somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমি কোনো কাল্পনিক চরিত্র নই - ১

২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০১১ রাত ২:৪৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আমি কোনো কাল্পনিক চরিত্র নই।আপনার মতোই এই বাস্তব পৃথিবীতে আমার বসবাস।আজকে আমার জীবনের সবচেয়ে ভয়াল ঘটনার কথা আপনাদের বলবো,যেই ঘটনা আমার এবং আমার গোটা পরিবারের জীবনকে সম্পূর্ন বদলে দিয়েছে। কার জীবন কতোটুকু ধ্বংস হয়েছে কিংবা কার জীবন কতোটুকু পরিপূর্ণ হয়েছে সেই হিসাবে যাবো না।তবে আমি আমার এই নতুন জীবনকে মেনে নিয়েছি।ভালোই তো রয়েছি----হোক সে নতুন পরিচয়, তাও বন্দী পাখির মতো তো নয়।স্বাধীন জীবন, স্বাধীন চিন্তা, স্বাধীন ভবিষ্যত।সেই জীবনে অতীতের ভুলের মাশুল গুণতে হবে না, আর আমি মানসিকভাবে যথেষ্ট শক্তিশালী মানুষ, আমার তেমন অনুশোচনা নেই, পরিবারের প্রতি তেমন টান নেই।প্রতিরাতে ঘুম থেকে দুঃস্বপ্ন দেখে আঁতকে উঠি না, দাঁত ব্রাশ করার সময় আয়নার দিকে তাকিয়ে কোনো গ্লানিতে ভুগি না।সেই ঘটনা ছিলো নিছক এক দূর্ঘটনা, আর তার পরিনতি পুরোপুরিই অদৃষ্টের লিখন। আর নিয়তির সাথে সতীনের সম্পর্ক রেখে লাভ কি??

আমার নামটা নাহয় আপনাদের নাই বলি।কি হবে নাম জেনে। না জানার মধ্যে একটা মিস্ট্রি ফ্লেভার রয়েছে সেটার স্বাদটাই বরং আস্বাদন করুন।আসুন তাহলে কাহিনী শুরু করা যাক।

আমি তখন থাকি ধানমন্ডিতে।বাবা বিশাল বড়োলোক।একটা নামকরা লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানির ফাউন্ডার তিনি।সারাজীবন দারিদ্রের সাথে ধুঁকে ধুঁকে আজকে তিনি বিশাল সম্পত্তির অধিকারী।তাই দারিদ্রের জ্বালা আমাদের কখনো বুঝতে দেন নি।যখনই তার কাছে টাকা চাইতাম, সাথে সাথে পেয়ে যেতাম।তবে হ্যাঁ, তিনি পড়াশুনার ব্যাপারে ছিলেন ভীষন রকমের কড়া।আর যাই করি না করি, পড়াশুনা ঠিকঠাক থাকা চাইই চাই।আর আমি ছাত্র হিসেবে খুব একটা খারাপ ছিলাম না।পড়াশুনায় মোটামুটি একটা সময় ব্যয় করলেই ক্লাসে টপ ১০ এ থাকতাম।আর আমার প্রত্যাশার দৌড়ও ছিলো ঐ পর্যন্তই।কি হবে এতো ভালো রেজাল্ট করে, যা হচ্ছে মন্দ কি !!! যাই হোক, একসময় ঢাকার একটি নাম করা কলেজে ভর্তি হই।সেখানে নতুন বন্ধু, নতুন পরিবেশ।সব মিলিয়ে মোটামুটি ভালোই চলছিলো। নতুন বন্ধুদের পাল্লায় পড়ে সিগারেটে টান, তারপর আস্তে আস্তে অ্যালকোহলের উপর আসক্তি।সবচেয়ে বড়ো ব্যাপার ছিলো, এসব কিনতে যে খরচ পড়তো তা আমার কাছে কোনো ব্যাপারই ছিলো না, কারন ঐ যে বললাম, বাবা আমাকে কোনোদিন টাকার অভাব বুঝতে দেন নি।তবে একটা কথা বলে রাখা দরকার, সিগারেট আর মাঝেমধ্যে ড্রিংক করা ছাড়া আমার আর কোনো খারাপ নেশা ছিলো না।ঐসময় আমার বন্ধু সার্কেলের মাধ্যমে কিছু বড়ো ভাইদের সাথে আমার নিয়মিত উঠাবসা ছিলো।তারা সবাই ছিল ধানমন্ডির একজন "বিশেষ" লোকের বিশ্বস্ত লোকজন।নিয়মিত আড্ডা দেয়ার ফলে আমি ও তাদের মতোই একজন হয়ে পড়ি।এলাকায় আমার পাওয়ার আস্তে আস্তে বেড়ে গেলো।একটা কথা বলতে ভুলে গেছি, আমি ছোটোবেলা থেকেই ভীষণ স্টাইলিস্ট ছিলাম।হালের যতো ফ্যাশন কি না ট্রাই করি নাই।যাই হোক, এলাকায় আমার প্রভাব একটু করে বাড়তে লাগলো, মোক্ষম এই সময়ে একটা বাইক ও কিনে ফেললাম।আমি আর আমার এক বন্ধু মিলে গোটা পাড়া চষে বেড়াতাম।এছাড়া আমাদর এলাকায় কোনো সমস্যা হলে গিয়ে সালিশ বসাতাম, এলাকার সমস্ত দোকান থেকে আমাদের সেই "বিশেষ" লোকের নামে নিয়মিত চাঁদা তুলতাম।সেখান থেকে একটা পার্সেন্টেজও পেতাম।আমার পরিবারের লোকজন তেমন টের পেতো না এইসব।তবে আমার চরিত্রের সেই পরিবর্তনটা তারা লক্ষ্য করেছিলো।কিন্তু আমার রুক্ষ মেজাজের কারনে আমাকে তেমন ঘাঁটানোর সাহস করতো না কেউ।তবে আমার বাবা মাঝেমধ্যে শাসন করতেন।কিন্তু একেবারেই গায়ে মাখতাম না।

