বস একটা মাশাআল্লাহ। খুবই টেলেন্টেড এবং পাগল কিসিমের। ইন্টারশিপের ইন্টারভিউতে আলাপ হয়েছিল জাভা আর.এম.আই নিয়ে কাজ করার। কিন্তু জয়েন করার পর প্লান বদল। বস জিঙ্গেস করলো অন্য কোন ডেভোলপমেন্টে কাজ করতে ইচ্ছুক নাকি? আমার তো তখন অবস্হা যা দিবে তাই সই। মাথার মধ্যে যতো তাড়াতাড়ি সম্ভব মাস্টার্স শেষের ধান্দা। আর ইন্টারশিপে সাধারনত কাজের চাপ থাকে কম। কম্পালসারি আর দুই পয়সা কামানোই উদ্দেশ্য। তাই চোখ খোলা রেখেই হ্যা বলে দেই।
যেহেতু কোন ফিক্সড কাজ ছিলো না তাই ঝামেলা একটু বেশিই মনে হলো। কখনো বর্তমান ডিভাইগুলোতে ও.পি.সি এ্যাড করা, কখনো থার্ড পার্টি সফটওয়্যার দিয়ে ডিভাইস টেষ্ট।
সাবস্টেশন অটোমেশনের ডিভাইসগুলো খুব বেশি সিকিউর হতে হয়। আর জার্মান কাষ্টমারগুলো ফাজিলের একশেষ। হাজার হাজার প্রশ্ন করে একটা ডিভাইস নিয়ে। প্রশ্নের উত্তর দেওয়া আমার কাজ নয়। কিন্তু ইমপ্লিমেন্ট করার কিছু দায়িত্ব আমার ঘাড়ে। বড় কোম্পানিতে সমস্যা মনে হয় আর বেশি। সফটওয়্যারের কোন সমস্যা হলে আমেরিকা/ইন্ডিয়া, হার্ডওয়্যারের জন্য ইংল্যান্ড, কন্টোল ডিভাইসের জন্য ফ্রান্স, প্রটেকশন ডিভাইসের জন্য জার্মানি। কেউ ইচ্ছে করলেই নিজেদের ইউনিটে কোন কিছু ডেভোলপ করতে পারবে না। যদি না ডেভোলপমেন্টের পারমিশন থাকে।
কাজ করার পাশাপাশি বসের কিছু মাফিয়া বন্ধুর সাথেও পরিচয় হয়েছে। মাফিয়া শব্দটা ওদের কাজের জন্য উপাধি স্বরূপ। সফটওয়্যারের উপর প্রচন্ড রকমের ব্রিলিয়ান্ট এক একজন। টেলেন্টের উপর ভিত্তি করে নাম্বারিং সিস্টেম। মাফিয়া-১, মাফিয়া-২,...।
ইন্টারশিপে পড়াশোনার ঝামেলা ছিলো না, তাই বেশিরভাগ সময় অফিসেই কাটাতাম। ১০/১১/১২ ঘন্টা কাজ করতাম। তখন একটাই চিন্তা মাথায়। কিভাবে ইন্টারশিপটা ভালোমতো শেষ করে এখানেই থিসিস ভাগানো যায়। না হলে আবার এপ্লিকেশন, আবার ইন্টাভিউ। কাজের পাশাপাশি বসের সাথে মিউজিক নিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা আলাপ হতো। বস একটা ব্যান্ডের সদস্য ছিলো। অনেক বছর আগেই ওটা ভেঙ্গে গেছে। কিন্তু মাথার মধ্যে পোকা এখনো আছে। বস আমাকে ওদের বিভিন্ন প্লানের কথা বলে। অবসরে কিভাবে বিভিন্ন দেশে থেকেও ওরা গান রেকড্র করে। আমি তো সারা জীবন শুধু গান শুনেই গেলাম। যদিও এক সময় মাথায় গিটার শেখার ভূত চেপেছিলো। কয়েকদিন টুং টাং করে পড়ার চাপে ভূত উদাও। বাদ্য বাজানো, গানের গলা কোনটাই নেই তাই বসের কাজ কিছুটা হালকা করতে আমাকে গান এডিটিং এবং কালেক্টশনের কাজ দেওয়া হলো। যদিও পেছনে থাকতো বস নিজেই।
গান রেকটিংয়ের প্রসেসটা বেশ জটিল। প্রথমে সিলেক্ট করতে হয় গান। গান সিলেকশনটা সাধারনত নির্ভর করে গায়কের উপর। এরা সাধারনত ডয়েচ, ইংলিশ গান অহরহ করে আর সবাই যেহেতু এ্যামেচার। তাই ধান্ধা থাকে নতুন ভাষায় গান করার। গায়ক পাওয়া গেলে নতুন ভাষার গানই সিলেক্ট হয় বেশি। গান সিলেক্ট হয়ে গেলে সবার মাঝে মেইল করে দেওয়া হয়। তখন গানের কথা ঠিক রেখে সুর এবং মিউজিক বদলানোর পালা। খালি গলায় গান বিভিন্ন সুরে রেকড্র করে সবার মাঝে মেইল করা হয়। গানের সুর সিলেক্ট হয়ে গেলে মিউজিকের পালা। বস বেইস গিটার জার্মানি থেকে, মাফিয়া-২ ড্রাম ও কিবোর্ড রেকর্ড করে বেলজিয়াম থেকে, মাউথ ওরগান আসে মাফিয়া-১ (আমেরিকা) থেকে। সবগুলো সফওয়্যারের মাধ্যমে সবগুলোকে কাটৎপেষ্ট সিলেকশনের জন্য আবার সবাইকে পাঠানো হয়। সবার মনমতো হলে ওয়েব পেজে ডাউনলোড। তবে বর্তমানে সৌখিন ইলেকট্রিক গিটার বাজানোর পাবলিক খোজা হচ্ছে। এই কাজগুলো করতে প্রায় বছরখানেক সময় ব্যয় হয়। গত ১ বছরে আমরা একটা ইরানিয়ান গান রেকর্ড করেছি। ইরানের একজন ইন্টার্ন ছিলো। গানের গলা একটা ফাটা বাঁশ। তারপরও নতুন ভাষা। সবাই করতে রাজি হলো।
এখন বাংলা গানের জন্য বস চাপাচাপি করতেছে। আমি বলি আমার যে গানের গলা তাতে কুত্তাগুলো সামলামব কে? তবে ইরানিয়ানের গানের গলা শুনে ভরসা পাই। গত ৩/৪ মাসে গানই সিলেক্ট করতে পারিনি। সবার কাজের চাপ বেড়ে গেছে। হয়ত আগামি মাসে গান সিলেক্ট করবো। তারপরের কাজগুলোতে যে কতোদিন লাগবে আল্লা জানে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



