মানুষগুলো শিশু হয়ে জন্মায়, সাথে থাকে হাজারো দুর্বলতা, কিন্তু পরিক্রমার এক পর্যায়ে এসে দুর্বলতাগুলো এসে ঠাঁই করে আবারো তার মাঝে। ঘুমটাই বোধ হয় সবচেয়ে আগে ছেড়ে যায় শিশু কিংবা কৈশর থেকে আবার ঠিক যেন যৌবনের পূর্ণতাতেই এসে ধরা দেয় কখনো কখনো। বিশেষজ্ঞরাই ভালো বলতে পারবেন। দাদীকে যখন ছেড়ে আসি শেষ বারের মত, তখন হামাগুড়ি দেয়া শিশুর মতই হামাগুড়ি দিয়ে একটি হাত আমার দিকে তুলে ধরে বললেন:
-আমি তোর সাথে যাবো, আমি তোর সাথে যাবো,
-আমারে নিয়া যা, আমারে নিয়া যা।
প্রতিটি কথাই দু'দু'বার করে। আরো কত যে শিশুসুলভ আচরণ এসে জড়ো হয়েছিল শতক পেরুনো দাদীর সমাপনে, তার ইয়াত্তা নেই। দু'হাতের নিবেদনে এখনো দাদীর জন্য অশ্রুরা জড়ো হয় আল্লাহর দরবারে।
আমার তো মনে হয় যে, আমাদের জীবনের সবচেয়ে নির্মল হাসিটা আমরা হেসে এসেছি আমাদের শিশুবেলায়। সবচেয়ে একনিষ্ঠতাও কিনা বলতে পারবো না, তবে বন্ধুটি একদিন চিঠি লিখে জানিয়েছিল যে,
"কোথায় সেই নিষ্পাপ মায়াময় চাহনী, আজ সেখানে শুধু স্বার্থপরতা দেখতে পাই"।
সেদিন হয়ত সে কথার মর্মার্থ আমিও ধরতে পারিনি অথবা সত্যিকারের উপলব্দিতে আনতে পারিনি। হয়ত বন্ধুও তার পরিস্থিতির পরিণতিতে এত বড় একটা কথা যে বলে ফেললো, সে খেয়ালও বোধ হয় তার ছিল না। আজকের উপলব্দিতে সে সত্যকে কিছুতেই এড়িয়ে যেতে পারি না। শৈশবের ভাবনাহীন দৃষ্টির বিপরীতে আজকের মেমোরীতে সংগৃহীত হাজারো চিত্র-বৈচিত্রের ভিড়ে, ঘৃণা, ক্রোধ, লোভ, হিংসা আর লোকদেখানোদের মত অজস্র সংগ্রহের মিশ্রণে যে দৃষ্টি প্রস্তুত হয়ে ধরা দেয় সে-ই চোখের কোণে, আমিও আশ্চর্য এই ভেবে যে, একদিন এই দু'টি চোখ দিয়েই যে দিকে দৃষ্টি দিতাম সেদিক থেকেই বিম্বিত মমতার আলো বিচ্ছুরিত হতে দেখতাম। আজ কেন নাই!
যারা চিরদিনের প্রতিজ্ঞায় আবদ্ধ হয় "দেখে যাওয়া" কিংবা "তোমাকে দেখার স্বাদ মিটবে না গো" এ জাতীয় বিষয়ে, আমি তাদের জন্য দো'আ করি। অভিজ্ঞতা আমাদের জীবনে এমন এক পাওয়া, যার অবর্তমানে আমাদের পূর্ণতা নেই আবার যার পাওনাতে আমরা কিছুতেই পারি না দৃষ্টিতে সবটুকু সুষমা ঢালতে, কথায় ভালবাসার সবটুকু প্রকাশ ঘটাতে, পারি না বুকের সাথে বুকটাকে সঠিক মাপে মেলাতে। এটাই হয়ত বিধান; যার নেই কোন প্রতিবিধান!
-২৯.০৭.২০০৭ মদীনা মুনওয়ারা, সৌদি আরব।
ছবির জন্য কৃতজ্ঞ যেখানে।
=ও দু'চোখে নেই বিম্বিত মমতার বিচ্ছুরিত আলো
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
Tweet
৭টি মন্তব্য ০টি উত্তর
আলোচিত ব্লগ
পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন
“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন
আমাদের গ্রামের গল্প!

আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন
ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই
আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।
তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন
১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে
আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।