এদিকে কলেজ শেষ হওয়ার পর পড়াশুনার উপর ভক্তি একেবারে উঠে গেলো।কি হবে এইসব পড়াশুনা করে,তখন মাথায় ছিলো সেই "বিশেষ" লোকটির ব্যাপক প্রভাব।একদিন তার কাছে বললাম, তার হয়ে আরো বড়ো কোনো কাজ করতে চাই।এইসব ছাইপাঁশ আর ভালো লাগে না।তিনি তার এক পরিচিত জনকে বললেন আমাকে নিয়ে কিছু ভাবতে।সেই পরিচিত জনের নামও বলবো না, তবে গল্পের সুবিধার্থে তাকে "ক" নামে বলছি। যাই হোক, একদিন "ক" আমাকে ডাকলেন, ডেকে কিছু কথা বললেন, কিছু নতুন দায়িত্ব দিলেন।কিছু নতুন লোকদের সাথে পরিচয় করিয়ে দিলেন।আমার পাহারার গন্ডি আমার এরিয়া ছেড়ে একটু বাড়লো।ক্ষমতাও বাড়লো।আর প্রায় চারমাস পর আমার হাতে একটা আর্মসও আসলো।হাতে অস্ত্র আসার পর আমার মনের সবকিছু ওলটপালট হয়ে গেলো।মনে হলো, গোটা পৃথিবীতে আমার চেয়ে ক্ষমতাধর আর কেউ নেই। কিন্তু কিছু দিন যেতে না যেতেই বাধে বিপত্তি।আমাদের পাশের এরিয়ার আরেক "বিশেষ" ব্যাক্তির লোকজনের সাথে আমাদের মধ্যে একটা বিশাল মারামারি হয়।আর সেখানে আমি বেধড়ক মার খাই।কি ভয়ংকর মার, প্রায় ১৫ দিন বিছানায়।আমার বাসার অবস্থা তখন খুবই খারাপ, আমাকে ঠিক করার জন্য বাবা ভীষন তোড়জোড় করা শুরু করেন।তখন আমাদের বিল্ডিংয়ে প্রায় ২০ বছর ধরে এক আংকেল থাকতেন যার জাপান অ্যাম্বাসির সাথে খুবই ভালো সম্পর্ক ছিলো।আর আমরা বাড়িওয়ালা হওয়ায় আমাদের সাথে তাদের ভীষন অন্তরঙ্গতা ছিলো।বাবা ঐ আংকেলকে বলে আমাকে জোরপূর্বক জাপানে পাঠিয়ে দেয়ার ব্যাবস্থা করতে লাগলেন। কিন্তু আমার জেদের কাছে তিনি ঐ সিদ্ধান্ত থেকে আপাতত দূরে সরে আসেন।আর সামাজিকভাবে সমাধান কিংবা পুলিশের কাছে যেতেও তিনি রাজি হলেন না, পাছে তার সম্মানহানি হয়।এদিকে সুস্থ হবার পর আমি ঠিক করি যারা আমাকে মেরেছে তাদেরকে উপযুক্ত শাস্তি দিতে হবে।এমনই এক দিনে বাইকে ঘুরার সময় আমার বাসার ঠিক পিছনে তাদেরই দুইজনের সাথে আমার দেখা হয়ে যায়।তখন আমার সাথে আরেকজন ছিলো।বাইক থেকে নেমে আমি তাদেরকে আটকাই এবং ভীষনরকমের তর্কাতর্কি শুরু হয়।একপর্যায়ে তাদের একজন আমাকে চড় মারে।মুহূর্তে আমার মাথায় যেনো রক্ত উঠে যায়।পিস্তলটা বের করে ঐ শালাকে গুলি করে বসি।মুহূর্তে মাটিতে লুটিয়ে যায় সে। সাথে সাথেই মৃত্যু।ঘটনার আকস্মিকতায় আমরা সবাই যেনো পাথর হয়ে যাই। ঘোর কাটতেই দেখি আমার দলের ঐ ছেলেটি আর যাকে মেরেছি তার বন্ধু দৌড়ে পালাচ্ছে।

