somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গানে গানে চাকরিবেলা ( গো. ধু ভাইকে)

১২ ই মে, ২০০৭ ভোর ৪:৩২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বস একটা মাশাআল্লাহ। খুবই টেলেন্টেড এবং পাগল কিসিমের। ইন্টারশিপের ইন্টারভিউতে আলাপ হয়েছিল জাভা আর.এম.আই নিয়ে কাজ করার। কিন্তু জয়েন করার পর প্লান বদল। বস জিঙ্গেস করলো অন্য কোন ডেভোলপমেন্টে কাজ করতে ইচ্ছুক নাকি? আমার তো তখন অবস্হা যা দিবে তাই সই। মাথার মধ্যে যতো তাড়াতাড়ি সম্ভব মাস্টার্স শেষের ধান্দা। আর ইন্টারশিপে সাধারনত কাজের চাপ থাকে কম। কম্পালসারি আর দুই পয়সা কামানোই উদ্দেশ্য। তাই চোখ খোলা রেখেই হ্যা বলে দেই।

যেহেতু কোন ফিক্সড কাজ ছিলো না তাই ঝামেলা একটু বেশিই মনে হলো। কখনো বর্তমান ডিভাইগুলোতে ও.পি.সি এ্যাড করা, কখনো থার্ড পার্টি সফটওয়্যার দিয়ে ডিভাইস টেষ্ট।

সাবস্টেশন অটোমেশনের ডিভাইসগুলো খুব বেশি সিকিউর হতে হয়। আর জার্মান কাষ্টমারগুলো ফাজিলের একশেষ। হাজার হাজার প্রশ্ন করে একটা ডিভাইস নিয়ে। প্রশ্নের উত্তর দেওয়া আমার কাজ নয়। কিন্তু ইমপ্লিমেন্ট করার কিছু দায়িত্ব আমার ঘাড়ে। বড় কোম্পানিতে সমস্যা মনে হয় আর বেশি। সফটওয়্যারের কোন সমস্যা হলে আমেরিকা/ইন্ডিয়া, হার্ডওয়্যারের জন্য ইংল্যান্ড, কন্টোল ডিভাইসের জন্য ফ্রান্স, প্রটেকশন ডিভাইসের জন্য জার্মানি। কেউ ইচ্ছে করলেই নিজেদের ইউনিটে কোন কিছু ডেভোলপ করতে পারবে না। যদি না ডেভোলপমেন্টের পারমিশন থাকে।

কাজ করার পাশাপাশি বসের কিছু মাফিয়া বন্ধুর সাথেও পরিচয় হয়েছে। মাফিয়া শব্দটা ওদের কাজের জন্য উপাধি স্বরূপ। সফটওয়্যারের উপর প্রচন্ড রকমের ব্রিলিয়ান্ট এক একজন। টেলেন্টের উপর ভিত্তি করে নাম্বারিং সিস্টেম। মাফিয়া-১, মাফিয়া-২,...।

ইন্টারশিপে পড়াশোনার ঝামেলা ছিলো না, তাই বেশিরভাগ সময় অফিসেই কাটাতাম। ১০/১১/১২ ঘন্টা কাজ করতাম। তখন একটাই চিন্তা মাথায়। কিভাবে ইন্টারশিপটা ভালোমতো শেষ করে এখানেই থিসিস ভাগানো যায়। না হলে আবার এপ্লিকেশন, আবার ইন্টাভিউ। কাজের পাশাপাশি বসের সাথে মিউজিক নিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা আলাপ হতো। বস একটা ব্যান্ডের সদস্য ছিলো। অনেক বছর আগেই ওটা ভেঙ্গে গেছে। কিন্তু মাথার মধ্যে পোকা এখনো আছে। বস আমাকে ওদের বিভিন্ন প্লানের কথা বলে। অবসরে কিভাবে বিভিন্ন দেশে থেকেও ওরা গান রেকড্র করে। আমি তো সারা জীবন শুধু গান শুনেই গেলাম। যদিও এক সময় মাথায় গিটার শেখার ভূত চেপেছিলো। কয়েকদিন টুং টাং করে পড়ার চাপে ভূত উদাও। বাদ্য বাজানো, গানের গলা কোনটাই নেই তাই বসের কাজ কিছুটা হালকা করতে আমাকে গান এডিটিং এবং কালেক্টশনের কাজ দেওয়া হলো। যদিও পেছনে থাকতো বস নিজেই।

গান রেকটিংয়ের প্রসেসটা বেশ জটিল। প্রথমে সিলেক্ট করতে হয় গান। গান সিলেকশনটা সাধারনত নির্ভর করে গায়কের উপর। এরা সাধারনত ডয়েচ, ইংলিশ গান অহরহ করে আর সবাই যেহেতু এ্যামেচার। তাই ধান্ধা থাকে নতুন ভাষায় গান করার। গায়ক পাওয়া গেলে নতুন ভাষার গানই সিলেক্ট হয় বেশি। গান সিলেক্ট হয়ে গেলে সবার মাঝে মেইল করে দেওয়া হয়। তখন গানের কথা ঠিক রেখে সুর এবং মিউজিক বদলানোর পালা। খালি গলায় গান বিভিন্ন সুরে রেকড্র করে সবার মাঝে মেইল করা হয়। গানের সুর সিলেক্ট হয়ে গেলে মিউজিকের পালা। বস বেইস গিটার জার্মানি থেকে, মাফিয়া-২ ড্রাম ও কিবোর্ড রেকর্ড করে বেলজিয়াম থেকে, মাউথ ওরগান আসে মাফিয়া-১ (আমেরিকা) থেকে। সবগুলো সফওয়্যারের মাধ্যমে সবগুলোকে কাটৎপেষ্ট সিলেকশনের জন্য আবার সবাইকে পাঠানো হয়। সবার মনমতো হলে ওয়েব পেজে ডাউনলোড। তবে বর্তমানে সৌখিন ইলেকট্রিক গিটার বাজানোর পাবলিক খোজা হচ্ছে। এই কাজগুলো করতে প্রায় বছরখানেক সময় ব্যয় হয়। গত ১ বছরে আমরা একটা ইরানিয়ান গান রেকর্ড করেছি। ইরানের একজন ইন্টার্ন ছিলো। গানের গলা একটা ফাটা বাঁশ। তারপরও নতুন ভাষা। সবাই করতে রাজি হলো।

এখন বাংলা গানের জন্য বস চাপাচাপি করতেছে। আমি বলি আমার যে গানের গলা তাতে কুত্তাগুলো সামলামব কে? তবে ইরানিয়ানের গানের গলা শুনে ভরসা পাই। গত ৩/৪ মাসে গানই সিলেক্ট করতে পারিনি। সবার কাজের চাপ বেড়ে গেছে। হয়ত আগামি মাসে গান সিলেক্ট করবো। তারপরের কাজগুলোতে যে কতোদিন লাগবে আল্লা জানে।
৯টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিলিয়নিয়ার রবিন খুদা ও আমাদের জাতীয় অগ্রাধিকার

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ০৯ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৩০

বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় কী?

কর্মসংস্থান? না।

বিনিয়োগ? না।

ডলার সংকট? না।

গার্মেন্টস খাতে ছাঁটাই? না।

ব্যাংকিং খাতের আস্থা সংকট? না।

সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো— কোনো অনুষ্ঠানে জুলাই চেতনা কত মিলিলিটার ঢুকেছে, কে কতবার উচ্চারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×