:২৯

লেখক বলেছেন: শাস্তি-
"ফজল" ব্লগে তো গালি দেয়ার জন্য লাথি খেয়ে বের করা হয়েছে। বুঝতে পারছি যে, এখানেও তাই প্রয়োজন বোধ করছো তুমি। তোমার ইচ্ছে পূরণ করলাম।

১৪. ০৯ ই জানুয়ারি, ২০০৮ বিকাল ৩:৪২
নাজিরুল হক বলেছেন: আপনার এই পোষ্টের অনেক গুলো বিষয়েই জওয়াব দেওয়া যাবে।

আপনি বলেছেন

সে দলটি তো একটি ইসলাম প্রতিষ্ঠার আন্দোলনকারী দল, আর সে দলের সমর্থন করলেই রাজাকার হয়ে যায়? যদি এমনটি কেউ ভেবে থাকেন তাহলে তার উদ্দেশ্য পরিচ্ছন্ন যে, সে রাজাকারদের বিরুদ্ধে বলছে না বরং ইসলামের বিরুদ্ধে কথা বলছে, তাই দয়া করে ভেবে বলুন।


আপনি কি জামাত কে ইসলামী দল মনে করেন? জামাত যা করছে অন্যান্য দলের নেতারাও তাই করছে। যেমন দূর্নীতি, ইসলামের মৌলিক আইন অমান্য করা ইত্যাদী।

জামাতকে আমরা দেশ স্বাধীন বিরোধি দল বলে জানি। জামাতের বর্তমান অবস্থান নিয়ে আপনি কি বলবেন? ইসলামের জণ্যে তারা রাজনীতি করলে নিজেই করতো। অন্য কোন দলের সাথে তারা যোগ দিত না। সুতরাং বুঝা গেল তারা রাজণীতি করে ক্ষমতার জন্যে। ইসলামের জণ্যে নয়, বরং ইসলামের মাস্ক মুখে দিয়ে তারা অন্যায় করছে।

যেহেতো তারা বাংলাদেশে স্বাধীনতার বিরোধি ছিল, তাই তারা শেখ মুজিবের সাধারণ ক্ষমা ঘোষনায় তারা নিরব থাকার কথা ছিল। সেটা তারা না করে নিজেরাই ইসলামের নামে দল করে নতুন প্রজন্মকে রাজাকার উপাধি উপহার দিচ্ছে।

হয়তো বলবেন তারা কি রাজনীতি করতে পারবে না? হ্যা অবশ্যই পারবে। যেমনটা অন্যান্য বাংলাদেশীরা করে। ইসলামের লেবাস নিয়ে ক্ষমতার জণ্যে রাজনীতি করার কারণে তাদেরকে রাজাকার বলা হয়। কাণ তাদের আগের ইতিহাসটা মুছে যায় নি।

সময় হলে আরো কিছু ট্রপিকে বলবো।
১০ ই জানুয়ারি, ২০০৮ বিকাল ৫:১৭

লেখক বলেছেন: নাজিরুল হক বলেছেন: ......................
"আপনি কি জামাত কে ইসলামী দল মনে করেন? জামাত যা করছে অন্যান্য দলের নেতারাও তাই করছে। যেমন দূর্নীতি, ইসলামের মৌলিক আইন অমান্য করা ইত্যাদী।"

=নাজিরুল হক ভাই, ক্লীন হার্ট অপারেশন গেল, চিতা, কোবরা, ব্যাব সবার পর বর্তমান সরকারের দূর্নীতি দমন মিশন চলছে। তাতে জামায়াতের কয়জন আর অন্যান্য দলগুলোর কয়জন নেতাকর্মী জেলে ঢুকেছে বলেন তো? নাকি আপনি দেখেও না দেখা ভান করে আছেন? অন্যান্য দলের নেতারা যখন জেলের ঘানি টানছে, তখন জামায়াত নেতারা দিব্যি এসে হজ্জ করে গেলেন, তাও বড় বড় ইসলামী সংস্থাগুলোর দাওয়াতে। এগুলো কিভাবে আপনার চোখ এড়িয়ে গেল, বুঝতে পারছি না।


নাজিরুল হক বলেছেন: ......................"ইসলামের জণ্যে তারা রাজনীতি করলে নিজেই করতো। অন্য কোন দলের সাথে তারা যোগ দিত না।"

=দেখুন, জামায়াত অন্য কোন দলে যোগ দেয়নি; বরং একটা কাজ (নির্বাচন) যৌথভাবে করার সিদ্ধান্তে ঐক্য করেছে মাত্র। আপনাকে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাজ থেকে উদাহরণ দেই- হিজরতের পর মদীনা নামক ছোট্ট মুসলিম রাষ্ট্রটিকে চারদিকের কাফের-মুশরিকদের আক্রমণ থেকে রক্ষার জন্য তিনি মদীনার ইয়াহূদী, মুশরিকদের সাথে চুক্তি করেছিলেন। পরবর্তীতে ইয়াহূদীরা সেই চুক্তি ভঙ্গের দায়ে দণ্ডিত হয়ে চিরদিনের জন্য মদীনা ছাড়তে বাধ্য হয়। সেই চুক্তিভঙ্গের কারণে এহেন লাঞ্ছনাকর দণ্ডপ্রাপ্ত ইয়াহূদী জাতি সেই ইতিহাস আজো ভুলেনি, তাই তারা এখনো ম্যাপ আঁকে ইয়াহূদী সাম্রাজ্যের; যার অন্তর্ভুক্ত মদীনা মুনাওয়ারাও। তাহলে চিন্তা করে দেখুন, মদীনা রাষ্ট্রের চারদিককার কাফের অপশক্তিকে প্রতিরোধ করতে যদি আল্লাহর রাসূল স্বয়ং অভিশপ্ত ইয়াহূদীদের সাথে দেশ রক্ষায় চুক্তিতে যেতে পারেন, তাহলে জামায়াতে ইসলামী দেশকে ভারত ও ভারতপন্থীদের ষড়যন্ত্রের হাত থেকে রক্ষার জন্য কেন পারবে না মুসলমানদের নিয়ে (প্রায়) গঠিত বিএনপি নামক দলের সাথে নির্বাচনের ঐক্য করতে? প্লিজ, একটু বুঝার চেষ্টা করুন, দেখবেন আপনার কাছে ব্যাপারটি আর প্রশ্ন হয়ে থাকবে না।