আমিও বাইক নিয়ে সরে পড়ি।এরপর পুলিশ আসে।আমার নামে হত্যা মামলা হয়।কিন্তু আমি তখন অলরেডী চলে গেছি আত্মগোপনে।কাহিনী পুরো এলাকায় জানাজানি হয়ে যায়।আমার বাবা খুব চেষ্টা করেছিলেন মোটা অংকের টাকা খা্ইয়ে যদি এলাকার মানুষ আর পুলিশকে বন্ধ করা যায়।কিন্তু ঘটনাটা একেবারে দিনে দুপুরে হওয়ায় পুলিশের জন্য তা তৎক্ষণাৎ ধামাচাপা দেওয়া খুবই কষ্টকর ছিলো।তখন বাবা মোটা অংকের টাকা ঘুষ দিয়ে পুলিশের তদন্ত কাজটি আপাতঃ বন্ধ করেন।পুলিশের সাথে চুক্তি হয়, আমার বাবা সেই আংকেলকে ধরে আমাকে জাপানে পাঠিয়ে দিবে এবং পুলিশ এ ব্যাপারে কিছুই করবে না।

এবং ঠিক তাই হয়।আমি জাপানে পালিয়ে আসি।সময়টা ১৯৮৭ সাল।এসে যেনো একটু বুকভরে নিঃশ্বাস নেই , আহ !!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!! বয়স তখন মাত্র ২২ বছর।স্বাধীনতার নতুন মাত্রা।এখন শুধু উপভোগের সময়।


কিন্তু জাপানে এসেও দুর্ভাগ্য আমার পিছু ছাড়ে না।সেই অপার স্বাধীনতার ২ বছরের মাথায় ঘটে যায় আরেকটি ঘটনা। সেই গল্প নাহয় আরেকদিন করবো। সেই পর্যন্ত বিদায়।তবে হ্যাঁ আমি কিন্তু এখন আর জাপান থাকি না।মাঝে ঘটেছে আরো কিছু ঘটনা।জীবনটা এখন অনেক বদলে গেছে, বদলে গেছে তার ঠিকানা।
১৫টি মন্তব্য ১৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×