নাজিরুল হক বলেছেন: ......................
"যেহেতো তারা বাংলাদেশে স্বাধীনতার বিরোধি ছিল, তাই তারা শেখ মুজিবের সাধারণ ক্ষমা ঘোষনায় তারা নিরব থাকার কথা ছিল। সেটা তারা না করে নিজেরাই ইসলামের নামে দল করে নতুন প্রজন্মকে রাজাকার উপাধি উপহার দিচ্ছে।

হয়তো বলবেন তারা কি রাজনীতি করতে পারবে না? হ্যা অবশ্যই পারবে। যেমনটা অন্যান্য বাংলাদেশীরা করে। ইসলামের লেবাস নিয়ে ক্ষমতার জণ্যে রাজনীতি করার কারণে তাদেরকে রাজাকার বলা হয়। কাণ তাদের আগের ইতিহাসটা মুছে যায় নি।"

=আপনার উপরের কথাগুলো আমার কাছে স্বাভাবিক ঠেকছে না, নিজেই আরেকবার পড়ুন কি বলেছেন। বিশেষ করে বোল্ড করা লাইনটি। বাস্তবতা যদি এই হয়ে থাকে, তাহলে তো আমার কথাই ঠিক হচ্ছে যে, তারা আসলে রাজাকারদের বিচার চায় না; বরং তারা ইসলামকে বিচারের মারপ‌্যাঁচে ফেলে এদেশ থেকে বিতাড়িত করতে চায়।

১৫. ০৯ ই জানুয়ারি, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:২৬
শাওন বলেছেন: প্লাসাইলাম । যদিও ওটা দিয়ে আমি কখনই লেখার মান নির্নয় করিনা । তবুও দেখতে অশভোন লাগছিলো ।

ভালো লাগল ।
১০ ই জানুয়ারি, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:০১

লেখক বলেছেন: শাওন-
ঠিক বলেছ, রেটিং দিয়ে মান নির্ণয় নিরর্থক। কেননা, পৃথিবীতে এখন মানুষের সংখ্যা অমানুষের চেয়ে অনেক কম। ভাল থেকো।

১০ ই জানুয়ারি, ২০০৮ রাত ৮:৫৫

লেখক বলেছেন: চতুরভূজ-
আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।

১৭. ১০ ই জানুয়ারি, ২০০৮ রাত ৯:৩২
মাহমুদ রহমান বলেছেন: +......

কে বলেছে রাজাকার নেই। ভাল লাগছে ব্লগ থেকে রাজাকার কিছুদিনের জন্য হলেও কর্মবিরতিতে গেছে।

রাজাকাররা মাইন্ড কইরেন না। এদেশ স্বাধীন করা হয়েছিল বাক হরণ করার জন্য নয়, বাক-স্বাধীনতা রক্ষার জন্য, মুক্তবুদ্ধির চর্চার জন্য।
১৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ রাত ২:৪৩

লেখক বলেছেন: মাহমুদুর রহমান-
ভালো বলেছেন, কিন্তু এসব নাটক, কেবলই মঞ্চস্থ করার দরকার হলে করেন ওনারা।

শেষের দু'লাইন চমৎকার: "এদেশ স্বাধীন করা হয়েছিল বাক হরণ করার জন্য নয়, বাক-স্বাধীনতা রক্ষার জন্য, মুক্তবুদ্ধির চর্চার জন্য।"

১৮. ১১ ই জানুয়ারি, ২০০৮ সকাল ৮:৪৭
নয়ন বলেছেন: তথাপি উপরোল্লেখিত সেই অপদার্থের দল ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি গঠন করে রাজাকার ইস্যূকে আদালতে উপস্থাপন করলো;

আসেলই তারা অপদার্থ। দুধ কলা দিয়ে সাপ পুষেছে সেই সাপ এখন দংশন করছে।
১৯. ১৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ রাত ২:৪৫
নরাধম বলেছেন: নয়ন বলেছেন: তথাপি উপরোল্লেখিত সেই অপদার্থের দল ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি গঠন করে রাজাকার ইস্যূকে আদালতে উপস্থাপন করলো;

আসেলই তারা অপদার্থ। দুধ কলা দিয়ে সাপ পুষেছে সেই সাপ এখন দংশন করছে।

 

মোট সময় লেগেছে ১.০০৫২ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
অন্যদিগন্ত: www.bishorgo.com
ভালবাসতে চাই মানুষকে, পৃথিবীকে, ভালবাসিও, কিন্তু যখনি দেখি অপচ্ছায়া ঢেকে ফেলছে আমার ভালবাসাকে, তখনি যেন নিজেকে আর খুঁজে পাই...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